
পিরেনিয়ান মাস্টিফ একটি শান্ত, কোমল বিশালাকায় কুকুর, যা পাল পাহারা দেওয়ার জন্য প্রজনন করা হয়েছিল, নিবেদিত ও রক্ষাকারী অথচ ঘরে অসাধারণভাবে প্রশান্ত।
পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
তথ্য: পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ তার নিচের স্তর প্রবল দফায় ছাড়ে।
নিচের স্তর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল দফায় বেরোয়। নিচের স্তরের রেক, বা গোসলের পরে ঠিকমতো বাতাসে শুকানো, রোজকার ব্রাশের চেয়ে অনেক দ্রুত তা সরায়। লোম ছোট করে ফেলা এর শর্টকাট নয়।
A few of the পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ profiles members have added to United Pet Club.
পিরেনিয়ান মাস্টিফ স্পেনের একটি অতিকায় পশুরক্ষী কুকুর জাত, ঘরে শান্ত অথচ পরিবার ও পালের প্রতি সুরক্ষামূলক মনোভাবাপন্ন।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ উত্তর স্পেনের আরাগন অঞ্চলের পিরেনিজ পর্বতমালা থেকে আসা একটি বিশালদেহী কর্মঠ কুকুর জাত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাখালদের সঙ্গে ঋতুভিত্তিক পশু স্থানান্তরের পথে হেঁটেছে এই কুকুর, নেকড়ে ও ভালুকের হাত থেকে ভেড়ার পাল রক্ষা করেছে। শরীরের গড়নই বলে দেয় কাজের ধরন: ভারী হাড়ের কাঠামো, গভীর বুকের ছাতি, আর ঘন দ্বিস্তর লোমের আবরণ যা পাহাড়ি রাতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডাও সামলে নেয়।
আকারে বিশাল হলেও স্বভাবে এই কুকুর বেশ স্থির। সঠিকভাবে বড় করা একটি পিরেনিয়ান মাস্টিফ ঘরের ভেতর শান্ত থাকে, সহজে রেগে যায় না, আর নিজের মানুষ ও প্রাণীদের প্রতি ধৈর্যশীল। প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে সে পর্যবেক্ষণ করে বেশি, আর সাধারণত তখনই ডাকে যখন সত্যিই কিছু নজরে আনার মতো ঘটে।
এই কুকুর পোষা মানে বড় দায়িত্ব। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাধারণত ৭০-১০০ কেজি ওজনের হয়, খাবারও লাগে সেই অনুপাতে, আর ছোটবেলা থেকেই দরকার আত্মবিশ্বাসী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ। যারা সক্রিয় খেলাধুলার সঙ্গী নয় বরং শান্ত এক পাহারাদার চান, তাদের জন্যই এই জাত উপযুক্ত।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | স্পেন (আরাগন পিরেনিজ) |
| আকার | অতিকায় |
| আয়ুষ্কাল | ১০-১২ বছর |
| গোত্র/ভূমিকা | পশুরক্ষী, কর্মঠ কুকুর |
| যাদের সঙ্গে ভালো | পরিবার, শিশু এবং যেসব প্রাণীর সঙ্গে একত্রে বড় হয় |
যেসব পরিবারে জায়গা আছে, নিরাপদ ঘেরা উঠান আছে, আর শুরু থেকেই সামাজিকীকরণের জন্য সময় দেওয়া যায়, তাদের জন্য এই জাত মানানসই। পাহারাদার জাত সম্পর্কে বোঝাপড়া আছে এবং দৃঢ় অথচ ন্যায্য নেতৃত্ব দিতে পারেন এমন মালিকদের সঙ্গেই এই কুকুর সবচেয়ে ভালো মানায়। ফ্ল্যাটে থাকা, প্রথমবার কুকুর পোষা মানুষ, বা উচ্চশক্তির ব্যায়ামসঙ্গী খোঁজা কারো জন্য এটি কম উপযোগী। শিশু আছে এমন পরিবারেও এই কুকুর ভালো মানিয়ে নেয়, তবে শুধু ওজনের কারণেই ছোট শিশুদের আশেপাশে তদারকি রাখা দরকার।
উত্তর স্পেনে পশুরক্ষী হিসেবে গড়ে ওঠা পিরেনিয়ান মাস্টিফ বিশ শতকে প্রায় বিলুপ্তির মুখ থেকে অল্প সংখ্যক কুকুর দিয়ে পুনরায় গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই জাতের উৎপত্তি উত্তর স্পেনের আরাগন অঞ্চলের পিরেনিজ পর্বতমালায়, যেখানে বিশালদেহী পাহারাদার কুকুর ভেড়ার পালের সঙ্গে থাকত। ট্রান্সহিউম্যান্স নামে পরিচিত এই ঋতুভিত্তিক প্রথায় গ্রীষ্মে উঁচু চারণভূমি আর শীতে নিচু চারণভূমির মধ্যে পাল স্থানান্তর করা হতো, আর এই কুকুরগুলো সেই সময় পালকে পাহারা দিত। তাদের কাজ ছিল রক্ষণাত্মক, ভেড়া তাড়িয়ে নেওয়া নয় বরং নেকড়ে ও ভালুককে ঠেকানো ও তাদের সঙ্গে লড়াই করা।
এই ধরনের অনেক পাহারাদার কুকুরের গলায় কার্লাংকা নামে কাঁটাযুক্ত লোহার বকলেস পরানো থাকত, যা শিকারি প্রাণীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় গলা রক্ষা করত। কুকুরগুলো ঢিলেঢালা দলে কাজ করত আর দিনরাত পালের পাশে থাকত, যা আজও দেখা যাওয়া তাদের শান্ত, স্বনির্ভর স্বভাব গড়ে তুলেছে।
বিশ শতক জুড়ে বড় শিকারি প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়া আর কৃষিকাজের ধরন বদলে যাওয়ার ফলে পাহারাদার কুকুরের চাহিদা কমে যায়। স্পেনের গৃহযুদ্ধের পরের বছরগুলোতে এই জাতের সংখ্যা তীব্রভাবে কমে যায় এবং জাতটি প্রায় বিলুপ্তির মুখে চলে আসে। ১৯৭০-এর দশক থেকে স্পেনের কিছু জাত-উৎসাহী মানুষ বেঁচে থাকা কুকুরগুলো একত্র করে একটি পরিকল্পিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এই উদ্যোগের ফলে একটি আনুষ্ঠানিক জাত-মান ও স্টাডবুক তৈরি হয়, এবং ফেদেরাসিওঁ সিনোলজিক ইন্টারন্যাশনাল (এফসিআই) পিরেনিয়ান মাস্টিফকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। স্পেনের বাইরে এই জাত এখনও বিরল, বাংলাদেশেও এর দেখা প্রায় পাওয়াই যায় না, তবে যেখানেই আছে সেখানে একে কাজের পাহারাদার এবং পারিবারিক সঙ্গী দুই ভূমিকাতেই রাখা হয়।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ বড়সড়, সুঠাম গড়নের কুকুর, ঘন মাঝারি দৈর্ঘ্যের লোম, সাধারণত সাদা রঙের গায়ে গাঢ় মুখোশ ও ছোপ থাকে।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ আকারে বড় ও শক্তিশালী গড়নের, তবু দেখতে ভারী বা আনাড়ি লাগে না। শরীর উচ্চতার চেয়ে সামান্য লম্বা, বুকের ছাতি চওড়া ও গভীর, আর মাথা বড়, খুলি চওড়া এবং স্টপ স্পষ্ট। ঠোঁট কিছুটা ঝুলে থাকে এবং পেছনের পায়ে সাধারণত দুটি করে ডিউক্ল হয়। এই জাতের একটি চেনা বৈশিষ্ট্য হলো ডিউল্যাপ, অর্থাৎ গলার নিচে ঝুলে থাকা ঢিলে চামড়া।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ কুকুর প্রায় ৭৭ সেমি থেকে; স্ত্রী কুকুর প্রায় ৭২ সেমি থেকে (বেশি উচ্চতা কাম্য) |
| ওজন | আনুমানিক ৭০-১০০ কেজি, স্ত্রী কুকুর তুলনায় হালকা |
| লোম | ঘন, মাঝারি দৈর্ঘ্যের, দ্বিস্তর |
| রঙ | সাদা মূল রঙের ওপর ধূসর, কালো, বাদামি, সোনালি বা ট্যান রঙের ছোপ |
| চোখ | ছোট, গাঢ় রঙের, কাঠবাদাম আকৃতির, সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি |
লোম ঘন এবং আবহাওয়া-প্রতিরোধী, ঘাড়ের চারপাশে, পায়ের পেছন দিকে ও লেজে তুলনায় লম্বা। মূল রঙ সাদা। বেশিরভাগ কুকুরের মুখোশ ও কান স্পষ্টভাবে গাঢ় রঙের হয়, সঙ্গে শরীরজুড়ে ছোপ থাকে। ধূসর, কালো, সোনালি, বাদামি, বেইজ, বালুরঙা এবং মার্বেল আভার ছোপ গ্রহণযোগ্য। পুরোপুরি সাদা কুকুর এবং প্রচুর ছোপযুক্ত কুকুর, দুটোই দেখা যায়, তবে স্পষ্ট মুখোশসহ পরিষ্কার সাদা শরীরই বেশি প্রচলিত। লেজ গোড়ায় মোটা, বিশ্রামের সময় নিচু থাকে আর সতর্ক হলে বাঁকা হয়ে ওপরে ওঠে।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ শান্ত, কোমল ও পরিবারভক্ত, স্বভাবতই সুরক্ষামূলক ও সতর্ক, তবে অকারণে আক্রমণাত্মক নয়।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ তার স্থির, সংযত স্বভাবের জন্য পরিচিত। ঘরে এটি শান্ত ও স্নেহশীল, প্রায়ই পরিবারের কাছাকাছি বিশ্রাম নিয়ে চারপাশ লক্ষ করতে ভালোবাসে। যাদের সঙ্গে থাকে তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণ করে, যদিও আকারের কারণে ছোট শিশুদের আশেপাশে নজর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
অপরিচিতদের সঙ্গে এই কুকুর ভীত বা আক্রমণাত্মক না হয়ে বরং কিছুটা রাখঢাক বজায় রাখে। নতুন মানুষকে ঠান্ডা মাথায় যাচাই করে এবং হুমকি নয় বুঝলে তবেই সহজ হয়ে ওঠে। এর সুরক্ষামূলক প্রবৃত্তি সত্যিকারের: বিপদ টের পেলে পরিবার ও বিপদের মাঝে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দেয়, আর প্রথম সতর্কতা হিসেবে গম্ভীর স্বরে ডাকে। প্রথম দিকের সামাজিকীকরণ কুকুরকে সাধারণ অতিথি আর প্রকৃত হুমকির মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়।
অন্য প্রাণীর সঙ্গে এই জাত সাধারণত সহনশীল, বিশেষ করে যেসব গবাদি পশু বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একসাথে বড় হয়েছে তাদের সঙ্গে, যা তার পাহারাদার-উত্তরাধিকারেরই প্রতিফলন। আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা চিন্তাভাবনা এই জাতের একটি অংশ, তাই নির্দেশ পালনের আগে কুকুরটি প্রায়ই খানিকটা ভেবে নেয়, সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয় না।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহ | ৪ |
| কর্মশক্তি | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ৩ |
| লোম ঝরা | ৪ |
পিরেনিয়ান মাস্টিফের নিয়মিত ব্রাশিং, মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত জায়গা দরকার, ঋতুভিত্তিক লোম ঝরার সময় ঘন লোমের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।
দৈনন্দিন যত্নের মূল বিষয় তিনটি: লোমের পরিচর্যা, মাঝারি মাত্রার কর্মকাণ্ড, আর একটি অতিকায় কুকুরের উপযোগী পরিবেশ।
এই জাতের জন্য জায়গা দরকার। ফ্ল্যাটের বদলে নিরাপদ ঘেরা উঠানসহ বাড়িই এর জন্য বেশি উপযোগী। ঘন লোমের কারণে ঠান্ডা বেশ ভালোভাবে সহ্য করে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কষ্ট পায়, তাই গ্রীষ্মে ও বর্ষার সময় ছায়া ও ঠান্ডা বিশ্রামের জায়গা জরুরি। এই কুকুর পরিবারের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে এবং স্বাধীনচেতা স্বভাব সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় একা ফেলে রাখা উচিত নয়।
পিরেনিয়ান মাস্টিফের জন্য প্রয়োজন বড় জাতের সুষম খাবার, মেপে ভাগ করে খাওয়ানো, আর হাড়-জোড় রক্ষায় নিয়ন্ত্রিত বাচ্চা-বয়সের বৃদ্ধি।
বড় বা অতিকায় জাতের জন্য তৈরি সম্পূর্ণ ও সুষম খাবার খাওয়ান। বিশেষ করে বাচ্চা কুকুরের জন্য নিয়ন্ত্রিত ক্যালসিয়াম ও শক্তিমাত্রার বড়-জাত-বৃদ্ধি সূত্রের খাবার উপকারী, কারণ ধীর ও স্থির বৃদ্ধি পরবর্তীতে হাড়-জোড়ের সমস্যার ঝুঁকি কমায়। প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর পর্যাপ্ত প্রোটিন ও মাঝারি চর্বিযুক্ত মানসম্পন্ন খাবারে ভালো থাকে। যেহেতু এই জাত ব্লোটে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি, তাই একবারে বড় পরিমাণ না দিয়ে সারাদিনে ভাগ করে খাওয়ানোই ভালো।
| বয়সের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বেলার সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাচ্চা (২-৬ মাস) | বড়-জাতের বাচ্চা সূত্র অনুযায়ী, ওজন হিসেবে | ৩-৪ |
| কিশোর বয়স (৬-১৮ মাস) | ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্কের পরিমাণের দিকে সমন্বিত | ২-৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | আকার ও সক্রিয়তা অনুযায়ী আনুমানিক ৪-৮ কাপ | ২ |
| বয়স্ক | সামান্য কম ক্যালরি, ওজনের দিকে নজর রাখুন | ২ |
দৈনিক ক্যালরির প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে ট্রিট সীমিত রাখুন, নইলে ওজন বেড়ে ভারী শরীরের হাড়-জোড়ে চাপ পড়ে। বিশুদ্ধ পানি সবসময় হাতের কাছে রাখা উচিত। কিছু মালিক বড় জাতের জন্য গ্লুকোসামিন ও কনড্রয়টিনের মতো জয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন, তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ প্রায় ১০-১২ বছর বাঁচে এবং অনেক অতিকায় জাতের মতোই হাড়-জোড়ের সমস্যা ও ব্লোটের প্রবণতা থাকে।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ সাধারণত সুস্থ ও কর্মক্ষম একটি জাত, তবে আকারের কারণে অতিকায় কুকুরদের সাধারণ স্বাস্থ্য-সমস্যাগুলো এখানেও দেখা যায়। স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ১০-১২ বছর। দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা প্রজননের কুকুরদের হিপ ও কনুইয়ের সমস্যার জন্য পরীক্ষা করান, আর ভবিষ্যৎ মালিকদের সেই পরীক্ষার ফলাফল দেখতে চাওয়া উচিত।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হিপ ও কনুই ডিসপ্লেসিয়া | শক্ত ভাব, খোঁড়ানো, উঠতে অনীহা | অতিকায় জাতে সাধারণ; পরীক্ষা সহায়ক |
| গ্যাস্ট্রিক ডাইলেটেশন-ভলভুলাস (ব্লোট) | পেট ফোলা, বমির চেষ্টা, অস্থিরতা | জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন; খাবার ভাগ করে দিন এবং খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন |
| অস্টিওকনড্রাইটিস ডিসিক্যান্স | বাড়ন্ত বয়সের কুকুরে খোঁড়ানো | দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত; নিয়ন্ত্রিত খাদ্য সহায়ক |
| এনট্রোপিয়ন (চোখের পাতা ভেতরের দিকে মুড়ে যাওয়া) | চোখ কুঁচকানো, পানি পড়া, চোখে জ্বালা | ছোটখাটো অস্ত্রোপচার লাগতে পারে |
| হৃদরোগ | সহজে ক্লান্ত হওয়া, কাশি, দুর্বলতা | বয়স্ক কুকুরে পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা প্রয়োজন |
পিরেনিয়ান মাস্টিফ বুদ্ধিমান কিন্তু স্বাধীনচেতা, তাই ছোটবেলা থেকে শুরু করা ধারাবাহিক ও পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণেই সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ চালাক ও শেখার ক্ষমতাসম্পন্ন, তবে একে তৈরি করা হয়েছিল একা কাজ করে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এই স্বাধীনচেতা স্বভাবের কারণে কিছু জাতের মতো মালিককে খুশি করাই এর লক্ষ্য নয়। প্রশিক্ষণ যখন ধারাবাহিক, শান্ত ও ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়, যখন কুকুরটি এখনও সহজে সামলানোর মতো আকারে থাকে, তখনই সে ভালো শেখে। কঠোর পদ্ধতি একটি পাহারাদার জাতের ক্ষেত্রে সাধারণত উল্টো ফল দেয় এবং আস্থা নষ্ট করে। এই কুকুরকে বড় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সামাজিকীকরণ: বাচ্চা বয়সেই অনেক মানুষ, জায়গা ও অন্য প্রাণীর সঙ্গে পরিচয় করান, যাতে সে স্থিতিশীল ও বিচক্ষণ প্রাপ্তবয়স্কে পরিণত হয়।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ ধীরে পরিণত হওয়া একটি অতিকায় জাত, বড় লিটার হয় এবং হাড়-জোড়ের স্বাস্থ্যের জন্য শুরু থেকেই সতর্ক যত্ন দরকার।
অতিকায় জাতের কুকুর ধীরে পরিণত হয়, আর পিরেনিয়ান মাস্টিফও এর ব্যতিক্রম নয়। স্ত্রী কুকুরকে সাধারণত শারীরিকভাবে পরিণত হওয়ার আগে প্রজননে ব্যবহার করা হয় না, সাধারণত প্রায় দুই বছর বয়সে, যখন বৃদ্ধি শেষ হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। দায়িত্বশীল প্রজনন মানে হিপ ও কনুইয়ের সমস্যামুক্ত এবং স্থির, সুস্থ স্বভাবের কুকুর জোড়া মেলানো, কারণ একটি বড় পাহারাদার কুকুরের ক্ষেত্রে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভধারণকাল অন্যান্য কুকুরের মতোই প্রায় ৬৩ দিন। লিটার সাধারণত বড় হয় আর বাচ্চাগুলোও আকারে বড়, তাই প্রসবের সময় তদারকি প্রয়োজন এবং পশুচিকিৎসককে হাতের কাছে রাখা উচিত। নবজাতক দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং বৃদ্ধিকে অতিরিক্ত দ্রুত না করার জন্য নিয়ন্ত্রিত খাদ্য দরকার, কারণ দ্রুত বৃদ্ধি গঠনরত হাড়-জোড়ে চাপ ফেলে। প্রজননকারীর দেওয়া প্রথম দিকের হাতে-ধরা যত্ন ও সামাজিকীকরণই এই জাতের পরিচিত শান্ত প্রাপ্তবয়স্ক স্বভাবের ভিত্তি তৈরি করে। যেহেতু এই জাত স্পেনের বাইরে বিরল, বাংলাদেশে একটি বাচ্চা খুঁজে পেতে সাধারণত জাত-ক্লাব বা এফসিআই-অনুমোদিত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পিত মিলনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
| সূচক | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রায় ১-২ বছর (প্রজনন সাধারণত প্রায় ২ বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়) |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| গড় লিটার আকার | আনুমানিক ৬-৮টি বাচ্চা |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬-৮ সপ্তাহ |
| প্রাপ্তবয়স্ক ওজনে পৌঁছানোর সময় | প্রায় ১৮-২৪ মাস |
United Pet Club-এ আপনার পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ জাতের কুকুরের নাম, জন্মতারিখ আর একটা পরিষ্কার ছবি লিখুন, নিজের ফোন নম্বর যোগ করে সংরক্ষণ করুন। ব্যস, এটুকুই; আজও বিনামূল্যে, চিরকালও। কুকুর নিবন্ধন চিপ থাকলেও চলে, না থাকলেও।
পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ জাতের কুকুরের চামড়ার নিচের পনেরোটা সংখ্যা তখনই আপনার কাছে পৌঁছায় যখন কোনো খাতা সেটা বলে। United Pet Club-কে বিনামূল্যে বলতে দিন: নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরায় না, সব ব্র্যান্ড চলে, আর তথ্য বদলানো সব সময় ফ্রি। আগে চিপ নিবন্ধন, পরে অ্যাকাউন্ট।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, পিরেনিয়ান ম্যাস্টিফ জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
পিরেনিয়ান মাস্টিফ নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলো এর আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা এবং প্রাপ্যতা নিয়ে।
এটি একটি অতিকায় জাত। পুরুষ কুকুর কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৭৭ সেমি আর স্ত্রী কুকুর প্রায় ৭২ সেমি থেকে শুরু হয়, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাধারণত ওজন হয় ৭০-১০০ কেজির মধ্যে।
হ্যাঁ, সঠিক পরিবারের জন্য। এটি শান্ত, স্নেহশীল এবং পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে কোমল, তবে আকারের কারণে ছোট শিশুদের আশেপাশে তদারকি রাখা উচিত। এর জায়গা ও প্রাথমিক সামাজিকীকরণ দরকার।
যত্নের ধরন মাঝারি, কিন্তু আকার বড়। ঘন লোমের নিয়মিত ব্রাশিং এবং ঘন লোম ঝরার সময় প্রতিদিনের যত্ন দরকার, ব্যায়ামের চাহিদা কম, তবে একটি অতিকায় কুকুরকে খাওয়ানোর খরচ বাস্তবেই অনেক। বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিক, শুরু থেকেই প্রশিক্ষণ ও সামাজিকীকরণ।
বেশিরভাগ প্রায় ১০-১২ বছর বাঁচে, যা একটি অতিকায় জাতের জন্য স্বাভাবিক। কুকুরকে সুঠাম রাখা এবং হাড়-জোড় ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার জন্য পরীক্ষা করানো সুস্থ আয়ুষ্কালে সহায়ক।
সাধারণত এটি প্রথম কুকুর হিসেবে সহজ নয়। এর আকার, স্বাধীনচেতা স্বভাব এবং পাহারাদার প্রবৃত্তি সেসব মালিকদের সঙ্গে বেশি মানানসই যাদের বড় বা সুরক্ষামূলক জাতের অভিজ্ঞতা আছে এবং যারা দৃঢ়, ন্যায্য নিয়ন্ত্রণ দিতে পারেন।
এরা সতর্ক থাকে এবং কিছু অস্বাভাবিক ঘটলে সতর্ক করতে ডাকে, তবে সবসময় ডাকতেই থাকে না। ভালোভাবে সামাজিকীকরণ করা কুকুর তার গম্ভীর ডাক অকারণে নয়, সতর্কবার্তা হিসেবেই ব্যবহার করে।
স্পেনের বাইরে এই জাত বিরল, বাংলাদেশে একেবারেই দুর্লভ। বাচ্চা খুঁজতে হলে সাধারণত জাত-ক্লাব বা নিবন্ধিত প্রজননকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এবং পরিকল্পিত লিটারের জন্য অপেক্ষা করার মানসিকতা রাখতে হয়।