
আইরিশ সেটার একটি মিশুক, আনন্দপ্রিয় জাত, যা তার ঢেউখেলানো মেহগনি-রঙা লোম এবং উচ্ছ্বসিত স্বভাবের জন্য বিখ্যাত।
আইরিশ সেটার-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
সতর্কতা: আইরিশ সেটার-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
A few of the আইরিশ সেটার profiles members have added to United Pet Club.
আইরিশ সেটার আয়ারল্যান্ডের একটি বড় আকারের, প্রাণবন্ত শিকারি কুকুর জাত, পরিচিতি যার গাঢ় মেহগনি লোম আর উঁচু শক্তির মাত্রায়। প্রতিদিন ব্যায়াম আর সঙ্গ দিতে পারা সক্রিয় পরিবারের জন্য এটি উপযুক্ত।
আইরিশ সেটার আয়ারল্যান্ডে গড়ে ওঠা একটি বড় আকারের শিকারি কুকুর জাত, যাকে মূলত শিকারিদের হয়ে খোলা মাঠে পাখির অবস্থান খুঁজে বের করার কাজে ব্যবহার করা হতো। এর সবচেয়ে চেনা বৈশিষ্ট্য লম্বা, রেশমি লোম, রং যার গাঢ় চেস্টনাট থেকে মেহগনি লালের মধ্যে থাকে, আর শরীরের গঠন এমন যে দ্রুত গতিতে অনেকটা মাঠ পার হওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক আইরিশ সেটারের ওজন সাধারণত ২৭-৩২ কেজি (৬০-৭০ পাউন্ড) আর কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা ৬৪-৬৯ সেমি (২৫-২৭ ইঞ্চি) হয়ে থাকে।
স্বভাবই এই জাতের মূল পরিচয়। আইরিশ সেটার বন্ধুত্বপূর্ণ, খেলাপ্রিয় আর মানুষের সঙ্গে খোলাখুলি স্নেহশীল, শিশুদের সঙ্গেও। অপরিচিত মানুষকে এরা প্রায়ই শত্রু নয়, বন্ধু হিসেবে দেখে, যে কারণে পাহারাদার কুকুর হিসেবে এরা তেমন কাজের নয়, তবে পারিবারিক সঙ্গী হিসেবে নির্ভরযোগ্য। শক্তির মাত্রা বেশি, আর পর্যাপ্ত কার্যকলাপ না পেলে ঘরের ভেতর সেটার অস্থির হয়ে পড়তে পারে এবং জিনিসপত্র নষ্ট করতে পারে।
এই কুকুর পরিবারের একজন সদস্য হয়ে থাকতে চায়। দীর্ঘ সময় একা রেখে দিলে এরা ভালো থাকে না এবং পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ আর নিয়মিত ব্যায়াম এই উচ্ছ্বাসকে সামলানো যায় এমন, আরামদায়ক বাড়ির কুকুরে বদলে দেয়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | আয়ারল্যান্ড |
| আকার | বড় (২৭-৩২ কেজি, ৬৪-৬৯ সেমি) |
| আয়ুষ্কাল | ১২-১৫ বছর |
| গ্রুপ/ভূমিকা | স্পোর্টিং গ্রুপ, পাখি শিকারি কুকুর (সেটার) |
| যাদের সঙ্গে ভালো মানায় | শিশু, পরিবার, অন্য কুকুর |
আইরিশ সেটার এমন সক্রিয় পরিবারের জন্য উপযুক্ত যারা প্রতিদিন বাইরে সময় কাটাতে ভালোবাসে আর মিশুক, হাতে-কলমে যত্ন নেওয়া যায় এমন কুকুর চায়। শিশু আছে এমন পরিবার আর দিনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ব্যায়ামে দিতে পারা মালিকদের জন্য এটি ভালো মিলবে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অ্যাপার্টমেন্টে রাখতে হলে কাছাকাছি খোলা জায়গা বা পার্কে নিয়মিত যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে এটি সহজ পছন্দ নয়। দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকা, পাহারাদার কুকুর চাওয়া বা শান্ত, কম শক্তির সঙ্গী পছন্দ করা মানুষদের জন্য এই জাত ততটা মানানসই নয়।
আইরিশ সেটার আয়ারল্যান্ডে ১৮ ও ১৯ শতকে পাখি শিকারের কুকুর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, আর ১৮০০-এর দশকে বাছাই প্রজননের মাধ্যমে এর নিরেট লাল লোম স্থায়ী রূপ পায়।
আইরিশ সেটারের শিকড় আয়ারল্যান্ডে, যেখানে শিকারিদের এমন একটা দ্রুতগামী কুকুর দরকার ছিল যেটা বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে পাখির অবস্থান বের করে দিতে পারবে। আয়ারল্যান্ডে ১৮ শতকেই প্রথম দিককার সেটারদের দেখা মেলে, যেগুলো স্প্যানিয়েল, পয়েন্টার আর অন্যান্য সেটার জাতের মিশ্রণ থেকে তৈরি। এই প্রথম দিককার কুকুরগুলো প্রায়ই নিরেট লালের বদলে লাল-সাদা রঙের হতো।
১৮০০-এর দশক জুড়ে আইরিশ প্রজননকারীরা ক্রমেই সেই গাঢ় মেহগনি লাল লোমের দিকে বাছাই প্রজনন চালিয়ে যান, যা আজকের এই জাতকে চিহ্নিত করে। লাল-সাদা ধরনটি আলাদা একটা ধারা হিসেবে টিকে থাকে এবং আজ আইরিশ রেড অ্যান্ড হোয়াইট সেটার নামে আলাদা একটি জাত হিসেবে স্বীকৃত। নিরেট লাল কুকুরটিই দুটোর মধ্যে বেশি পরিচিতি পায়।
১৯ শতকে আয়ারল্যান্ডের বাইরেও এই জাতের সমর্থক তৈরি হয় এবং আধুনিক কুকুর প্রদর্শনী সংস্কৃতি গড়ে ওঠার শুরুর দিকে স্বীকৃতি পাওয়া জাতগুলোর একটি হিসেবে এটি জায়গা করে নেয়। ১৮৭৮ সালে আমেরিকান কেনেল ক্লাবে এর নিবন্ধন হয়। ২০ শতকের শুরুর দিকে আটলান্টিকের দুই পাড়েই আইরিশ সেটার শিকারি কুকুর এবং প্রদর্শনী ও সঙ্গী কুকুর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
পোষা প্রাণী হিসেবে দশকের পর দশক জনপ্রিয়তার ফলে কিছু প্রজনন মাঠের দক্ষতার চেয়ে চেহারার দিকে ঝুঁকে পড়ে। কাজের আর প্রদর্শনীর লাইন কিছুটা আলাদা হয়ে যায়, মাঠে ব্যবহারের জন্য প্রজনন করা সেটাররা প্রায়ই তুলনায় হালকা আর বেশি উদ্যমী হয়। দুই ধরনের কুকুরই একই রকম বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব আর লাল লোম বহন করে।
আইরিশ সেটার লম্বাটে, ছিপছিপে গড়নের কুকুর, লম্বা মেহগনি লোম, কান-পা-লেজে পালকের মতো লোমরাশি আর সুষম, খেলোয়াড়সুলভ কাঠামো নিয়ে।
আইরিশ সেটারের শারীরিক গঠনে গতি আর সহনশীলতার ইঙ্গিত স্পষ্ট। শরীর উচ্চতার তুলনায় সামান্য লম্বা, বুক গভীর, ঘাড় লম্বা আর রেখাগুলো পরিচ্ছন্ন। মাথা লম্বাটে ও সরু, মুখথুতনি মাঝারি গভীরতার, আর দৃষ্টিতে থাকে নরম, সজাগ ভাব। লেজ প্রায় পিঠের সমান উচ্চতায় বহন করা হয় এবং শেষে সরু হয়ে আসে। বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব ও এফসিআই-অনুমোদিত সংস্থাগুলো এই জাতের বিচারে মূলত এফসিআই ব্রিড স্ট্যান্ডার্ডের কাঠামো অনুসরণ করে।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ ৬৬-৬৯ সেমি (২৬-২৭ ইঞ্চি); স্ত্রী ৬১-৬৬ সেমি (২৪-২৬ ইঞ্চি) |
| ওজন | পুরুষ ২৯-৩২ কেজি (৬৫-৭০ পাউন্ড); স্ত্রী ২৫-২৭ কেজি (৫৫-৬০ পাউন্ড) |
| লোম | মাঝারি দৈর্ঘ্যের, মসৃণ ও রেশমি, সঙ্গে পালকের মতো লোমরাশি |
| রং | চেস্টনাট থেকে মেহগনি লাল; সামান্য সাদা দাগ অনুমোদিত |
| চোখ | মাঝারি আকার, গাঢ় থেকে মাঝারি বাদামি, শান্ত দৃষ্টি |
মাথায় আর পায়ের সামনের দিকে লোম ছোট আর মিহি, বাকি সব জায়গায় তুলনায় লম্বা। কান, পায়ের পেছনের দিক, শরীরের নিচের অংশ আর লেজে পালকের মতো লোমরাশি ঝুলে থাকে। রং গাঢ় চেস্টনাট থেকে গভীর মেহগনি লালের মধ্যে থাকে, কালো রঙের কোনো ছোঁয়া থাকে না। বুক, গলা বা পায়ের আঙুলে সামান্য সাদা দাগ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য, তবে বড় সাদা দাগ এই নিরেট লাল জাতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। পালকের লোমে জট বাঁধা এড়াতে নিয়মিত গ্রুমিং প্রয়োজন।
আইরিশ সেটার বন্ধুত্বপূর্ণ, খেলাপ্রিয় ও প্রাণবন্ত কুকুর, পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে আর শিশু ও অন্য পোষা প্রাণীর সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।
স্পোর্টিং গ্রুপের মধ্যে আইরিশ সেটার তুলনামূলক বেশি মিশুক জাতগুলোর একটি। এরা স্নেহশীল আর খোলাখুলি বন্ধুত্বপূর্ণ, অতিথিকে সন্দেহের বদলে উৎসাহ নিয়ে স্বাগত জানায়। পরিবারের সদস্য, শিশুসহ, সবার সঙ্গে সাধারণত ভদ্র আর খেলুড়ে স্বভাবের হয়, যদিও আকার আর উচ্চ শক্তির কারণে খেলার সময় ছোট শিশুদের নজরে রাখা দরকার, যাতে ধাক্কাধাক্কিতে দুর্ঘটনা না ঘটে।
অন্য কুকুরের সঙ্গে সাধারণত ভালোভাবে মিশে যায় এবং ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হলে বিড়াল বা অন্য পোষা প্রাণীর সঙ্গেও থাকতে পারে, যদিও পাখি শিকারি বংশের কারণে ছোট দৌড়ানো প্রাণীর প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে যায়। এরা পাহারাদার কুকুর নয় আর আক্রমণাত্মক আচরণ প্রায় দেখায়ই না।
আইরিশ সেটার ধীরে পরিণত হয় এবং বড় হওয়ার পরও অনেকদিন পর্যন্ত ছানার মতো দুষ্টুমিভরা স্বভাব ধরে রাখে। এরা বুদ্ধিমান কিন্তু সহজেই মনোযোগ হারায়, তাই প্রশিক্ষণে ধৈর্য লাগে। একঘেয়েমি আর একাকিত্বই আচরণগত সমস্যার মূল কারণ, পর্যাপ্ত ব্যায়াম আর সঙ্গ না পেলে সেটার ঘেউ ঘেউ করতে পারে, কামড়ে জিনিস নষ্ট করতে পারে বা মাটি খুঁড়তে পারে। নিয়মিত মানসিক আর শারীরিক কার্যকলাপ এই স্বভাবকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রাখে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহ | ৫ |
| শক্তি | ৫ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ঘেউ ঘেউ করার প্রবণতা | ৩ |
| লোম ঝরা | ৩ |
আইরিশ সেটারের পালকের মতো লোমের জন্য নিয়মিত ব্রাশিং, দিনে অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়াম আর চলাফেরার জায়গাসহ মানুষের সঙ্গ দরকার।
আইরিশ সেটার নিরাপদে বেড়া দেওয়া উঠান আর সক্রিয় পরিবার থাকা বাড়িতে সবচেয়ে ভালো থাকে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যায়াম পেলে শহুরে জীবনযাপনের সঙ্গেও এটি মানিয়ে নিতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় একা থাকা বা বাইরে খাঁচার মতো পরিবেশে রাখার জন্য এটি উপযুক্ত নয়। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে রাখতে হলে কাছাকাছি খোলা জায়গা বা পার্কে নিয়মিত যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এটি তার মানুষদের সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকতে চায়।
বড় আকারের সক্রিয় কুকুরের উপযোগী সম্পূর্ণ খাদ্য দিনে দুই বেলায় ভাগ করে খাওয়ালে আইরিশ সেটারের পেট ফাঁপার ঝুঁকি কমে।
আইরিশ সেটার একটি বড় আকারের, খেলোয়াড়সুলভ কুকুর, ব্যায়ামের চাহিদা যার সত্যিকার অর্থেই বেশি, তাই একে তার বয়স আর কর্মক্ষমতার স্তর অনুযায়ী তৈরি সম্পূর্ণ ও সুষম খাদ্য দিতে হবে। কাজে ব্যবহৃত বা মাঠে সক্রিয় সেটার শুধু ঘরে থাকা সঙ্গী কুকুরের চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়, তাই কুকুরকে ছিপছিপে রাখতে খাবারের পরিমাণ সমন্বয় করা দরকার। শরীরের গঠনের দিকে খেয়াল রাখুন, পাঁজর সহজে হাতে অনুভব করা যাবে কিন্তু চোখে দেখা যাবে না, এটাই ঠিক মাত্রা।
| বয়সের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বেলা |
|---|---|---|
| ছানা (২-৬ মাস) | গ্রোথ-ফর্মুলার লেবেল অনুযায়ী, ঘন ঘন খাওয়ানো | ৩-৪ |
| কিশোর (৬-১২ মাস) | প্রায় ২.৫-৩ কাপ | ২-৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক (১-৭ বছর) | প্রায় ২.৫-৩.৫ কাপ | ২ |
| বয়স্ক (৭+ বছর) | কমে যাওয়া কর্মক্ষমতা অনুযায়ী কমিয়ে | ২ |
দৈনিক মোট ক্যালোরির প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে ট্রিট সীমিত রাখুন, নইলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক খাদ্যে থাকা বেশিরভাগ সেটারের আলাদা সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না। পশু চিকিৎসক বড় সক্রিয় কুকুরের জন্য জয়েন্ট সাপোর্ট বা লোম ও ত্বকের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সুপারিশ করতে পারেন। সবসময়, বিশেষ করে ব্যায়ামের আশপাশে, পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখুন।
আইরিশ সেটার সাধারণত সুস্থ থাকে এবং আয়ুষ্কাল ১২-১৫ বছর, তবে পেট ফাঁপা, হিপ ডিসপ্লেসিয়া আর চোখ-কানের কিছু সমস্যায় ভুগতে পারে।
আইরিশ সেটার তুলনামূলকভাবে শক্তসমর্থ জাত, সাধারণ আয়ুষ্কাল ১২-১৫ বছর। অন্য বেশিরভাগ বড় আকারের, গভীর বুকের কুকুরের মতোই এর সবচেয়ে জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা হলো গ্যাস্ট্রিক ডাইলেটেশন-ভলভুলাস, যা সাধারণত পেট ফাঁপা নামে পরিচিত, যেখানে পেট গ্যাসে ভরে ওঠে আর পাকিয়ে যেতে পারে। এটি জীবন সংকটাপন্ন একটি জরুরি অবস্থা। দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা হিপ আর চোখের সমস্যার জন্য স্ক্রিনিং করান, আর স্বাস্থ্য-পরীক্ষিত লাইন থেকে কুকুর কিনলে বংশগত রোগের সম্ভাবনা কমে।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পেট ফাঁপা (জিডিভি) | পেট ফুলে যাওয়া, বমি ছাড়াই ঢেকুর তোলার চেষ্টা, অস্থিরতা | জরুরি অবস্থা; সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিৎসকের কাছে নিন |
| হিপ ডিসপ্লেসিয়া | শক্ত হয়ে যাওয়া, খুঁড়িয়ে হাঁটা, উঠতে কষ্ট হওয়া | প্রজননের কুকুর স্ক্রিন করুন; ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন |
| প্রোগ্রেসিভ রেটিনাল অ্যাট্রফি | রাতকানা, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস | কিছু ধরনের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা পাওয়া যায় |
| কানের সংক্রমণ | মাথা ঝাঁকানো, দুর্গন্ধ, কান চুলকানো | ঝোলা কানের সঙ্গে সম্পর্কিত; নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন |
| হাইপোথাইরয়েডিজম | ওজন বাড়া, নিস্তেজভাব, লোমের পরিবর্তন | প্রতিদিনের ওষুধে নিয়ন্ত্রণ করা যায় |
আইরিশ সেটার বুদ্ধিমান কিন্তু সহজেই মনোযোগ হারায়, তাই ছোট, প্রাণবন্ত, পুরস্কারভিত্তিক সেশন আর শুরু থেকেই সামাজিকীকরণে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আইরিশ সেটার চালাক আর মানুষকে খুশি করতে আগ্রহী, তবে খেলাপ্রিয় আর সহজে মনোযোগ হারানো স্বভাবের কারণে প্রশিক্ষণে ধৈর্য আর ধারাবাহিকতা দরকার। এই জাত ধীরে পরিণত হয় আর দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত ছানার মতো আচরণ করতে পারে, তাই অন্য কিছু স্পোর্টিং কুকুরের চেয়ে প্রশিক্ষণে বেশি সময় লাগবে বলে ধরে নেওয়া উচিত। কড়া পদ্ধতি এই সংবেদনশীল জাতের ক্ষেত্রে উল্টো ফল দেয়, শাস্তির চেয়ে উৎসাহে এরা অনেক ভালো সাড়া দেয়।
সামাজিকীকরণ শুরু থেকেই শুরু করুন। ছানাকে বিভিন্ন মানুষ, জায়গা, কুকুর আর পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় করানো এই জাতের পরিচিত সেই আত্মবিশ্বাসী, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক রূপ তৈরি করে।
আইরিশ সেটার সাধারণত প্রায় দুই বছর বয়সে প্রজননের উপযুক্ত হয়, গর্ভধারণকাল প্রায় ৬৩ দিন, আর একেকটি লিটারে সাধারণত ছয় থেকে বারোটি ছানা হয়।
আইরিশ সেটারের দায়িত্বশীল প্রজনন শুরু হয় বাবা-মা দুজনের হিপ ডিসপ্লেসিয়া আর বংশগত চোখের সমস্যার স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং দিয়ে, সঙ্গে থাকতে হবে শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব। প্রজননকারীরা সাধারণত প্রথম হিট বা প্রথম উর্বরতার সময় নয়, বরং কুকুর শারীরিক আর মানসিকভাবে পরিণত হওয়া পর্যন্ত, প্রায় দুই বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।
স্ত্রী কুকুর বছরে মোটামুটি দুইবার হিটে আসে। সফল মিলনের পর গর্ভধারণকাল গণনা থেকে প্রায় ৬৩ দিন চলে। লিটারের আকার সাধারণত মাঝারি থেকে বড়, প্রায়ই ছয় থেকে বারোটি ছানা, যা এই জাতের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নবজাতক ছানারা অন্ধ, বধির এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহ উষ্ণতা আর খাওয়ানোর জন্য পুরোপুরি মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। প্রজননকারীর দায়িত্ব হলো হুইলপিং এলাকা পরিষ্কার আর উষ্ণ রাখা, ওজন বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা, আর ছানারা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলতো করে ধরা আর সামাজিকীকরণ শুরু করা। ছানারা সাধারণত প্রায় আট সপ্তাহ বয়সে নতুন বাড়িতে যায়, ততদিনে দুধ ছাড়ানো সম্পূর্ণ হয়ে যায় আর প্রাথমিক সামাজিকীকরণ শুরু হয়ে যায়। এই জাতের ধীর পরিণত হওয়ার স্বভাব মাথায় রেখে নতুন মালিকদের দীর্ঘ কৈশোরকালের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| প্রজননের উপযুক্ত বয়স | প্রায় ২ বছর |
| হিট চক্র | বছরে প্রায় দুইবার |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| লিটারের আকার | ৬-১২টি ছানা (সাধারণত) |
| দুধ ছাড়ানো / নতুন বাড়িতে যাওয়ার বয়স | প্রায় ৮ সপ্তাহ |
United Pet Club-এ আপনার আইরিশ সেটার জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
যে কুকুরের রেকর্ড আছে, সে এক ফোনেই ঘরে ফেরে। আপনার আইরিশ সেটার জাতের কুকুরের রেকর্ডটা বিনামূল্যে গড়ে নিন: ছবি, তথ্য আর আপনার নম্বর, এমন প্রোফাইলে যা সারা জীবন টিকে থাকে আর কখনো এক টাকাও চায় না। নিবন্ধন একবারের কাজ।
চিকিৎসক চিপ বসিয়ে দেন, কিন্তু নম্বরটা নিবন্ধন কেউ আপনার হয়ে করে না, আর অনিবন্ধিত চিপ কারও পরিচয় বলে না। মাইক্রোচিপ নিবন্ধন করুন, আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে: যেকোনো ব্র্যান্ডের চিপ গ্রহণযোগ্য, ঠিকানা বদলালে হালনাগাদ ফ্রি, আর রেকর্ড দেশে-বিদেশে সব সময় খোঁজা যায়। বিদেশ ভ্রমণে প্রাণিসম্পদের Animal Quarantine কাগজপত্রের পাশে এই রেকর্ডই আপনার কুকুরের পরিচয় বহন করে। বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, আইরিশ সেটার জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
আইরিশ সেটারের আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল আর পারিবারিক কুকুর হিসেবে উপযোগিতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর।
আইরিশ সেটার একটি বড় আকারের জাত। পুরুষ কুকুর কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৬৬-৬৯ সেমি (২৬-২৭ ইঞ্চি) উঁচু হয় আর ওজন হয় ২৯-৩২ কেজি (৬৫-৭০ পাউন্ড), স্ত্রী কুকুর একটু ছোট, ৬১-৬৬ সেমি (২৪-২৬ ইঞ্চি) আর ২৫-২৭ কেজি (৫৫-৬০ পাউন্ড)।
হ্যাঁ। এরা মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ, খেলাপ্রিয় আর স্নেহশীল, আর সাধারণত শিশু ও অন্য কুকুরের সঙ্গেও ভালোভাবে মিশে যায়। আকার আর শক্তির কারণে ছোট শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় নজর রাখা দরকার।
এদের যত্নের চাহিদা মাঝারি মাত্রার। মূল দায়িত্বের মধ্যে আছে দিনে অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়াম, পালকের মতো লোমের নিয়মিত ব্রাশিং আর সাপ্তাহিক কানের যত্ন। এদের সঙ্গও দরকার, দীর্ঘ সময় একা থাকতে এরা পছন্দ করে না।
সাধারণ আয়ুষ্কাল ১২-১৫ বছর। নিয়মিত পশু চিকিৎসকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর ওজন আর স্বাস্থ্য-পরীক্ষিত লাইন থেকে কেনা দীর্ঘ জীবনে সহায়ক হয়।
এরা বুদ্ধিমান কিন্তু সহজেই মনোযোগ হারায় আর ধীরে পরিণত হয়, তাই প্রশিক্ষণে ধৈর্য লাগে। ছোট, প্রাণবন্ত, পুরস্কারভিত্তিক সেশন আর শুরু থেকেই সামাজিকীকরণে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
না। এরা পাহারাদার হওয়ার জন্য বড্ড বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ আর প্রাণবন্ত, আর অপরিচিত মানুষকেও স্বাগত জানাতে থাকে। অতিথি এলে ঘেউ ঘেউ করতে পারে, তবে সুরক্ষামূলক আচরণ দেখায় না।
প্রতিদিন অন্তত ৬০-৯০ মিনিট কার্যকলাপের পরিকল্পনা রাখুন, সম্ভব হলে নিরাপদে লিশ ছাড়া দৌড়ানোর সুযোগসহ, সঙ্গে মনকে ব্যস্ত রাখতে খেলা বা কুকুরের খেলাধুলা।