
তোর্নিয়াক হলো বলকান অঞ্চলের একটি শান্ত, নিবেদিতপ্রাণ পার্বত্য গবাদিপশু রক্ষক, যা তার স্থির সাহস এবং আনুগত্যের জন্য পরিচিত।
টর্নিয়াক-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: টর্নিয়াক-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: টর্নিয়াক-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
তথ্য: টর্নিয়াক তার নিচের স্তর প্রবল দফায় ছাড়ে।
নিচের স্তর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল দফায় বেরোয়। নিচের স্তরের রেক, বা গোসলের পরে ঠিকমতো বাতাসে শুকানো, রোজকার ব্রাশের চেয়ে অনেক দ্রুত তা সরায়। লোম ছোট করে ফেলা এর শর্টকাট নয়।
টর্নিয়াক বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি বৃহদাকার পশুপালনরক্ষী কুকুর, যার শান্ত স্বভাব, গভীর আনুগত্য এবং পশুপাল রক্ষায় অবিচল সাহস সুপরিচিত।
টর্নিয়াক বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পার্বত্য অঞ্চল এবং ক্রোয়েশিয়ার সংলগ্ন এলাকায় প্রতিপালিত একটি বৃহদাকার পাহাড়ি কুকুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি রাখালদের সঙ্গে কাজ করেছে, নেকড়ে, ভালুক এবং চোরের হাত থেকে ভেড়া ও গরুর পাল পাহারা দিয়েছে। নামটি এসেছে ভেড়ার খোঁয়াড় বোঝানো একটি শব্দ থেকে, যা সরাসরি এই জাতটির মূল কাজের দিকে ইঙ্গিত করে।
এটি পালরক্ষী কুকুর, তাড়িয়ে নেওয়া কুকুর নয়। টর্নিয়াক তার দায়িত্বে থাকা পশুদের নজরে রাখে, পালের সঙ্গে সঙ্গে চলে এবং বিপদ দেখা দিলে নিজের বিচার-বুদ্ধি অনুযায়ী কাজ করে। দৈনন্দিন জীবনে এটি শান্ত ও ধীরস্থির, আবার প্রয়োজন বুঝলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সাহস দেখায়। নিজের মানুষ ও পশুদের প্রতি গভীর ভক্তি এই জাতের পুরো স্বভাবজুড়ে ছড়িয়ে থাকে।
প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরগুলো ভারী ও শক্তিশালী গড়নের, উঁচু পার্বত্য এলাকার কঠোর শীত সহ্য করার উপযোগী পুরু দ্বিস্তর লোমযুক্ত। মালিকেরা এই জাতকে স্থির স্বভাবের, সতর্ক এবং নীরবে আত্মবিশ্বাসী বলে বর্ণনা করেন। পরিবার এবং যেসব পশুর সঙ্গে থাকে তাদের সঙ্গে এটি গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে, অথচ অপরিচিতদের সঙ্গে সংযত থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা |
| আকার | বৃহদাকার |
| আয়ুষ্কাল | ১২ থেকে ১৪ বছর |
| গোষ্ঠী/ভূমিকা | পশুপালনরক্ষী কুকুর |
| যাদের সঙ্গে ভালো মানায় | নিজের পরিবার এবং যেসব পশু রক্ষা করার জন্য বড় করা হয়েছে |
টর্নিয়াক তাদের জন্য মানানসই যাদের যথেষ্ট জায়গা আছে, কুকুরটির জন্য নির্দিষ্ট কোনো কাজ আছে এবং স্বাধীনচেতা বড় জাতের কুকুর সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে। খামারবাড়ি, ছোট কৃষি জমি এবং গ্রামীণ পরিবেশে এটি ভালো করে, যেখানে পশু পাহারা দেওয়া বা সীমানা টহল দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফ্ল্যাটবাড়ি, ছোট উঠান বা যারা সবসময় বাধ্যগত সঙ্গী চান তাদের জন্য এটি কম উপযুক্ত। প্রথমবার কুকুর পালনকারীদের এমন একটি জেদি ও স্বাধীনচেতা কুকুরের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যার দরকার দৃঢ় অথচ ন্যায্য নেতৃত্ব এবং শৈশবেই সামাজিকীকরণ।
টর্নিয়াক শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ক্রোয়েশিয়ার পাহাড়ে পশুপালনরক্ষী হিসেবে গড়ে উঠেছে এবং বিশ শতকের শেষভাগে সংগঠিত প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হয়।
টর্নিয়াকের উৎস বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পার্বত্য অঞ্চল এবং ক্রোয়েশিয়ার সংলগ্ন উচ্চভূমি থেকে। এই ধরনের কুকুর দিনারিক আল্পস পর্বতমালা এবং আশপাশের চারণভূমিতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছে, মৌসুমি চারণপথে ভেড়া ও গরুর পাল পাহারা দিয়েছে। মধ্যযুগীয় গির্জা ও প্রশাসনিক নথিতে এই অঞ্চলের বড় আকারের রক্ষী কুকুরের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা থেকে বোঝা যায় কাজের ধরনটি পুরনো, যদিও জাতের বর্তমান নামটি তুলনামূলক নতুন।
এর অস্তিত্বের বেশিরভাগ সময় জুড়ে টর্নিয়াক ছিল রাখালদের পালিত একটি কর্মী কুকুর, আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত কোনো জাত নয়। নির্বাচন হতো বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী। যেসব কুকুর ভালো পাহারা দিত, আবহাওয়া সহ্য করতে পারত এবং পশুর কাছে বিশ্বস্ত থাকত, সেগুলোই রাখা হতো এবং তাদের থেকেই পরবর্তী প্রজন্ম আসত। লিখিত কোনো মানদণ্ড ছিল না, শুধু কাজের চাহিদাই ছিল একমাত্র নিয়ম।
বিশ শতকে ঐতিহ্যবাহী রাখাল পেশা কমে যাওয়া এবং শিকারি প্রাণীর সংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এই জাতের সংখ্যাও কমে যায়। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশক থেকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ক্রোয়েশিয়ার সাইনোলজিস্টরা পাহাড়ে খুঁজে বের করেন পুরনো ধরনের সঙ্গে মিলে যাওয়া বেঁচে থাকা কুকুরদের, এবং জাতটি পুনরুদ্ধারে সংগঠিত প্রজনন কর্মসূচি শুরু করেন। এসব কর্মসূচিতে বংশতালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়, একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয় এবং জনসংখ্যা স্থিতিশীল করা হয়।
আজ টর্নিয়াক নিজ দেশে জাতীয় জাত হিসেবে স্বীকৃত এবং এখনও পশু রক্ষায় ব্যবহৃত হয়, পাশাপাশি রক্ষী ও সঙ্গী কুকুর হিসেবেও রাখা হয়। বলকান অঞ্চলের বাইরে এটি এখনও বিরল।
টর্নিয়াক লম্বাটে ঘন দ্বিস্তর লোমযুক্ত, প্রায় বর্গাকার গড়নের একটি বৃহদাকার পাহাড়ি কুকুর, যার গায়ের রং সাধারণত সাদার উপর বড় বড় রঙিন ছোপ।
টর্নিয়াক আকারে বড়, শক্তিশালী এবং মোটামুটি বর্গাকার গড়নের একটি কুকুর, অর্থাৎ এর শরীরের দৈর্ঘ্য কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতার প্রায় সমান। ভারী বা ধীরগতির মনে না হয়েও এটি যথেষ্ট শক্তিশালী গড়নের, গভীর বুক, সমতল পিঠের রেখা এবং সতর্ক অবস্থায় পিঠের ওপর তোলা ঘন লোমশ লেজ নিয়ে। পুরুষ কুকুর মাদী কুকুরের চেয়ে স্পষ্টত বড় এবং ভারী গড়নের হয়। সামগ্রিক ছাপ হলো একটি মজবুত, সুষম কর্মী কুকুরের, যা ঠান্ডা পাহাড়ে দীর্ঘ সময় বাইরে কাটানোর উপযোগী।
| বৈশিষ্ট্য | মানদণ্ড |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ কুকুর কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ সেমি, মাদী কুকুর প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ সেমি |
| ওজন | পুরুষ কুকুর প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ কেজি, মাদী কুকুর প্রায় ২৮ থেকে ৪২ কেজি |
| লোম | লম্বা, ঘন দ্বিস্তর লোম, নিচে ঘন আন্ডারকোট এবং গলার চারপাশে কেশর |
| রং | সাধারণত মূল রং সাদা, তার ওপর বড় ছোপ; কালো, বাদামি ও লালচে দাগ প্রায়ই দেখা যায় |
| চোখ | মাঝারি আকারের, বাদামের মতো আকৃতির, গাঢ় রঙের, শান্ত দৃষ্টি |
লোমই এই জাতের সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক। এটি লম্বা, ঘন এবং আবহাওয়া প্রতিরোধী, নরম আন্ডারকোটের ওপর একটি মোটা বহিরাবরণ নিয়ে গঠিত। গলার চারপাশে, পায়ের পেছন দিকে এবং লেজে লোম সবচেয়ে লম্বা হয়। বেশিরভাগ টর্নিয়াকের গায়ের রং মূলত সাদা, তার ওপর অন্য রঙের বড় ছোপ থাকে, যদিও বেশি রং থাকা কুকুরও দেখা যায়। কালো, ধূসর, বাদামি এবং লালচে দাগ সাধারণ। ঘন লোম কুকুরটিকে গভীর তুষার ও ঠান্ডা বাতাসে রক্ষা করে, এবং বছরে এক বা দুইবার প্রচুর পরিমাণে লোম ঝরে।
টর্নিয়াক শান্ত, অনুগত ও সতর্ক স্বভাবের, পরিবারের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বস্ত অথচ অপরিচিতদের সঙ্গে সংযত, এবং তার পাহারাদারির প্রবৃত্তি স্বাধীন প্রকৃতির।
টর্নিয়াক দৈনন্দিন জীবনে শান্ত ও স্থির থাকে, কিন্তু নিজের কাজের ব্যাপারে গম্ভীর। নিজের পরিবারের সঙ্গে এটি স্নেহশীল, অনুগত ও কোমল স্বভাবের, এবং যেসব মানুষ ও পশুর সঙ্গে থাকে তাদের সঙ্গে গভীর বন্ধন গড়ে তোলে। এটি স্বভাবতই সতর্ক এবং চারপাশের পরিবর্তন লক্ষ করে, তবে অস্থির বা উত্তেজিত নয়। ভালোভাবে বড় করা একটি টর্নিয়াক আত্মবিশ্বাসী এবং স্থির মেজাজের হয়।
অপরিচিতদের সঙ্গে এই জাত সংযত এবং সতর্ক থাকে। নতুন মানুষের সঙ্গে দ্রুত সহজ হয় না, বরং গ্রহণ করার আগে যাচাই করে নেয়। এই সতর্কতা তার পাহারাদার স্বভাবেরই অংশ এবং একে ত্রুটি হিসেবে না দেখে ধারাবাহিক, শৈশব থেকে শুরু করা সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সামলানো উচিত। কুকুরটি রক্ষণাত্মক এবং নিজের দায়িত্বে থাকা পশু বা মানুষ রক্ষায় নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি অনুযায়ী কাজ করে, তাই পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং কাছে আসার সুযোগ মালিকের স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার।
অন্য পশুর সঙ্গে টর্নিয়াক সাধারণত সেইসব পশুর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে যাদের সঙ্গে বড় হয়েছে, কারণ তাদের রক্ষা করাই তার মূল কাজ। এটি অন্য কুকুরের সঙ্গেও থাকতে পারে, যদিও একই লিঙ্গের দুটি প্রবল স্বভাবের কুকুরের মধ্যে সংঘাত হতে পারে। এটি নিজের উপস্থিতি এবং সতর্কবাণী দিয়ে পাহারা দেয়, এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই গম্ভীর ডাক দিয়ে অনুপ্রবেশকারীকে দূরে রাখে। এটি স্বাধীনভাবে চিন্তা করা কুকুর, সংকটে নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে না।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহ (পরিবারের সঙ্গে) | ৪ |
| কর্মশক্তি | ৩ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ৪ |
| লোম ঝরার হার | ৫ |
টর্নিয়াকের নিয়মিত লোমের যত্ন, মাঝারি মাত্রার দৈনিক ব্যায়াম এবং টহল দেওয়ার মতো জায়গা দরকার, এবং নির্দিষ্ট কাজ থাকলে এটি ঠান্ডা আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভালো থাকে।
টর্নিয়াক ঠান্ডা ও শীতল আবহাওয়ার জন্য তৈরি, এবং ঘন লোমের কারণে গরম সহ্য করতে পারে না বললেই চলে। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ, আর্দ্র জলবায়ুতে এই কুকুর রাখতে হলে ছায়াযুক্ত, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা এবং বাড়তি সতর্কতা দরকার। এর জন্য নিরাপদ, উঁচু বেড়া দরকার, কারণ এটি এলাকা টহল দেয় এবং অনুপ্রবেশকারীকে চ্যালেঞ্জ জানায়। জায়গা এবং একটি কাজ থাকলে এটি সবচেয়ে সুখী থাকে, ফ্ল্যাটবাড়ি বা ছোট উঠানের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। ছায়া, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখুন, এবং গরমের সময় কার্যকলাপ সীমিত রাখুন।
টর্নিয়াকের ওজন ও কর্মক্ষমতা অনুযায়ী পরিমিত বড় জাতের সুষম খাবার দরকার, এবং বাচ্চা অবস্থায় নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি গড়ে ওঠা হাড়জোড় রক্ষা করে।
টর্নিয়াক বড় জাতের জন্য তৈরি সম্পূর্ণ, সুষম খাবারে ভালো থাকে। এটি বড়সড়, ধীরে পরিপক্ব হওয়া কুকুর বলে বাচ্চা অবস্থায় নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ; অল্প বয়সী টর্নিয়াককে বেশি খাওয়ালে গড়ে ওঠা হাড় ও জোড়ে চাপ পড়তে পারে। আকারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর মোটামুটি কম খাবারেই চলতে পারে এবং তাদের হালকা-পাতলা রাখা উচিত, কারণ বাড়তি ওজন দীর্ঘ কর্মজীবন জুড়ে জোড়ের ওপর চাপ ফেলে। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে না চলে প্রতিটি কুকুরের ওজন, বয়স এবং কর্মক্ষমতা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | বেলা |
|---|---|---|
| বাচ্চা (২ থেকে ৬ মাস) | লক্ষ্য প্রাপ্তবয়স্ক ওজন অনুযায়ী বড় জাতের বাচ্চা খাবারের নির্দেশিকা মেনে | ৩ থেকে ৪ |
| কিশোর (৬ থেকে ১৮ মাস) | আকার ও কর্মক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৩ থেকে ৫ কাপ ভালো মানের খাবার | ২ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | শরীর হালকা-পাতলা রাখার মতো প্রায় ৩ থেকে ৫ কাপ | ২ |
| বয়স্ক | কম কর্মক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে কম ক্যালোরি | ২ |
দৈনিক ক্যালোরির প্রায় দশ শতাংশের মধ্যে পুরস্কারের খাবার সীমিত রাখুন, যাতে খাদ্যতালিকার ভারসাম্য নষ্ট না হয়। প্রশিক্ষণের সময় ছোট, স্বাস্থ্যকর পুরস্কার ব্যবহার করুন এবং তার হিসাব রেখে মূল খাবারের পরিমাণ কমান। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ ও সুষম খাদ্যতালিকায় সাধারণত আলাদা সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না; জোড় বা লোমের কোনো সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার আগে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে জোড়ের সমস্যাপ্রবণ বড় জাতের ক্ষেত্রে। সবসময় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ রাখুন, বিশেষ করে ব্যায়ামের পরে।
টর্নিয়াক সাধারণত সুস্থ, শক্তসমর্থ জাত এবং আয়ুষ্কাল ১২ থেকে ১৪ বছর, তবে বড় জাত হিসেবে জোড় এবং পেট ফোলার সমস্যার প্রবণতা থাকতে পারে।
টর্নিয়াক সাধারণত শক্তসমর্থ ও সুস্থ একটি জাত, কঠোর পরিবেশে কাজের উপযোগিতার ভিত্তিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নির্বাচনের ফল। সাধারণ আয়ুষ্কাল ১২ থেকে ১৪ বছর, যা এই আকারের কুকুরের জন্য বেশ দীর্ঘ। সব বড় ও গভীর বুকের জাতের মতোই এখানেও মূল উদ্বেগ জোড়ের সমস্যা এবং পেট ফুলে যাওয়ার (ব্লোট) ঝুঁকি। দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা নিতম্ব ও কনুইয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, তাই বাচ্চা কেনার সময় পরীক্ষার ফলাফল দেখতে চাওয়া উচিত।
| অবস্থা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হিপ ডিসপ্লেসিয়া | শক্ত হয়ে যাওয়া, খোঁড়ানো, উঠতে কষ্ট হওয়া | প্রজননের কুকুর পরীক্ষা করান; কুকুরকে হালকা-পাতলা রাখুন |
| এলবো ডিসপ্লেসিয়া | সামনের পায়ে খোঁড়ানো, ব্যায়ামে অনীহা | দ্রুত বেড়ে ওঠা বড় জাতে বেশি দেখা যায় |
| গ্যাস্ট্রিক ডাইলেটেশন-ভলভুলাস (ব্লোট) | পেট ফুলে যাওয়া, কিছু না বের হয়ে বমির চেষ্টা, কষ্ট পাওয়া | এটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি; সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিৎসকের কাছে যান |
| স্থূলতাজনিত জোড়ের চাপ | ওজন বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া | কুকুরের সারা জীবন জুড়ে খাদ্য ও ব্যায়াম নিয়ন্ত্রণ করুন |
টর্নিয়াক বুদ্ধিমান ও সক্ষম কিন্তু স্বাধীনচেতা, তাই শৈশবের সামাজিকীকরণ, ধারাবাহিকতা এবং পুরস্কারভিত্তিক পদ্ধতিতে জোরজবরদস্তি ছাড়াই এটি সবচেয়ে ভালো শেখে।
টর্নিয়াক বুদ্ধিমান এবং দ্রুত শেখে, তবে এটি একটি স্বাধীনচেতা পাহারাদার কুকুর, যাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু সঙ্গী জাতের মতো এটি বারবার পুনরাবৃত্তি বা চাপের মধ্যে কাজ করবে না, এবং অর্থহীন মনে হওয়া নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। মালিক শান্ত, ধারাবাহিক এবং ন্যায্য হলে, আর কুকুরটি যা করতে বলা হচ্ছে তার উদ্দেশ্য বুঝলে প্রশিক্ষণ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। শৈশব থেকে শুরু করে চলমান সামাজিকীকরণ এই জাতকে বড় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এটিই ঠিক করে দেয় প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরটি অপরিচিত মানুষ ও নতুন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবে।
কুকুরটি ছোট থাকতেই শুরু করুন। বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের মানুষ, জায়গা, পশু এবং শব্দের সঙ্গে পরিচয় করান, যাতে তার স্বাভাবিক সতর্কতা ভয় বা অতিরিক্ত সন্দেহের বদলে সঠিক বিচার-বুদ্ধিতে পরিণত হয়। বাড়ির নিয়ম স্পষ্ট করে ঠিক করুন এবং ধারাবাহিকভাবে তা মেনে চলুন। নিরাপদ বেড়া এবং নিয়ন্ত্রিত পরিচয় করিয়ে দেওয়াও প্রশিক্ষণের অংশ, কারণ একজন পাহারাদারকে শিখতে হয় কোনটা হুমকি আর কোনটা নয়।
টর্নিয়াক ধীরে পরিপক্ব হওয়া একটি বড় জাত; মাদী কুকুর সাধারণত মাঝারি থেকে বড় লিটার দেয়, এবং বাচ্চাদের শৈশবেই সামাজিকীকরণ ও নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি দরকার।
বড় জাতের মতোই টর্নিয়াক ধীরে পরিপক্ব হয়, এবং প্রজননের আগে কুকুরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণবয়স্ক হতে হবে। দায়িত্বশীল প্রজনন স্বাস্থ্য, স্থির মেজাজ এবং কর্মক্ষমতার ওপর জোর দেয়, বাবা-মায়ের নিতম্ব ও কনুই পরীক্ষাসহ। মিলন ও প্রসব সাধারণ কুকুরের ধরন মেনে চলে, গর্ভধারণকাল প্রায় নয় সপ্তাহ। লিটার সাধারণত মাঝারি থেকে বড় হয়, এবং মা সাধারণত মনোযোগ দিয়ে বাচ্চাদের বড় করে।
এই পাহারাদার জাতের জন্য বাচ্চাদের প্রাথমিক পরিচর্যা ও সামাজিকীকরণ অপরিহার্য। কম বয়স থেকেই বাচ্চারা মানুষ, ঘরোয়া শব্দ এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে পরে যেসব পশু রক্ষা করবে তাদের সঙ্গে আলতোভাবে পরিচয় করানো থেকে উপকৃত হয়। তত্ত্বাবধানে পশুর সঙ্গে বড় হওয়া বাচ্চারা তাদের তাড়া করার বদলে তাদের সঙ্গে বন্ধন গড়তে শেখে। গড়ে ওঠা জোড় রক্ষার জন্য স্থির ও নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির জন্য খাওয়ান, এবং কঙ্কাল এখনও পরিপক্ব হওয়ার সময় কঠিন ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। দুধ ছাড়ানো এবং সামাজিকীকরণের প্রথম ধাপ শেষে, সাধারণত প্রায় আট সপ্তাহ বা প্রজননকারীর ওপর নির্ভর করে তার পরে, বাচ্চারা নতুন বাড়িতে যায়।
| পরিমাপ | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রথম থেকে দ্বিতীয় বছরের মধ্যে আসে, তবে পূর্ণ পরিপক্বতা না আসা পর্যন্ত প্রজনন পিছিয়ে দেওয়াই ভালো |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন (মোটামুটি ৯ সপ্তাহ) |
| সাধারণ লিটারের আকার | বড় জাতের জন্য মাঝারি থেকে বড় |
| দুধ ছাড়ানো | প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে |
| সুপারিশকৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষা | বাবা-মায়ের নিতম্ব ও কনুই মূল্যায়ন |
United Pet Club-এ আপনার টর্নিয়াক জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
বাংলাদেশে পোষা কুকুরের কোনো জাতীয় নিবন্ধন খাতা নেই, তাই হারিয়ে যাওয়া টর্নিয়াক জাতের কুকুর আর আপনার মাঝে সেতু গড়ার দায়িত্বটা আপনারই। United Pet Club-এর বিনামূল্যের প্রোফাইল আপনার ফোন নম্বর ও ঠিকানা কুকুরের পরিচয়ের সঙ্গে বেঁধে রাখে; ঢাকার ক্লিনিকে বা বিদেশের শেল্টারে স্ক্যান হলেই খোঁজ পৌঁছে যায় আপনার কাছে। কুকুর নিবন্ধন করুন।
টর্নিয়াক জাতের কুকুরের চামড়ার নিচের পনেরোটা সংখ্যা তখনই আপনার কাছে পৌঁছায় যখন কোনো খাতা সেটা বলে। United Pet Club-কে বিনামূল্যে বলতে দিন: নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরায় না, সব ব্র্যান্ড চলে, আর তথ্য বদলানো সব সময় ফ্রি। আগে চিপ নিবন্ধন, পরে অ্যাকাউন্ট।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, টর্নিয়াক জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
টর্নিয়াকের আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা এবং প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন।
এটি একটি বড় জাত। পুরুষ কুকুর কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ সেমি উঁচু হয় এবং ওজন হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ কেজি, আর মাদী কুকুর আকারে ছোট, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ সেমি এবং ২৮ থেকে ৪২ কেজি।
বাড়িতে শান্ত ও অনুগত, দায়িত্বে থাকলে সতর্ক ও রক্ষণাত্মক। নিজের পরিবারের সঙ্গে অনুগত ও কোমল, অপরিচিতদের সঙ্গে সংযত এবং পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনচেতা।
এটি মাঝারি থেকে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। পুরু দ্বিস্তর লোমের নিয়মিত আঁচড়ানো দরকার এবং মৌসুমি লোম ঝরার সময় বাড়তি মনোযোগ চায়, আর কুকুরটির জায়গা, নিরাপদ বেড়া এবং সম্ভব হলে একটি কাজ দরকার। এর স্বাধীনচেতা পাহারাদার স্বভাব অভিজ্ঞ মালিকদের জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত।
সাধারণত ১২ থেকে ১৪ বছর, যা এই আকারের কুকুরের জন্য দীর্ঘ।
উপযুক্ত পরিবেশে হতে পারে। এটি পরিবারের সঙ্গে গভীর বন্ধন গড়ে তোলে এবং বিশ্বাস করা মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করে, তবে এর জন্য জায়গা, শৈশবের সামাজিকীকরণ এবং একটি বড়, রক্ষণাত্মক, স্বাধীনচেতা জাত সামলাতে স্বচ্ছন্দ মালিক দরকার। ফ্ল্যাটবাড়ির জীবনের জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া এবং বৃহত্তর বলকান অঞ্চলের বাইরে এটি বিরল। বাংলাদেশের মতো জায়গায় এই জাতের বাচ্চা খোঁজার অর্থ সাধারণত বিশেষায়িত প্রজননকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং একটি লিটারের জন্য অপেক্ষা করা, আর বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব বা এফসিআই অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বস্ত প্রজননকারী খুঁজে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
তীব্র কার্যকলাপের বদলে এর মাঝারি মাত্রার দৈনিক ব্যায়াম দরকার। লম্বা হাঁটা এবং নিরাপদ জায়গায় টহল দেওয়ার সুযোগ এর জন্য ভালো, আর পাহারা দেওয়ার ভূমিকা এটিকে মানসিকভাবে সন্তুষ্ট রাখে।