United Pet Club
গিনিপিগ

গিনিপিগ

Cavia porcellus

বন্ধুত্বপূর্ণ, বাচাল ও সহজ স্বভাবের — স্নেহপ্রবণ ছোট পোষ্য, যাদের সঙ্গী দরকার।

View গিনিপিগ breeds

Scientific classification

The গিনিপিগ's place in the tree of life, from domain down to species.

  1. অধিরাজ্য
    Eukaryota
    সুকেন্দ্রিক জীব
  2. জগৎ
    Animalia
    প্রাণী
  3. পর্ব
    Chordata
    কর্ডেট
  4. শ্রেণি
    Mammalia
    স্তন্যপায়ী প্রাণী
  5. বর্গ
    Rodentia
    কৃন্তক প্রাণী
  6. গোত্র
    Caviidae
    ক্যাভি
  7. গণ
    Cavia
    গিনিপিগ
  8. প্রজাতি
    Cavia porcellus
    গিনিপিগ

গিনি পিগ পরিচিতি

গিনি পিগ (Cavia porcellus) দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালার ছোট তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে ঢাকার কাঁটাবন বাজারসহ বড় শহরের পোষা প্রাণীর দোকানে এখন গিনি পিগ পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি এক্সোটিক পোষা প্রাণী হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

গিনি পিগ (Cavia porcellus) Caviidae পরিবারের একটি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর আদি বাড়ি দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চল -- বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। ইনকা সভ্যতায় এই প্রাণী পোষা মানানো হয়েছিল এবং ষোলো শতকে ইউরোপীয় নাবিকেরা এটি ইউরোপে নিয়ে যান। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

গিনি পিগের গোলাকার পোষ্ট দেহ, চওড়া মাথা ও ছোট কান -- আর কোনো লেজ নেই। একটি পূর্ণবয়স্ক গিনি পিগের ওজন ৭০০ থেকে ১২০০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। সুস্থ অবস্থায় ৫ থেকে ৭ বছর বাঁচে। এরা দিনের বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট সক্রিয় পর্বে থাকে এবং রাতেও কিছুটা চলাফেরা করে।

ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরায় গিনি পিগ পালন শুরু হয়েছে। কাঁটাবন পোষা প্রাণীর বাজারে এখন নিয়মিতভাবে গিনি পিগ পাওয়া যায়। ফেসবুক গ্রুপগুলোতেও আগ্রহী মালিকদের সংখ্যা বাড়ছে।

গিনি পিগের জাত পরিচিতি

বিশ্বে গিনি পিগের প্রায় ১৯টি স্বীকৃত জাত রয়েছে। গায়ের পশমের ধরন ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এগুলো তিনটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা যায়।

গিনি পিগের জাত মূলত পশমের ধরনের উপর ভিত্তি করে আলাদা করা হয়। আমেরিকান পেট স্টক অ্যাসোসিয়েশন (ACBA) প্রায় ১৩টি জাত স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মিলিয়ে প্রায় ১৯টি জাত রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত আমেরিকান (ছোট মসৃণ পশম) জাতটিই বেশি পাওয়া যায়।

গিনি পিগের প্রধান জাতসমূহ
জাতের নামপশমের বৈশিষ্ট্যবিশেষ তথ্য
আমেরিকানছোট, মসৃণ ও চকচকেনতুনদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত
অ্যাবিসিনিয়ানগোলাপ আকৃতির রোসেট পশমচঞ্চল স্বভাবের, পরিচর্যা একটু বেশি
পেরুভিয়ানলম্বা সিল্কি পশম, ৫০ সেমি পর্যন্তপ্রতিদিন ব্রাশ করতে হয়
টেডিঘন, খাড়া খসখসে পশমনরম দেখতে, যত্ন সহজ
সিলকি (শেলটি)পেছনে লম্বা মসৃণ পশমসুন্দর কিন্তু নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন
রেক্সঘন ও কোঁকড়া পশম, ছোটঅনন্য গঠন, শান্ত স্বভাব

গিনি পিগের ইতিহাস

প্রায় তিন হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতাঞ্চলে ইনকারা গিনি পিগ পোষ মানান। ষোলো শতকে স্পেনীয় নাবিকেরা ইউরোপে নিয়ে আসেন এবং সেখান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

গিনি পিগের আদি বাস দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় -- পেরু, বলিভিয়া, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া অঞ্চলে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে এই অঞ্চলের আদিবাসীরা গিনি পিগ পোষ মানানো শুরু করে। ইনকা সভ্যতায় এটি খাদ্য ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হত।

১৫৩২ সালের পর স্পেনীয় বিজয়ীরা দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করলে গিনি পিগ ধীরে ধীরে ইউরোপে পৌঁছায়। ১৬০০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় অভিজাত পরিবারে গিনি পিগ পোষা প্রাণী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ শতকের শেষভাগে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ছোট পোষা প্রাণীতে পরিণত হয়।

'গিনি পিগ' নামটি বিভ্রান্তিকর -- এটি গিনি থেকে আসেনি বা শূকর (পিগ) নয়। ধারণা করা হয়, নামটি ব্যবসায়িক রুটের সঙ্গে জড়িত বা দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈজ্ঞানিক নাম Cavia থেকে এটিকে 'ক্যাভি'ও বলা হয়।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য

গিনি পিগের গোলাকার, নলাকার দেহ, চওড়া মাথা ও ছোট কান -- কোনো লেজ নেই। ওজন ৭০০ থেকে ১২০০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার।

গিনি পিগ দেখতে ছোট ও গোলাকার। পেছন দিকে কোনো লেজ নেই -- এটি এদের সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য। পা চারটি ছোট, সামনের পায়ে চারটি আঙুল ও পেছনের পায়ে তিনটি আঙুল।

রঙের বৈচিত্র্য প্রচুর: সাদা, কালো, বাদামি, কমলা, ক্রিম এবং এসবের নানা মিশ্রণ। পশমের ধরন জাত অনুযায়ী আলাদা -- ছোট ও মসৃণ থেকে শুরু করে খুব লম্বা রেশমি পশম পর্যন্ত। দাঁত সবসময় বাড়তে থাকে, তাই পর্যাপ্ত ঘাস চিবানো জরুরি।

গিনি পিগের শারীরিক পরিমাপ
বৈশিষ্ট্যপরিমাপবিশেষ তথ্য
ওজন (পূর্ণবয়স্ক)৭০০ - ১২০০ গ্রামপুরুষ সাধারণত একটু ভারী
দৈর্ঘ্য২০ - ৩০ সেন্টিমিটারজাত অনুযায়ী কিছুটা পার্থক্য
আয়ু৫ - ৭ বছরসুষম যত্নে ৮ বছরও হতে পারে
লেজনেইবাহ্যিকভাবে কোনো লেজ নেই
দাঁত২০টি, সারাজীবন বাড়তে থাকেঘাস খেলে দাঁত ক্ষয় হয় স্বাভাবিকভাবে
দৃষ্টিশক্তি৩৪০ ডিগ্রি বিস্তৃতবর্ণ কিছুটা দেখতে পায়

স্বভাব ও আচরণ

গিনি পিগ অত্যন্ত মিলনশীল, কণ্ঠস্বর সমৃদ্ধ প্রাণী। খাবারের সময় উচ্চস্বরে হুইক-হুইক শব্দ করে এবং আনন্দে লাফ দেয় -- এই লাফকে পপকর্নিং বলা হয়।

গিনি পিগ দলীয় প্রাণী -- প্রকৃতিতে এরা দলে থাকে। একা রাখলে এরা একাকীত্বে কষ্ট পায় এবং অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। সর্বদা কমপক্ষে দুটো একসাথে রাখুন।

গিনি পিগের কণ্ঠস্বর বেশ বৈচিত্র্যময়:

  • হুইক/হুইসেল: খাবার দেওয়ার সময় বা মনোযোগ চাইলে উচ্চস্বরে চিৎকার করে। ফ্রিজ খোলার শব্দ শুনলেও শুরু করে!
  • পার্রিং: সন্তুষ্ট বা আরামে থাকলে বিড়ালের মতো গরগর শব্দ করে
  • চ্যাটারিং: দাঁত ঠোকাঠুকি করে -- অসন্তুষ্টি বা সতর্কতার লক্ষণ
  • রাম্বলিং: ঘুরঘুর শব্দ -- সাধারণত আধিপত্য বা সঙ্গমের ইচ্ছা বোঝায়

পপকর্নিং হলো হঠাৎ লাফ দিয়ে মোড় নেওয়া -- এটি বিশুদ্ধ আনন্দের প্রকাশ, বিশেষত তরুণ গিনি পিগে বেশি দেখা যায়।

পরিচর্যা ও রাখার পদ্ধতি

গিনি পিগের জন্য প্রশস্ত খাঁচা, পরিষ্কার বিছানা উপাদান ও বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। তারের জালের মেঝে তাদের পায়ে আঘাত করে -- এড়িয়ে চলুন।

গিনি পিগের জন্য প্রয়োজনীয় খাঁচার আকার কমপক্ষে ৭৫ x ১০৫ সেন্টিমিটার (দুটোর জন্য)। মেঝে শক্ত হতে হবে -- তারের জালের মেঝে তাদের ছোট পায়ে ব্যথা দেয় এবং বাম্বলফুট রোগ হতে পারে।

বিছানা হিসেবে নিরাপদ কাঠের শেভিং (অ্যাসপেন বা পেপার), কাপড়ের লাইনার বা ফ্লিস ব্যবহার করুন। পাইন বা সিডার কাঠের শেভিং ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের আবহাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। গিনি পিগ ২৭ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় হিট স্ট্রোকে মারা যেতে পারে। ঘরের ভেতরে রাখুন এবং সিলিং ফ্যান বা এসি চালিয়ে রাখুন।

জুন-সেপ্টেম্বরে বর্ষার আর্দ্রতাও সমস্যা করতে পারে -- খাঁচা ভেজা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

দৈনিক পরিচর্যার রুটিন
কাজকখন করবেনবিশেষ নির্দেশনা
তাজা পানি বদলানোপ্রতিদিন সকালেবোতল বা ভারী বাটিতে দিন
তাজা সবজি দেওয়াপ্রতিদিনপেয়ারা, ক্যাপসিকাম, লাউ -- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ
টিমোথি ঘাস যোগ করাসকাল ও বিকেলসবসময় পর্যাপ্ত থাকতে হবে
পরিষ্কার করাপ্রতিদিন ভেজা জায়গা, সপ্তাহে পুরোঅ্যামোনিয়া জমলে শ্বাসে সমস্যা
ওজন পরীক্ষাসপ্তাহে একবার৫০ গ্রামের বেশি কমলে ডাক্তার

খাবার ও পুষ্টি

গিনি পিগের মূল খাবার টিমোথি ঘাস। প্রতিদিন তাজা সবজি থেকে ভিটামিন সি সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে পেয়ারা, ক্যাপসিকাম ও লেবু সহজলভ্য ভিটামিন সি-র উৎস।

গিনি পিগের খাদ্য তালিকার প্রধান অংশ হলো উচ্চমানের টিমোথি ঘাস -- ওজনের ৮০% খাবারই হওয়া উচিত ঘাস। ঘাস দাঁত ক্ষয় করে এবং পেটের সঠিক কার্যক্রম বজায় রাখে।

দৈনিক তাজা সবজির পরিমাণ: প্রতি ৪৫০ গ্রাম শরীরের ওজনে এক কাপ মিশ্রিত সবজি।

বাংলাদেশে সহজলভ্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজি:

  • পেয়ারা: সর্বোচ্চ ভিটামিন সি, বাংলাদেশে সারা বছর পাওয়া যায়
  • ক্যাপসিকাম (বেল পেপার): লাল, হলুদ বা সবুজ -- সবগুলোই উপকারী
  • লেবুর খোসা: অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়
  • পালং শাক: সীমিত পরিমাণে (অক্সালেট বেশি)
  • ধনে পাতা: ভালো ভিটামিন সি উৎস
  • লাউ পাতা: স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য
খাবারের তালিকা: কী দেবেন, কী দেবেন না
খাবারদেওয়া যাবে?পরিমাণ/বিশেষ তথ্য
টিমোথি ঘাসহ্যাঁ, সবসময়সীমাহীন -- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ক্যাপসিকামহ্যাঁ, প্রতিদিনউচ্চ ভিটামিন সি, প্রিয় খাবার
পেয়ারাহ্যাঁ, প্রতিদিনছোট টুকরো, চিনি বেশি তাই মাঝারি পরিমাণ
গাজরহ্যাঁ, সীমিতসপ্তাহে ২-৩ বার, চিনি আছে
আলুনাবিষাক্ত হতে পারে
পেঁয়াজ/রসুননা, কখনো নামারাত্মক বিষাক্ত
চকোলেটনা, কখনো নামারাণান্তিক
গিনি পিগ পিলেটহ্যাঁ, সীমিতদিনে ১-২ টেবিল চামচ, তাজা ভিটামিন সি সহ

স্বাস্থ্য সমস্যা ও প্রতিরোধ

স্কার্ভি (ভিটামিন সি ঘাটতি) গিনি পিগের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। কয়েক ঘণ্টা না খেলে জরুরি পশু চিকিৎসক প্রয়োজন। বাংলাদেশে এক্সোটিক ভেটেরিনারি সেবা সীমিত, তাই প্রতিরোধই সর্বোত্তম।

সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ও লক্ষণ
সমস্যালক্ষণপ্রতিরোধ/চিকিৎসা
স্কার্ভিশক্ত হয়ে চলা, মাড়ি থেকে রক্ত, চুল পড়াপ্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজি
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণনাক দিয়ে পানি, হাঁচি, শ্বাসকষ্টঠান্ডা বায়ু এড়ানো, পরিষ্কার খাঁচা
উকুন/মাইটচুলকানো, পশম পড়ানিয়মিত পরিষ্কার ও ভেটেরিনারি চিকিৎসা
ডায়ারিয়ানরম মল, অলস ভাবনতুন খাবার ধীরে ধীরে দেওয়া
দাঁতের সমস্যাখাওয়া কমে যাওয়া, লালা ঝরাপর্যাপ্ত ঘাস খাওয়ানো
হিট স্ট্রোকহাঁপানো, নেতিয়ে পড়া২৭ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রাখুন

বাংলাদেশে গিনি পিগের মতো এক্সোটিক পোষা প্রাণীর চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসক পাওয়া কঠিন। ঢাকায় কিছু বেসরকারি ক্লিনিক আছে যারা ছোট প্রাণীর চিকিৎসা করেন। ফেসবুক গ্রুপে অন্য মালিকদের কাছ থেকে রেফারেন্স নেওয়া যেতে পারে। বছরে একবার পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া ভালো।

বাসস্থান ও পরিবেশ

গিনি পিগের জন্য প্রশস্ত, নিরাপদ আবদ্ধ স্থান প্রয়োজন। তারের জালের মেঝে তাদের পায়ে আঘাত করে। বাংলাদেশের গরমে ঘরের ভেতরে রাখা বাধ্যতামূলক।

গিনি পিগের জন্য আদর্শ বাসস্থান হলো সমতল মেঝেযুক্ত প্রশস্ত খাঁচা বা C&C (Cubes and Coroplast) ঘের। দুটো গিনি পিগের জন্য কমপক্ষে ০.৭৪ বর্গমিটার জায়গা দরকার।

খাঁচায় যা থাকতে হবে:

  • লুকানোর জায়গা: প্রতিটি গিনি পিগের জন্য আলাদা হাইড (ছোট ঘর/টানেল)
  • পানির বোতল বা বাটি: সবসময় তাজা পানি
  • ঘাসের র‍্যাক: ঘাস মাটি থেকে উঁচুতে রাখলে পরিষ্কার থাকে
  • বিছানা উপাদান: অন্তত ৫ সেমি গভীর নিরাপদ কাঠের শেভিং বা ফ্লিস

বাংলাদেশে গিনি পিগ সবসময় ঘরের ভেতরে রাখুন। বাইরে রাখলে গরমে মারা যেতে পারে।

প্রজনন ও বাচ্চার যত্ন

গিনি পিগের গর্ভকাল ৫৯ থেকে ৭২ দিন। বাচ্চারা জন্মের পরপরই চোখ খুলে, দৌড়াতে ও খাবার খেতে পারে। মেয়ে গিনি পিগ মাত্র ৪-৬ সপ্তাহ বয়সে পরিণত হয়, তাই সাবধান থাকুন।

গিনি পিগের প্রজনন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

গর্ভকাল: ৫৯ থেকে ৭২ দিন -- বেশিরভাগ ছোট প্রাণীর চেয়ে অনেক বেশি। এত দীর্ঘ গর্ভকালের কারণে বাচ্চারা পূর্ণ বিকশিত হয়ে জন্মায়।

বাচ্চার সংখ্যা: ১ থেকে ৪টি, সাধারণত ২-৩টি।

বাচ্চার অবস্থা জন্মের সময়: চোখ খোলা, পশম আছে, এক ঘণ্টার মধ্যে হাঁটতে পারে -- এদের 'প্রিকোশিয়াল' বলা হয়। মায়ের দুধ পান করলেও কঠিন খাবারও খেতে পারে।

সতর্কতা: মেয়ে গিনি পিগ মাত্র ৪ সপ্তাহ বয়সে প্রজনন সক্ষম হয়। তাই বাচ্চা হওয়ার পরপরই ছেলে ও মেয়েদের আলাদা করুন।

গিনি পিগ কেনার আগে জানুন

গিনি পিগ সবসময় জোড়ায় কিনুন। কাঁটাবন বাজার বা ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগ্রহ করুন। ক্রয় মূল্য: ৳৫০০ থেকে ৳৩,০০০। মাসিক ব্যয় বিবেচনা করুন।

গিনি পিগ কেনার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:

  • আমি কি কমপক্ষে দুটো রাখতে পারব?
  • আমার ঘরে কি এসি বা সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা আছে?
  • মাসিক খরচ বহন করতে পারব?
  • এক্সোটিক পশু চিকিৎসক কোথায় আছেন জানি?

ঢাকায় গিনি পিগ পাওয়ার জায়গা:

  • কাঁটাবন পোষা প্রাণীর বাজার -- সবচেয়ে বড় সংগ্রহ
  • ফেসবুক গ্রুপ -- দায়িত্বশীল ব্রিডারদের সাথে যোগাযোগ করুন
  • অনলাইন বিজ্ঞাপন -- সাবধান থাকুন, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন
বাংলাদেশে গিনি পিগ পালনের খরচ (আনুমানিক)
খরচের ধরনপরিমাণবিশেষ তথ্য
গিনি পিগ ক্রয় (প্রতিটি)৳৫০০ - ৳৩,০০০জোড়া কিনলে সাশ্রয়
খাঁচা ও সরঞ্জাম (একবার)৳২,০০০ - ৳৮,০০০C&C খাঁচা বেশি টেকসই
টিমোথি ঘাস (মাসে)৳৮০০ - ৳১,৫০০বিদেশি পণ্য, দাম বেশি
তাজা সবজি (মাসে)৳৩০০ - ৳৬০০বাজার থেকে সহজে পাওয়া যায়
পিলেট (মাসে)৳৩০০ - ৳৫০০এক্সোটিক পোষা প্রাণীর দোকান থেকে
পশু চিকিৎসক (বার্ষিক)৳১,০০০ - ৳৩,০০০+জরুরি অবস্থায় বেশি হতে পারে

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

গিনি পিগ পালন সম্পর্কে বাংলাদেশি মালিকদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর।

একা গিনি পিগ রাখা কি যাবে?

না। গিনি পিগ দলীয় প্রাণী এবং একা রাখলে মানসিকভাবে কষ্ট পায়, স্বাস্থ্য খারাপ হয়। সর্বদা কমপক্ষে দুটো একসাথে রাখুন। একই লিঙ্গের জোড়া সবচেয়ে সহজ।

বাংলাদেশের গরমে গিনি পিগ কীভাবে রাখব?

গিনি পিগ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় হিট স্ট্রোকে মারা যেতে পারে। সিলিং ফ্যান চালিয়ে রাখুন, এসি থাকলে আরও ভালো। মাটির তৈরি ঠান্ডা ট্রাইল বা ভেজা তোয়ালে কাছে রাখা যায়।

প্রতিদিন কোন সবজি দেব?

ক্যাপসিকাম (বেল পেপার) সবচেয়ে ভালো -- ভিটামিন সি বেশি এবং প্রতিদিন দেওয়া যায়। পেয়ারা, ধনে পাতা, লাউ পাতা, পালং শাক (সীমিত) দেওয়া যায়। গাজর মাঝে মাঝে দিন।

ঢাকায় গিনি পিগের চিকিৎসার জন্য কোথায় যাব?

ঢাকায় কয়েকটি বেসরকারি ভেটেরিনারি ক্লিনিক ছোট এক্সোটিক প্রাণীর চিকিৎসা করে। ফেসবুকে গিনি পিগ বাংলাদেশ গ্রুপে যোগ দিন -- সদস্যরা বিশ্বস্ত পশু চিকিৎসকের তথ্য দিতে পারবেন।

টিমোথি ঘাস কোথায় পাব?

কাঁটাবন পোষা প্রাণীর বাজারে পাওয়া যায়। অনলাইনে বিভিন্ন পোষা প্রাণীর দোকান থেকেও অর্ডার করা যায়। দাম মাসে ৳৮০০ থেকে ৳১,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।

গিনি পিগ কত বছর বাঁচে?

সুস্থ গিনি পিগ সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর বাঁচে। ভালো যত্ন নিলে কেউ কেউ ৮ বছরও বাঁচে। তাই গিনি পিগ পালার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্বের কথা মনে রাখুন।

গিনি পিগ কি শিশুদের জন্য ভালো পোষা প্রাণী?

হ্যাঁ, তবে বড়দের তত্ত্বাবধান জরুরি। গিনি পিগ শান্ত ও কামড়ায় না, কিন্তু ছোট শিশুরা জোরে ধরলে ভয় পায়। ৬ বছরের বেশি বয়সী শিশু সঠিকভাবে গিনি পিগ ধরতে পারে। প্রতিদিনের খাবার ও পরিষ্কারের দায়িত্ব বড়দের নিতে হবে।