
ড্রেন্টশে পাট্রাইসহন্ড হলো এক কোমল, অনুগত ডাচ পয়েন্টিং কুকুর, যা তার নরম স্বভাব এবং পরিবার ও মাঠের প্রতি নিষ্ঠার জন্য পরিচিত।
ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
গুরুতর: ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড-এর লোম ছেঁটে ফেলা উচিত নয়।
নিচের স্তর তাপ ঠিক ততটাই বাইরে রাখে যতটা ঠান্ডা, আর উপরের লোম চামড়াকে রোদ ও পোকার কামড় থেকে বাঁচায়। পুরো লোম ছেঁটে ফেললে দুটোই চলে যায়। প্রায়ই তা ছোপ ছোপ হয়ে, নরম বা অন্য রঙে ফিরে আসে, আর কিছু প্রাণীতে উপরের লোম আর কখনও ঠিকমতো ফেরে না। নিচের স্তর কেটে ফেলার বদলে ব্রাশ করে বের করুন।
সতর্কতা: ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড-এর লোম সহজেই জট বাঁধে।
মিহি বা লম্বা লোম লোমের গোড়ায়, চোখের আড়ালে, জড়িয়ে যায়, যেখানে জট শক্ত হয়ে চামড়া টানে। ব্রাশ ভাগ ভাগ করে একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, শুধু উপর দিয়ে চালালে হবে না।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড মাঝারি গড়নের একটি ডাচ শিকারি কুকুর, স্বভাবে নরম ও পরিবারের প্রতি অনুগত, একইসাথে দক্ষ শিকার সঙ্গী এবং গৃহপালিত পোষ্য হিসেবে পরিচিত।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড, সংক্ষেপে অনেকে যাকে ড্রেন্ট বলে ডাকেন, নেদারল্যান্ডসের ড্রেন্থে প্রদেশের একটি মাঝারি আকারের বন্দুক কুকুর। নামের অর্থ দাঁড়ায় ড্রেন্থে অঞ্চলের তিতির কুকুর, কেননা এই জাতটি মূলত তিতির পাখি শিকারের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল। এটি বহুমুখী মহাদেশীয় পয়েন্টিং জাতের একটি, যেসব কুকুরের কাছে স্থলে ও জলে শিকার খুঁজে বের করা, নির্দেশ (পয়েন্ট) করা এবং শিকার তুলে আনার কাজ প্রত্যাশিত।
এটি একটি কর্মঠ জাত, তবে স্বভাব বেশ নরম এবং মানুষকেন্দ্রিক। মালিকরা বলেন, ড্রেন্ট পরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকে, চাপাচাপি না করে বরং কিছুটা সংযত থাকে এবং আশপাশের মানুষের মেজাজের পরিবর্তন সহজেই ধরতে পারে। মাঠে কাজের তাগিদ আর ঘরে ফিরে শান্ত হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা, এই দুটোর সমন্বয়ই কারণ কেন জাতটি একইসাথে শিকারি কুকুর এবং পারিবারিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিতি ধরে রেখেছে।
নেদারল্যান্ডসের বাইরে এই জাত এখনো তুলনামূলক বিরল। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়েছে, তবে পরিচিত পয়েন্টিং ও সেটার জাতগুলোর তুলনায় এটি এখনো অনেক কম দেখা যায়। বাংলাদেশে এই জাতের কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্রিডার বা নিবন্ধন নেই, ফলে আগ্রহীদের ইউরোপীয় ব্রিডারদের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হয়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | নেদারল্যান্ডস (ড্রেন্থে প্রদেশ) |
| আকার | মাঝারি |
| আয়ুষ্কাল | ১১ থেকে ১৪ বছর |
| গ্রুপ / ভূমিকা | বহুমুখী পয়েন্টিং বন্দুক কুকুর |
| সঙ্গে মানানসই | পরিবার, শিশু, সামাজিকীকরণ করা হলে অন্য কুকুর |
ড্রেন্ট এমন একটি সক্রিয় পরিবারের জন্য উপযুক্ত যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করাতে পারে এবং নিয়মিত মানসিক কাজ দিতে পারে, বিশেষত যাদের হাতে কুকুরের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো অবসর আছে, দীর্ঘ সময় একা ফেলে রাখার সুযোগ নেই। এর সংবেদনশীল স্বভাবের কারণে শান্ত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণে এটি সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়, কঠোর শাসনে বরং পিছিয়ে যায়। শিকারিরা এর সার্বিক মাঠ দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন, তবে দীর্ঘ হাঁটা, গন্ধ খোঁজার খেলা বা কুকুর খেলাধুলার মতো কাঠামোবদ্ধ কার্যক্রম দেওয়া গেলে এটি সাধারণ পোষা পরিবারেও ভালোভাবে মানিয়ে নেয়।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড কয়েক শতাব্দী ধরে নেদারল্যান্ডসের ড্রেন্থে অঞ্চলে পুরনো মহাদেশীয় শিকারি কুকুরের ধারা থেকে গড়ে উঠেছে এবং ১৯৪৩ সালে নেদারল্যান্ডসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ডের শিকড় স্প্যানিয়েল ও পয়েন্টিং কুকুরের সেই ধারায়, যা ষোড়শ শতাব্দী থেকে পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময়ের ডাচ ও ফ্লেমিশ চিত্রকর্মে এই ধরনের কুকুরের ছবি দেখা যায়, যা বড় জমিদারির সম্পত্তি নয় বরং কৃষক ও সাধারণ গ্রামীণ পরিবারের নিত্যদিনের শিকার সঙ্গী হিসেবে তাদের ভূমিকা তুলে ধরে।
জাতটি তার স্থায়ী রূপ পায় নেদারল্যান্ডসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামীণ প্রদেশ ড্রেন্থেতে। সেখানকার স্থানীয় জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল, আর প্রজননে এমন এক কুকুরকে প্রাধান্য দেওয়া হতো যে বিভিন্ন কাজ সামলাতে পারে, যেমন তিতিরের মতো পাখি নির্দেশ করা, ট্র্যাক করা এবং শিকার তুলে আনা। ছোট খামারে সর্বমুখী কাজের এই চাহিদাই আজকের মাঝারি আকার আর স্থির স্বভাব গড়ে তুলেছে।
আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে ১৯৪৩ সালে, যখন ডাচ কেনেল কর্তৃপক্ষ রাড ফান বেহেয়ার (Raad van Beheer) ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ডকে পৃথক জাত হিসেবে নিবন্ধিত করে। জাতের বিকাশ তদারকি করতে এবং কনফরমেশনের পাশাপাশি কর্মক্ষমতার বৈশিষ্ট্য অক্ষত রাখতে একটি ব্রিড ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই জাতের ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় নেদারল্যান্ডসকেন্দ্রিক থেকে গেছে। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ এবং উত্তর আমেরিকায় রপ্তানি হয়েছে বেশ সাম্প্রতিক কালে, এবং সেসব অঞ্চলের নিবেদিত প্রজননবিদরা তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠাতা জনসংখ্যা মাথায় রেখে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এই ইতিহাস এখনো তেমন পরিচিত নয়, কারণ জাতটি এই অঞ্চলে সম্প্রতি পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড মাঝারি লোমযুক্ত, কান, পা ও লেজে পালকের মতো লোমসহ একটি সুষম মাঝারি আকারের কুকুর, যার গায়ের রঙ সাদা জমিনে বাদামি বা কমলা ছোপ।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড গতি বা ভারী গড়নের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সহনশীলতার জন্য তৈরি। এটি একটি সুঠাম মাঝারি কুকুর, পিঠের রেখা সমতল, বুক গভীর এবং হাড় মাঝারি ঘনত্বের। সামগ্রিক ছাপটা এমন একটি ক্ষিপ্র মাঠ কুকুরের, যে সারাদিন কাজ করার মতো যথেষ্ট হালকা। মাথা শুকনো ধরনের এবং চাহনি নরম, কোমল চোখই এই জাতের বৈশিষ্ট্য।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ কুকুর প্রায় ৫৮ থেকে ৬৩ সেমি; স্ত্রী কুকুর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ সেমি (কাঁধ পর্যন্ত) |
| ওজন | প্রায় ২১ থেকে ২৫ কেজি |
| লোম | মাঝারি দৈর্ঘ্যের, ঘন, কান, পা ও লেজে পালকের মতো লোম |
| রঙ | সাদা জমিনে বাদামি বা কমলা ছোপ; টিকিং ও রোয়ান হরহামেশা দেখা যায় |
| চোখ | অ্যাম্বার রঙের, ডিম্বাকার, চাহনি মৃদু ও বন্ধুত্বপূর্ণ |
লোমের দৈর্ঘ্য মাঝারি এবং তা মোটামুটি সমতলভাবে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে, তবে পায়ের পেছনের অংশ, কান ও লেজে লম্বা লোম পালকের মতো আকার নেয়। ঠান্ডা ও ভেজা পরিবেশে মাঠের কাজের জন্য এই লোম যথেষ্ট আবহাওয়া সহনশীল। প্রমিত রঙের বিন্যাস হলো সাদা জমিনের উপর বাদামি বা কমলা ছোপ। অনেক কুকুরের সাদা অংশে টিকিং বা রোয়ান দাগও দেখা যায়, আর পিঠজুড়ে ম্যান্টল প্যাটার্নও গ্রহণযোগ্য। বাদামি বা কমলা রঙের মাথায় সাদা দাগ (ব্লেজ) সাধারণ দৃশ্য।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড স্নেহপ্রবণ, নরম স্বভাবের ও অনুগত, পরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, সাধারণত শিশু ও অন্য কুকুরের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নেয়, আর অপরিচিতদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক না হয়ে সংযত থাকে।
ড্রেন্টের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে তার স্বভাব। জাতটি স্নেহপ্রবণ এবং পরিবারের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত, প্রায়ই বলা হয় যে সারাদিন সে তার মানুষের কাছাকাছি থাকতে চায়। এটি ভদ্র ও ধৈর্যশীল, ফলে তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশুসহ পরিবারের জন্য এটি একটি স্থির সঙ্গী হয়ে ওঠে।
অপরিচিতদের সঙ্গে ড্রেন্ট সাধারণত প্রথমে সংযত থাকে, ভীত বা তীক্ষ্ণ আচরণ করে না। মালিকের প্রতিক্রিয়া দেখে ধীরে ধীরে সহজ হয়ে ওঠে। অতিথি ও নতুন জায়গার সঙ্গে শৈশব থেকেই ইতিবাচক পরিচয় করালে স্বাভাবিক সংযমটা লাজুকতায় পরিণত না হয়ে শান্ত আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয়।
অন্য কুকুরের সঙ্গে জাতটি সাধারণত ভালো মেলামেশা করে, আর সতর্কভাবে পরিচয় করালে বিড়ালের সঙ্গেও একই বাড়িতে থাকতে পারে। শিকারি অতীতের কারণে পাখি ও ছোট নড়াচড়া করা প্রাণীর প্রতি এর তীব্র আগ্রহ থাকে, তাই বাইরে রিকল ও তাড়না নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন জরুরি।
সংবেদনশীলতাই এই জাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মাথায় রাখা দরকার। ড্রেন্ট গলার স্বর ও শারীরিক ভাষা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে এবং ঘরে কঠোর আচরণ বা উত্তেজনা থাকলে গুটিয়ে যেতে পারে। ধারাবাহিকতা, ন্যায্যতা আর শান্ত পরিবেশ থেকেই এর সেরা রূপ বেরিয়ে আসে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহ | ৫ |
| শক্তি/উদ্যম | ৪ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৪ |
| ঘেউ ঘেউ করার প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরা | ৩ |
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ডের প্রতি সপ্তাহে ব্রাশিং, প্রতিদিন ব্যায়ামের পাশাপাশি মানসিক উদ্দীপনা এবং পরিবারের কাছাকাছি থাকা দরকার, তবেই সে শান্ত ও তৃপ্ত থাকে।
ড্রেন্টের দৈনন্দিন যত্ন মাঝারি ধরনের। লোম ব্যবহারিক, কুকুরটি বেশ কষ্টসহিষ্ণু, আর মূল দায়িত্ব হলো উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণের বদলে ব্যায়াম আর সঙ্গ দেওয়া।
বাইরের জায়গার সুযোগ আছে এবং প্রতিদিনের কাজে কুকুরকে জড়িয়ে রাখে এমন পরিবারেই ড্রেন্ট সবচেয়ে ভালো থাকে। ব্যায়ামের চাহিদা পূরণ হলে বিভিন্ন ধরনের বাসস্থানে মানিয়ে নিতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় একা রাখার জন্য এটি উপযুক্ত নয়। এত বেশি মানুষকেন্দ্রিক জাতের ক্ষেত্রে একাকীত্ব সাধারণত মানসিক চাপের আচরণ ডেকে আনে। ঢাকার মতো শহরে ফ্ল্যাটে রাখলে প্রতিদিনের হাঁটা ও খোলা জায়গায় দৌড়ানোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি, আর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দিনের প্রথম ভাগে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করানোই ভালো।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড তার বয়স ও কর্মক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে সুষম খাবার পেলে ভালো থাকে; ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমাপ করে বেশ কয়েক বেলায় খাওয়ানো উচিত।
ড্রেন্টকে তার বয়স, আকার ও কাজের চাপ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ও সুষম কুকুরের খাবার দেওয়া উচিত। সক্রিয় শিকারি কুকুর আর বেড়ে ওঠা বাচ্চাদের হালকা ব্যায়াম করা প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরের চেয়ে বেশি শক্তি দরকার হয়, তাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বদলে প্রতিটি কুকুরের অবস্থা বুঝে খাবারের পরিমাণ ঠিক করাই ভালো। কুকুরকে ছিপছিপে রাখলে কাজের জীবনজুড়ে জয়েন্ট ও সহনশীলতা ভালো থাকে।
| বয়সের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বেলা সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাচ্চা (২ থেকে ৬ মাস) | প্রত্যাশিত প্রাপ্তবয়স্ক ওজন অনুযায়ী খাবারের প্যাকেটের চার্ট মেনে | ৩ থেকে ৪ |
| কিশোর (৬ থেকে ১২ মাস) | প্যাকেটের চার্ট মেনে, ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক পরিমাণের দিকে | ২ থেকে ৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক (১ থেকে ৭ বছর) | প্রায় ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম মানসম্পন্ন শুকনো খাবার | ২ |
| প্রবীণ (৭ বছর ও তার বেশি) | কর্মক্ষমতা কমলে পরিমাণ কমান | ২ |
প্রশিক্ষণে ট্রিট ব্যবহার করুন, তবে তা দৈনিক ক্যালরির প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখুন। সম্পূর্ণ ও সুষম খাবার খাওয়া কুকুরের সাধারণত বাড়তি সাপ্লিমেন্ট লাগে না; জয়েন্ট, ত্বক বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুধু পশুচিকিৎসকের পরামর্শেই দিন। সবসময় বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য রাখুন, আর ভারী কাজের ঠিক আগে নয়, ব্যায়ামের পরেই বেশিরভাগ খাবার দিন।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড সাধারণত সুস্থ থাকে এবং ১১ থেকে ১৪ বছর বাঁচে, তবে দায়িত্বশীল ব্রিডাররা হিপ ডিসপ্লেসিয়াসহ কয়েকটি বংশগত সমস্যার জন্য পরীক্ষা করান।
ড্রেন্ট একটি সবল কর্মঠ জাত, সাধারণ আয়ুষ্কাল ১১ থেকে ১৪ বছর। জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রজননযোগ্য কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, আর ব্রিড ক্লাবগুলো বংশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরীক্ষার উপর জোর দেয়। নিয়মিত যত্ন পেলে বেশিরভাগ কুকুর বার্ধক্যেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকে।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হিপ ডিসপ্লেসিয়া | শক্ত হয়ে যাওয়া, খুঁড়িয়ে হাঁটা, লাফাতে অনীহা | যেসব ব্রিডার বাবা-মায়ের হিপ স্কোর করান তাদের বেছে নিন |
| প্রোগ্রেসিভ রেটিনাল অ্যাট্রফি | রাতে কম দেখা, দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া | প্রজননকারী কুকুরের ডিএনএ ও চোখের পরীক্ষা ঝুঁকি কমায় |
| কানের সংক্রমণ | মাথা ঝাঁকানো, দুর্গন্ধ, কান চুলকানো | ঝুলে থাকা কানে আর্দ্রতা জমে; সাঁতারের পর পরীক্ষা করুন |
| হেরিডিটারি স্টোমাটোসাইটোসিস | লক্ষণ পরিবর্তনশীল; এই জাতে পরিচিত একটি উদ্বেগের বিষয় | ব্রিডার ও পশুচিকিৎসকের সঙ্গে স্ক্রিনিং নিয়ে আলোচনা করুন |
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড বুদ্ধিমান ও কাজ করতে আগ্রহী কিন্তু সংবেদনশীল, তাই ধৈর্যশীল পুরস্কারভিত্তিক পদ্ধতি ও নরম, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণেই সে সবচেয়ে দ্রুত শেখে।
ড্রেন্ট বুদ্ধিমান এবং সহযোগিতা করতে আগ্রহী, যা একে ওবিডিয়েন্স, ফিল্ড ওয়ার্ক এবং কুকুর খেলাধুলায় দক্ষ শিক্ষার্থী বানায়। তবে এর বিনিময়ে আছে সংবেদনশীলতা: কঠোর সংশোধন বা ভারী হাত এতে ভালো কাজ করে না, চাপ পড়লে এটি বেশি চেষ্টা করার বদলে গুটিয়ে যায়। ছোট, প্রাণবন্ত সেশন এবং স্পষ্ট পুরস্কার একে মনোযোগী রাখে। জাতের স্বাভাবিক সংযমকে ভারসাম্যে আনতে মানুষ, কুকুর ও বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে শৈশবেই পরিচয় করানো জরুরি। শিকারি প্রবৃত্তি প্রবল বলে পাখির আশেপাশে রিকল আর স্থিরতার প্রতি আলাদা মনোযোগ দরকার।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ডের প্রজননে স্বাস্থ্য পরীক্ষিত পিতামাতা ও সতর্ক মিলন জরুরি, কারণ জাতের ছোট জনসংখ্যায় জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষাই প্রধান অগ্রাধিকার।
ড্রেন্টের দায়িত্বশীল প্রজনন কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও জিনগত বৈচিত্র্যকে। জাতটি তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিষ্ঠাতা জনসংখ্যা থেকে এসেছে, তাই ব্রিড ক্লাবগুলো বংশতালিকা নথিভুক্ত রাখে এবং বংশগত সমস্যা ঘনীভূত হওয়া ঠেকাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উৎসাহ দেয়। স্ত্রী কুকুর প্রজননযোগ্য হওয়ার আগেই শারীরিকভাবে পরিণত হয়ে ওঠে, তাই বেশিরভাগ পরামর্শ অন্তত দ্বিতীয় হিট সাইকেল এবং পূর্ণ পরিণত বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার পক্ষে। মিলনের জোড়া বাছাইয়ে সাধারণত ইনব্রিডিং সহগ, হিপ স্কোর এবং চোখ ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের দিকে খেয়াল রাখা হয়।
গর্ভধারণকাল প্রায় ৬৩ দিন, অন্য কুকুরের মতোই। লিটারের আকার সাধারণত মাঝারি। বাচ্চা বড় করার সময় মা কুকুরকে সুস্থ রাখা, শান্ত একটি হুয়েলপিং জায়গা দেওয়া এবং শুরুর সপ্তাহগুলোতেই আলতো সামাজিকীকরণ শুরু করা জরুরি, যাতে নতুন বাড়িতে যাওয়ার আগে বাচ্চারা বিভিন্ন দৃশ্য, শব্দ ও মানুষের সংস্পর্শে আসে। এই জাতের সংবেদনশীলতার কারণে শৈশবে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার মতো হ্যান্ডলিং সারাজীবন কাজে লাগে।
| সূচক | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রায় ৬ থেকে ১২ মাস, তবে প্রজনন পূর্ণ পরিণত বয়স পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা হয় |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| গড় লিটারের আকার | সাধারণত ৬ থেকে ৮টি বাচ্চা |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ |
| প্রজননের অগ্রাধিকার | স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জিনগত বৈচিত্র্য |
United Pet Club-এ আপনার ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড জাতের কুকুরের নাম, জন্মতারিখ আর একটা পরিষ্কার ছবি লিখুন, নিজের ফোন নম্বর যোগ করে সংরক্ষণ করুন। ব্যস, এটুকুই; আজও বিনামূল্যে, চিরকালও। কুকুর নিবন্ধন চিপ থাকলেও চলে, না থাকলেও।
চিকিৎসক চিপ বসিয়ে দেন, কিন্তু নম্বরটা নিবন্ধন কেউ আপনার হয়ে করে না, আর অনিবন্ধিত চিপ কারও পরিচয় বলে না। মাইক্রোচিপ নিবন্ধন করুন, আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে: যেকোনো ব্র্যান্ডের চিপ গ্রহণযোগ্য, ঠিকানা বদলালে হালনাগাদ ফ্রি, আর রেকর্ড দেশে-বিদেশে সব সময় খোঁজা যায়। বিদেশ ভ্রমণে প্রাণিসম্পদের Animal Quarantine কাগজপত্রের পাশে এই রেকর্ডই আপনার কুকুরের পরিচয় বহন করে। বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, ড্রেন্টসে পাট্রাইশন্ড জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
ড্রেন্টসে পাট্রিসহন্ড নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে আছে এর আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, পারিবারিক কুকুর হিসেবে উপযুক্ততা এবং এর প্রাপ্যতা।
এটি মাঝারি আকারের কুকুর। পুরুষ কুকুর কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ থেকে ৬৩ সেমি এবং স্ত্রী কুকুর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ সেমি লম্বা হয়, আর বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ওজন থাকে প্রায় ২১ থেকে ২৫ কেজি।
ড্রেন্ট স্নেহপ্রবণ, নরম স্বভাবের ও অনুগত, পরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং সাধারণত শিশু ও অন্য কুকুরের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নেয়। অপরিচিতদের সঙ্গে প্রথমে সংযত থাকে আর কঠোর আচরণে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখায়।
যত্ন মাঝারি ধরনের। লোমে সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্রাশ করলেই চলে, আর মূল দায়িত্ব হলো প্রতিদিনের ব্যায়াম আর মানসিক কাজ। দীর্ঘ সময় একা থাকলে জাতটি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে না।
সাধারণ আয়ুষ্কাল ১১ থেকে ১৪ বছর। ভালো পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম আর নিয়মিত পশুচিকিৎসা সেবা পেলে অনেকে বার্ধক্যেও সক্রিয় থাকে।
হ্যাঁ, এমন সক্রিয় পরিবারের জন্য যারা এটিকে দৈনন্দিন জীবনে জড়িয়ে রাখতে পারে। এর নরম ও ধৈর্যশীল স্বভাব শিশু থাকা পরিবারের সঙ্গে ভালো মানায়, তবে তত্ত্বাবধান আর ব্যায়ামের চাহিদা পূরণ হতে হবে।
নেদারল্যান্ডসের বাইরে এখনো এটি বিরল। অন্য জায়গায় ব্রিডারের সংখ্যা সীমিত এবং অপেক্ষার তালিকা থাকতে পারে বলে ধরে নিন, আর এমন ব্রিডার বেছে নিন যারা তাদের কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
হ্যাঁ, বেশ ভালো পরিমাণেই দরকার। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রাখুন, নিরাপদ জায়গায় লিড ছাড়া দৌড়ানোসহ, সঙ্গে প্রশিক্ষণ বা গন্ধ খোঁজার খেলা যোগ করুন যাতে কর্মপ্রবৃত্তি তৃপ্ত হয়।