ফ্লোরিডা হোয়াইট
ফ্লোরিডা হোয়াইট হলো এক শান্ত, সম্পূর্ণ-সাদা খরগোশ, যা তার বশংবদ স্বভাব এবং সংহত, সুগোলাকার গঠনের জন্য সমাদৃত।
- Size
- ছোট
- Lifespan
- 5–8 years
- Origin
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- Temperament
- শান্ত
- Standard colors
- অ্যালবিনো
Characteristics
Coat and grooming
How the ফ্লোরিডা হোয়াইট coat is built, and what that means when you groom it.
- লোমের স্তর
- দ্বিস্তর লোম
- লোমের গড়ন
- মসৃণ
- লোমের দৈর্ঘ্য
- ছোট
- লোম ঝরা
- মাঝারি ঝরা
Grooming guidance
গুরুতর: A ফ্লোরিডা হোয়াইট should not be shaved.
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: A ফ্লোরিডা হোয়াইট should only be clipped by someone experienced with the species.
এখানে চামড়া এতটাই পাতলা যে মেশিনের ব্লেডের নিচে ছিঁড়ে যেতে পারে, আর ধরে রাখলে প্রাণী আতঙ্কিত হতে পারে। ছাঁটা বা জট ছাড়ানো পশুচিকিৎসক বা এই প্রজাতির সঙ্গে নিয়মিত কাজ করা গ্রুমারের উপর ছাড়ুন।
ফ্লোরিডা হোয়াইট colors and patterns
What each club's breed standard says about every ফ্লোরিডা হোয়াইট color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the ফ্লোরিডা হোয়াইট in অ্যালবিনো.
| Color or pattern | ARBA |
|---|---|
| অ্যালবিনো | মানসম্মত (“Florida White”) |
| Color or pattern |
|---|
| গোলাপি-লাল |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ সম্পর্কে
ফ্লোরিডা হোয়াইট একটি ছোট আকারের সম্পূর্ণ সাদা মার্কিন খরগোশ জাত, শান্ত স্বভাব ও প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ কেজি ওজনের টানটান শরীরের জন্য পরিচিত।
ফ্লোরিডা হোয়াইট আকারে ছোট একটি গৃহপালিত খরগোশ, যার লোম পুরোপুরি সাদা এবং চোখ গোলাপি বা লালচে। প্রাপ্তবয়স্ক খরগোশের ওজন সাধারণত প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ কেজির মধ্যে থাকে, যা একে মাঝারি আকারের জাতগুলোর মধ্যে হালকার দিকে রাখে। শরীর খাটো, গোলগাল ও পেশিবহুল, যে কারণে শুরুর দিকে এটি একইসঙ্গে পরীক্ষাগারের প্রাণী এবং মাংসের জাত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
স্বভাবে এই জাত শান্ত ও স্থির মেজাজের। হাতে ধরলে বা কোলে নিলে ফ্লোরিডা হোয়াইট সহজে ভয় পায় না, যা ছোট আকারের অনেক খরগোশের মধ্যে দেখা অস্থির, ছটফটে আচরণ থেকে একে আলাদা করে। এই স্থির স্বভাব আর মাঝারি আকারের মিশেলে জাতটি পরিবার, তরুণ খামারিদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামলানো সহজ এমন একটি ঘরোয়া খরগোশ চান এমন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
লোম একরঙা হওয়ায় পরিচর্যা সহজ, আর শরীর ছোট হওয়ায় বড় জাতের তুলনায় কম জায়গা ও কম খাবার লাগে। ফ্লোরিডা হোয়াইট ঘরের ভেতরে অথবা ছাউনি দেওয়া বাইরের খাঁচায়, দুই জায়গাতেই থাকতে পারে, তবে শরীর টানটান করে নড়াচড়ার মতো জায়গা থাকা জরুরি।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | যুক্তরাষ্ট্র |
| আকার | ছোট (প্রায় ১.৮-২.৭ কেজি) |
| আয়ুষ্কাল | ৫-৮ বছর |
| শ্রেণি/ভূমিকা | সঙ্গী প্রাণী, প্রদর্শনী, মাংস, ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষাগার |
| মানানসই | পরিবার, বড় শিশু, শান্ত পরিবেশের বাসাবাড়ি |
কাদের জন্য উপযুক্ত
ফ্লোরিডা হোয়াইট তাদের জন্য মানানসই, যারা বড় খাঁচা ছাড়াই শান্ত, ঝামেলাহীন একটি খরগোশ চান। নরম স্বভাবের কারণে বড় শিশু আছে এমন পরিবারের জন্যও এটি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ, কারণ তারা শান্তভাবে পোষা প্রাণী সামলাতে শেখে। খরগোশ প্রদর্শনীতে আগ্রহীরাও এই জাত পালন করেন, যেহেতু এর সমান সাদা লোম ও গোলগাল গড়ন একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে বিচার করা হয়। অন্য যেকোনো খরগোশের মতোই একে প্রতিদিন সময় দিতে হয়, নিয়মিত খাবার দিতে হয় এবং ব্যায়ামের জন্য জায়গা লাগে।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অরভিল মিলিকেন কয়েকটি জাত মিশিয়ে ফ্লোরিডা হোয়াইট তৈরি করেন, লক্ষ্য ছিল পরীক্ষাগার ও মাংসের উপযোগী ছোট সাদা খরগোশ।
ফ্লোরিডা হোয়াইট একটি আমেরিকান জাত, যা ১৯৬০-এর দশকে অরভিল মিলিকেন তৈরি করেন। লক্ষ্য ছিল এমন একটি ছোট, কার্যকর সাদা খরগোশ তৈরি করা, যার মাংস ও হাড়ের অনুপাত ভালো এবং যা পরীক্ষাগারের কাজেও উপযোগী, যেখানে একই আকারের সম্পূর্ণ সাদা প্রাণীর প্রয়োজন হতো।
মিলিকেন বিদ্যমান বিভিন্ন খরগোশ জাত মিশিয়ে এই জাত গড়ে তোলেন, যার মধ্যে ডাচ, পোলিশ এবং নিউজিল্যান্ড হোয়াইট জাতের কথা সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়। কয়েক প্রজন্ম ধরে ছোট আকার, একরঙা সাদা লোম এবং গোলগাল দেহের জন্য নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার ফলে এমন একটি স্থিতিশীল জাত তৈরি হয়, যার বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্মে অপরিবর্তিত থাকে।
১৯৬৭ সালে আমেরিকান র্যাবিট ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন ফ্লোরিডা হোয়াইটকে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির ফলে জাতটির একটি লিখিত মান তৈরি হয় এবং সংগঠিত প্রদর্শনীতে জায়গা পায়, যা একে কাজের প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে স্বীকৃত সঙ্গী ও প্রদর্শনী খরগোশে রূপান্তরিত করে।
তারপর থেকে ফ্লোরিডা হোয়াইট তুলনামূলকভাবে ছোট কিন্তু স্থিতিশীল একটি জাত হিসেবেই টিকে আছে। বর্তমানে মাংস বা গবেষণার চেয়ে এটি বেশি মূল্যবান একটি শান্ত পোষা প্রাণী এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনীর খরগোশ হিসেবে, যেখানে এর আকার ও পরিষ্কার সাদা লোম একে প্রাসঙ্গিক রাখে।
গঠন ও জাতের মান
ফ্লোরিডা হোয়াইট টানটান, গোলগাল দেহের খরগোশ, ওজন প্রায় ১.৮-২.৭ কেজি, লোম খাটো ও পুরোপুরি সাদা, চোখ গোলাপি বা লালচে।
ফ্লোরিডা হোয়াইটের শরীর ছোট ও টানটান, পেছনের অংশ পূর্ণ ও গোলগাল, পিঠ খাটো। শরীরের গড়ন সুষম এবং আকারের তুলনায় বেশ মাংসল, যা মাংস ও পরীক্ষাগারের জাত হিসেবে এর পুরোনো ভূমিকার একটি চিহ্ন। মাথা খাটো এবং কান খাড়া, লম্বা নয় বরং শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে একে ছিমছাম, মজবুতভাবে গড়া একটি খরগোশ বলেই মনে হয়, যার মধ্যে বাড়তি কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| ওজন | ১.৮-২.৭ কেজি |
| দেহ | টানটান, খাটো, পূর্ণ গোলগাল গড়ন |
| লোম | খাটো, ঘন, মসৃণ (স্বাভাবিক লোম) |
| রং | শুধু পুরোপুরি সাদা |
| চোখ | গোলাপি বা লালচে (রুবি রঙের) |
লোম ও রং
লোম খাটো ও ঘন, মসৃণ গঠনের কারণে শরীরের সঙ্গে সমান হয়ে লেগে থাকে। এই জাতে গৃহীত একমাত্র রং হলো পুরোপুরি সাদা, কোনো দাগ, ছোপ বা এলোমেলো রঙিন লোম গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অ্যালবিনো জিনগত গঠনের ফল, যা চোখের গোলাপি বা লালচে রঙেরও কারণ, কারণ চোখে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না এবং রংটি আসে চোখের পেছনের রক্তনালি থেকে। সাদা লোমে ময়লা বা দাগ সহজেই চোখে পড়ে, তাই খাঁচা পরিষ্কার রাখলে খরগোশটি দেখতেও সবচেয়ে ভালো লাগে।
স্বভাব ও আচরণ
ফ্লোরিডা হোয়াইট বন্ধুত্বপূর্ণ, নরম ও শান্ত স্বভাবের, হাতে ধরা ভালোভাবে সহ্য করে এবং ছোট খরগোশদের মধ্যে সাধারণ ছটফটে ভাব এতে খুব কম দেখা যায়।
ফ্লোরিডা হোয়াইট তার স্থির, নরম স্বভাবের জন্য পরিচিত। কোলে নিলে বা হাতে ধরলে এটি সাধারণত শান্ত থাকে, যা কিছু ছোট জাতের সহজে চমকে ওঠা স্বভাব থেকে একে আলাদা করে। নিয়মিত নরমভাবে স্পর্শ করলে খরগোশগুলো মালিকের সঙ্গে সহজ হয়ে ওঠে এবং তেমন হইচই ছাড়াই নিয়মিত হাতে ধরা মেনে নেয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই জাত বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থির থাকে, একবার আশপাশের মানুষের ওপর ভরসা তৈরি হলে চুপচাপ বসে আদর নিতে পছন্দ করে। অপরিচিত মানুষের সামনে ফ্লোরিডা হোয়াইট সাধারণত প্রথমে একটু সতর্ক থাকে, বেশিরভাগ খরগোশের মতোই, তবে নতুন মানুষের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হতে সহজ হয়ে যায়। এটি আক্রমণাত্মক জাত নয়, যদিও ভয় পেলে বা ভুলভাবে ধরলে যেকোনো খরগোশই পা ঠুকতে পারে, আঁচড় দিতে পারে বা কামড় বসাতে পারে।
অন্য খরগোশের সঙ্গে ফ্লোরিডা হোয়াইট একসঙ্গে থাকতে পারে, যদি জোড়াটি ধীরে ধীরে পরিচয় করানো হয় এবং অন্তত একটির বন্ধ্যাকরণ করা থাকে। বিড়াল বা কুকুরের আশপাশে সবসময় নজর রাখা জরুরি, কারণ খরগোশ আকারে ছোট এবং সহজাতভাবে শিকারযোগ্য প্রাণী। উঁচু শব্দ ও লোকজনের ভিড় থাকা বাড়ির চেয়ে শান্ত, ঠান্ডা পরিবেশের বাসাবাড়ি এই জাতের জন্য বেশি উপযোগী।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহপ্রবণতা | ৪ |
| শক্তি | ৩ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকি | ১ |
| লোম ঝরা | ৩ |
পরিচর্যা ও লোমের যত্ন
ফ্লোরিডা হোয়াইটের প্রতিদিন ব্যায়াম, পরিষ্কার খাঁচা এবং সপ্তাহে হালকা পরিচর্যা দরকার, লোম ঝরার মৌসুমে বাড়তি ব্রাশ করা প্রয়োজন।
খাটো লোমের কারণে পরিচর্যার চাহিদা কম, তবু সুস্থ থাকতে খরগোশটির প্রতিদিন যত্ন, নড়াচড়ার জায়গা এবং পরিষ্কার থাকার জায়গা দরকার। সাদা লোমে যেকোনো ময়লা বা দাগ সহজেই চোখে পড়ে, তাই খাঁচা পরিষ্কার রাখলে স্বাস্থ্য ও চেহারা, দুটোই ভালো থাকে।
লোমের পরিচর্যা
- সপ্তাহে একবার নরম ব্রাশ দিয়ে আলগা লোম সরান
- লোম ঝরার মৌসুমে কয়েক দিন পরপর ব্রাশ করুন, যাতে ঝরা লোম ও পেটে লোম জমা কমে
- ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পরপর নখ পরীক্ষা করে ছেঁটে দিন
- কান ও দাঁত নিয়মিত পরীক্ষা করুন; খরগোশের দাঁত সারাজীবন বাড়তে থাকে
- পুরোপুরি গোসল এড়িয়ে চলুন, এতে খরগোশ চাপে পড়ে; নোংরা লোমের জায়গা বরং আলাদাভাবে মুছে পরিষ্কার করুন
ব্যায়াম
- প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে খাঁচার বাইরে সময় দিন
- লাফানো ও শরীর টানটান করার জন্য নিরাপদ, খরগোশ-উপযোগী করে সাজানো জায়গা রাখুন
- সক্রিয় রাখতে ও মন ভালো রাখতে টানেল, বাক্স এবং কামড়ানোর খেলনা দিন
- ব্যায়ামের জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ও বিষাক্ত গাছপালা যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করুন
পরিবেশ
ফ্লোরিডা হোয়াইট ঘরের ভেতরে অথবা ছাউনি দেওয়া বাইরের খাঁচায় ভালো থাকে। সরাসরি রোদ থেকে দূরে, বাতাস চলাচল ঠিক থাকে অথচ হাওয়ার ঝাপটা লাগে না এমন জায়গা দিন, কারণ খরগোশ গরমে সংবেদনশীল। ঘরের ভেতরে প্রায় ১৫ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এই জাতের জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশের গরম, আর্দ্র গ্রীষ্ম ও বর্ষার মৌসুমে এই সীমার মধ্যে তাপমাত্রা রাখা কঠিন হতে পারে, তাই ফ্যান বা এসির মাধ্যমে ঘর ঠান্ডা রাখা এবং ভেজা মেঝে এড়ানো জরুরি। বাইরে রাখলে শিকারি প্রাণী, বৃষ্টি এবং চরম ঠান্ডা বা গরম থেকে খরগোশটিকে রক্ষা করতে হবে।
খাদ্য ও খাওয়ানো
ফ্লোরিডা হোয়াইটের প্রধান খাবার ঘাসের খড়, সীমাহীন পরিমাণে, সঙ্গে অল্প পরিমাপ করা পিলেট, তাজা শাকপাতা এবং সীমিত বাড়তি খাবার।
ফ্লোরিডা হোয়াইটের খাদ্যতালিকার বড় অংশ হওয়া উচিত ঘাসের খড়, যেমন টিমোথি বা অর্চার্ড গ্রাস, যা সবসময় সামনে রাখা দরকার। খড় থেকে পাওয়া আঁশ হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে এবং সারাজীবন বাড়তে থাকা দাঁত ক্ষয়ে দেয়। মাপা পরিমাণের পিলেট এবং প্রতিদিন কিছু তাজা শাকপাতা খাদ্যতালিকা পূর্ণ করে। বিশুদ্ধ পানি সবসময় হাতের কাছে থাকা জরুরি।
| খাবার | দৈনিক পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ঘাসের খড় | সীমাহীন | প্রায় খরগোশের শরীরের সমান পরিমাণ |
| পিলেট | প্রায় ৩০-৫০ গ্রাম | শুধু টিমোথি-ভিত্তিক, বীজ বা রঙিন অংশ ছাড়া |
| শাকপাতা | প্রায় ১৫০-৩০০ গ্রাম | কয়েক ধরনের, ধীরে ধীরে যোগ করা |
| বাড়তি খাবার | ১-২ টুকরা | ফল বা গাজর, মাঝেমধ্যে শুধু |
বাড়তি খাবার ও সাপ্লিমেন্ট
বাড়তি খাবার খাদ্যতালিকার শুধু সামান্য অংশ হওয়া উচিত। বীজ বাদ দিয়ে আপেলের ছোট টুকরা, কলা বা এক ফালি গাজর মাঝেমধ্যে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া যায়। ভালো মানের খড় ও বিভিন্ন ধরনের শাকপাতা খাওয়া সুস্থ খরগোশের সাধারণত আলাদা সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না। বাড়ন্ত বাচ্চা খরগোশকে বাড়তি প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের জন্য আলফালফা খড় ও পিলেট দেওয়া যায়, প্রাপ্তবয়স্ক হলে ধীরে ধীরে ঘাসের খড়ে ফিরিয়ে আনতে হয়।
স্বাস্থ্য ও সাধারণ সমস্যা
ফ্লোরিডা হোয়াইট সাধারণত সুস্থ ও মজবুত, আয়ুষ্কাল ৫-৮ বছর, তবে দাঁতের বাড়তি বৃদ্ধি ও পেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো খরগোশদের সাধারণ ঝুঁকি এদেরও থাকে।
ফ্লোরিডা হোয়াইট মোটের ওপর সুস্থ, মজবুত একটি জাত, সাধারণ আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৮ বছর, আর ভালো যত্নে কিছু খরগোশ এর চেয়েও বেশি দিন বাঁচে। জাতগত বিশেষ কোনো ত্রুটির সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক নেই, তবে সব গৃহপালিত খরগোশের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো একে আক্রান্ত করতে পারে। খাওয়া, বিষ্ঠা এবং আচরণের দিকে শুরু থেকেই নজর রাখাই সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগে ধরার সবচেয়ে ভালো উপায়।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| দাঁতের বাড়তি বৃদ্ধি (ম্যালোক্লুশন) | লালা ঝরা, ওজন কমা, খাবার ফেলে দেওয়া | দাঁত সারাজীবন বাড়ে; খড় খেলে দাঁত ক্ষয়ে যেতে সাহায্য করে |
| গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্যাসিস (পেট বন্ধ) | না খাওয়া, বিষ্ঠা না হওয়া, গুটিসুটি হয়ে বসা | জরুরি পশুচিকিৎসার প্রয়োজন; দ্রুত ব্যবস্থা নিন |
| কানের মাইট | কানে খোসা জমা, মাথা ঝাঁকানো, চুলকানো | পশুচিকিৎসকের দেওয়া ওষুধে সারে |
| অতিরিক্ত গরম লাগা | নিস্তেজ ভাব, দ্রুত শ্বাস, ভেজা নাক | সরাসরি রোদ ও ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থেকে দূরে রাখুন |
| পায়ের ঘা | পায়ের তলায় ছড়ে যাওয়া বা লোমহীন জায়গা | নরম, শুকনো মেঝে ও পরিষ্কার বিছানা দিন |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- খরগোশ বিষয়ে অভিজ্ঞ (এক্সোটিক) পশুচিকিৎসকের কাছে বছরে একবার পরীক্ষা করান
- প্রজনন-সংক্রান্ত ক্যানসার ঠেকাতে এবং হরমোনজনিত আচরণ কমাতে বন্ধ্যাকরণ করান
- দাঁত ও হজমের স্বাস্থ্যের জন্য সীমাহীন খড় দিন
- সংক্রমণ ও পায়ের ঘা ঠেকাতে খাঁচা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
- প্রতিদিনের খাওয়া ও বিষ্ঠার দিকে নজর রাখুন, এটি প্রাথমিক সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করে
বাসস্থান ও খাঁচা ব্যবস্থাপনা
ফ্লোরিডা হোয়াইটের জন্য দাঁড়ানো ও লাফানোর মতো জায়গাসহ প্রশস্ত খাঁচা দরকার, সঙ্গে প্রতিদিন নিরাপদ জায়গায় ব্যায়ামের সময়ও প্রয়োজন।
ফ্লোরিডা হোয়াইটের এমন একটি খাঁচা দরকার, যেখানে সে পুরোপুরি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, শরীর টানটান করতে পারে এবং টানা কয়েকবার লাফাতে পারে। জাতটি ছোট আকারের হওয়ায় বড় জাতের তুলনায় কম জায়গায় একটি খরগোশ রাখা যায়, তবে জায়গা যত বড় হয়, ততই ভালো। খাঁচা শুধু একটি ঘাঁটি, খরগোশের একমাত্র জায়গা নয়; এর বাইরে প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরি। ঘরের ভেতরে বা শিকারি প্রাণী ঠেকাতে পারে এমন বাইরের খাঁচায়, দুই জায়গাতেই রাখা যায়, তবে হাওয়ার ঝাপটা, স্যাঁতসেঁতে ভাব ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে।
| মাপকাঠি | সুপারিশ |
|---|---|
| সর্বনিম্ন খাঁচার আকার | একটি ছোট খরগোশের জন্য প্রায় ১.১ বর্গমিটার |
| উচ্চতা | পেছনের পায়ে ভর দিয়ে সোজা দাঁড়ানোর মতো যথেষ্ট উঁচু |
| মেঝে | নরম বিছানাসহ শক্ত মেঝে, তারের জাল নয় |
| তাপমাত্রা | প্রায় ১৫-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| অবস্থান | শান্ত, হাওয়ার ঝাপটামুক্ত, সরাসরি রোদমুক্ত জায়গা |
| ব্যায়ামের জায়গা | প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টার জন্য খরগোশ-উপযোগী করে সাজানো জায়গা |
খাঁচা সাজানোর তালিকা
- নরম, শুষে নেওয়ার মতো বিছানাসহ শক্ত মেঝের খাঁচা
- কাগজভিত্তিক লিটার দিয়ে ভরা এবং ওপরে খড় দেওয়া একটি লিটার বক্স
- ভারী পানির বাটি বা বোতল এবং একটি খড় রাখার পাত্র
- নিরাপদ বোধ করার জন্য বাক্স বা টানেলের মতো লুকানোর জায়গা
- দাঁত ক্ষয়ে দিতে ও একঘেয়েমি কমাতে নিরাপদ কামড়ানোর খেলনা
- বাইরে রাখলে শিকারি প্রাণী ঠেকাতে পারে এমন মজবুত বেড়া
প্রজনন ও বাচ্চা লালনপালন
ফ্লোরিডা হোয়াইট প্রায় ৫-৬ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয়, গর্ভকাল প্রায় ৩১ দিন, এবং সাধারণত প্রতি দফায় ৪-৬টি বাচ্চা হয়।
ফ্লোরিডা হোয়াইট প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে যৌন পরিপক্বতায় পৌঁছায়, যদিও অনেক ব্রিডার স্ত্রী খরগোশের প্রথম দফা বাচ্চা দেওয়ার আগে তার পূর্ণ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। মিলনের সময় স্ত্রী খরগোশকে পুরুষ খরগোশের খাঁচায় নিয়ে যাওয়া হয়, উল্টোটা কখনো নয়, কারণ স্ত্রী খরগোশ নিজের এলাকা রক্ষা করার চেষ্টা করে। গর্ভকাল স্থায়ী হয় প্রায় ৩১ দিন।
বাচ্চা প্রসবের কয়েক দিন আগে স্ত্রী খরগোশ সাধারণত খড় ও নিজের লোম দিয়ে একটি বাসা তৈরি করে। প্রতি দফায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি বাচ্চা জন্ম নেয়, যেগুলো লোমহীন ও বন্ধ চোখ নিয়ে জন্মায়। মা দিনে একবার বা দুবার দুধ খাওয়ায়, তাই শান্ত বাসা বাক্স আর কম নাড়াচাড়া বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
বাচ্চারা প্রায় ১০ দিন বয়সে চোখ খোলে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শক্ত খাবার একটু একটু খেতে শুরু করে। দুধ ছাড়ানো সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বয়সে হয়। দায়িত্বশীল প্রজননের অর্থ স্বভাব ও স্বাস্থ্য যাচাই করা, নির্ভুল রেকর্ড রাখা এবং বাচ্চা জন্মানোর আগেই তাদের জন্য বাসা ঠিক করে রাখা, কারণ খরগোশ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
| বিষয় | মান |
|---|---|
| প্রজননযোগ্য বয়স | প্রায় ৫-৬ মাস |
| গর্ভকাল | প্রায় ৩১ দিন |
| দফাপ্রতি বাচ্চা | সাধারণত ৪-৬টি |
| চোখ খোলে | প্রায় ১০ দিন বয়সে |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬-৮ সপ্তাহ |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশের আকার, স্বভাব, পরিচর্যা, আয়ুষ্কাল, উপযোগিতা এবং প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ কতটা বড় হয়?
ফ্লোরিডা হোয়াইট ছোট আকারের জাত, প্রাপ্তবয়স্ক খরগোশের ওজন প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ কেজি হয়। শরীর লম্বাটে নয়, বরং টানটান ও গোলগাল।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ পোষার জন্য ভালো কি?
হ্যাঁ। এরা বন্ধুত্বপূর্ণ, নরম ও শান্ত স্বভাবের, এবং অনেক ছোট খরগোশের চেয়ে হাতে ধরা ভালোভাবে সহ্য করে। ফলে বড় শিশু আছে এমন পরিবার এবং শান্ত বাসাবাড়ির জন্য এটি ভালো মানায়।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ পালন করা কি কঠিন?
না। এদের খাটো লোমে সপ্তাহে হালকা পরিচর্যাই যথেষ্ট, আর ছোট আকারের কারণে খাবার ও জায়গার চাহিদাও কম থাকে। সব খরগোশের মতোই এদেরও সীমাহীন খড়, প্রতিদিনের ব্যায়াম, পরিষ্কার খাঁচা এবং নিয়মিত পশুচিকিৎসা পরীক্ষা দরকার।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ কতদিন বাঁচে?
সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর বাঁচে, আর ভালো খাবার, বাসস্থান ও পশুচিকিৎসা যত্ন পেলে কিছু খরগোশ এর চেয়েও বেশি দিন বাঁচে।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশের চোখ গোলাপি বা লাল কেন?
এই জাতের অ্যালবিনো জিনগত গঠন লোম ও চোখ থেকে রঞ্জক পদার্থ সরিয়ে দেয়। গোলাপি বা লালচে রংটি রঞ্জকহীন চোখের ভেতর দিয়ে দেখা যাওয়া রক্তনালি থেকে আসে।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ কি প্রথমবার পোষা মানুষদের জন্য ভালো?
এদের শান্ত স্বভাব ও সহজ পরিচর্যা মনোযোগী প্রথমবার খরগোশ পালনকারীদের জন্য এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ করে তোলে, যারা প্রতিদিনের যত্ন ও বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত।
ফ্লোরিডা হোয়াইট খরগোশ কোথায় পাওয়া যায়?
এই জাত প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ব্রিডারদের কাছে এবং মাঝেমধ্যে খরগোশ উদ্ধার কেন্দ্র বা আশ্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য ও স্বভাবকে অগ্রাধিকার দেয় এমন উৎস বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।