খরগোশ
Oryctolagus cuniculus
কোমল, মিশুক এবং বিস্ময়করভাবে খেলুড়ে — জাত ও লোমের অসাধারণ বৈচিত্র্যময় সঙ্গী।
View খরগোশ breedsScientific classification
The খরগোশ's place in the tree of life, from domain down to species.
- অধিরাজ্যEukaryotaসুকেন্দ্রিক জীব
- জগৎAnimaliaপ্রাণী
- পর্বChordataকর্ডেট
- শ্রেণিMammaliaস্তন্যপায়ী প্রাণী
- বর্গLagomorphaখরগোশজাতীয় প্রাণী
- গোত্রLeporidaeখরগোশ ও শশক
- গণOryctolagusইউরোপীয় খরগোশ
- প্রজাতিOryctolagus cuniculusখরগোশ
খরগোশ colors, patterns and markings
Every color, pattern and marking the taxonomy records for খরগোশ, by part of the body. Each breed page shows which clubs accept which ones.
লোম
Color of the fur or hair.
Colors
গৃহপালিত খরগোশ
ঢাকা ও চট্টগ্রামের শহুরে পরিবারে পোষা খরগোশের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও সামাজিক এই ছোট তৃণভোজী প্রাণীটি সঠিক যত্নে ৮ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
গৃহপালিত খরগোশ (Oryctolagus cuniculus) লেপোরিডি পরিবারের একটি ছোট সামাজিক তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। বয়স্ক খরগোশের ওজন সাধারণত ১ থেকে ৭ কেজি এবং আয়ু ৮ থেকে ১২ বছর। এরা ভোর ও সন্ধ্যায় সবচেয়ে সক্রিয় থাকে, দিনে ও রাতে অনেকটা বিশ্রাম নেয়।
বাংলাদেশে সোনালি জাতের খরগোশ মাংস ও পশমের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে। তবে এখন ঢাকার কাঁটাবন ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা বাজারের মতো জায়গায় পোষা খরগোশের চাহিদা বাড়ছে। ফ্ল্যাটে পালার জন্য খরগোশ উপযুক্ত হতে পারে কারণ এরা শান্ত ও কম শব্দ করে।
খরগোশ অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। একা রাখলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতায় ভোগে। প্রতিদিনের যোগাযোগ এবং আদর্শভাবে একটি সঙ্গী খরগোশ থাকা উচিত।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বৈজ্ঞানিক নাম | Oryctolagus cuniculus |
| পরিবার | Leporidae |
| ওজন | ১ থেকে ৭ কেজি (জাতভেদে) |
| গড় আয়ু | ৮ থেকে ১২ বছর |
| সক্রিয় সময় | ভোর ও সন্ধ্যা (ক্রেপাসকুলার) |
| খাদ্যাভ্যাস | তৃণভোজী |
| যত্ন স্তর | মাঝারি |
খরগোশের জাত পরিচিতি
বিশ্বে প্রায় ৩৯টি স্বীকৃত খরগোশের জাত রয়েছে। আকার, পশমের ধরন, কানের ধরন ও রঙের ভিত্তিতে এরা পরস্পর থেকে আলাদা।
খরগোশের জাতগুলো ক্ষুদ্র (ডোয়ার্ফ, প্রায় ১ কেজি) থেকে শুরু করে বিশাল (৫ কেজিরও বেশি) হতে পারে। পশম ছোট, প্লাশ বা উলের মতো হতে পারে। কান সোজা বা ঝোলানো (লপ) হয়। রঙের বৈচিত্র্যও ব্যাপক।
বাংলাদেশে দেশীয় ও সোনালি জাত মাংসের জন্য পরিচিত। তবে পোষা খরগোশ হিসেবে নেদারল্যান্ড ডোয়ার্ফ, রেক্স ও হল্যান্ড লপ জাত জনপ্রিয় হচ্ছে।
| জাত | আকার | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| নেদারল্যান্ড ডোয়ার্ফ | ক্ষুদ্র (প্রায় ১ কেজি) | গোলমুখ, ছোট কান, পোষার জন্য জনপ্রিয় |
| হল্যান্ড লপ | ছোট-মাঝারি | ঝোলানো কান, বন্ধুত্বপূর্ণ |
| রেক্স | মাঝারি | মখমলের মতো পশম |
| ফ্রেঞ্চ লপ | বড় | বড় ঝোলানো কান |
| নিউজিল্যান্ড | বড় | মাংস ও পোষা উভয় উদ্দেশ্যে |
| ক্যালিফোর্নিয়ান | বড় | সাদা দেহ, কালো নাক-কান-পা |
| বেলজিয়ান হেয়ার | মাঝারি | লম্বা পা, চটপটে স্বভাব |
| আমেরিকান চিনচিলা | মাঝারি | ঘন নরম পশম |
খরগোশের ইতিহাস
গৃহপালিত খরগোশের উৎপত্তি ইউরোপীয় বন্য খরগোশ থেকে, যার আদি আবাস ছিল আইবেরিয়ান উপদ্বীপে।
গৃহপালিত খরগোশের পূর্বপুরুষ ইউরোপীয় বন্য খরগোশ (Oryctolagus cuniculus) মূলত বর্তমান স্পেন ও পর্তুগালের এলাকায় বাস করত। রোমানরা প্রথম এদের ছোট বেষ্টনীতে রেখে মাংসের জন্য পালন শুরু করে।
মধ্যযুগে ইউরোপীয় মঠগুলোতে খরগোশকে পোষ মানানো হয়। সন্ন্যাসীরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রজনন করতেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জাত তৈরি হয়।
১৯শ শতাব্দীতে সংগঠিত প্রজনন ও প্রদর্শনী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দিষ্ট জাত স্বীকৃতি পায়। ২০শ শতাব্দীতে খরগোশ বিশ্বজুড়ে পোষা প্রাণী ও খামার প্রাণী উভয় হিসেবে জনপ্রিয় হয়।
বাংলাদেশে ও ভারতীয় উপমহাদেশে খরগোশ মূলত মাংস ও পশমের জন্য পালিত হয়েছে। এখন শহরে পোষা প্রাণী হিসেবে এর প্রচলন বাড়ছে।
শারীরিক গঠন
খরগোশের গোলাকার শরীর, বড় কান ও শক্তিশালী পেছনের পা এদের অনন্য করে তোলে।
খরগোশের শরীর কমপ্যাক্ট ও গোলাকার। বড় কান শব্দ শুনতে এবং শরীরের তাপ ছাড়তে সাহায্য করে। চোখ মাথার দুই পাশে প্রশস্তভাবে থাকায় প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টি পায়। সামনের পা ছোট, পেছনের পা লম্বা ও শক্তিশালী।
খরগোশের সামনের দাঁত (incisors) ও গালের দাঁত (cheek teeth) ক্রমাগত বাড়তে থাকে। পর্যাপ্ত খড় না খেলে দাঁত অতিরিক্ত বাড়ে এবং সমস্যা তৈরি হয়। লেজ ছোট ও গোলাকার।
জাতভেদে চেহারায় ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়: কান সোজা বা ঝোলানো, পশম ছোট বা লম্বা বা উলের মতো, রঙ সাদা থেকে কালো পর্যন্ত নানা রকম।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| ওজন | ১ থেকে ৭ কেজি (জাত অনুযায়ী) |
| কান | সোজা বা ঝোলানো, তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক |
| চোখ | মাথার দুপাশে, বিস্তৃত দৃষ্টিক্ষেত্র |
| পশম | ছোট, প্লাশ বা উলের ধরনের |
| দাঁত | ক্রমাগত বৃদ্ধিশীল, খড় দিয়ে ক্ষয় জরুরি |
| লেজ | ছোট ও গোলাকার |
স্বভাব ও আচরণ
খরগোশ শিকারের প্রাণী হওয়ায় সহজাতভাবে সতর্ক। সঠিক পরিবেশ ও ধৈর্যের মাধ্যমে এরা আনন্দময় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সঙ্গী হয়ে ওঠে।
খরগোশ শিকার প্রাণী, তাই স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক। হঠাৎ শব্দ বা নড়াচড়ায় ভয় পায়। বিপদ অনুভব করলে পা দিয়ে মেঝেতে জোরে আঘাত করে থাম্পিং করে, যা সতর্কতার সংকেত। আরামদায়ক ও নিরাপদ অনুভব করলে মাটিতে সম্পূর্ণ ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে, যা বিশ্বাস ও স্বস্তির চিহ্ন।
স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ আচরণ:
- খোঁড়া ও গর্ত খোঁজা (প্রাকৃতিক প্রবণতা)
- বিভিন্ন জিনিস চিবানো
- খাবার খোঁজা (ফোরেজিং)
- নিজের এলাকা চিহ্নিত করা (মার্কিং)
- আনন্দে লাফানো ও ঘুরপাক খাওয়া (বিনকি)
খরগোশকে কোলে নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। এরা শূন্যে ঝুলে থাকতে ভয় পায় এবং মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলার শক্তিতে লাথি মারতে পারে। বিশ্বাস গড়ে তুলতে সময় নিন।
প্রতিদিনের পরিচর্যা
খরগোশের যত্ন নিয়মিত ও প্রতিদিনের। সঠিক রুটিন মানলে সুস্থ ও সুখী খরগোশ পাওয়া যায়।
প্রতিদিনের কাজ:
- সীমাহীন ঘাস-খড় (টিমোথি বা অর্চার্ড গ্রাস)
- পরিষ্কার তাজা পানি সবসময়
- মাপা পরিমাণ তাজা শাকসবজি (পালং শাক, ধনেপাতা, লালশাক)
- অল্প পরিমাণ পেলেট
- কমপক্ষে তিন থেকে চার ঘণ্টা খোলা জায়গায় ব্যায়াম
- লিটার ট্রে প্রতিদিন পরিষ্কার
পরিবেশ ও খাঁচা:
- বড় খাঁচা বা পেন এবং সংযুক্ত ব্যায়াম এলাকা
- বৈদ্যুতিক তার ও বিষাক্ত গাছ থেকে দূরে রাখুন
- লুকোনোর জায়গা (বাক্স বা টানেল) রাখুন
- শক্ত মেঝে, তারের জাল নয়
গ্রুমিং:
- সপ্তাহে দুইবার ব্রাশ, পশম ঝরার মৌসুমে বেশি
- মাসে একবার নখ কাটা
- কখনো কান ধরে তুলবেন না, পুরো শরীর সাপোর্ট করে ধরুন
খাদ্য ও পুষ্টি
খরগোশের সঠিক পুষ্টি তার দাঁত ও পাচনতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি। ঘাস-খড়ই প্রধান খাবার।
খাদ্য পিরামিড:
১. ঘাস-খড় (সবচেয়ে বেশি): টিমোথি, অর্চার্ড গ্রাস বা অন্য ঘাসের খড় সারাক্ষণ পাওয়া উচিত। এটি দাঁত ক্ষয় করে এবং পাচনতন্ত্র সচল রাখে।
২. তাজা শাকসবজি (প্রতিদিন): বাংলাদেশে সহজে পাওয়া যায় এমন নিরাপদ সবজি: পালং শাক, ধনেপাতা, লালশাক, সবুজ লেটুস, পুদিনাপাতা। প্রতিদিন শরীরের ওজনের ১ থেকে ২ কাপ।
৩. পেলেট (সীমিত): উচ্চমানের পেলেট শরীরের ওজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে দিন।
৪. পানি: সবসময় তাজা ও পরিষ্কার। বাংলাদেশের গরমে পানির যোগান বিশেষভাবে নিশ্চিত করুন।
খরগোশ সিকোট্রফ নামের বিশেষ নরম মল খায়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও পুষ্টিগতভাবে জরুরি।
| বয়স | খড় | শাকসবজি | পেলেট |
|---|---|---|---|
| ০ থেকে ৭ সপ্তাহ | অ্যালফালফা খড় | দেবেন না | অ্যালফালফা ভিত্তিক |
| ৭ সপ্তাহ থেকে ৭ মাস | অ্যালফালফা + ঘাস | ধীরে পরিচয় করান | অ্যালফালফা ভিত্তিক |
| ৭ মাসের বেশি | ঘাস-খড় | প্রতিদিন প্রচুর | সীমিত পরিমাণে |
| ৭ বছরের বেশি | ঘাস-খড় | প্রতিদিন | পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী |
স্বাস্থ্য সমস্যা ও চিকিৎসা
সঠিক খাদ্য, পরিষ্কার পরিবেশ ও নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শে খরগোশ দীর্ঘ সুস্থ জীবন পেতে পারে।
সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা:
দাঁতের সমস্যা (ডেন্টাল ডিজিজ): পর্যাপ্ত খড় না খেলে দাঁত অতিরিক্ত বেড়ে মুখে ঘা তৈরি করে। লক্ষণ: খাওয়া কমে যাওয়া, মুখ থেকে লালা পড়া।
গাট স্ট্যাসিস: পাচনতন্ত্র থেমে যাওয়ার জরুরি অবস্থা। লক্ষণ: খাওয়া বন্ধ, মল নেই, শরীর বাঁকানো। তাৎক্ষণিক পশু চিকিৎসা প্রয়োজন।
ফ্লাইস্ট্রাইক: বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বিশেষ ঝুঁকি। মল-দূষিত পশমে মাছি ডিম পাড়ে এবং ম্যাগট ত্বক ক্ষয় করে। সারা বছর সতর্কতা দরকার।
অতিরিক্ত নখ: নিয়মিত না কাটলে হাঁটতে কষ্ট হয়।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ: নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি।
| পদক্ষেপ | কতবার |
|---|---|
| পশু চিকিৎসক চেকআপ | বছরে একবার |
| দাঁত পরীক্ষা | বছরে দুইবার |
| নখ কাটা | মাসে একবার |
| ফ্লাইস্ট্রাইক চেক | বর্ষা ও গরমে প্রতিদিন |
| নিউটারিং বা স্পেয়িং | ৪ থেকে ৬ মাস বয়সে |
বাসস্থান ও পরিবেশ
বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খরগোশের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আদর্শ বাসস্থানের উপাদান:
- বড় খাঁচা বা পেন (একটি খরগোশের জন্য কমপক্ষে ৬x২x২ ফুট)
- সংযুক্ত ব্যায়াম এলাকা
- শক্ত মেঝে (তারের জাল পায়ে কষ্ট দেয়)
- লিটার ট্রে খড় দিয়ে ভরা
- খড়ের পাত্র এবং পানির বোতল বা বাটি
- লুকোনোর জায়গা: বাক্স বা কাঠের টানেল
- চিবানোর খেলনা ও কাঠের টুকরো
বাংলাদেশে বিশেষ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা:
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা প্রায়ই ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা খরগোশের জন্য বিপজ্জনক। এয়ার কন্ডিশনিং বা শক্তিশালী ফ্যানের ব্যবস্থা রাখুন। মার্বেল বা সিরামিক টাইলস ঘরের মেঝেতে রাখলে খরগোশ ঠান্ডায় শুয়ে থাকতে পারবে। জমাট বরফের বোতল কাছে রাখুন। সরাসরি রোদ ও গরম বাতাস থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন। আর্দ্রতা ও গরমে ফ্লাইস্ট্রাইকের ঝুঁকি বেশি, তাই প্রতিদিন পরিষ্কার রাখুন।
প্রজনন
খরগোশ দ্রুত ও বারবার প্রজনন করে। পোষা প্রাণী হিসেবে রাখলে নিউটারিং বা স্পেয়িং দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করা হয়।
মা খরগোশ (ডো) সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস বয়সে যৌন পরিপক্বতা লাভ করে। খরগোশ প্রণোদিত ডিম্বস্ফোটনকারী প্রাণী, অর্থাৎ মিলনের পরেই ডিম্বাণু নির্গত হয়। এই কারণে এরা খুব দ্রুত গর্ভবতী হতে পারে।
গর্ভকাল মাত্র ২৮ থেকে ৩১ দিন। একসাথে ৪ থেকে ১২টি বাচ্চা জন্ম নেয়। জন্মের সময় বাচ্চারা অন্ধ, বধির ও লোমহীন। চোখ খোলে প্রায় ১০ দিনে। ৪ থেকে ৮ সপ্তাহে মায়ের দুধ ছাড়ানো হয়।
বাবা খরগোশও (বাক) ৩ থেকে ৫ মাসে পরিপক্ব হয়।
খরগোশ নেওয়ার আগে ভাবুন
খরগোশ পোষা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি। আবেগের বশে নয়, ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
খরগোশ নেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো ভাবুন:
সময় ও প্রতিশ্রুতি:
- ৮ থেকে ১২ বছরের দীর্ঘ সঙ্গ
- প্রতিদিন খাবার, পানি, লিটার পরিষ্কার ও ব্যায়ামের সময়
- নিয়মিত মনোযোগ ও সঙ্গ
বাসস্থান:
- যথেষ্ট জায়গা ও গরম থেকে সুরক্ষা
- বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি খরচ (এয়ার কন্ডিশনিং)
খরচ:
- প্রাথমিক: খাঁচা, সরঞ্জাম ও নিউটারিং
- মাসিক: খড়, পেলেট, শাকসবজি
- বার্ষিক: পশু চিকিৎসক পরীক্ষা
সেরা উৎস:
- নির্ভরযোগ্য প্রজননকারী বা উদ্ধারকেন্দ্র
- ইদের আগে বা শিশুদের জন্মদিনে আবেগের বশে কিনবেন না
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
খরগোশ পোষার বিষয়ে বাংলাদেশে প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর।
খরগোশ কি ভালো পোষা প্রাণী?
হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে। খরগোশ শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু বিশেষ যত্ন, পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রতিদিনের সময় দরকার। বিড়াল বা কুকুরের মতো নয়, তবে সঠিক যত্নে অত্যন্ত পুরস্কৃত সঙ্গী।
খরগোশ কত বছর বাঁচে?
সঠিক যত্নে গৃহপালিত খরগোশ সাধারণত ৮ থেকে ১২ বছর বাঁচে। কিছু খরগোশ ১৩ থেকে ১৪ বছর পর্যন্তও বেঁচে থাকে।
খরগোশ পোষার খরচ কেমন?
প্রাথমিক খরচে খাঁচা, সরঞ্জাম ও নিউটারিং উল্লেখযোগ্য। মাসিক চলমান খরচে খড়, পেলেট ও শাকসবজি যোগ হয়। বাংলাদেশে গরমে এয়ার কন্ডিশনিং ও পশু চিকিৎসক ফি বাড়তি খরচ।
খরগোশ পালা কি কঠিন?
মাঝারি মাত্রার যত্ন প্রয়োজন। প্রতিদিনের রুটিন মানতে হয়, খাঁচা পরিষ্কার রাখতে হয় এবং বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে জরুরি।
শিশুদের জন্য কি খরগোশ উপযুক্ত?
ছোট শিশুদের সাথে সতর্ক তত্ত্বাবধান প্রয়োজন কারণ ভুলভাবে ধরলে খরগোশের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আট বছরের বেশি বয়সী শিশুরা সঠিকভাবে শিখলে ভালো সঙ্গী হতে পারে।
নতুনদের জন্য খরগোশ কি ভালো?
কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কারণ খরগোশের বিশেষ পুষ্টি ও স্বাস্থ্য চাহিদা আছে। তবে আগে থেকে ভালোভাবে পড়াশোনা করলে নতুনরাও সফলভাবে পালতে পারেন।
একটি না দুটো খরগোশ রাখব?
দুটো নিউটার্ড খরগোশ একসাথে রাখলে উভয়েই অনেক বেশি সুখী ও স্বাস্থ্যকর থাকে। একা রাখলে মানসিক বিষণ্নতা ও অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।