
জার্মান স্পিৎস হলো এক প্রাণবন্ত, সতর্ক ছোট্ট পাহারাদার, যা তার পরিবারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে বন্ধন গড়ে এবং দ্রুত সতর্কতা-সংকেত দেয়।
জার্মান স্পিৎস-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: জার্মান স্পিৎস-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: জার্মান স্পিৎস-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
তথ্য: জার্মান স্পিৎস তার নিচের স্তর প্রবল দফায় ছাড়ে।
নিচের স্তর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল দফায় বেরোয়। নিচের স্তরের রেক, বা গোসলের পরে ঠিকমতো বাতাসে শুকানো, রোজকার ব্রাশের চেয়ে অনেক দ্রুত তা সরায়। লোম ছোট করে ফেলা এর শর্টকাট নয়।
A few of the জার্মান স্পিৎস profiles members have added to United Pet Club.
জার্মান স্পিটজ জার্মানির একটি ছোট, সতর্ক সঙ্গী কুকুর, যা পরিবারের সঙ্গে দ্রুত সখ্য গড়ে তোলে এবং অচেনা কিছু দেখলেই ডেকে ওঠে। ওজন প্রায় ১০ থেকে ২৫ পাউন্ড, আয়ু ১৩ থেকে ১৫ বছর।
জার্মান স্পিটজ একটি ছোট আকারের সঙ্গী কুকুর, যার চেহারায় শেয়ালের মতো ছাপ, ঘন দ্বিস্তর লোমের আবরণ এবং পিঠের ওপর শক্ত করে কুণ্ডলী পাকানো লেজ থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরগুলো মাটির কাছাকাছি উচ্চতার হলেও চলাফেরায় খাড়া, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি বজায় রাখে। এই জাতটি বৃহত্তর স্পিটজ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে উত্তরাঞ্চলীয় ধরনের কুকুরদের সুচালো কান, ঘন লোম এবং কুণ্ডলী পাকানো লেজ দেখা যায়।
এটি একনিষ্ঠ ও প্রাণবন্ত স্বভাবের কুকুর, যারা যাদের সঙ্গে থাকে তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। বাড়ির চারপাশে কী ঘটছে তার প্রতি সজাগ থাকে এবং অপরিচিত কিছু দেখলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই সতর্কতার কারণে এটি ভালো সংকেত-দাতা কুকুর হিসেবে কাজ করে, যদিও শারীরিক অর্থে প্রহরী হওয়ার মতো আকার এর নেই।
আকারে ছোট হলেও জার্মান স্পিটজের স্বভাব বেশ কর্মচঞ্চল ও উদ্যমী। বাড়ির কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকতে পছন্দ করে এবং দীর্ঘ সময় একা রাখা হলে অস্বস্তি বোধ করে। মালিকেরা একে প্রাণবন্ত সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন, যা অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি, দুই ধরনের বাসস্থানেই ভালো থাকে, যদি প্রতিদিন কিছুটা মনোযোগ ও ছোট কয়েকটি হাঁটা পায়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | জার্মানি |
| আকার | ছোট (প্রকারভেদে প্রায় ১০ থেকে ২৫ পাউন্ড) |
| আয়ুষ্কাল | ১৩ থেকে ১৫ বছর |
| গোষ্ঠী/ভূমিকা | সঙ্গী ও সংকেত-দাতা কুকুর (স্পিটজ প্রকার) |
| উপযোগী | পরিবার, একা থাকা ব্যক্তি এবং মনোযোগী ছোট কুকুর চাওয়া বয়স্ক মালিকদের জন্য |
যারা ছোট, মিশুক কুকুর চান এবং মাঝেমধ্যে ডাকাডাকিতে আপত্তি নেই, জার্মান স্পিটজ তাদের জন্য মানানসই। আকারের কারণে এটি অ্যাপার্টমেন্টে ভালো মানিয়ে নেয়, তবে শব্দ শুনলে ডেকে ওঠার প্রবণতার কথা মাথায় রেখে পাতলা দেয়াল বা কাছাকাছি প্রতিবেশী থাকলে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। যারা প্রায়ই বাড়িতে থাকেন বা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন, তারা সবচেয়ে ভালো ফল পান। ঘন লোমের যত্নে সপ্তাহে কয়েকবার কিছুটা সময় ব্রাশ করতে হয়, তাই যারা এই সময়টুকু দিতে রাজি, এই জাত তাদের জন্যই ভালো।
জার্মান স্পিটজের শিকড় মধ্য ইউরোপের পুরনো পশুপালক ও খামারি কুকুরদের মধ্যে, যাদের জার্মান-ভাষী অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সতর্ক সঙ্গী হিসেবে মূল্য দেওয়া হতো।
জার্মান স্পিটজের বংশধারা মধ্য ও উত্তর ইউরোপের স্পিটজ-প্রকার কুকুরদের সঙ্গে জড়িত, যা ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর বংশগুলোর একটি। জার্মান-ভাষী অঞ্চলের খামারে ও গ্রামে এই কুকুরদের পালা হতো, যেখানে তাদের সতর্কতা এবং ডেকে ওঠার স্বভাব অচেনা মানুষ বা অনুপ্রবেশকারীর ব্যাপারে সতর্ক করার কাজে লাগত।
জার্মানিতে স্পিটজ কুকুরের লিখিত ও চিত্রভিত্তিক উল্লেখ বহু শতাব্দী ধরে পাওয়া যায়। খামারে, নদীপথে চলা নৌকায় এবং শহরে এই কুকুর সাধারণ দৃশ্য ছিল, যেখানে ছোট আকার আর জোরালো ডাক ব্যবহারিক দিক থেকে কাজে আসত। লড়াই করে নয়, বরং সতর্কবার্তা দিয়ে সম্পত্তি পাহারা দেওয়ার কারণে মালিকেরা প্রায়ই ছোট, সহজে বহনযোগ্য কুকুরদের বেশি পছন্দ করতেন।
সময়ের সঙ্গে জার্মান স্পিটজ নানা আকারে গড়ে ওঠে, বড় আকারের উলফস্পিটজ থেকে শুরু করে ছোট সঙ্গী জাত পর্যন্ত। এই পরিবারের সবচেয়ে ছোট শাখাটি পোমেরানিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যাকে পরে বিশেষত উনিশ শতকে ব্রিটেনে আরও ছোট আকারে গড়ে তোলা হয়। জার্মান স্পিটজ ও পোমেরানিয়ান একই বৃহত্তর গোষ্ঠীর মধ্যে অভিন্ন পূর্বপুরুষের ধারা বহন করে।
পরবর্তী সময়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের কেনেল ক্লাবগুলো লিখিত মান নির্ধারণ করে, যা আকার ও লোমের ধরন অনুযায়ী স্পিটজ প্রজাতিগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করে। আজকের জার্মান স্পিটজ একটি স্বতন্ত্র সঙ্গী জাত হিসেবে স্বীকৃত, যা মূলত সঙ্গ দেওয়ার জন্য এবং বাড়ির সংকেত-দাতা কুকুর হিসেবে রাখা হয়, খামারের কাজের জন্য নয়।
জার্মান স্পিটজ একটি ছোট, চতুষ্কোণ গড়নের কুকুর, যার শেয়ালের মতো মুখ, খাড়া কান, ঘন দাঁড়ানো দ্বিস্তর লোম এবং পিঠের ওপর কুণ্ডলী পাকানো পালকের মতো লেজ থাকে।
জার্মান স্পিটজের গড়ন নিটোল ও প্রায় চতুষ্কোণ, শরীরের দৈর্ঘ্য কাঁধের উচ্চতার কাছাকাছি। মাথা কীলক-আকৃতির ও শেয়ালের মতো, সুচালো মুখ, গাঢ় বাদামি রঙের বাদাম-আকৃতির চোখ এবং ছোট, খাড়া, ত্রিকোণাকার কান উঁচুতে ও কাছাকাছি বসানো থাকে। সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য হলো লোম, যা শরীর থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং গলা ও কাঁধের চারপাশে স্পষ্ট একটি কেশর তৈরি করে। লেজ উঁচুতে বসানো এবং সামনের দিকে বেঁকে পিঠের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে, প্রায়ই শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে, আর তাতে থাকে ঘন পালকের মতো লোমের গুচ্ছ।
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ পরিসীমা |
|---|---|
| উচ্চতা | কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৯ থেকে ১২ ইঞ্চি (ছোট প্রকার) |
| ওজন | প্রকারভেদে প্রায় ১০ থেকে ২৫ পাউন্ড |
| লোম | দ্বিস্তর লোম: লম্বা, সোজা, দাঁড়ানো বাইরের লোম, নিচে ছোট ও ঘন ভেতরের লোমের স্তর |
| রং | সাদা, কালো, বাদামি, কমলা, ক্রিম এবং বিভিন্ন সেবল ও পার্টি নকশা |
| চোখ | গাঢ়, বাদাম-আকৃতির, সতর্ক দৃষ্টি |
দ্বিস্তর লোম এই জাতের প্রধান পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য। বাইরের লোম লম্বা, সোজা এবং শরীর থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে, আর তার নিচে থাকে নরম, ঘন ভেতরের লোমের স্তর, যা কুকুরটিকে গোলগাল ও তুলতুলে দেখায়। মাথা, কান এবং সামনের পায়ের লোম তুলনামূলক ছোট, আর গলা, বুক ও লেজের লোম লম্বা। স্বীকৃত রঙের মধ্যে আছে একরঙা সাদা, কালো, বাদামি, কমলা ও ক্রিম, পাশাপাশি সেবল ছায়া এবং পার্টি-রঙের মিশ্রণ। লোম নিয়মিত ঝরে এবং ঋতু বদলের সময় ভারী মাত্রায় ঝরে, যখন ভেতরের লোমের স্তর নতুন করে গজায়।
জার্মান স্পিটজ একনিষ্ঠ, প্রাণবন্ত ও সতর্ক স্বভাবের, পরিবারের প্রতি গভীরভাবে সংযুক্ত এবং অচেনা কিছু দেখলেই দ্রুত ডেকে ওঠে।
জার্মান স্পিটজ আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত এক কুকুর, যে নিজের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। এটি সাধারণত তার মানুষদের প্রতি গভীর আসক্তি গড়ে তোলে এবং যেখানে কর্মকাণ্ড চলে সেখানেই থাকতে চায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এটি স্নেহশীল ও খেলাপ্রিয়, আর প্রায়ই একজন বা দুজন মানুষকে বেছে নিয়ে তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটায়।
অচেনা মানুষের ক্ষেত্রে এই জাত স্বভাবতই সতর্ক। অতিথি এলে জানান দেয় এবং অপরিচিত শব্দে প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একে ছোট সংকেত-দাতা কুকুর হিসেবে মূল্য দেওয়া হয়েছে। বাচ্চা বয়সেই ধারাবাহিক সামাজিকীকরণ করালে এটি ভীতু বা অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ না হয়ে সতর্ক থাকতে শেখে। অন্য কুকুর বা বাড়ির অন্যান্য পোষা প্রাণীর সঙ্গে একসঙ্গে বড় হলে সাধারণত ভালোই মানিয়ে নেয়, যদিও তার সাহসী স্বভাবের কারণে বড় কুকুরের সামনেও সহজে পিছু হটে না।
জার্মান স্পিটজ বুদ্ধিমান এবং মালিকের মনের অবস্থা দ্রুত বুঝে ফেলে। কিছুটা স্বাধীনচেতা ও একগুঁয়ে হতে পারে, তবে মনোযোগ ও নিয়মিত ধারাবাহিক প্রশিক্ষণে ভালো সাড়া দেয়। সম্ভাব্য মালিকদের জন্য মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এর কণ্ঠস্বর: এটি একটি ডাকপ্রবণ জাত, আর ডাকাডাকি অভ্যাসে পরিণত হওয়ার পর নয়, বরং কুকুরছানা থাকা অবস্থাতেই সামলাতে হয়।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহ | ৫ |
| উদ্যম | ৪ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ৫ |
| লোম ঝরা | ৪ |
জার্মান স্পিটজের দ্বিস্তর লোমের জন্য নিয়মিত ব্রাশ, প্রতিদিন অল্প সময়ের ব্যায়াম এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য দরকার, আর এটি অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি, দুই পরিবেশেই ভালোভাবে মানিয়ে নেয়।
দৈনন্দিন যত্নের মূল বিষয় লোমের পরিচর্যা এবং সক্রিয়, মিশুক কুকুরটিকে ব্যস্ত রাখা। এই জাত মজবুত ধাতের এবং বেশিরভাগ বাড়ির পরিবেশে মানিয়ে নেয়, তবে ঘন লোম আর সক্রিয় মস্তিষ্ক, দুটোরই মনোযোগ দরকার।
জার্মান স্পিটজ অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি, উভয় পরিবেশেই সুখে থাকে এবং বড় উঠান লাগে না। যেটা তার সত্যিই দরকার তা হলো সঙ্গ। দীর্ঘ সময় একা রাখলে সে ভালো থাকে না এবং ডাকাডাকি করতে পারে বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। নিরাপদ জায়গা জরুরি, কারণ এই জাত সতর্ক ও কৌতূহলী স্বভাবের। লোম ভালো তাপ নিরোধক হওয়ায় কুকুরটি গরমের চেয়ে ঠান্ডা আবহাওয়া বেশি ভালোভাবে সামলাতে পারে, যা ঢাকার মতো আর্দ্র, গরম আবহাওয়ায় মালিকদের বিশেষভাবে মাথায় রাখা দরকার।
জার্মান স্পিটজ দিনে দুই বেলায় মেপে দেওয়া ছোট জাতের সম্পূর্ণ খাবারে ভালো থাকে, আর ওজন বেড়ে যাওয়া এড়াতে সতর্ক থাকা জরুরি।
জার্মান স্পিটজের জন্য ছোট জাতের কুকুরদের উপযোগী সম্পূর্ণ, সুষম খাবার দরকার। ছোট কুকুরদের বিপাকক্রিয়া দ্রুত হলেও পাকস্থলী ছোট, তাই খাবারের পরিমাণের চেয়ে সঠিক মাপে ভালো মানের খাবার দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কুকুরের বয়স অনুযায়ী খাবার বেছে নিন, বেড়ে ওঠার সময় পাপি ফর্মুলা এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অ্যাডাল্ট ফর্মুলা দিন। আকারে ছোট হওয়ায় সামান্য বাড়তি ওজনও শরীরে চাপ ফেলে, তাই ইচ্ছেমতো খাবার সামনে রাখার বদলে মেপে খাওয়ানো উচিত।
| বয়সের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বেলা |
|---|---|---|
| পাপি (২ থেকে ৬ মাস) | খাবারের লেবেল অনুযায়ী, অল্প অল্প করে ভাগ করে | ৩ থেকে ৪ |
| পাপি (৬ থেকে ১২ মাস) | বৃদ্ধির জন্য খাবারের লেবেল অনুযায়ী | ২ থেকে ৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | প্রায় আধা থেকে এক কাপ শুকনো খাবার | ২ |
| বয়স্ক | সামান্য কমিয়ে, ওজনের দিকে খেয়াল রেখে | ২ |
দৈনিক ক্যালরির প্রায় দশ শতাংশের মধ্যে ট্রিট সীমিত রাখুন এবং মোট খাবারের হিসাবে সেটা যোগ করুন, কারণ ছোট আকারের কুকুর দ্রুত তার সীমায় পৌঁছে যায়। প্রশিক্ষণের সময় ছোট, কম ক্যালরির ট্রিট ব্যবহার করুন। সম্পূর্ণ খাবার খাওয়া বেশিরভাগ জার্মান স্পিটজের কোনো বাড়তি সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। জয়েন্ট বা চামড়ার জন্য কিছু যোগ করার আগে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বিশুদ্ধ পানি সবসময় সামনে রাখা উচিত।
জার্মান স্পিটজ সাধারণত মজবুত স্বাস্থ্যের এবং আয়ু ১৩ থেকে ১৫ বছর, তবে মালিকদের প্যাটেলার লাক্সেশন, দাঁতের সমস্যা এবং চোখের রোগের দিকে নজর রাখা উচিত।
জার্মান স্পিটজ সাধারণত সুস্থ ও দীর্ঘজীবী একটি ছোট জাত, যার সাধারণ আয়ু ১৩ থেকে ১৫ বছর। সব কুকুরের মতোই এরও কিছু নির্দিষ্ট রোগের প্রবণতা আছে, যার অনেকগুলো ছোট জাতের কুকুরদের মধ্যে সাধারণ। যেসব প্রজননকারী তাদের কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তাদের কাছ থেকে কুকুর কেনা এবং নিয়মিত পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি কমায়।
| রোগ | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্যাটেলার লাক্সেশন | লাফিয়ে হাঁটা, পেছনের পায়ে খোঁড়ানো, মাঝেমধ্যে খোঁড়ানো | ছোট জাতে সাধারণ; মৃদু থেকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত হতে পারে |
| দাঁতের সমস্যা | মুখে দুর্গন্ধ, দাঁতে পাথর জমা, মাড়িতে ব্যথা বা রক্তপাত | ছোট চোয়ালে দাঁত ঠাসাঠাসি থাকে; নিয়মিত পরিষ্কার সহায়ক |
| প্রোগ্রেসিভ রেটিনাল অ্যাট্রফি | রাতকানা, দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়া | বংশগত চোখের রোগ; প্রজননকারীরা পরীক্ষা করেন |
| প্যাটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস | হৃদস্পন্দনে গুঞ্জন, কম শক্তি, বৃদ্ধিতে ঘাটতি | কিছু বংশধারায় দেখা যাওয়া হৃদযন্ত্রের ত্রুটি |
| স্থূলতা | ওজন বৃদ্ধি, কম সক্রিয়তা | মেপে খাওয়ানো ও ব্যায়ামে নিয়ন্ত্রণযোগ্য |
জার্মান স্পিটজ বুদ্ধিমান এবং ধারাবাহিক, পুরস্কারভিত্তিক প্রশিক্ষণে দ্রুত শেখে, তবে ডাকাডাকি ও ডাকলে ফিরে আসার প্রশিক্ষণ শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মান স্পিটজ চটপটে এবং প্রশিক্ষণ ধারাবাহিক ও ইতিবাচক হলে নির্দেশ ও কৌশল দ্রুত রপ্ত করে। মানসিক পরিশ্রম আর প্রশিক্ষণের সময় পাওয়া মনোযোগ উপভোগ করে, তাই দীর্ঘ, একঘেয়ে সেশনের চেয়ে ছোট, প্রাণবন্ত সেশন বেশি কার্যকর। এই জাত মাঝেমধ্যে স্বাধীনচেতা ও কিছুটা একগুঁয়ে ভাব দেখাতে পারে, তাই ধৈর্য ও স্থির রুটিন জরুরি। শুরুতেই দুটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া দরকার: ডাকাডাকি, কারণ এই জাত স্বভাবতই ডাকপ্রবণ, এবং ডাকলে ফিরে আসা, কারণ সতর্ক স্বভাবের কারণে সহজেই মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেতে পারে।
জার্মান স্পিটজ স্ত্রী কুকুর সাধারণত প্রায় ৬৩ দিনের গর্ভধারণের পর এক থেকে চারটি বাচ্চার ছোট লিটার প্রসব করে, আর এই জাত সাধারণত বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই বাচ্চা প্রসব করে।
জার্মান স্পিটজের প্রজনন দায়িত্বের সঙ্গে করা উচিত, স্বাস্থ্য-পরীক্ষিত বাবা-মা কুকুর এবং স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে। কুকুর প্রথম বছরেই যৌন পরিপক্বতায় পৌঁছায়, তবে স্ত্রী কুকুর শারীরিকভাবে পরিপক্ব হওয়া এবং প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পার হওয়া পর্যন্ত প্রজনন পিছিয়ে দেওয়াই ভালো, সাধারণত প্রথম বছরের পর এবং প্রায়ই দুই বছর বয়সের কাছাকাছি। স্ত্রী কুকুর বছরে প্রায় দুইবার মদগ্রস্ত হয়।
গর্ভধারণের সময়কাল গর্ভধারণ শুরু থেকে প্রায় ৬৩ দিন। জাতের আকার অনুযায়ী লিটার সাধারণত ছোট হয়, সাধারণত এক থেকে চারটি বাচ্চা। কিছু চ্যাপ্টা মুখের জাতে যেমন জটিলতা দেখা যায়, জার্মান স্পিটজ সাধারণত তেমন কষ্ট ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসব করে, তবে জটিলতা দেখা দিলে সহায়তার জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থা আগে থেকেই রাখা উচিত।
বাচ্চারা জন্মায় ছোট লোম নিয়ে, যা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ঘন হতে থাকে, আর প্রাপ্তবয়স্ক দাঁড়ানো লোম গড়ে উঠতে অনেক মাস লাগে। নবজাতক পুরোপুরি মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে উষ্ণতা ও খাবারের জন্য। দুধ ছাড়ানো সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ বয়সে শুরু হয়, আর স্বাভাবিক কুকুর-স্বভাব শিখতে বাচ্চাদের অন্তত আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে রাখা উচিত। এই সময়ে সহজ, কোমল স্পর্শ ও সামাজিকীকরণ আত্মবিশ্বাসী প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রায় ৬ থেকে ১২ মাস (প্রজনন পরে করা উচিত) |
| প্রস্তাবিত প্রজনন বয়স (স্ত্রী) | শারীরিকভাবে পরিপক্ব, প্রায়ই প্রায় ২ বছর |
| বছরে মদগ্রস্ত হওয়ার সংখ্যা | প্রায় ২ বার |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| সাধারণ লিটারের আকার | ১ থেকে ৪টি বাচ্চা |
| দুধ ছাড়ানো | প্রায় ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ |
| নতুন বাড়িতে যাওয়ার উপযুক্ত বয়স | ৮ সপ্তাহ বা তার পরে |
United Pet Club-এ আপনার জার্মান স্পিৎস জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
জার্মান স্পিৎস জাতের কুকুরের নাম, জন্মতারিখ আর একটা পরিষ্কার ছবি লিখুন, নিজের ফোন নম্বর যোগ করে সংরক্ষণ করুন। ব্যস, এটুকুই; আজও বিনামূল্যে, চিরকালও। কুকুর নিবন্ধন চিপ থাকলেও চলে, না থাকলেও।
চিকিৎসক চিপ বসিয়ে দেন, কিন্তু নম্বরটা নিবন্ধন কেউ আপনার হয়ে করে না, আর অনিবন্ধিত চিপ কারও পরিচয় বলে না। মাইক্রোচিপ নিবন্ধন করুন, আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে: যেকোনো ব্র্যান্ডের চিপ গ্রহণযোগ্য, ঠিকানা বদলালে হালনাগাদ ফ্রি, আর রেকর্ড দেশে-বিদেশে সব সময় খোঁজা যায়। বিদেশ ভ্রমণে প্রাণিসম্পদের Animal Quarantine কাগজপত্রের পাশে এই রেকর্ডই আপনার কুকুরের পরিচয় বহন করে। বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, জার্মান স্পিৎস জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
জার্মান স্পিটজ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নগুলোতে থাকে এর আকার, স্বভাব, ডাকাডাকির প্রবণতা, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল এবং বিভিন্ন পরিবারের জন্য উপযুক্ততা।
এটি একটি ছোট কুকুর, ছোট প্রকারে কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৯ থেকে ১২ ইঞ্চি এবং প্রকার ও ব্যক্তি কুকুরভেদে ওজন প্রায় ১০ থেকে ২৫ পাউন্ড।
হ্যাঁ। এই জাত স্বভাবতই ডাকপ্রবণ এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সংকেত দেওয়া সংকেত-দাতা কুকুর হিসেবে পালা হয়েছে। শুরু থেকে প্রশিক্ষণ ও চুপ থাকার একটি সংকেত দিয়ে ডাকাডাকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে সম্ভাব্য মালিকের একটি সতর্ক, কথা বলা কুকুর আশা করা উচিত।
যত্ন মাঝারি পর্যায়ের। মূল দায়িত্বের মধ্যে আছে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার দ্বিস্তর লোম ব্রাশ করা, প্রতিদিন সঙ্গ ও ছোট হাঁটা, এবং নিয়মিত দাঁতের যত্ন। এই জাতের বড় বাড়ি বা ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই।
সাধারণত ১৩ থেকে ১৫ বছর, যা একটি ছোট কুকুরের জন্যও বেশ দীর্ঘ। ভালো পুষ্টি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পশু চিকিৎসা এই সীমার ওপরের দিকে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
হ্যাঁ, অনেক পরিবারের জন্য। এরা নিজের পরিবারের প্রতি একনিষ্ঠ ও খেলাপ্রিয়, আর শুরু থেকে সামাজিকীকরণ করালে শিশু ও অন্য পোষা প্রাণীর সঙ্গেও ভালো মানিয়ে নিতে পারে। যেসব বাড়িতে কেউ প্রায়ই থাকেন, সেখানে এরা ভালো মানায়, কারণ দীর্ঘ সময় একা থাকা এদের পছন্দ নয়।
এরা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং স্পিটজ পরিবারের একই পূর্বপুরুষের ধারা বহন করে, তবে স্বীকৃতি অনুযায়ী এরা আলাদা জাত। পোমেরানিয়ানকে আরও ছোট আকারে গড়ে তোলা হয়েছে, আর জার্মান স্পিটজ বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়।
অঞ্চলভেদে প্রাপ্যতা ভিন্ন হয়। জার্মানি ও ইউরোপের কিছু অংশে এদের বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে এই জাত এখনো তুলনামূলক বিরল, তাই নিকটতম লিটার খোঁজার চেয়ে যেসব প্রজননকারী তাদের কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তাদের সঙ্গে কাজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।