পাইগোরা
পিগোরা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছোট আমেরিকান তন্তু-ছাগল, একটি পিগমি-অ্যাঙ্গোরা সংকর, যা নরম, বহুমুখী পশম উৎপাদনের জন্য প্রজনন করা হয়েছে।
- Size
- ছোট
- Lifespan
- 12–15 years
- Origin
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- Temperament
- বন্ধুত্বপূর্ণ
- Standard colors
- কালো, সাদা এবং ধূসর and 2 more
Characteristics
পাইগোরা colors and patterns
What each club's breed standard says about every পাইগোরা color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the পাইগোরা in কালো, সাদা, ধূসর, বাদামি এবং ক্যারামেল. Standard patterns: একরঙা এবং অ্যাগুটি.
| Color or pattern | PYGORA BA |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“solid black / Black / Solid Black”) |
| সাদা | মানসম্মত (“solid white”) |
| ধূসর | মানসম্মত (“Light Grey Agouti / Medium Grey Agouti / Dark Grey Agouti”) |
| বাদামি | মানসম্মত (“Brown Caramel / Brown Agouti”) |
| ক্যারামেল | মানসম্মত (“caramels”) |
| Patterns | |
| একরঙা | মানসম্মত (“solid black or solid white”) |
| অ্যাগুটি | মানসম্মত (“agoutis”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
পাইগোরা ছাগল সম্পর্কে
পাইগোরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট আকারের লোম-উৎপাদনকারী ছাগল, পিগমি ও অ্যাঙ্গোরা জাতের মিশ্রণে তৈরি, নরম ও সুতাকাটার উপযোগী লোম আর শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত।
পাইগোরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একটি ছোট আকারের লোমশ ছাগল জাত। পিগমি ছাগলের সঙ্গে অ্যাঙ্গোরা ছাগলের সংকরায়ন ঘটিয়ে এই জাত তৈরি করা হয়েছিল, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গুণের জাত ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পিগমি জাত দিয়েছে ছোট গড়ন আর স্থির, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব। অ্যাঙ্গোরা জাত দিয়েছে লম্বা, চকচকে মোহেয়ার লোম। ফলে এমন একটি প্রাণী পাওয়া গেছে যা অল্প জমিতেও পালন করা যায়, অথচ কাঁচি চালানোর মতো লোমও দেয়।
পাইগোরা মূলত লোমের জন্যই পালন করা হয়, যা সুতাকাটিয়ে ও হস্তশিল্পীদের কাছে নরমতা ও বৈচিত্র্যের জন্য মূল্যবান। একটি ছাগল থেকে তিন ধরনের লোমের যেকোনো একটি পাওয়া যেতে পারে, মিহি ক্যাশমিয়ার-ঘরানা থেকে শুরু করে কোঁকড়া মোহেয়ার-ঘরানা পর্যন্ত, আর অনেক ছাগলের লোম এই দুইয়ের মাঝামাঝি পড়ে। জাতটি ছোট আকারের ও মেজাজে শান্ত হওয়ায় যারা বাণিজ্যিক পাল না রেখে সঙ্গী হিসেবে ছাগল রাখতে চান, তাদের জন্যও এটি উপযুক্ত।
পূর্ণবয়স্ক পাইগোরার উচ্চতা কম আর ওজন দুগ্ধ বা মাংস জাতের তুলনায় অনেক কম, তাই এদের ধরাছোঁয়া, লোম কাটা ও পরিবহন বড় ছাগলের চেয়ে সহজ। এরা দলবদ্ধ প্রাণী, তাই একা রাখা উচিত নয়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | যুক্তরাষ্ট্র |
| আকার | ছোট |
| আয়ুষ্কাল | ১২ থেকে ১৫ বছর |
| দল বা ভূমিকা | লোম উৎপাদনকারী ছাগল, সঙ্গী হিসেবেও রাখা হয় |
| সঙ্গে মানানসই | পরিবার, ছোট খামারি, এবং অন্য ছাগল |
কাদের জন্য উপযুক্ত
পাইগোরা মূলত হাতে সুতাকাটিয়ে, শখের বশে লোম উৎপাদনকারী, এবং সীমিত জমির ছোট খামারিদের জন্য উপযুক্ত। এর শান্ত স্বভাবের কারণে বাচ্চাদের নিয়ে পরিবারের জন্যও এটি একটি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ, তবে খাওয়ানো ও বেড়া দেওয়ার দায়িত্ব একজন বড় মানুষের হাতে থাকা দরকার। যারা শুধু একটি পোষা ছাগল রাখতে চান, তাদের অন্তত দুটি ছাগল রাখার পরিকল্পনা করা উচিত, কারণ একা থাকলে ছাগল মানসিক চাপে ভোগে।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
১৯৮০-এর দশকে ওরেগনে ক্যাথরিন ইয়র্গেনসেন পিগমি ও অ্যাঙ্গোরা ছাগলের সংকরায়ন ঘটিয়ে পাইগোরা তৈরি করেন, আর ১৯৮৭ সালে একটি জাত নিবন্ধন সংস্থা গঠিত হয়।
পাইগোরা একটি অপেক্ষাকৃত নতুন জাত, যার আমেরিকান উৎপত্তি সুনির্দিষ্টভাবে নথিভুক্ত। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ওরেগন অঙ্গরাজ্যে ক্যাথরিন ইয়র্গেনসেন এই জাত তৈরি করেন। তার লক্ষ্য ছিল পিগমি ছাগলের ছোট আকার আর অ্যাঙ্গোরা ছাগলের লোমকে একসঙ্গে মেলানো, এমন একটি ছাগল তৈরি করা যাকে একজন মানুষ বাড়িতেই সামলাতে ও লোম কাটতে পারবে, অথচ পরিমাণমতো লোমও পাওয়া যাবে।
সংকরায়নের আগে দুটি মূল জাতেরই নিজস্ব দীর্ঘ ইতিহাস ছিল। অ্যাঙ্গোরা ছাগল মোহেয়ারের জন্য পালিত হতো এবং এর উৎপত্তি বর্তমান তুরস্কের আঙ্কারা অঞ্চলে, উনিশ শতকে এটি যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়। পিগমি ছাগলের পূর্বপুরুষ পশ্চিম আফ্রিকার ছোট আকারের ছাগল, যা উত্তর আমেরিকায় আনার পর কষ্টসহিষ্ণু ও ছোট গড়নের প্রাণী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এই দুই জাতের সংমিশ্রণে ইয়র্গেনসেন এমন বাচ্চা তৈরি করেন যাদের লোম শুধু অ্যাঙ্গোরার চেয়ে নরম ও মিহি, অথচ শরীরের আকার পিগমির মতোই ছোট। লোমশিল্পীদের মধ্যে এই জাত নিয়ে আগ্রহ ছড়িয়ে পড়ে, আর ১৯৮৭ সালে পাইগোরা ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়, যারা ছাগল নিবন্ধন করে এবং জাতের মান নির্ধারণ করে।
এই মান অনুযায়ী একটি নিবন্ধিত পাইগোরায় পিগমি ও অ্যাঙ্গোরা বংশধারার অনুপাত কতটা থাকতে পারবে তা নির্দিষ্ট করা আছে, যাতে জাতটি একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকে আর কোনো একটি পূর্বপুরুষের দিকে ঝুঁকে না পড়ে। বর্তমানে পাইগোরা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে, এবং মূলত হাতে সুতাকাটিয়ে ও ছোট লোম-খামারিরাই এই ছাগল পালন করেন।
গঠন ও জাতের মানদণ্ড
পাইগোরা ছাগলের গড়ন ছোট ও গোছানো, আর এর লোম তিনটি স্বীকৃত ধরনে পাওয়া যায়, মিহি ক্যাশমিয়ার-সদৃশ থেকে লম্বা কোঁকড়া মোহেয়ার-সদৃশ পর্যন্ত।
পাইগোরা ছোট আকারের, সুঠাম গড়নের একটি ছাগল, যার মুখ চওড়া, কান খাড়া বা সামান্য পেছনে হেলানো, আর শরীরের কাঠামো মজবুত, যা পিগমি পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েরই শিং থাকতে পারে, যদিও কিছু বাচ্চার শিং ছোটবেলাতেই কেটে ফেলা হয়। এই জাতের সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো লোম, যা শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখে এবং লোম কাটার আগে বেশ ঘন দেখায়।
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ পরিসীমা |
|---|---|
| উচ্চতা | কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৪৬-৫৬ সেমি (১৮-২২ ইঞ্চি) |
| ওজন | প্রায় ২৯-৪১ কেজি (৬৫-৯০ পাউন্ড) |
| লোম | তিন ধরনের একটি: টাইপ এ (মোহেয়ার-সদৃশ), টাইপ বি (মিশ্র), টাইপ সি (ক্যাশমিয়ার-সদৃশ) |
| রং | সাদা, কালো, বাদামি, ধূসর এবং মিশ্র রঙের |
| চোখ | আনুভূমিক ফাঁকযুক্ত মণি, সাধারণত বাদামি রঙের |
লোম ও রং
পাইগোরার লোম তিন ধরনে ভাগ করা হয়। টাইপ এ লম্বা ও চকচকে, কোঁকড়ানো বা রিংয়ের মতো প্যাঁচযুক্ত, অ্যাঙ্গোরা মোহেয়ারের সবচেয়ে কাছাকাছি। টাইপ সি খাটো, মিহি ও উষ্ণ, ক্যাশমিয়ারের সবচেয়ে কাছাকাছি। টাইপ বি মাঝামাঝি ধরনের, যাতে দুটোরই কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এই লোম নরমতার জন্য মূল্যবান, আর সহজেই রং করা যায়।
রংয়ের মধ্যে আছে সাদা, কালো, বাদামি, ধূসর এবং বিভিন্ন মিশ্র ও ছায়াময় প্যাটার্ন। সাদা লোম বেশি দেখা যায় কারণ এতে রং করা সহজ, তবে রঙিন পাইগোরাও প্রাকৃতিক লোমের জন্য পালন করা হয়। বেশিরভাগ ছাগলের লোম বছরে দুইবার কাটা হয়, লোম আপনা-আপনি ঝরে পড়া শুরুর আগেই।
স্বভাব ও আচরণ
পাইগোরা বন্ধুত্বপূর্ণ, নম্র ও শান্ত ছাগল, যারা মালিকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে, অন্য ছাগলের সঙ্গে মানিয়ে চলে, এবং সাধারণত সামলানো সহজ।
পাইগোরা লোম-উৎপাদনকারী ছাগলদের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের একটি হিসেবে পরিচিত। বেশিরভাগই মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ, ধরাছোঁয়ায় শান্ত, আর কৌতূহলী হলেও জোরাজুরি করে না। যে মানুষ এদের খাওয়ায় ও পরিচর্যা করে, তার সঙ্গে অনেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ঘেরের ভেতর তাকে অনুসরণ করে বেড়ায়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, শিশুদের সহ, পাইগোরা সাধারণত নম্র আচরণ করে, তবে এদের শিং থাকার কারণে ছোট বাচ্চাদের নজরদারিতে রাখা দরকার। অপরিচিতদের সঙ্গে প্রথমে কিছুটা সতর্ক থাকে, পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে সহজ হয়ে যায়। অন্য ছাগলের সঙ্গে এরা মিশুক, আর ছোট দলে থাকতে পছন্দ করে, যেখানে খুব একটা ঝগড়া ছাড়াই দলের মধ্যে একটা ক্রম তৈরি হয়ে যায়।
এরা খেলাধুলাপ্রিয়, বিশেষ করে বাচ্চা বয়সে, আর গুঁড়ি, খুঁটি বা নিচু মঞ্চের ওপর উঠতে পছন্দ করে। ডাকাডাকি মাঝারি মাত্রার। খাওয়ার সময় বা পাল থেকে আলাদা হয়ে গেলে ডাকে, তবে সারাক্ষণ চেঁচামেচি করে না। একঘেয়েমি বা একাকীত্বে ভুগলে পাইগোরা মানসিক চাপে পড়ে ও বেশি ডাকতে থাকে, তাই সঙ্গী ও কিছুটা মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা থাকলে এরা সন্তুষ্ট থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহপ্রবণতা | ৪ |
| কর্মশক্তি | ৩ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকি | ২ |
| লোম ঝরা | ৩ |
যত্ন ও পরিচর্যা
পাইগোরার নিয়মিত লোম পরিচর্যা, বছরে দুইবার লোম কাটা, প্রতিদিন খোলা জায়গায় ব্যায়াম, নিরাপদ বেড়া এবং শুকনো আশ্রয় দরকার।
পাইগোরা লোম-উৎপাদনকারী জাত হওয়ায়, বেশিরভাগ ছাগলের তুলনায় লোমের যত্ন এখানে রুটিনের একটি বড় অংশ। লোম জট পাকিয়ে যেতে পারে আর ময়লা আটকে যেতে পারে, তাই বছরে দুইবার লোম কাটার পাশাপাশি বেড়ে ওঠার মৌসুমজুড়েও এতে নজর দিতে হয়।
পরিচর্যা
- খড়কুটো, কাঁটাযুক্ত বীজ ও জট সরাতে নিয়মিত লোম আঁচড়ে বা বেছে দিন
- বসন্ত ও শরতের স্বাভাবিক লোম-ঝরার আগে, বছরে মোটামুটি দুইবার লোম কাটুন
- প্রতি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে খুর ছেঁটে দিন
- পরিচর্যার সময় উকুন বা মাইটের জন্য চামড়া ও লোম পরীক্ষা করুন
- লোম শুকনো রাখুন, কারণ ভেজা জটপাকানো লোম তার মূল্য হারায় আর চামড়ায় ঘষা লেগে ক্ষত তৈরি করতে পারে
ব্যায়াম
- চরে বেড়ানো ও চলাফেরার জন্য প্রতিদিন বেড়া দেওয়া মাঠ বা চারণভূমিতে প্রবেশাধিকার দিন
- ওঠার জন্য গুঁড়ি, খুঁটি বা মজবুত মঞ্চ রাখুন
- অন্তত দুটি ছাগল রাখুন, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে মিশতে পারে এবং সক্রিয় থাকে
- দীর্ঘ সময় ছাগলকে ছোট ঘেরের মধ্যে আটকে রাখা এড়িয়ে চলুন
পরিবেশ
পাইগোরার জন্য নিরাপদ বেড়া দরকার, কারণ ছাগল বেড়ার দুর্বলতা খুঁজে বের করে আর ফাঁকফোকর দিয়ে গলে বেরিয়ে যেতে পারে। রাতে ও খারাপ আবহাওয়ায় থাকার জন্য শুকনো, বাতাস-নিরোধী আশ্রয় দরকার, সঙ্গে পরিষ্কার বিছানা। পূর্ণ লোম থাকা অবস্থায় এরা ঠান্ডা মোটামুটি ভালোভাবেই সহ্য করতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও বাতাস থেকে এদের রক্ষা করা দরকার, বিশেষ করে লোম কাটার পরপর, যখন এদের গায়ে তেমন নিরোধক আবরণ থাকে না।
খাদ্য ও পুষ্টি
পাইগোরা ভালো চারণভূমি ও পাতা-ঝোপ খেয়ে সবচেয়ে ভালো থাকে, সঙ্গে খড়, ছাগল-উপযোগী খনিজ মিশ্রণ, আর প্রয়োজনে গর্ভাবস্থা বা দুধ দেওয়ার সময় সামান্য দানাদার খাবার।
পাইগোরা পাতা-ঝোপ খেয়ে বাঁচা প্রাণী, আর ঘাস-পাতাভিত্তিক খাদ্যেই এরা সবচেয়ে ভালো থাকে। এদের খাবারের বেশিরভাগ অংশ হওয়া উচিত চারণভূমি, পাতা, ঝোপঝাড় আর ভালো মানের ঘাসের খড়। ছাগল বেছে বেছে খায়, সুযোগ পেলে সবচেয়ে পুষ্টিকর গাছপালাই বেছে নেয়। সবসময় বিশুদ্ধ, পরিষ্কার পানি রাখা আবশ্যক, আর ছাগলের জন্য তৈরি আলগা খনিজ মিশ্রণ স্বাধীনভাবে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে তামা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায়।
| জীবনপর্যায় | প্রতিদিনের পরিমাণ | খাবারের সংখ্যা |
|---|---|---|
| পূর্ণবয়স্ক ছাগলের নিয়মিত খাদ্য | স্বাধীনভাবে খড় বা চারণভূমি, সঙ্গে আলগা খনিজ | সারাদিন চারণ, খনিজ স্বাধীনভাবে |
| গর্ভবতী বা দুধ দেওয়া ছাগী | চারণের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী সামান্য দানাদার রেশন | দিনে ২ বার অল্প দানাদার, সঙ্গে চারণ |
| বেড়ে ওঠা বাচ্চা | চারণের সঙ্গে সীমিত গ্রোয়ার রেশন | দিনে ২ বার, সঙ্গে চারণ |
খাবারের সঙ্গে বাড়তি জিনিস
মাঝেমধ্যে সামান্য পরিমাণে গাজর, আপেল বা অন্য ছাগল-নিরাপদ ফলমূল খাওয়ানো যায়, তবে এগুলো খাদ্যের সামান্য অংশই থাকা উচিত। বেশি দানাদার খাবার দিলে মোটা হয়ে যাওয়া আর হজমের সমস্যা দেখা দেয়। মাটির অবস্থা বুঝে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ছাগল-উপযোগী আলগা খনিজ, আর কোনো কোনো অঞ্চলে সেলেনিয়াম সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
স্বাস্থ্য ও সাধারণ সমস্যা
পাইগোরা সাধারণত মজবুত স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর বাঁচে, তবে পরজীবী নিয়ন্ত্রণ, খুরের যত্ন এবং সাধারণ ছাগল-রোগ থেকে সুরক্ষা দরকার।
পাইগোরা সাধারণত মজবুত স্বাস্থ্যের জাত, ভালো যত্ন পেলে এদের আয়ুষ্কাল সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর। বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সমস্যা সাধারণভাবে সব ছাগলকেই প্রভাবিত করে, আর নিয়মিত যত্ন, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ ও ভালো পুষ্টি দিয়ে এগুলো মূলত সামলানো যায়। আকারে ছোট হওয়ায় বড় জাতের তুলনায় এদের ধরে পরীক্ষা করা সহজ।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| অন্ত্রের পরজীবী (কৃমি) | ওজন কমা, ফ্যাকাশে মাড়ি, লোমের মান খারাপ হওয়া, ডায়রিয়া | ছাগলের প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি; পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসায় সামলানো যায় |
| কক্সিডিওসিস | ডায়রিয়া ও বৃদ্ধি কমে যাওয়া, মূলত বাচ্চাদের মধ্যে | ঝুঁকি কমাতে ঘের পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন |
| খুর পচা বা বেশি বেড়ে যাওয়া | খোঁড়ানো, দুর্গন্ধ, পা স্পর্শকাতর হওয়া | নিয়মিত ছাঁটা ও শুকনো মাটি দিয়ে প্রতিরোধ করুন |
| ব্লোট | বাঁ পাশের পেট ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি | হঠাৎ ভারী খাবারের সঙ্গে যুক্ত; দ্রুত ব্যবস্থা নিন আর পশুচিকিৎসককে ডাকুন |
| বাহ্যিক পরজীবী (উকুন, মাইট) | চুলকানি, লোমের ক্ষতি, খুশকির মতো আবরণ | পরিচর্যার সময় ধরা পড়ে; পুরো পালকে চিকিৎসা দিন |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- নিয়মিত পশুচিকিৎসা পরীক্ষা করান এবং স্থানীয় টিকাদান পরিকল্পনা মেনে চলুন
- পরজীবীর জন্য নজর রাখুন এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা করুন
- প্রতি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে খুর ছেঁটে দিন
- ঘাটতি এড়াতে ছাগল-উপযোগী খনিজ সরবরাহ করুন
- নতুন ছাগল পালে যোগ করার আগে আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন
প্রজনন ও বাচ্চা পালন
পাইগোরা ছাগী প্রথম বছরের মধ্যেই প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে, প্রায় পাঁচ মাস গর্ভধারণের পর সাধারণত একটি বা দুটি বাচ্চা জন্ম দেয়, যাদের কয়েক মাস বয়সে দুধ ছাড়ানো হয়।
পাইগোরা তাড়াতাড়ি প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে, আর ছাগী প্রথম বছরের মধ্যেই গর্ভধারণ করতে পারে, যদিও অনেক খামারি প্রথম প্রজননের আগে ছাগীকে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। প্রজনন প্রায়ই এমনভাবে সময় ঠিক করা হয় যাতে বাচ্চা তুলনামূলক মৃদু আবহাওয়ায় জন্ম নেয়। গর্ভধারণ চলে প্রায় পাঁচ মাস, এরপর ছাগী সাধারণত একটি বা দুটি বাচ্চার জন্ম দেয়, জমজ হওয়া বেশ সাধারণ ঘটনা।
সদ্যোজাত বাচ্চা ছোট ও চঞ্চল থাকে, আর কোলোস্ট্রাম পাওয়ার জন্য জন্মের পরপরই দুধ খাওয়া শুরু করা উচিত। ছাগীরা সাধারণত মনোযোগী মা হয়। বাচ্চারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাতা-ঝোপ খুঁটে খাওয়া শুরু করে, আর সাধারণত দুই থেকে তিন মাস বয়সে দুধ ছাড়ানো হয়। নিবন্ধিত প্রজনন জাতের মান অনুসরণ করে চলে, যা পিগমি ও অ্যাঙ্গোরা বংশধারার অনুপাত সীমিত রাখে, যাতে বাচ্চারা পাইগোরা হিসেবেই স্বীকৃত থাকে।
পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের শিং থাকতে পারে বলে, আর খাসি না করা পাঁঠার গায়ে তীব্র গন্ধ থাকে বলে, খামারিরা সেই অনুযায়ী থাকার জায়গা ও দেখাশোনার ব্যবস্থা ঠিক করেন। অনেক পালনকারী প্রজননে ব্যবহার না হওয়া পুরুষদের খাসি করে দেন, কারণ খাসি করা পাঁঠারা চমৎকার লোম দেয় আর শান্ত লোম-প্রাণী বা পোষা প্রাণী হিসেবে ভালো।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| প্রজননক্ষম হওয়ার বয়স | প্রথম বছরের মধ্যেই (ভালোভাবে বেড়ে ওঠার পর প্রায়ই প্রজনন করানো হয়) |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৫ মাস (মোটামুটি ১৪৫-১৫৫ দিন) |
| বাচ্চার সংখ্যা | ১-২টি বাচ্চা, জমজ হওয়া সাধারণ |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ২-৩ মাস |
| প্রজনন মৌসুম | প্রায়ই মৃদু আবহাওয়ায় বাচ্চা প্রসবের জন্য সময় ঠিক করা হয় |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাইগোরা ছাগলের আকার, স্বভাব, যত্ন, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা এবং প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর।
পাইগোরা ছাগল কত বড় হয়?
পাইগোরা একটি ছোট আকারের জাত। এরা সাধারণত কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৪৬-৫৬ সেমি (১৮-২২ ইঞ্চি) উঁচু হয় আর ওজন প্রায় ২৯-৪১ কেজি (৬৫-৯০ পাউন্ড), যা এদের দুগ্ধ বা মাংস জাতের ছাগলের চেয়ে অনেক বেশি সহজে সামলানোর যোগ্য করে তোলে।
পাইগোরা ছাগল কি বন্ধুত্বপূর্ণ?
হ্যাঁ। পাইগোরা বন্ধুত্বপূর্ণ, নম্র ও শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত। অনেকেই এর পালনকারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে আর নজরদারিতে থাকা বাচ্চাদের আশপাশে সাধারণত ভালো আচরণ করে, তবে শিং থাকার কারণে ছোট বাচ্চাদের নজরে রাখা দরকার।
পাইগোরা ছাগল পালন করা কি কঠিন?
মাঝারি মাত্রার কঠিন। সাধারণ ছাগল পালন সহজবোধ্য, তবে লোম বাড়তি কাজ যোগ করে: এর নিয়মিত পরিচর্যা লাগে আর বছরে প্রায় দুইবার লোম কাটতে হয়। এছাড়া নিরাপদ বেড়া, খুর ছাঁটা, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তত একটি সঙ্গী ছাগলও দরকার।
পাইগোরা ছাগল কতদিন বাঁচে?
ভালো পুষ্টি, নিয়মিত পশুচিকিৎসা সেবা এবং পরজীবী নিয়ন্ত্রণ পেলে একটি পাইগোরা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর বাঁচে।
পাইগোরা ছাগল কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
এরা মূলত লোমের জন্য পালিত হয়। একটি পাইগোরা তিন ধরনের লোমের যেকোনো একটি দেয়, মিহি ক্যাশমিয়ার-ঘরানা থেকে কোঁকড়া মোহেয়ার-ঘরানা পর্যন্ত, যা হাতে সুতাকাটিয়েদের কাছে মূল্যবান। এদের শান্ত সঙ্গী প্রাণী হিসেবেও রাখা হয়।
আমি কি একটিমাত্র পাইগোরা ছাগল রাখতে পারি?
না। ছাগল দলবদ্ধ প্রাণী, আর একা থাকলে পাইগোরা মানসিক চাপে পড়ে। সঙ্গ দেওয়ার জন্য অন্তত দুটি ছাগল রাখার পরিকল্পনা করুন।
পাইগোরা ছাগল কোথায় পাওয়া যায়?
এই জাত সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে, আর মূলত ছোট লোম-খামার ও পাইগোরা জাত সংস্থায় নিবন্ধিত খামারিদের মাধ্যমে বিক্রি হয়। উত্তর আমেরিকার বাইরে প্রাপ্যতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
From the community
Ask about the পাইগোরাNo questions about the পাইগোরা yet. Be the first to ask.