লেস্টার লংউল
লেস্টার লংউল একটি ঐতিহাসিক লম্বা-পশম ভেড়া, যা তার চকচকে, কোঁকড়ানো পশম এবং শান্ত, সহজ স্বভাবের জন্য সমাদৃত।
- Size
- বড়
- Lifespan
- 10–12 years
- Origin
- ইংল্যান্ড
- Temperament
- শান্ত
- Standard colors
- কালো, সাদা এবং ধূসর
Characteristics
লেস্টার লংউল colors and patterns
What each club's breed standard says about every লেস্টার লংউল color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the লেস্টার লংউল in কালো, সাদা এবং ধূসর.
| Color or pattern | LLSBA US |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“black”) |
| সাদা | মানসম্মত (“clean and white”) |
| ধূসর | মানসম্মত (“"English Blue," which is a shaded gray”) |
| গাঢ় বাদামি | No ruling |
| Patterns | |
| ফুটকিদার | ত্রুটি (“Colored spots in white fleeces are objectionable”) |
| Color or pattern | LLSBA US |
|---|---|
| নীল | মানসম্মত (“appearance of blue”) |
| গোলাপি | মানসম্মত (“healthy pink color”) |
| Color or pattern |
|---|
| কালো |
| Color or pattern | LLSBA US |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“black”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
- ত্রুটি
- Named by the club's breed standard as a fault: the animal can be shown but is penalized.
Color changes
How a লেস্টার লংউল's colors can change over its life.
কালোchanges toধূসর
লোম · বয়সের সঙ্গে
কালোchanges toগাঢ় বাদামি
লোম · বয়সের সঙ্গে · from 0 to 52 weeks
কালোchanges toধূসর
লোম · ক্রমাগত
কালোchanges toবাদামি
লোম · রোদে · can change back
সাদাchanges toফুটকিদার
লোম · ক্রমাগত
কালোchanges toসাদা
লোম · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
লেস্টার লংউল ভেড়ার পরিচিতি
লেস্টার লংউল ইংল্যান্ডের একটি বড় আকারের ঐতিহাসিক লংউল ভেড়ার জাত, যা চকচকে কোঁকড়ানো পশম আর শান্ত, স্থির স্বভাবের জন্য পরিচিত।
লেস্টার লংউল (Leicester Longwool) ইংল্যান্ডের একটি বড় আকারের পোষা ভেড়ার জাত। একে মূলত লম্বা, চকচকে পশমের জন্য পালন করা হয়, আবার এটি দ্বৈত-উদ্দেশ্যের প্রাণীও বটে, কেননা এর কাছ থেকে মাংসও পাওয়া যায়। জাতটি লংউল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা ব্রিটিশ ভেড়ার একটি পরিবার এবং লম্বা, কোঁকড়ানো আঁশের ঘন পশমের জন্য চেনা যায়। স্বভাবে শান্ত ও মিশুক হওয়ায় ছোট খামার থেকে শুরু করে বড় খামার, সব জায়গাতেই একে সামলানো তুলনামূলক সহজ।
পূর্ণবয়স্ক প্রাণীগুলোর হাড় মোটা ও দেহ চওড়া হয়, আর সারা শরীর জুড়ে পশম স্পষ্ট কোঁকড়া বা রিং আকারে ঝুলে থাকে। পশম দ্রুত বাড়ে এবং লম্বা আঁশ পর্যন্ত পৌঁছায়। ঠিক এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই হাতে সুতা কাটা কারিগর আর পুরনো পশম কলগুলোর কাছে এই জাতের নামডাক তৈরি হয়েছিল। স্ত্রী ভেড়ারা যত্নশীল মা হিসেবে পরিচিত, আর আকারের তুলনায় পুরুষ ভেড়ারা সাধারণত বেশ শান্ত স্বভাবের হয়।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশে এই জাতটিকে ঐতিহ্যবাহী বা বিরল জাত হিসেবে গণ্য করা হয়। ছোট খামারি, পশম উৎপাদনকারী, আর পুরনো বংশধারা টিকিয়ে রাখতে চাওয়া সংরক্ষণ পালেই এদের বেশি দেখা যায়। শান্ত স্বভাব আর কাজে লাগার মতো পশমের কারণে যারা নিজে হাতে সুতা কাটেন, বুনন করেন বা ফেল্ট তৈরি করেন, তাদের কাছে এই ভেড়ার চাহিদা এখনও ভালো।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | ইংল্যান্ড |
| আকার | বড় |
| আয়ুষ্কাল | ১০ থেকে ১২ বছর |
| গোষ্ঠী / ভূমিকা | লংউল ভেড়া, দ্বৈত-উদ্দেশ্যের জাত (পশম ও মাংস) |
| উপযুক্ত যাদের জন্য | ছোট খামারি, পশম উৎপাদনকারী, ঐতিহ্যবাহী পাল রক্ষণকারী |
কাদের জন্য উপযুক্ত
যারা পশমের মান আর স্থির, ঝামেলাহীন স্বভাবের প্রাণী পছন্দ করেন, লেস্টার লংউল তাদের জন্য মানানসই। আকারে বড় হওয়ায় এর জন্য মজবুত বেড়া আর ভারী ভেড়া সামলানোর উপযোগী স্থাপনা দরকার, তাই পর্যাপ্ত চারণভূমি ও আশ্রয় থাকা মানুষের জন্যই এটি বেশি মানানসই। হাতে সুতা কাটা কারিগর আর ছোট পশম ব্যবসায়ীরা এর লম্বা, কোঁকড়ানো আঁশের প্রতি আকৃষ্ট হন। স্বভাব শান্ত হওয়ায় যারা প্রথমবার ভেড়া পালন করছেন, ভারী পশমের নিয়মিত পরিচর্যা আর লোম কাটার কাজ সামলাতে পারলে তাদের পক্ষেও এই জাত সামলানো কঠিন নয়।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
১৮ শতকের ইংল্যান্ডে রবার্ট বেকওয়েলের পরিকল্পিত প্রজনন কাজের মধ্য দিয়ে লেস্টার লংউল জাতটি গড়ে ওঠে, পরে যা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই জাতের শিকড় মধ্য ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারে, যেখানে স্থানীয় লংউল ভেড়া শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালন করা হতো। ১৮ শতকে ডিশলি গ্রেঞ্জের কৃষক রবার্ট বেকওয়েল এসব ভেড়ার ওপর নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচিত প্রজনন প্রয়োগ করেন, দ্রুত বৃদ্ধি, মোটাসোটা গড়ন আর ভারী, সুষম পশমের বৈশিষ্ট্য বেছে বেছে বাড়ান। তার উন্নত করা ভেড়াগুলো পরিচিতি পায় ডিশলি বা নিউ লেস্টার নামে, আর আধুনিক লেস্টার লংউলের ভিত্তি গড়ে ওঠে এই ভেড়াগুলো থেকেই।
বেকওয়েলের পদ্ধতি, যেমন সন্তানের গুণ যাচাই করে প্রজনন নির্বাচন আর ভাড়ায় পুরুষ ভেড়া দিয়ে তাদের বংশধরের গুণ পরীক্ষা করার চল, শুধু ভেড়া পালনেই আটকে থাকেনি, এর প্রভাব পড়েছিল আরও বিস্তৃত পরিসরে। উন্নত জাতের এই লেস্টার ভেড়া ব্রিটেন ও বিদেশের আরও অনেক লংউল ও সংকর জাতের পাল উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল, আর পরবর্তীকালের বেশ কিছু জাতের রক্তেই এই লেস্টারের ধারা মিশে আছে।
১৯ শতকে এই জাত ব্যাপকভাবে রপ্তানি হয়, পৌঁছে যায় উত্তর আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। মাউন্ট ভার্ননেও এই ভেড়া পালন করা হতো, আর জর্জ ওয়াশিংটন নিজেই এই জাতের প্রতি আগ্রহের কথা লিখে গেছেন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী পালগুলো এই জাতের ঔপনিবেশিক যুগের সংযোগ নিয়ে প্রচার চালিয়ে থাকে।
২০ শতকে বাণিজ্যিক ভেড়া পালন যখন খাটো পশম আর দ্রুত বেড়ে ওঠা জাতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, তখন লেস্টার লংউলের সংখ্যা হুহু করে কমে যায় এবং এটি একটি বিরল জাতে পরিণত হয়। এরপর থেকে সংরক্ষণ সংগঠন আর নিবেদিতপ্রাণ প্রজননকারীরা মিলে অবশিষ্ট বংশধারা টিকিয়ে রেখেছেন।
শারীরিক গঠন ও রূপ
লেস্টার লংউল একটি বড়সড়, চওড়া দেহের ভেড়া। এর ভারী পশম লম্বা, চকচকে কোঁকড়া হয়ে ঝুলে থাকে, রং সাধারণত সাদা হলেও কখনও কখনও প্রাকৃতিক রঙের পশমও দেখা যায়।
লেস্টার লংউলের দেহ লম্বাটে ও গভীর গড়নের, পিঠ চওড়া, আর পাঁজর ভালোভাবে বাঁকানো। স্ত্রী ও পুরুষ, দুই ধরনের ভেড়ারই স্বাভাবিকভাবে শিং থাকে না। মাথা আর পায়ে ভারী পশম জমে না, আর মুখ সাধারণত সাদা বা নীলচে-ধূসর রঙের হয়, দেখতে শান্ত। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য হলো এর পশম, যা স্পষ্ট, লম্বা কোঁকড়া আকারে দেহের দুই পাশ বেয়ে নেমে আসে।
| বৈশিষ্ট্য | স্বাভাবিক মাত্রা |
|---|---|
| উচ্চতা | কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার |
| ওজন | পুরুষ ভেড়া প্রায় ১১০ থেকে ১৫০ কেজি; স্ত্রী ভেড়া প্রায় ৮০ থেকে ১১০ কেজি |
| লোম/পশম | লম্বা, চকচকে, কোঁকড়ানো পশম, লম্বা আঁশবিশিষ্ট |
| রং | সাধারণত সাদা; তবে প্রাকৃতিক রঙের (রুপালি থেকে কালচে) ধরনও আছে |
| চোখ | কালো রঙের, পরিষ্কার ও সজাগ মুখাবয়বে বসানো |
লোম ও রং
পশমই এই জাতের প্রধান পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য। এটি দ্রুত বাড়ে, আঁশ লম্বা হয়, আর উজ্জ্বল চকচকে ভাব থাকে বলে সুতা কাটার পর তা থেকে মসৃণ, চকচকে সুতা তৈরি হয়। পশম সমান হয়ে শুয়ে না থেকে স্পষ্ট রিং বা কোঁকড়া আকারে ঝুলে থাকে, আর মাত্র এক বছরের বৃদ্ধিতেই ভালো পরিমাণ পশম পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ভেড়াই সাদা রঙের হয়, ফলে পশমে ইচ্ছেমতো রং করা যায়। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক রঙের পালও আছে, রুপালি-ধূসর থেকে শুরু করে প্রায় কালো পর্যন্ত নানা রঙের, আর যারা রং না করা পশম চান, সেই হাতে সুতা কাটা কারিগরদের কাছে এই গাঢ় রঙের পশমের কদর বেশি। মুখ আর পা পরিষ্কার থাকায়, শরীরের বাকি অংশের ঘন পশম সত্ত্বেও লোম কাটা আর পরীক্ষা করার কাজ তুলনামূলক সহজ হয়।
স্বভাব
লেস্টার লংউল স্বভাবে নরম, শান্ত ও বাধ্য। ফলে একে সামলানো সহজ, আর ছোট পাল কিংবা নিজে হাতে দেখাশোনা করা রাখালদের জন্য এটি মানানসই ভেড়া।
এই জাত তার স্থির মেজাজের জন্য পরিচিত। ভেড়াগুলো সাধারণত শান্ত থাকে, সহজে ঘাবড়ায় না, আর তাদের নাড়াচাড়া করা বা সামলানো সহজ, এত বড় আকারের ভেড়ার ক্ষেত্রে এসব গুণ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী ভেড়ারা স্বভাবে মিশুক, পালের রুটিনে দ্রুত মানিয়ে নেয়। অন্য অনেক জাতের তুলনায় পুরুষ ভেড়ারাও সাধারণত বেশ শান্ত থাকে, তবে খাসি না করা যেকোনো পুরুষ ভেড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সতর্কতা বজায় রাখা উচিত।
নিয়মিত যত্নে থাকা লেস্টার লংউল মানুষের সংস্পর্শে সয়ে যায়, আর পরিচর্যা বা লোম কাটার সময় যে ঘনিষ্ঠ স্পর্শ দরকার হয়, তাও সহ্য করতে পারে। অচেনা মানুষের সামনে এরা সাধারণত ভয় পেয়ে ছোটাছুটি করার বদলে শান্তই থাকে। এরা সহজেই পালবদ্ধ হয়ে চলে, আর ধীরে ধীরে পরিচয় করিয়ে দিলে ছাগল বা গরুর মতো অন্য পশুর সঙ্গেও শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারে। ছোট খামারি আর পশম সংগ্রাহকদের কাছে এই জাত জনপ্রিয় হওয়ার একটি বড় কারণ এদের এই নরম স্বভাব।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহপ্রবণতা (দেখাশোনাকারীর প্রতি) | ৩ |
| কর্মশক্তি | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরার প্রবণতা | ১ |
যত্ন ও পরিচর্যা
যত্নের মূল কাজ হলো নিয়মিত লোম কেটে ও পশম বেছে ভারী পশম সামলানো, ভালো চারণভূমির ব্যবস্থা রাখা, আর নিয়মিত খুর ও পরজীবী পরীক্ষা করা।
লোম পরিচর্যা
- বছরে অন্তত একবার লোম কাটুন; সুতা কাটার উপযোগী আঁশের দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে অনেক খামারি বছরে দুইবারও কাটেন।
- পশম বেছে পরিষ্কার রাখুন, কারণ লম্বা কোঁকড়ার মধ্যে গাছের অংশ, কাদা আর ময়লা সহজেই আটকে যায়।
- পেছনের অংশ আর পেটের কাছে পশম জট বেঁধেছে কি না দেখুন, প্রয়োজনে নোংরা পশম ছেঁটে (ড্যাগিং) পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- খুর অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া আর খোঁড়ানো ঠেকাতে নিয়মিত সময় ধরে খুর ছেঁটে দিন।
ব্যায়াম ও চলাফেরা
- প্রতিদিনের চরা আর চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি দিন।
- সম্ভব হলে চারণক্ষেত্র পালাক্রমে বদলান, এতে ঘাসের মান ভালো থাকে আর পরজীবীর প্রকোপ কমে।
- পাল যেন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে, তার জায়গা নিশ্চিত করুন। এত বড় জাতকে সুস্থ রাখতে এটি জরুরি।
পরিবেশ
নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো ঘাসের ওপর এই জাত ভালো বেড়ে ওঠে। ভারী পশম ঠান্ডা আর বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয় ঠিকই, তবে বাংলাদেশের মতো গরম, আর্দ্র আবহাওয়ায় লোম কাটার আগে এই লম্বা পশমের কারণেই তাপজনিত চাপ (হিট স্ট্রেস) দেখা দিতে পারে, তাই মূল পরিবেশগত সমস্যা এখানেই। সবসময় ছায়া, বিশুদ্ধ পানি, আর বাচ্চা দেওয়ার সময় বা খারাপ আবহাওয়ায় শুকনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখুন। বড় আকারের ভেড়ার উপযোগী মজবুত বেড়া জরুরি, সঙ্গে এমন একটি জায়গাও দরকার যেখানে একজন মানুষ একাই নিরাপদে লোম কাটা, খুরের যত্ন আর নিয়মিত চিকিৎসার কাজ করতে পারেন।
খাদ্য ও পুষ্টি
ভালো চারণভূমি আর খড়েই লেস্টার লংউল ভালো থাকে, আর প্রজননকাল, গর্ভাবস্থার শেষ দিক এবং দুধ দেওয়ার সময় বাড়তি খাবার ও খনিজ যোগ করতে হয়।
এই জাত একটি তৃণভোজী রোমন্থক প্রাণী, তাই এর খাদ্যতালিকার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানসম্পন্ন চারণ-খাদ্য। বৃদ্ধির মৌসুমে ভালো চারণভূমি পেলে পূর্ণবয়স্ক ভেড়া শুধু ঘাস থেকেই তার বেশিরভাগ চাহিদা মেটাতে পারে। শীতকালে বা খরার সময় চরার বদলে খড় দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার শেষ দিক, দুধ দেওয়ার সময়, প্রজননের আগের সময়, আর বেড়ে ওঠা বাচ্চা ভেড়ার ক্ষেত্রে বাড়তি চাহিদা মেটাতে ঘন খাবার (কনসেনট্রেট) যোগ করা হয়। বিশুদ্ধ পানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান জরুরি, বিশেষ করে এত ভারী প্রাণীর জন্য আর দুধ দেওয়া স্ত্রী ভেড়াদের জন্য।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | বেলা |
|---|---|---|
| সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ (দুধ না দেওয়া পূর্ণবয়স্ক) | ভালো চারণভূমি, অথবা প্রায় ১.৫ থেকে ২ কেজি খড় | স্বাধীনভাবে চরা |
| গর্ভাবস্থার শেষ দিক | চারণ-খাদ্যের সঙ্গে প্রায় ০.৩ থেকে ০.৭ কেজি ঘন খাবার | ১ থেকে ২ বেলা |
| দুধ দেওয়া স্ত্রী ভেড়া | চারণ-খাদ্যের সঙ্গে প্রায় ০.৫ থেকে ১ কেজি ঘন খাবার | ২ বেলা |
| বেড়ে ওঠা বাচ্চা ভেড়া | চারণ-খাদ্যের সঙ্গে মেপে দেওয়া ক্রিপ বা ঘন খাবার | ২ বেলা |
বাড়তি খাবার ও সম্পূরক
ভেড়ার উপযোগী আলগা খনিজ মিশ্রণ বা মিনারেল ব্লক দিন, যাতে লবণ আর প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান মেলে অথচ তামার পরিমাণ কম থাকে। মাটিতে যেসব এলাকায় খনিজের ঘাটতি আছে, সেখানে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেলেনিয়াম আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান দিতে হতে পারে। মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে উপযুক্ত সবজি বা ফসল বাড়তি খাবার হিসেবে দেওয়া যায়, তবে খাদ্যতালিকার বড় অংশ জুড়ে চারণ-খাদ্যই থাকা উচিত। নতুন কোনো খাবার হঠাৎ না দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করান, নইলে অ্যাসিডোসিস বা পেট ফাঁপার মতো হজমের সমস্যা হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও আয়ুষ্কাল
লেস্টার লংউল সাধারণত বেশ কষ্টসহিষ্ণু আর আয়ু প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর, তবে প্রধান ঝুঁকির মধ্যে আছে অভ্যন্তরীণ পরজীবী, পায়ের সমস্যা, আর পশমজনিত ফ্লাইস্ট্রাইকের মতো অবস্থা।
এই জাত মজবুত ও বহু পুরনো, এর কোনো ব্যাপক জাত-নির্দিষ্ট রোগ নেই, আর স্বাভাবিক আয়ু প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর। সব ভেড়ার ক্ষেত্রে যেমন হয়, তেমনি এখানেও বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ জিনগত নয়, বরং পরিচর্যার ঘাটতি। ভারী পশমের কারণে ফ্লাইস্ট্রাইক আর পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দিতে হয়, আর আকারে বড় হওয়ায় পায়ের স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| অভ্যন্তরীণ পরজীবী (কৃমি) | ওজন কমা, পাতলা পায়খানা, রক্তস্বল্পতা, খারাপ পশম | মল পরীক্ষায় ডিমের সংখ্যা যাচাই ও পালাক্রমে চরানো |
| ফুটরট / ফুট স্কাল্ড | খোঁড়ানো, দুর্গন্ধ, খুরের আবরণ আলাদা হয়ে যাওয়া | খুর ছেঁটে চিকিৎসা করুন, মাটি শুকনো রাখুন |
| ফ্লাইস্ট্রাইক | অস্থিরতা, ভেজা নোংরা পশম, পোকার লার্ভা (ম্যাগট) | গরম মাসগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি; পেছনের অংশ পরিষ্কার রাখুন |
| ম্যাস্টাইটিস (স্তনপ্রদাহ) | গরম বা শক্ত ওলান, খাওয়ায় অনীহা, বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়া | দুধ দেওয়া স্ত্রী ভেড়াদের হয়; দ্রুত চিকিৎসা করুন |
| প্রেগন্যান্সি টক্সিমিয়া | দুর্বলতা, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে খাওয়ায় অনীহা | গর্ভাবস্থার শেষ দিকের পুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- গতানুগতিকভাবে সবাইকে একসঙ্গে কৃমিনাশক না দিয়ে, মল পরীক্ষায় ডিমের সংখ্যা দেখে পরজীবী নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা করুন।
- নিয়মিত সময় ধরে খুর ছেঁটে পরীক্ষা করুন, আর ফুটরট দেখা দিলে শুরুতেই চিকিৎসা করুন।
- পেছনের অংশ পরিষ্কার রাখুন, আর ফ্লাইস্ট্রাইকের ঝুঁকি বেশি থাকা মৌসুমের আগেই লোম কেটে বা ছেঁটে দিন।
- অঞ্চল অনুযায়ী উপযুক্ত টিকা কর্মসূচি বজায় রাখুন, যেমন ক্লস্ট্রিডিয়াল রোগের বিরুদ্ধে টিকা।
- বিপাকীয় রোগ ঠেকাতে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
- পালে নতুন ভেড়া যোগ করার আগে তাদের আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন (কোয়ারেন্টিন)।
প্রজনন
লেস্টার লংউল স্ত্রী ভেড়া মৌসুমভিত্তিক প্রজননকারী, প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভকাল শেষে বাচ্চা দেয়, সাধারণত একটি বা দুটি বাচ্চা হয় আর মা সেগুলোর ভালো যত্ন নেয়।
এই জাত জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে, যদিও অনেক খামারি প্রথমবার প্রজননের আগে স্ত্রী ভেড়া পূর্ণাঙ্গভাবে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। প্রজনন মৌসুমভিত্তিক, শরতে স্ত্রী ভেড়া গরম হয় (মদনকাল শুরু হয়) আর প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভকাল শেষে বসন্তে বাচ্চা দেয়। বাচ্চা প্রসব একই সময়ে ঘটানোর জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য পুরুষ ভেড়াকে স্ত্রী ভেড়ার পালের সঙ্গে রাখা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একবারে একটি বা দুটি বাচ্চা হয়, ভালো স্বাস্থ্যের স্ত্রী ভেড়াদের ক্ষেত্রে জোড়া বাচ্চা হওয়া সাধারণ ব্যাপার। স্ত্রী ভেড়ারা যত্নশীল মা, দুধও ভালো দেয়, আর বাচ্চাগুলো বেশ চনমনে হয়। চারণ-খাদ্য আর ঘন খাবার ঠিকভাবে খেতে শেখার পর সাধারণত কয়েক মাস বয়সে বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানো হয়। জাতটি আকারে বড় হওয়ায়, গর্ভাবস্থাজুড়ে স্ত্রী ভেড়ার শারীরিক অবস্থার প্রতি নজর রাখলে সহজে বাচ্চা প্রসব হয় আর বাচ্চারাও শক্তসমর্থ হয়। এই বিরল জাতের সীমিত বংশধারা টিকিয়ে রাখতে সংরক্ষণে নিয়োজিত প্রজননকারীরা সতর্কভাবে বংশ-তালিকা সংরক্ষণ করেন।
| বিষয় | মান |
|---|---|
| প্রজনন মৌসুম | মৌসুমভিত্তিক; শরতে মিলন, বসন্তে বাচ্চা |
| প্রথম প্রজননের বয়স | পূর্ণাঙ্গ বেড়ে উঠলে সাধারণত প্রায় ১ বছর বয়সে |
| গর্ভকাল | প্রায় ১৪৫ থেকে ১৫০ দিন (প্রায় ৫ মাস) |
| একসঙ্গে বাচ্চার সংখ্যা | সাধারণত ১ থেকে ২টি |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস |
| মাতৃসুলভ যত্ন | প্রবল; ভালো দুধ ও যত্নশীল স্ত্রী ভেড়া |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লেস্টার লংউল নিয়ে প্রচলিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে থাকে এর আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযোগিতা আর প্রাপ্যতার বিষয়।
লেস্টার লংউল ভেড়া কত বড় হয়?
এটি একটি বড় আকারের ভেড়া। পুরুষ ভেড়ার ওজন সাধারণত প্রায় ১১০ থেকে ১৫০ কেজি আর স্ত্রী ভেড়ার প্রায় ৮০ থেকে ১১০ কেজি হয়, আর কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা থাকে প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার।
এই জাতের ভেড়ার স্বভাব কেমন?
এটি নরম স্বভাবের, শান্ত ও বাধ্য। মেজাজ ভালো আর সামলানো সহজ বলেই ছোট খামারি আর পশম সংগ্রাহকদের কাছে এই জাত জনপ্রিয়।
লেস্টার লংউলের যত্ন নেওয়া কি কঠিন?
মূল বাড়তি কাজ হলো নিয়মিত লোম কেটে আর পশম পরিষ্কার রেখে ফ্লাইস্ট্রাইক ঠেকানো। এ ছাড়া নিয়মিত খুরের যত্ন, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ আর ভালো চারণভূমি থাকলেই বাকি কাজ চলে যায়, তাই যারা নিজে হাতে নিয়মিত সময় দিতে পারেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
লেস্টার লংউল ভেড়া কতদিন বাঁচে?
ভালো পরিচর্যা পেলে সাধারণ আয়ু প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর।
এই জাত কাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
যারা লম্বা, চকচকে পশম আর শান্ত স্বভাবের ভেড়া চান, আর যাদের কাছে বড় আকারের ভেড়ার উপযোগী মজবুত বেড়া ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা আছে, সেই ছোট খামারি, হাতে সুতা কাটা কারিগর আর পশম উৎপাদনকারীদের জন্য এটি উপযুক্ত।
লেস্টার লংউল কি সহজে পাওয়া যায়?
বেশ কয়েকটি দেশে এটিকে ঐতিহ্যবাহী বা বিরল জাত ধরা হয়, তাই সহজে পাওয়া যায় না। সাধারণ বাণিজ্যিক বাজারের বদলে নির্দিষ্ট প্রজননকারী আর সংরক্ষণ পাল থেকেই সাধারণত এই ভেড়া সংগ্রহ করা হয়।
এই ভেড়ার পশম কী কাজে লাগে?
লম্বা, কোঁকড়ানো, চকচকে এই পশম হাতে সুতা কাটা কারিগর, তাঁতি আর ফেল্ট প্রস্তুতকারীদের কাছে বেশ মূল্যবান, সাদা আর প্রাকৃতিক রং উভয় ধরনের সুতার জন্যই এর কদর আছে।