
ল্যাব্রাডর রিট্রিভার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, মিশুক জাত, যা একটি পারিবারিক সঙ্গী এবং নিষ্ঠাবান কর্মঠ কুকুর হিসেবে প্রিয়।
ল্যাব্রাডর রিট্রিভার-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: ল্যাব্রাডর রিট্রিভার-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
তথ্য: ল্যাব্রাডর রিট্রিভার তার নিচের স্তর প্রবল দফায় ছাড়ে।
নিচের স্তর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল দফায় বেরোয়। নিচের স্তরের রেক, বা গোসলের পরে ঠিকমতো বাতাসে শুকানো, রোজকার ব্রাশের চেয়ে অনেক দ্রুত তা সরায়। লোম ছোট করে ফেলা এর শর্টকাট নয়।
A few of the ল্যাব্রাডর রিট্রিভার profiles members have added to United Pet Club.
লাব্রাডর রিট্রিভার কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে আসা একটি মাঝারি থেকে বড় আকারের কুকুর, যা শান্ত স্বভাব, দ্রুত শেখার ক্ষমতা এবং ছোট জলরোধী লোমের জন্য পরিচিত। পূর্ণবয়স্কদের উচ্চতা ৫৫ থেকে ৬২ সেন্টিমিটার এবং আয়ু প্রায় ১১ থেকে ১৩ বছর।
লাব্রাডর রিট্রিভার মাঝারি থেকে বড় আকারের একটি কুকুর, যার উৎপত্তি কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে। ঠান্ডা পানিতে মাছ ও শিকার তুলে আনার কাজে এই কুকুর প্রথমে ব্যবহৃত হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বহু দেশে এটি সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত জাতগুলোর একটি।
শান্ত স্বভাব, কাজের উদ্যম এবং মানুষের সাথে সহযোগিতার গুণের কারণে লাব্রাডর পরিবারের কুকুর, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সহায়তাকারী কুকুর এবং মাদক বা বিস্ফোরক শনাক্তের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
লোম ছোট ও ঘন, সারা বছর কিছুটা ঝরে এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় বেশি। স্বীকৃত রং তিনটি: কালো, হলুদ এবং চকোলেট।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | নিউফাউন্ডল্যান্ড (বর্তমানে কানাডার অংশ), পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে বিকশিত |
| আকার | মাঝারি থেকে বড়; ২৫ থেকে ৩৬ কেজি |
| আয়ু | প্রায় ১১ থেকে ১৩ বছর |
| দল বা ভূমিকা | স্পোর্টিং বা গানডগ; রিট্রিভার, সহায়তা ও শনাক্তকরণের কাজ |
| কার সাথে মানায় | শিশু, পরিবার, অন্য কুকুর; সাধারণত অপরিচিতদের সাথেও মিশুক |
সক্রিয় পরিবার যারা প্রতিদিন হাঁটানোর সময় দিতে পারবেন, তাদের জন্য লাব্রাডর ভালো পছন্দ। ঢাকার অ্যাপার্টমেন্টে পালা সম্ভব যদি বাইরে হাঁটানোর নিয়মিত ব্যবস্থা থাকে। যারা প্রথমবার কুকুর পালছেন কিন্তু সময় দিতে ইচ্ছুক, তাদের জন্যও এটি উপযুক্ত জাত। কম শক্তিসম্পন্ন বা কম লোম ঝরানো কুকুর যারা চান, অথবা দিনের বড় অংশ বাড়ির বাইরে কাটান, তাদের জন্য এই জাত ততটা মানানসই নয়।
লাব্রাডর রিট্রিভারের পূর্বপুরুষ নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনস ওয়াটার ডগ, যাকে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ জমিদাররা পরিমার্জন করেন। কেনেল ক্লাব ১৯০৩ সালে এবং আমেরিকান কেনেল ক্লাব ১৯১৭ সালে জাতটিকে স্বীকৃতি দেয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে কিছু কুকুর ইংল্যান্ডে নিয়ে যান। আর্ল অব মালমেসবারি ও ডিউক অব বাকক্লুচের মতো জমিদাররা শিকারের রিট্রিভার হিসেবে এই কুকুর প্রতিপালন করতে থাকেন। এই সময়েই 'লাব্রাডর' নামটি প্রচলিত হয়, যদিও কুকুরের মূল উৎস ছিল নিউফাউন্ডল্যান্ড।
মূল গল্পটি শুরু হয়েছিল নিউফাউন্ডল্যান্ডে। সেখানে সেন্ট জনস ডগ নামে পরিচিত কুকুরগুলো আঠারো ও উনিশ শতকে জেলেদের সাথে কাজ করত। ঠান্ডা আটলান্টিক পানিতে মাছ তুলে দেওয়া, জাল টানা ও দড়ি সামলানো ছিল তাদের কাজ।
নিউফাউন্ডল্যান্ডে মেয়ে কুকুরের উপর কর আরোপ এবং কোয়ারেন্টিন নিয়ম কঠোর হওয়ায় ইংল্যান্ডে আমদানি কমে আসে। ফলে ব্রিটিশ লাইনই আধুনিক লাব্রাডরের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাজ্যের কেনেল ক্লাব ১৯০৩ সালে এবং আমেরিকান কেনেল ক্লাব ১৯১৭ সালে লাব্রাডর রিট্রিভারকে নিবন্ধন করে। প্রথম দিকে কালো রং সবচেয়ে সাধারণ ছিল, তবে হলুদ ও চকোলেট রঙের কুকুরের নথিও আদি থেকেই পাওয়া যায়।
লাব্রাডর পেশিবহুল ও ভারসাম্যপূর্ণ গড়নের কুকুর। মাথা চওড়া, লেজ গোড়ায় মোটা ও ঘন লোমে ঢাকা। রং কালো, হলুদ বা চকোলেট। পুরুষের উচ্চতা ৫৭ থেকে ৬২ সেন্টিমিটার, মহিলার ৫৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার।
লাব্রাডরের একটি বিশেষ পরিচয় হলো লেজ, যা গোড়ায় মোটা, গোলাকার এবং ঘন লোমে ঢাকা। একে 'অটার টেইল' বলা হয়। শরীর পেশিবহুল ও ভারসাম্যপূর্ণ, বুক গভীর এবং পিঠ সমান। মাথা চওড়া, কান মাথার পাশ থেকে ঝুলে থাকে। লোম ছোট ও সোজা, ভেতরে নরম আন্ডারকোট থাকে এবং পানি প্রতিরোধ করে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ ৫৭ থেকে ৬২ সেমি; মহিলা ৫৫ থেকে ৬০ সেমি |
| ওজন | পুরুষ ২৯ থেকে ৩৬ কেজি; মহিলা ২৫ থেকে ৩২ কেজি |
| লোম | ছোট, ঘন, সোজা দ্বিস্তরীয় লোম; জলরোধী |
| রং | কালো, হলুদ, চকোলেট |
| চোখ | বাদামি বা হেজেল; শান্ত ও প্রাণবন্ত দৃষ্টি |
তিনটি স্বীকৃত রং হলো কালো, হলুদ ও চকোলেট। হলুদ রং হালকা ক্রিম থেকে লাল-কমলা পর্যন্ত হতে পারে। বুকে ছোট সাদা দাগ অনেক মানদণ্ডে অনুমোদনযোগ্য, তবে পছন্দের নয়। দ্বিস্তরীয় লোমের কারণে বছরে দুবার বেশি ঝরা হয় এবং বাকি সময়েও নিয়মিত কিছুটা ঝরতে থাকে। কিছু বিক্রেতা 'সিলভার' লাব্রাডর বিক্রি করেন, যা চকোলেটের একটি হালকা ছায়া। প্রধান নিবন্ধন সংস্থাগুলো এটিকে আলাদা রং হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
লাব্রাডর বন্ধুত্বপূর্ণ, উৎসাহী এবং মানুষের সাথে মিশতে আগ্রহী। পরিবার, অপরিচিত মানুষ ও অন্য প্রাণীর সাথে সাধারণত ভালো মেলামেশা করে। পর্যাপ্ত ব্যায়াম না পেলে সমস্যামূলক আচরণ দেখা দিতে পারে।
অপরিচিত মানুষকে লাব্রাডর সন্দেহ না করে বরং বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কাছে যায়। ফলে পাহারাদার কুকুর হিসেবে এটি কার্যকর নয়, তবে ঢাকার ব্যস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের মতো জনবহুল পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেয়।
পরিবারের সদস্যদের সাথে এটি আন্তরিক এবং মালিকের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। শিশুদের সাথে সাধারণত ধৈর্যশীল, তবে কুকুরের আকার ও উচ্চ শক্তির কারণে ছোট শিশুদের সাথে খেলার সময় কাছে থাকা দরকার। ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হলে অন্য কুকুর ও বিড়ালের সাথেও সাধারণত মিলে যায়।
জাতটির মুখে কিছু তুলে আনার এবং চিবানোর প্রবণতা তীব্র। পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও মানসিক কাজ না দিলে আসবাব চিবানো বা মাটি খোঁড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত রুটিন ও সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণে ভালো সাড়া দেয়।
| বৈশিষ্ট্য | মূল্যায়ন |
|---|---|
| স্নেহশীলতা | ৫ |
| শক্তি | ৫ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৫ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ৩ |
| লোম ঝরানো | ৪ |
বাংলাদেশের সারা বছরের আর্দ্রতায় লাব্রাডরের কান ও ত্বকের বাড়তি যত্ন দরকার। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়াম এবং সপ্তাহে একবার ব্রাশ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সারা বছরের উচ্চ আর্দ্রতায় এবং বর্ষা মৌসুমে (জুন থেকে অক্টোবর) লাব্রাডরের লোমের নিচে ছত্রাকজনিত বা ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গোসলের পর বা বৃষ্টিতে ভেজার পর লোম ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া দরকার।
লাব্রাডর অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে পারে যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত হাঁটানো ও খেলার সুযোগ থাকে। এই কুকুর একা থাকতে পছন্দ করে না এবং দীর্ঘ সময় একা রাখলে সমস্যামূলক আচরণ দেখা দিতে পারে। গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে খোলা জায়গায় ছেড়ে দিলে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই বেষ্টিত এলাকায় রাখা ভালো। রাস্তার কুকুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
লাব্রাডরকে বয়স ও কার্যকলাপ অনুযায়ী সম্পূর্ণ খাবার পরিমাণ মেপে দিতে হবে। পূর্ণবয়স্কদের জন্য সাধারণত দিনে আড়াই থেকে তিন কাপ শুকনো খাবার দুই বেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়।
লাব্রাডর সহজেই বেশি খেয়ে ফেলে এবং ওজন বাড়ে, তাই ইচ্ছেমতো খেতে না দিয়ে খাবার মেপে দেওয়া জরুরি। কুকুরের বয়স, ওজন ও দৈনিক কার্যকলাপ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ও সুষম ডগ ফুড বেছে নিন। খাবারের প্যাকেটে দেওয়া পরিমাণ শুরুর বিন্দু হিসেবে নিন এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সামঞ্জস্য করুন। সবসময় তাজা পানির ব্যবস্থা রাখুন।
| জীবনের পর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | বেলার সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাচ্চা (২ থেকে ৬ মাস) | প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ | ৩ থেকে ৪ বেলা |
| বাচ্চা (৬ থেকে ১২ মাস) | প্রায় ২.৫ থেকে ৩.৫ কাপ | ২ থেকে ৩ বেলা |
| পূর্ণবয়স্ক | প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কাপ | ২ বেলা |
| বয়স্ক বা কম সক্রিয় | প্রায় ২ থেকে ২.৫ কাপ | ২ বেলা |
ট্রিট দৈনিক ক্যালরির ১০ শতাংশের বেশি না দেওয়াই ভালো এবং ট্রিট দিলে সেই পরিমাণ মূল খাবার থেকে বাদ দিতে হবে। অনেকে প্রশিক্ষণে পুরস্কার হিসেবে মাপা কিবলের একটি অংশ ব্যবহার করেন। জয়েন্ট সাপোর্ট বা মাছের তেল মাঝেমধ্যে দেওয়া হয়, তবে সম্পূর্ণ ডগ ফুড থেকেই সাধারণত সুস্থ কুকুরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লাব্রাডরের আয়ু সাধারণত ১১ থেকে ১৩ বছর। হিপ ও এলবো ডিসপ্লাসিয়া, স্থূলতা এবং কিছু বংশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে জলাতঙ্কের টিকা হালনাগাদ রাখা বিশেষভাবে জরুরি।
লাব্রাডর সাধারণত সুস্থ থাকে এবং আয়ু প্রায় ১১ থেকে ১৩ বছর। ওজন বেড়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক সমস্যা, কারণ স্থূলতা জয়েন্টের সমস্যা বাড়ায় এবং আয়ু কমায়। দায়িত্বশীল ব্রিডাররা বংশজাত সমস্যার জন্য বাবা-মা কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
বাংলাদেশে পশু চিকিৎসা সেবা মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত। জলাতঙ্কের টিকা অবশ্যই হালনাগাদ রাখতে হবে, কারণ রাস্তার কুকুরের সাথে যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশের সারা বছরের আর্দ্রতায় ত্বক ও কানের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হিপ ডিসপ্লাসিয়া | খোঁড়ানো, শক্ত ভাব, উঠতে কষ্ট | ব্রিডিং কুকুরে হিপ স্কোরিং পরীক্ষা করা হয় |
| এলবো ডিসপ্লাসিয়া | সামনের পা খোঁড়ানো, ব্যায়ামে অনীহা | বংশগত; স্ক্রিনিং বাঞ্ছনীয় |
| স্থূলতা | অতিরিক্ত ওজন, দ্রুত ক্লান্তি | খাবার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এড়ানো যায় |
| প্রগতিশীল রেটিনাল অ্যাট্রফি | রাতে কম দেখা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া | বংশগত; ডিএনএ পরীক্ষা পাওয়া যায় |
| ব্যায়াম-প্ররোচিত কোল্যাপস | তীব্র কার্যকলাপের পর দুর্বলতা বা পড়ে যাওয়া | পরিচিত জিনের সাথে সম্পর্কিত; ডিএনএ পরীক্ষা আছে |
| কানের সংক্রমণ | মাথা ঝাঁকানো, দুর্গন্ধ, চুলকানো | ঝুলন্ত কান আর্দ্রতা আটকায়; নিয়মিত পরিষ্কার সাহায্য করে |
লাব্রাডর বুদ্ধিমান, খাবারে উৎসাহী এবং প্রশিক্ষণে সহযোগিতামূলক, তাই শেখানো তুলনামূলক সহজ। শুরু থেকে সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং পুরস্কারভিত্তিক পদ্ধতি সেরা ফল দেয়।
গাইড ডগ ও সনাক্তকারী কুকুর হিসেবে লাব্রাডরের ব্যাপক ব্যবহারের পেছনে মূল কারণ হলো এর দ্রুত শেখার ক্ষমতা ও মানুষের সাথে কাজ করার আগ্রহ। খাবার, খেলনা বা প্রশংসার মাধ্যমে পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণে সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ শক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং মুখে জিনিস তুলে নেওয়ার অভ্যাস ম্যানেজ করা। সেশন ছোট ও ধারাবাহিক রাখুন এবং প্রথম থেকেই শুরু করুন।
লাব্রাডর সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাসে যৌন পরিপক্কতায় পৌঁছায়, তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রজনন করানো উচিত। গর্ভকাল প্রায় ৬৩ দিন এবং প্রতি বারে গড়ে ৬ থেকে ৮টি বাচ্চা হয়।
মেয়ে লাব্রাডরের প্রথম গরম আসে সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে। তবে শারীরিক পরিপক্কতা এবং হিপ, এলবো, চোখ ও জেনেটিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই দায়িত্বশীল প্রজনন করানো উচিত। বছরে প্রায় দুবার গরম আসে।
গর্ভকাল প্রায় ৬৩ দিন। সাধারণত ৬ থেকে ৮টি বাচ্চা হয়, তবে কম বা বেশিও হতে পারে। জন্মের সময় বাচ্চারা অন্ধ ও বধির থাকে এবং প্রথম সপ্তাহগুলোতে পুরোপুরি মায়ের উপর নির্ভরশীল।
কয়েক সপ্তাহ দুধ পান করার পর ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ বয়সে শক্ত খাবার শুরু হয়। ব্রিডারের বাড়িতে প্রথম দিকের সামাজিক অভিজ্ঞতা পরবর্তী স্বভাব গঠনে প্রভাব ফেলে। বাচ্চারা সাধারণত ৮ সপ্তাহ বয়সে দুধ ছাড়ানো ও টিকা শুরুর পর নতুন বাড়িতে যায়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| যৌন পরিপক্কতা | প্রায় ৬ থেকে ১২ মাস |
| গরমের চক্র | বছরে প্রায় দুবার |
| গর্ভকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| গড় বাচ্চার সংখ্যা | ৬ থেকে ৮টি |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ |
| নতুন বাড়িতে যাওয়ার বয়স | প্রায় ৮ সপ্তাহ |
United Pet Club-এ আপনার ল্যাব্রাডর রিট্রিভার জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
বাংলাদেশে পোষা কুকুরের কোনো জাতীয় নিবন্ধন খাতা নেই, তাই হারিয়ে যাওয়া ল্যাব্রাডর রিট্রিভার জাতের কুকুর আর আপনার মাঝে সেতু গড়ার দায়িত্বটা আপনারই। United Pet Club-এর বিনামূল্যের প্রোফাইল আপনার ফোন নম্বর ও ঠিকানা কুকুরের পরিচয়ের সঙ্গে বেঁধে রাখে; ঢাকার ক্লিনিকে বা বিদেশের শেল্টারে স্ক্যান হলেই খোঁজ পৌঁছে যায় আপনার কাছে। কুকুর নিবন্ধন করুন।
ল্যাব্রাডর রিট্রিভার জাতের কুকুরের চামড়ার নিচের পনেরোটা সংখ্যা তখনই আপনার কাছে পৌঁছায় যখন কোনো খাতা সেটা বলে। United Pet Club-কে বিনামূল্যে বলতে দিন: নিবন্ধনের মেয়াদ ফুরায় না, সব ব্র্যান্ড চলে, আর তথ্য বদলানো সব সময় ফ্রি। আগে চিপ নিবন্ধন, পরে অ্যাকাউন্ট।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
লাব্রাডর রিট্রিভার সম্পর্কে প্রচলিত প্রশ্নের উত্তর, যেমন আকার, লোম ঝরানো, শিশুদের সাথে মেলামেশা, আয়ু, দাম এবং পালনের কঠিনতা।
পূর্ণবয়স্ক লাব্রাডর কাঁধ পর্যন্ত ৫৫ থেকে ৬২ সেন্টিমিটার উঁচু হয় এবং ওজন ২৫ থেকে ৩৬ কেজি হয়। পুরুষ কুকুর সাধারণত মেয়ে কুকুরের চেয়ে বড় ও ভারী হয়।
হ্যাঁ। ঘন দ্বিস্তরীয় লোম সারা বছর ঝরে এবং বছরে দুবার বেশি পরিমাণে ঝরার মৌসুম আসে। সপ্তাহে একবার এবং বেশি ঝরার সময় আরও বেশিবার ব্রাশ করলে ঘরে লোম নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
সাধারণত ভালো। লাব্রাডর বন্ধুত্বপূর্ণ ও ধৈর্যশীল, তাই পরিবারের কুকুর হিসেবে এটি পরিচিত। তবে কুকুরের আকার ও উচ্চ শক্তির কারণে ছোট শিশুদের সাথে খেলার সময় কাছে থাকা দরকার।
বেশিরভাগ লাব্রাডর ১১ থেকে ১৩ বছর বাঁচে। সুস্থ ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনে সহায়ক।
দাম ব্রিডার, বংশপরিচয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মান অনুযায়ী ভিন্ন হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বাবা-মার বাচ্চার দাম সাধারণত বেশি। রেসকিউ সংস্থা থেকে দত্তক নেওয়া তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প।
লোম পরিষ্কার ও প্রশিক্ষণ তুলনামূলক সহজ। তবে প্রতিদিন ব্যায়াম ও সঙ্গ দিতে হয়। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক ও কানের বাড়তি যত্ন নিতে হবে এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সাধারণত না। অপরিচিত মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কারণে এটি পাহারার চেয়ে পরিবারের সঙ্গী হিসেবে বেশি উপযুক্ত।