
পেকিনিজ একটি মর্যাদাপূর্ণ, সিংহহৃদয় সঙ্গী, যা তার রাজকীয় ভঙ্গি এবং মানুষের প্রতি নিবেদিত আনুগত্যের জন্য পরিচিত।
পেকিনিজ-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: পেকিনিজ-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: পেকিনিজ-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
A few of the পেকিনিজ profiles members have added to United Pet Club.
পেকিনিজ চীনের একটি ছোট আকারের সঙ্গী কুকুর, ওজন সর্বোচ্চ প্রায় ৬.৪ কেজি, ঘন লম্বা কোট, চ্যাপ্টা মুখ এবং গম্ভীর, অনুগত স্বভাবের জন্য পরিচিত।
পেকিনিজ একটি ছোট আকারের টয় প্রজাতির কুকুর, যার উৎপত্তি চীনের রাজদরবারে। বহু শতাব্দী ধরে এই কুকুর রাজপ্রাসাদে সঙ্গী হিসেবে পালিত হয়েছে, আর তার চলাফেরায় আজও এক ধরনের আত্মবিশ্বাসী, রাজকীয় ভাব লক্ষ্য করা যায়। আকারে ছোট হলেও শরীর বেশ ভারী ও নিরেট, বুক চওড়া, পা খাটো, আর মুখের চারপাশে ঘন লোমের আবরণ প্রায় সিংহের কেশরের মতো দেখায়।
আকারে ছোট হলেও পেকিনিজ সাহসী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। এরা সাধারণত একজন বা দুজন মানুষের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, আর অপরিচিতদের সঙ্গে থাকে কিছুটা সংযত। পরিবারের প্রতি স্নেহশীল হলেও এই কুকুরের নিজস্ব একটা স্বাধীন মনোভাব থাকে, কখন আদর নেবে তা প্রায়ই নিজেই ঠিক করে।
এই জাত মূলত ঘরের ভেতরে থাকার উপযোগী। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম আর নিয়মিত রূপচর্চা দরকার হয়, আর চ্যাপ্টা মুখের কারণে গরম আবহাওয়ায় এরা সহজেই কষ্ট পায়। ঢাকার মতো গরম ও আর্দ্র শহরে শান্ত পরিবার এবং যারা কম সক্রিয় কিন্তু অনুগত সঙ্গী চান, তাদের জন্য পেকিনিজ ভালো মানানসই।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | চীন |
| আকার | ছোট (সর্বোচ্চ প্রায় ৬.৪ কেজি / ১৪ পাউন্ড) |
| আয়ুষ্কাল | ১২-১৪ বছর |
| শ্রেণি / ভূমিকা | টয় / সঙ্গী কুকুর |
| যাদের সঙ্গে ভালো মানায় | প্রাপ্তবয়স্ক, বড় শিশু, শান্ত পরিবার |
যারা ফ্ল্যাটে থাকেন, অবসরপ্রাপ্ত বা বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য পেকিনিজ চমৎকার সঙ্গী। খুব সক্রিয় পরিবার বা দুরন্ত ছোট শিশু আছে এমন বাড়ির জন্য এই জাত মানানসই নয়, আর লম্বা কোটের যত্নে সপ্তাহে একাধিকবার ব্রাশ করার সময় বের করতে হবে।
পেকিনিজের বিকাশ ঘটেছে চীনের রাজদরবারে শত শত বছর ধরে, আর উনিশ শতকের মাঝামাঝি বিদেশি সেনারা বেইজিং থেকে কয়েকটি কুকুর নিয়ে যাওয়ার পর এই জাত পশ্চিমে পৌঁছায়।
পেকিনিজ পৃথিবীর প্রাচীনতম সঙ্গী কুকুরদের একটি, যার শিকড় চীনের ইতিহাসে হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। এই কুকুর রাজদরবারের ভেতরেই পালিত হতো এবং চীনা রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। সিংহের মতো চেহারার কারণে বৌদ্ধ প্রতীকী অর্থও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, আর দীর্ঘদিন রাজপ্রাসাদের বাইরে এই কুকুর পোষা নিষিদ্ধ ছিল।
শত শত বছর ধরে এই জাত চীনের বাইরে প্রায় অজানাই থেকে যায়। রাজদরবারের রুচি অনুযায়ী একে ছোট আকার আর চ্যাপ্টা মুখের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর একে কাজের কুকুর নয়, বরং প্রাসাদের মূল্যবান পোষ্য হিসেবেই দেখা হতো।
১৮৬০ সালে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বেইজিংয়ের রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলে পেকিনিজ প্রথম ইউরোপে পৌঁছায়। কয়েকটি কুকুরকে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া হয়, আর একটিকে উপহার দেওয়া হয় রানি ভিক্টোরিয়াকে। এই কুকুরগুলো থেকেই পশ্চিমে পেকিনিজ প্রজননের সূচনা হয়।
উনিশ শতকের শেষ দিক এবং বিশ শতকের শুরুতে ব্রিটেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে এই জাত জনপ্রিয়তা পায়। বিশ শতকের গোড়ার দিকে বড় বড় কেনেল ক্লাব এই জাতকে স্বীকৃতি দেয়, আর তখন থেকেই পেকিনিজ একটি প্রিয় টয় সঙ্গী কুকুর হিসেবে টিকে আছে।
পেকিনিজ ছোট, নিরেট গড়নের কুকুর, চ্যাপ্টা মুখ, বড় কালো চোখ, লম্বা দ্বিস্তর কোট আর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গড়িয়ে চলার ভঙ্গি নিয়ে পরিচিত।
পেকিনিজের শরীর নিরেট, নাশপাতির আকৃতির, সামনের দিকে পেছনের চেয়ে বেশি ভারী। মাথা কানের মাঝখানে চওড়া ও চ্যাপ্টা, মুখ খাটো ও কুঁচকানো, নাক কালো। বড়, কালো, গোলাকার চোখ দুটো বেশ ফাঁকা ফাঁকা বসানো, যা এই জাতকে এক খোলামেলা অভিব্যক্তি দেয়। কান হৃদয়াকৃতির, মাথার কাছে লেপ্টে থাকে, আর তাতে লম্বা লোমের ঝালর থাকে।
শরীর মাটির কাছাকাছি, উচ্চতার চেয়ে সামান্য লম্বা। গঠনের কারণে চলার ভঙ্গিতে একধরনের গড়িয়ে চলা, ধীরস্থির ছন্দ থাকে। লেজ উঁচুতে বসানো এবং পিঠের ওপর বাঁকিয়ে রাখা হয়, তাতেও লম্বা লোমের ঝালর।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | কাঁধ পর্যন্ত ১৫-২৩ সেমি (৬-৯ ইঞ্চি) |
| ওজন | সর্বোচ্চ ৬.৪ কেজি (১৪ পাউন্ড) |
| কোট | ঘাড় ও কাঁধের চারপাশে ঘন কেশরযুক্ত লম্বা, সোজা দ্বিস্তর কোট |
| রং | লাল, ফন, ক্রিম, কালো, কালো-তামাটে এবং মিশ্র রংসহ প্রায় সব রং ও প্যাটার্ন |
| চোখ | বড়, গোলাকার, কালো, ফাঁকা ফাঁকা বসানো |
বাইরের কোট লম্বা ও খসখসে, এর নিচে থাকে নরম ও ঘন আন্ডারকোট। কান, পা, লেজ ও পায়ের পাতায় লোমের ঝালর দেখা যায়, আর ঘাড়ের চারপাশে থাকে ঘন কেশর। প্রায় সব রং গ্রহণযোগ্য, তবে লাল, ফন আর ক্রিম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হালকা রঙের কোটে প্রায়ই মুখে গাঢ় রঙের মুখোশের মতো ছাপ থাকে।
পেকিনিজ পরিবারের প্রতি স্নেহশীল ও অনুগত, তবে স্বাধীনচেতা, অপরিচিতদের সঙ্গে সংযত এবং আত্মবিশ্বাসী মাত্রায় জেদিও হতে পারে।
পেকিনিজ নিজের পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে, আর চেনা মানুষদের প্রতি অনুগত ও স্নেহশীল থাকে। সাধারণত একজন প্রিয় মানুষকে বেছে নেয় এবং ঘরে ঘরে তার পিছু নেয়। তবে সেই সঙ্গে একটা স্বাধীন স্বভাবও থাকে, একা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিতেও এর আপত্তি নেই।
অপরিচিতদের সঙ্গে এই কুকুর থাকে সতর্ক ও সংযত। অতিথি এলে প্রায়ই ঘেউ ঘেউ করে জানান দেয়, তাই আকারে ছোট হলেও এটি বেশ সজাগ একটি পাহারাদার। ছোট বয়স থেকে সামাজিকীকরণ করালে নতুন মানুষ ও পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে শেখে।
শিশুদের সঙ্গে পেকিনিজ সবচেয়ে ভালো মানায় যদি তারা বয়সে বড় ও কোমল স্বভাবের হয় এবং বুঝতে পারে যে জোরে ধরাধরিতে ছোট এই কুকুর ব্যথা পেতে পারে। খেপানো সবসময় সহ্য করে না। অন্য পোষ্যের সঙ্গেও এটি বাছবিচার করে চলে, আকারে ছোট হলেও নিজের জায়গা ছাড়তে চায় না, তাই পরিচয় করানোর সময় ধৈর্য ধরা জরুরি। এই কুকুরের আত্মবিশ্বাস ও নিজের মতো চলার প্রবণতা প্রশিক্ষণের সময় জেদ হিসেবে ধরা দিতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহ | ৪ |
| শক্তি/কর্মচঞ্চলতা | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ২ |
| ঘেউ ঘেউ করার প্রবণতা | ৩ |
| লোম ঝরা | ৪ |
পেকিনিজের ঘন ঘন ব্রাশিং, হালকা দৈনিক ব্যায়াম এবং ঠান্ডা ঘরোয়া পরিবেশ দরকার, কারণ চ্যাপ্টা মুখের কারণে এরা গরমে সহজে কষ্ট পায়।
জট আর প্যাঁচ এড়াতে লম্বা দ্বিস্তর কোটের নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন।
ঘরের ভেতরের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই পেকিনিজের ব্যায়ামের চাহিদা খুব বেশি নয়।
পেকিনিজ মূলত ঘরের ভেতরে থাকার জন্য তৈরি, আর ঠান্ডা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ঘরেই সবচেয়ে ভালো থাকে। চ্যাপ্টা মুখের কারণে হাঁপাতে হাঁপাতে শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা সীমিত, তাই দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ছোট ফ্ল্যাট বা সীমিত জায়গার সঙ্গেও এটি সহজে মানিয়ে নেয় এবং আলাদা উঠানের প্রয়োজন হয় না।
পেকিনিজের জন্য দিনে দুই বেলায় ভাগ করা মানসম্পন্ন ছোট জাতের খাবার এবং ওজন বৃদ্ধি ঠেকাতে সতর্ক পরিমাপ প্রয়োজন।
পেকিনিজের জন্য ছোট বা টয় জাতের কুকুরের উপযোগী সম্পূর্ণ ও সুষম খাবার উপযুক্ত। শরীর নিরেট আর কর্মচঞ্চলতা কম বলে ওজন সহজেই বেড়ে যায়, তাই খাবার মেপে দেওয়া উচিত, সবসময় বাটি ভরে রাখা ঠিক নয়। বাড়তি ওজন গাঁটে চাপ ফেলে এবং চ্যাপ্টা মুখের এই কুকুরের শ্বাসকষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
ছোট আকারের কিবল বা সহজে মুখে তোলা যায় এমন খাবার এই খাটো মুখের জন্য মানানসই। সবসময় পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
| জীবনের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বেলা সংখ্যা |
|---|---|---|
| পিল্লা (২-৬ মাস) | পণ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাগ করে | ৩-৪ |
| পিল্লা (৬-১২ মাস) | পণ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাগ করে | ২-৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | প্রায় আধা থেকে ১ কাপ ছোট জাতের খাবার | ২ |
| বয়স্ক কুকুর | কম সক্রিয়তা অনুযায়ী সমন্বয় করা | ২ |
ওজন বাড়া ঠেকাতে দৈনিক ক্যালরির খুব সামান্য অংশই ট্রিট থেকে আসা উচিত। সম্পূর্ণ সুষম খাবার খাওয়া বেশিরভাগ পেকিনিজের আলাদা সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না, তবে পশু চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গাঁট বা কোটের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্ট সুপারিশ করতে পারেন। নতুন কোনো খাবার দিতে চাইলে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করুন, নয়তো হজমে সমস্যা হতে পারে।
পেকিনিজ সাধারণত ১২-১৪ বছর বাঁচে, তবে চ্যাপ্টা মুখ ও লম্বা, নিচু শরীরের কারণে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে।
পেকিনিজ সাধারণত ১২ থেকে ১৪ বছর বাঁচে। আকারের তুলনায় বেশ শক্তসমর্থ জাত হলেও এর গঠনের কারণে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। চ্যাপ্টা মুখের কারণে ব্র্যাকিসেফালিক শ্বাসনালির সমস্যা হয়, আর উঁচু চোখ ও লম্বা পিঠও নিজস্ব ঝুঁকি তৈরি করে। দায়িত্বশীল প্রজনন আর সঠিক ওজন বজায় রাখলে এসব সমস্যার তীব্রতা অনেকটাই কমে।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ব্র্যাকিসেফালিক শ্বাসনালি সিনড্রোম | শোরগোল করে শ্বাস নেওয়া, নাক ডাকা, গরম ও ব্যায়ামে অসহিষ্ণুতা | চ্যাপ্টা মুখের সঙ্গে যুক্ত; গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে |
| চোখের সমস্যা | পানি পড়া, ঘোলাটে ভাব, ক্ষত, জ্বালাপোড়া | উঁচু চোখ সহজেই আঘাত পায় ও শুকিয়ে যায় |
| ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক ডিজিজ | পিঠে ব্যথা, নড়তে অনীহা, পায়ে দুর্বলতা | লম্বা, নিচু পিঠ ঝুঁকিপূর্ণ; ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন |
| প্যাটেলার লাক্সেশন | পা টেনে হাঁটা, মাঝেমধ্যে খোঁড়ানো | হাঁটুর হাড় সরে যাওয়া; টয় জাতে সাধারণ |
| ত্বকের ভাঁজে চর্মরোগ | মুখের ভাঁজে লালচে ভাব বা দুর্গন্ধ | ভাঁজগুলো পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন |
পেকিনিজ বুদ্ধিমান কিন্তু স্বাধীনচেতা ও জেদি, তাই ছোট, ধৈর্যশীল, পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শুরু থেকে সামাজিকীকরণে সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়।
পেকিনিজ বুদ্ধিমান কুকুর, তবে তার মধ্যে একটা শক্তিশালী স্বাধীন প্রবৃত্তি কাজ করে। নির্দেশ ভালোই শিখতে পারে, কিন্তু প্রায়ই আগে ভেবে নেয় সে মানবে কিনা, যা দেখতে জেদের মতো লাগে। কঠোর পদ্ধতিতে এই জাত গুটিয়ে যায় বা আরও একগুঁয়ে হয়ে ওঠে। শান্ত, সামঞ্জস্যপূর্ণ, পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণে ফল অনেক ভালো হয়। বাড়িতে অভ্যস্ত করাতে ধৈর্য লাগে, আর ক্রেট ট্রেনিং প্রায়ই সহায়ক হয়।
ছোট বয়সে সামাজিকীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মানুষ, শব্দ ও পরিস্থিতির সঙ্গে পিল্লাকে পরিচয় করালে পরে অতিরিক্ত সতর্কতা ও ঘেউ ঘেউ করার প্রবণতা কমে।
১. নতুন মানুষ, জায়গা ও আলতো স্পর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে সামাজিকীকরণ শুরু করুন ২. মনোযোগ ধরে রাখতে সেশন পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন ৩. সঠিক আচরণ বোঝাতে খাবারের পুরস্কার ও প্রশংসা ব্যবহার করুন ৪. নাম শোনার সাড়া, বসা এবং কাছে আসার মতো মূল নির্দেশ শেখান ৫. বাড়ির সবাই একই নিয়ম মেনে চলুন ৬. শাস্তি না দিয়ে শান্তভাবে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে ঘেউ ঘেউ সামলান
পেকিনিজের ছোট আকার ও চ্যাপ্টা মুখের কারণে প্রজননে বাড়তি সতর্কতা দরকার, লিটার ছোট হয় আর প্রসবের সময় প্রায়ই পশু চিকিৎসকের সহায়তা লাগে।
পেকিনিজের প্রজননে অভিজ্ঞতা ও পশু চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। স্ত্রী কুকুর প্রথম বছরেই শারীরিকভাবে পরিপক্ব হতে শুরু করে, তবে দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা বাচ্চা দেওয়ার আগে ততক্ষণ অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না মাদি কুকুর পুরোপুরি পরিণত হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই জাতের শরীরের গঠনের কারণে স্বাভাবিক মিলন কঠিন হতে পারে, আর মায়ের আকারের তুলনায় বাচ্চার মাথা বড় হওয়ায় প্রসব কষ্টকর হতে পারে।
গর্ভধারণকাল প্রায় ৬৩ দিন। লিটার সাধারণত ছোট হয়, এক থেকে চারটি পিল্লা। কঠিন প্রসবের ঝুঁকি থাকায় বেশিরভাগ পেকিনিজের প্রসব পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করানো হয়, আর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারও অস্বাভাবিক নয়। সদ্যোজাত পিল্লা খুব ছোট থাকে, তাদের প্রথম কয়েক সপ্তাহ উষ্ণ, পরিষ্কার পরিবেশ ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার।
দায়িত্বশীল প্রজননে বাবা-মায়ের চোখ, হাঁটু ও শ্বাসকষ্ট পরীক্ষা করা এবং সবচেয়ে চরম চ্যাপ্টা মুখের বৈশিষ্ট্য এড়ানো অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো জাতটির স্বাস্থ্য আরও খারাপ করে। পিল্লাদের অন্তত আট সপ্তাহ পর্যন্ত মা ও লিটারের সঙ্গে রাখা উচিত এবং নতুন বাড়িতে যাওয়ার আগে আলতো সামাজিকীকরণ শুরু করা উচিত।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| মাদি কুকুরের পরিপক্বতা | প্রায় ৬-১২ মাস (প্রজনন পরে করা উচিত) |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| লিটারের আকার | ১-৪টি পিল্লা |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬-৮ সপ্তাহ |
| প্রসব সংক্রান্ত মন্তব্য | কঠিন প্রসব সাধারণ; প্রায়ই সিজারিয়ান লাগে |
United Pet Club-এ আপনার পেকিনিজ জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
পেকিনিজ জাতের কুকুরের নাম, জন্মতারিখ আর একটা পরিষ্কার ছবি লিখুন, নিজের ফোন নম্বর যোগ করে সংরক্ষণ করুন। ব্যস, এটুকুই; আজও বিনামূল্যে, চিরকালও। কুকুর নিবন্ধন চিপ থাকলেও চলে, না থাকলেও।
পেকিনিজ জাতের কুকুরের চামড়ার নিচের পনেরোটা সংখ্যা তখনই আপনার কাছে পৌঁছায় যখন কোনো খাতা সেটা বলে। United Pet Club-কে বিনামূল্যে বলতে দিন: নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরায় না, সব ব্র্যান্ড চলে, আর তথ্য বদলানো সব সময় ফ্রি। আগে চিপ নিবন্ধন, পরে অ্যাকাউন্ট।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, পেকিনিজ জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
পেকিনিজের আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল এবং সঙ্গী কুকুর হিসেবে উপযুক্ততা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন।
পেকিনিজ একটি ছোট টয় জাতের কুকুর। কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১৫-২৩ সেমি (৬-৯ ইঞ্চি) এবং ওজন সর্বোচ্চ প্রায় ৬.৪ কেজি (১৪ পাউন্ড), গঠন নিরেট বলে আকারের তুলনায় বেশ ভারী মনে হয়।
পেকিনিজ পরিবারের প্রতি স্নেহশীল ও অনুগত, তবে অপরিচিতদের সঙ্গে থাকে স্বাধীনচেতা ও সংযত। আত্মবিশ্বাসী ও গম্ভীর স্বভাবের এই কুকুরের নিজের মতো চলার প্রবণতা প্রশিক্ষণের সময় জেদ হিসেবে ধরা দিতে পারে।
যত্নের চাহিদা মাঝারি থেকে বেশ বেশি। লম্বা দ্বিস্তর কোট সপ্তাহে কয়েকবার ব্রাশ করতে হয়, মুখের ভাঁজ ও চোখ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হয়, আর চ্যাপ্টা মুখের কারণে কুকুরকে ঠান্ডা রাখা এবং গরম থেকে দূরে রাখা জরুরি।
সাধারণ আয়ুষ্কাল ১২ থেকে ১৪ বছর। কুকুরকে সঠিক ওজনে রাখা এবং শ্বাসকষ্ট ও চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া দীর্ঘ ও আরামদায়ক জীবনে সহায়ক হয়।
হ্যাঁ। এই জাতের ব্যায়ামের চাহিদা কম, ছোট জায়গার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেয় এবং ঘরের ভেতরের জীবনযাত্রা পছন্দ করে। ফ্ল্যাটে থাকা মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত এবং শান্ত পরিবারের জন্য এটি ভালো মানায়।
বয়সে বড় ও কোমল স্বভাবের শিশু এবং শান্তভাবে পরিচয় করানো অন্য পোষ্যদের সঙ্গেই এরা সবচেয়ে ভালো মানায়। এরা বাছবিচার করে চলে এবং জোরে ধরাধরি সহ্য করে না, তাই খুব ছোট বা চঞ্চল শিশু আছে এমন বাড়ির জন্য আদর্শ নয়।
হ্যাঁ। ঘন দ্বিস্তর কোট থেকে নিয়মিত লোম ঝরে, আর ঋতু পরিবর্তনের সময় আরও বেশি ঝরে, তাই ছাড়া লোম সামলাতে ও জট এড়াতে নিয়মিত ব্রাশ করা দরকার।