
পুলি একটি স্বতন্ত্র দড়ি-আকৃতির লোমযুক্ত হাঙ্গেরিয়ান পাল চরানো কুকুর, যা তার আনুগত্য, ক্ষিপ্রতা এবং সদা-সতর্ক স্বভাবের জন্য পরিচিত।
পুলি-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
সতর্কতা: পুলি-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
A few of the পুলি profiles members have added to United Pet Club.
পুলি একটি মাঝারি আকারের হাঙ্গেরিয়ান রাখাল কুকুর, যার প্যাঁচানো কর্ডের মতো লোম, ক্ষিপ্র শরীর এবং পরিবারের প্রতি গভীর টান রয়েছে।
পুলি হাঙ্গেরি থেকে আসা মাঝারি আকারের একটি রাখাল কুকুর, যাকে সবচেয়ে সহজে চেনা যায় তার লম্বা, প্যাঁচানো কর্ডের মতো লোম দেখে, অনেকটা ড্রেডলকের আদলে। এই লোমের নিচে লুকিয়ে থাকে ছোটখাটো, চৌকো গড়নের একটি শরীর, যা দ্রুতগতিতে ও লাফিয়ে চলাফেরা করতে সক্ষম। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই কুকুর হাঙ্গেরির রাখালদের সঙ্গে কাজ করেছে, খোলা প্রান্তরে ভেড়ার পাল তাড়িয়ে ও জড়ো করে নিয়ে বেড়িয়েছে।
এটি এমন একটি কুকুর যাকে বংশপরম্পরায় নিজে থেকে ভাবতে ও সিদ্ধান্ত নিতে গড়ে তোলা হয়েছে। পুলি পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নেয়, নির্দেশের অপেক্ষা না করেই সিদ্ধান্ত নেয়, এবং যেকোনো অস্বাভাবিক কিছুর প্রতি সজাগ থাকে। এই স্বাধীনচেতা স্বভাবের পাশাপাশি রয়েছে যাদের সঙ্গে থাকে তাদের প্রতি গভীর আনুগত্য। পুলি সাধারণত নিজের পরিবারের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে সদস্যদের পিছু নেয়।
এই জাতের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার শক্তি। সারাদিন ভেড়া তাড়ানো পুলির বাড়িতে স্থির থাকার জন্য কাজ, ব্যায়াম বা প্রশিক্ষণ দরকার। মালিকেরা প্রায়ই এই জাতকে বর্ণনা করেন প্রাণবন্ত, চটপটে এবং কিছুটা দুষ্টু বলে। সক্রিয় পরিবারের জন্য এটি একটি স্নেহশীল সঙ্গী, যারা শরীর ও মন উভয়কেই ব্যস্ত রাখতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | হাঙ্গেরি |
| আকার | মাঝারি |
| আয়ুষ্কাল | ১২ থেকে ১৬ বছর |
| শ্রেণি/ভূমিকা | রাখাল কুকুর |
| যাদের সঙ্গে ভালো মানায় | পরিবারের সদস্য, বয়স্ক শিশু এবং যেসব পোষা প্রাণীর সঙ্গে সে বড় হয়েছে |
পুলি এমন সক্রিয় মালিকের জন্য উপযুক্ত যিনি প্রতিদিনের ব্যায়াম, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক সাহচর্য দিতে পারবেন। যারা লোমের যত্ন বা গ্রুমিং করতে ভালোবাসেন তাদের সঙ্গে এটি ভালো মানায়, কারণ কর্ডগুলোর নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয় বা কম পরিশ্রমী, কম যত্নের কুকুর চান, এমন পরিবারের জন্য এটি ততটা উপযুক্ত নয়। প্রথমবার কুকুর পালন করছেন এমন মালিকরাও এই জাতের সঙ্গে ভালো করতে পারেন, যদি তারা এর স্বাধীনচেতা স্বভাব ও তীব্র উদ্যমের জন্য প্রস্তুত থাকেন।
পুলি হাঙ্গেরির একটি প্রাচীন রাখাল কুকুরের জাত, যা মাগিয়ার রাখালদের হাত ধরে কার্পেথিয়ান অববাহিকায় আসে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ভেড়া পালনের কাজে পরিমার্জিত হয়।
পুলি হাঙ্গেরির প্রাচীনতম রাখাল কুকুরদের একটি। এর পূর্বপুরুষদের সাধারণত খুঁজে পাওয়া যায় সেই কুকুরদের মধ্যে, যাদের মাগিয়ার জনগোষ্ঠী হাজার বছরেরও বেশি আগে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনের সময় কার্পেথিয়ান অববাহিকায় নিয়ে এসেছিল। এই কুকুরগুলো হাঙ্গেরির প্রান্তরে ভেড়া পালনের কাজ করত, যেখানে ভেড়ার পাল জড়ো করা ও সরানোর জন্য দ্রুতগতির, ক্ষিপ্র রাখাল কুকুরের কদর ছিল।
খামারে পুলি সাধারণত সক্রিয় রাখালের ভূমিকা পালন করত, ভেড়া তাড়িয়ে ও ঘুরিয়ে নিয়ে যেত, আর কোমন্দরের মতো বড় আকারের রক্ষী জাতের কুকুর রাতে পালের পাহারা দিত। এই দুই ভূমিকা একে অপরের পরিপূরক ছিল। পুলির গাঢ় রঙের, আবহাওয়া-প্রতিরোধী লোম রাখালদের সাদা ভেড়ার মধ্যে একে সহজে চিনতে সাহায্য করত এবং দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় একে রক্ষা করত।
মধ্য ইউরোপে অস্থির সময়ে এই জাতের সংখ্যা কমে যায়, এবং অন্যান্য হাঙ্গেরিয়ান রাখাল কুকুরের সঙ্গে এর ইতিহাস এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে হাঙ্গেরিয়ান ব্রিডাররা পুলিকে একটি স্বতন্ত্র জাত হিসেবে সংজ্ঞায়িত ও প্রতিষ্ঠিত করার কাজ করেন, এর আকার ও লোমের ধরন নির্ধারণ করে একে সম্পর্কিত অন্যান্য কুকুর থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা করেন।
হাঙ্গেরি থেকে পুলি ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য দেশে, অভিবাসী ও কুকুরপ্রেমীদের মাধ্যমে। আজও এটি একটি কর্মঠ ও সহচর জাত হিসেবে টিকে আছে, সেই কর্ডেড লোমের জন্যই এখনও সহজে চেনা যায়, যা রাখালদের কাছে এত মূল্যবান ছিল।
পুলি একটি চৌকো গড়নের, মাঝারি আকারের কুকুর, যার পরিচয় তার ঘন কর্ডেড লোমে, যা নরম আন্ডারকোট ও তারযুক্ত টপকোট জড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়।
পুলি ছোটখাটো, চৌকো গড়নের মাঝারি আকৃতির কুকুর। লোমের নিচে শরীরটি সুগঠিত ও সুষম, দ্রুত মোড় নেওয়া ও দীর্ঘক্ষণ চলাফেরার জন্য তৈরি। মাথা সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী, চোখ গাঢ় রঙের ও প্রাণবন্ত, আর লেজ পিঠের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে। সামগ্রিকভাবে একে দেখলে মনে হয় কর্ডের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা একটি ক্ষিপ্র, দৃঢ় পরিশ্রমী কুকুর।
লোমই এই জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ঘন, নরম আন্ডারকোট আর লম্বা, তারযুক্ত টপকোট কুকুরটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে কর্ড তৈরি করে। এই কর্ড সারা শরীর, এমনকি মাথাও ঢেকে রাখে, এবং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় পুরোপুরি লোমযুক্ত কুকুরের ক্ষেত্রে মাটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ইঞ্চি (৪১ থেকে ৪৩ সেমি) |
| ওজন | প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ পাউন্ড (১১ থেকে ১৬ কেজি) |
| লোম | কর্ড তৈরি হওয়া ঘন দ্বিস্তর লোম; নরম আন্ডারকোটের সঙ্গে তারযুক্ত বাইরের লোম |
| রং | কালো, মরিচা-কালচে, ধূসর এবং সাদা |
| চোখ | গাঢ় বাদামি, মাঝারি আকারের, বাদাম আকৃতির |
সবচেয়ে সাধারণ রং কালো, যা রোদ ও বয়সের প্রভাবে প্রায়ই মরিচা রঙের বা ফিকে হয়ে যায়। ধূসর ও সাদা রংও দেখা যায়। জন্মের সময় কর্ড থাকে না; একটি ছানার লোম শুরুতে নরম ও তুলতুলে থাকে, প্রথম বছরে তা কর্ডে ভাগ হতে শুরু করে, আর মালিক সাধারণত হাত দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেন। কর্ডেড লোম সাধারণ নিয়মে ঝরে পড়ে না, তাই ঝরে যাওয়া লোম ঘরময় ছড়িয়ে না পড়ে কর্ডের ভেতরেই থেকে যায়।
পুলি অনুগত, বুদ্ধিমান ও প্রাণবন্ত, পরিবারের প্রতি নিবেদিত থাকে, আবার অপরিচিতদের ক্ষেত্রে সজাগ ও সংযত আচরণ করে।
পুলি অনুগত এবং নিজের পরিবারের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে জড়িত। সে সাধারণত নিজের মানুষ বেছে নেয় এবং তাদের কাছাকাছি থাকে, প্রায়ই দিনভর পরিবারের সদস্যদের ছায়ার মতো অনুসরণ করে। পরিচিতদের সঙ্গে সে স্নেহশীল, খেলাপ্রিয় এবং কোনো কাজে যোগ দিতে দ্রুত এগিয়ে আসে।
অপরিচিতদের সঙ্গে পুলি সাধারণত সংযত ও সতর্ক থাকে। এর রাখাল কুকুরের পটভূমি একে সুরক্ষামূলক ও সজাগ স্বভাব দিয়েছে, এবং অতিথি বা কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখলে সে ঘেউ ঘেউ করে জানান দেয়। ছোটবেলা থেকে এবং পরবর্তী সময়েও নিয়মিত সামাজিকীকরণ একে প্রতিটি পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্তভাবে পরিস্থিতি বিচার করতে সাহায্য করে।
এই জাত অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও স্বাধীনচেতা, এই মিশ্রণের কারণে সে যেমন দ্রুত শেখে, তেমনি নিজে থেকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্য কুকুর এবং যেসব পোষা প্রাণীর সঙ্গে সে বড় হয়েছে তাদের সঙ্গে ভালোভাবে সামাজিকীকরণ করা পুলি সাধারণত ভালো মানিয়ে নেয়, যদিও তার রাখাল প্রবৃত্তি কখনো কখনো তাড়া করা বা গুঁতো দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেতে পারে। যেসব বড় শিশু সক্রিয় কুকুরের সঙ্গে আচরণ করতে জানে, তাদের সঙ্গে সে সাধারণত ভালো মেলে। এর শক্তি ও উদ্যমের কারণে নিয়মিত কাজ, ব্যায়াম ও সম্পৃক্ততা পেলেই সে সবচেয়ে খুশি থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহ | ৪ |
| শক্তি | ৫ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৪ |
| ঘেউ ঘেউ করার প্রবণতা | ৪ |
| লোম ঝরা | ১ |
পুলির সুস্থ ও তৃপ্ত থাকার জন্য প্রতিদিনের ব্যায়াম, নিয়মিত মানসিক কাজ এবং কর্ডেড লোমের নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন।
পুলি বিভিন্ন ধরনের বাসস্থানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, এমনকি অ্যাপার্টমেন্টেও, যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও সঙ্গ পায়। দীর্ঘ সময় একা থাকার চেয়ে সে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে, এবং কাজ না পেলে একঘেয়ে বা বেশি ঘেউ ঘেউ করতে পারে। নিরাপদভাবে বেড়া দেওয়া উঠান এর শক্তির জন্য মানানসই, তবে ঢাকা ও অন্যান্য বাংলাদেশি শহরের প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র গ্রীষ্মে লোমের কারণে একে ছায়া ও পানি ছাড়া বাইরে ফেলে রাখা ঠিক নয়।
পুলির জন্য বয়স ও কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে সম্পূর্ণ, সুষম খাবার পরিমাপ করে খাওয়ানো উচিত, যাতে সে ছিপছিপে থাকে।
পুলির বয়স, আকার এবং কার্যকলাপের সঙ্গে মানানসই সম্পূর্ণ, সুষম কুকুরের খাবারে ভালো ফল পাওয়া যায়। যেহেতু এই জাত সক্রিয়, তার খাবারে প্রতিদিনের কাজ ও খেলার জন্য যথেষ্ট শক্তি থাকা দরকার, একই সঙ্গে কুকুরটিকে ছিপছিপে, ক্রীড়াবিদসুলভ ওজনে রাখতে হবে। কর্ড ওজন বৃদ্ধি লুকিয়ে রাখতে পারে, তাই শুধু চেহারা দেখে বিচার না করে মালিকদের নিয়মিত পাঁজর ও কোমর হাত দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।
সবসময় তাজা পানি সহজলভ্য রাখা উচিত। নিচের পরিমাণগুলো সাধারণ নির্দেশনা মাত্র; প্রকৃত পরিমাণ প্রতিটি কুকুরভেদে আলাদা হয়, আর একজন পশুচিকিৎসক সঠিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে পারেন।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | বেলা |
|---|---|---|
| ছানা (২ থেকে ৬ মাস) | ছানার খাবারের লেবেল অনুযায়ী, ওজন অনুসারে | ৩ থেকে ৪ |
| কিশোর (৬ থেকে ১২ মাস) | লেবেল অনুযায়ী, ওজন অনুসারে | ২ থেকে ৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | মানসম্পন্ন শুকনো খাবারের প্রায় ১ থেকে দেড় কাপ | ২ |
| প্রবীণ | কম কার্যকলাপ অনুযায়ী সমন্বয় করা | ২ |
দৈনিক ক্যালরির একটি ছোট অংশেই ট্রিট সীমাবদ্ধ রাখুন, যাতে খাদ্যতালিকার ভারসাম্য নষ্ট না হয় বা ওজন না বাড়ে। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক খাবার খাওয়া বেশিরভাগ পুলির অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না। জয়েন্ট, লোম বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট যোগ করার আগে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন, কারণ প্রতিটি কুকুরের প্রয়োজন আলাদা।
পুলি সাধারণত একটি সুস্থ-সবল জাত, যার স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ১২ থেকে ১৬ বছর, তবে কিছু বংশগত সমস্যার জন্য স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।
পুলি সাধারণত একটি সুস্থ-সবল, দীর্ঘজীবী জাত। ভালো যত্ন, নিয়মিত পশুচিকিৎসা এবং সুষম খাদ্যের মাধ্যমে অনেক পুলি ১২ থেকে ১৬ বছর বেঁচে থাকে। দায়িত্বশীল ব্রিডাররা প্রজননের কুকুরদের পরিচিত বংশগত সমস্যার জন্য স্ক্রিন করেন, যা পরবর্তী প্রজন্মে এসব সমস্যা ছড়ানোর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ছানা খোঁজার সময় বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব বা এফসিআই-সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল ব্রিডারের সন্ধান করা ভালো।
অনেক জাতের মতোই পুলিও কিছু পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। লক্ষণগুলো জানা থাকলে মালিকেরা দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারেন।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হিপ ডিসপ্লেসিয়া | শক্ত হয়ে যাওয়া, খোঁড়ানো, লাফানো বা ওপরে ওঠায় অনিচ্ছা | প্রজননের কুকুর স্ক্রিন করে ঝুঁকি কমানো যায় |
| চোখের সমস্যা (প্রগ্রেসিভ রেটিনাল অ্যাট্রফি ও ছানিসহ) | ঘোলাটে ভাব, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, জিনিসে ধাক্কা লাগা | প্রজননের কুকুরের চোখ পরীক্ষা করানো উচিত |
| প্যাটেলার লাক্সেশন | পা ফসকানো, মাঝেমধ্যে পেছনের পায়ে খোঁড়ানো | ছোট, ক্ষিপ্র জাতের মধ্যে বেশি দেখা যায় |
| কানের সংক্রমণ | মাথা ঝাঁকানো, দুর্গন্ধ, কান চুলকানো | কানের কাছের কর্ড আর্দ্রতা আটকে রাখতে পারে, যা বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় আরও সহজে ঘটে |
বুদ্ধিমান, স্বাধীনচেতা পুলি দ্রুত শেখে এবং ধারাবাহিক, পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণে সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়, যা তার মনকে ব্যস্ত রাখে।
পুলি অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং দ্রুত শেখে, কিন্তু তার স্বাধীনচেতা, সমস্যা সমাধানকারী স্বভাবের কারণে শুধু বলা হয়েছে বলেই সে সবসময় মেনে চলে না। যে মালিক ধারাবাহিক, ধৈর্যশীল এবং প্রশিক্ষণ সেশনকে আকর্ষণীয় রাখতে পারেন, তার সঙ্গে এই জাত সবচেয়ে ভালো কাজ করে। বারবার একই অনুশীলন করালে এই জাত একঘেয়ে বোধ করে, তাই ছোট ছোট, বৈচিত্র্যময় সেশন তার মনোযোগ অনেক ভালোভাবে ধরে রাখে।
শুরুর দিকের সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলায় পুলিকে মানুষ, নানা জায়গা, শব্দ এবং অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে আনলে অপরিচিতদের প্রতি তার স্বাভাবিক সতর্কতা কিছুটা কমে এবং অযথা ঘেউ ঘেউ করা কমে। যেহেতু এই জাত সজাগ ও শব্দপ্রবণ, তাই শুরু থেকেই একটি নির্ভরযোগ্য চুপ থাকার সংকেত শেখানো মূল্যবান।
পুলির প্রজনন স্বাভাবিক কুকুরের প্রজনন চক্র অনুসরণ করে, যেখানে দায়িত্বশীল ব্রিডাররা বাবা-মা উভয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং ছোট থেকে মাঝারি আকারের লিটার তৈরি করেন।
পুলির প্রজনন দায়িত্বশীলভাবে করা উচিত, লক্ষ্য থাকা উচিত সুস্থ ছানা ও সুস্থির স্বভাব। স্ত্রী কুকুর সাধারণত প্রথম বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্বতা লাভ করে, তবে দায়িত্বশীল ব্রিডাররা প্রজননের আগে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না মাদি কুকুর শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হয়, যা প্রায়ই প্রায় দুই বছর বয়সে ঘটে। কোনো মিলনের আগে বাবা ও মা উভয়েরই হিপ ও চোখের মূল্যায়নসহ এই জাতের জন্য সুপারিশকৃত স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং পাস করা উচিত।
মিলন স্বাভাবিক কুকুরের চক্র অনুসরণ করে। কুকুরের গর্ভধারণকাল গড়ে প্রায় ৬৩ দিন। পুলির লিটার সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে মাদি কুকুরের জন্য শান্ত, পরিষ্কার জায়গা দরকার, এবং যেকোনো জটিলতায় পরামর্শের জন্য একজন পশুচিকিৎসক হাতের কাছে থাকা উচিত।
ছানা বড় করার কাজ মাদি কুকুর ও ব্রিডারের যৌথ দায়িত্ব। ছানারা জন্মায় নরম লোম নিয়ে, তখনও তা কর্ডে পরিণত হয়নি; বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কর্ড পরে তৈরি হতে শুরু করে যখন কুকুরটি বড় হতে থাকে। শুরুর দিকের সামাজিকীকরণ, কোমল হ্যান্ডলিং এবং সাধারণ ঘরোয়া জীবনের সংস্পর্শ ছানাদের সুস্থির, আত্মবিশ্বাসী প্রাপ্তবয়স্কে পরিণত হতে সাহায্য করে। নতুন বাড়িতে যাওয়ার মতো বয়স না হওয়া পর্যন্ত, সাধারণত প্রায় আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত, ছানাদের মাদি কুকুর ও লিটারমেটদের সঙ্গে থাকা উচিত।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রথম বছরের মধ্যে |
| প্রজননের জন্য প্রস্তাবিত বয়স (স্ত্রী) | প্রায় ২ বছর |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| সাধারণ লিটারের আকার | ছোট থেকে মাঝারি |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ |
| নতুন বাড়িতে যাওয়ার বয়স | প্রায় ৮ সপ্তাহ |
United Pet Club-এ আপনার পুলি জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
যে কুকুরের রেকর্ড আছে, সে এক ফোনেই ঘরে ফেরে। আপনার পুলি জাতের কুকুরের রেকর্ডটা বিনামূল্যে গড়ে নিন: ছবি, তথ্য আর আপনার নম্বর, এমন প্রোফাইলে যা সারা জীবন টিকে থাকে আর কখনো এক টাকাও চায় না। নিবন্ধন একবারের কাজ।
চিকিৎসক চিপ বসিয়ে দেন, কিন্তু নম্বরটা নিবন্ধন কেউ আপনার হয়ে করে না, আর অনিবন্ধিত চিপ কারও পরিচয় বলে না। মাইক্রোচিপ নিবন্ধন করুন, আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে: যেকোনো ব্র্যান্ডের চিপ গ্রহণযোগ্য, ঠিকানা বদলালে হালনাগাদ ফ্রি, আর রেকর্ড দেশে-বিদেশে সব সময় খোঁজা যায়। বিদেশ ভ্রমণে প্রাণিসম্পদের Animal Quarantine কাগজপত্রের পাশে এই রেকর্ডই আপনার কুকুরের পরিচয় বহন করে। বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, পুলি জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
পুলি সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নগুলোতে থাকে এর আকার, স্বভাব, গ্রুমিংয়ের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা এবং প্রাপ্যতা।
পুলি একটি মাঝারি আকারের কুকুর। প্রাপ্তবয়স্ক পুলি সাধারণত কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ইঞ্চি (৪১ থেকে ৪৩ সেমি) লম্বা হয় এবং ওজনে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ পাউন্ড (১১ থেকে ১৬ কেজি) হয়।
এটি অনুগত, বুদ্ধিমান, প্রাণবন্ত এবং সজাগ। পুলি নিজের পরিবারের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে পড়ে এবং বাড়িতে স্নেহশীল আচরণ করে, তবে অপরিচিতদের সঙ্গে সংযত ও সতর্ক থাকে।
মূল চ্যালেঞ্জ এর কর্ডেড লোম, যা নিয়মিত হাতে আলাদা করা ও যত্নসহকারে শুকানো দরকার। এই জাতের প্রতিদিনের ব্যায়াম ও মানসিক কাজও প্রয়োজন। এই পরিশ্রমটুকু করলে এটি অন্যথায় একটি সুস্থ-সবল, সামলানো সহজ কুকুর।
ভালো যত্ন, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত পশুচিকিৎসার মাধ্যমে পুলি সাধারণত ১২ থেকে ১৬ বছর বাঁচে।
হ্যাঁ, এমন সক্রিয় পরিবারের জন্য যারা এর ব্যায়াম, প্রশিক্ষণ এবং গ্রুমিংয়ের চাহিদা মেটাতে পারবে। এটি বয়স্ক শিশু এবং যেসব পোষা প্রাণীর সঙ্গে বড় হয়েছে তাদের সঙ্গে ভালো মেলে, এবং কাছের সাহচর্যে সবচেয়ে ভালো থাকে।
বাড়িতে খুব সামান্যই লোম ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ নিয়মে ঝরে পড়ার বদলে লোম কর্ডে পরিণত হয়ে ঝরে যাওয়া লোম আটকে রাখে, তবে এর মানে হলো কর্ডের নিয়মিত যত্ন দরকার।
পুলি তুলনামূলকভাবে বিরল একটি জাত। আগ্রহী মালিকদের একজন দায়িত্বশীল ব্রিডারের কাছ থেকে লিটারের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে, আর এই জাতের রেসকিউ কুকুর কালেভদ্রেই দেখা যায়।