
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ হলো এক বহুমুখী, বন্ধুত্বপূর্ণ ছোট্ট খামার কুকুর, যা তার খেলাপ্রিয় মনোভাব এবং প্রাণবন্ত, স্নেহশীল স্বভাবের জন্য পরিচিত।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ-এর লোম কীভাবে গঠিত এবং পরিচর্যায় তার মানে কী।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ ডেনমার্কের ছোট আকারের প্রাণবন্ত খামার কুকুর, খেলাপ্রিয় স্বভাব ও মালিকের প্রতি গভীর টান যার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ একটি ছোট আকারের সঙ্গী ও কর্মঠ কুকুর, যার উৎপত্তি ডেনমার্ক ও দক্ষিণ সুইডেনের খামারগুলোতে। গড়ন ছোট হলেও শরীরটা বেশ সক্রিয়, আর একসময় এদের রাখা হতো ইঁদুর তাড়ানো, উঠান পাহারা দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গ দেওয়ার কাজে। মানুষের সঙ্গে এরা বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে।
স্বভাবে এরা প্রাণবন্ত ও চঞ্চল। খেলা পছন্দ করে, দ্রুত শেখে এবং চারপাশে কী ঘটছে তার প্রতি সজাগ থাকে। অনেক মালিক বলেন, তাড়না বা তেজের দিক থেকে এরা টেরিয়ার গোছের হলেও মেজাজে অনেক বেশি স্থির, পর্যাপ্ত ব্যায়াম আর মনোযোগ পেলে ঘরের ভেতর নিশ্চিন্তে চুপচাপ বসে থাকতে পারে।
ওজন মোটামুটি ৭ থেকে ১২ কেজি এবং কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৩০ থেকে ৩৯ সেন্টিমিটার হওয়ায় ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ ছোট থেকে বড়, নানা আকারের বাসাতেই মানিয়ে নিতে পারে। যেসব মালিক প্রতিদিন সময় দিতে পারেন, খেলাধুলা ও নিয়মিত সঙ্গ দিতে পারেন, দীর্ঘ সময় একা রেখে নয়, তাদের জন্য এই জাত বেশি উপযুক্ত।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | ডেনমার্ক |
| আকার | ছোট (প্রায় ৭ থেকে ১২ কেজি) |
| আয়ুষ্কাল | ১১ থেকে ১৩ বছর |
| শ্রেণি/ভূমিকা | খামার কুকুর, ইঁদুর তাড়ানোর কুকুর, সঙ্গী, প্রহরী |
| উপযুক্ত | পরিবার, শিশু ও সামাজিকীকরণ করা হলে অন্য কুকুরের সঙ্গেও |
এই জাত সক্রিয় মানুষ এবং পরিবারের জন্য উপযুক্ত, যারা শক্তি ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একটি ছোট কুকুর চান। উঠানসহ বাড়িতে এরা ভালো থাকে, তবে নিয়মিত ব্যায়াম করালে ফ্ল্যাটেও থাকতে পারে। যারা কুকুরটিকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে নিতে পারেন এবং মস্তিষ্কচর্চার সুযোগ দিতে পারেন, তারা দেখবেন এই কুকুর সহজেই মানিয়ে নেয় আর উৎসাহ নিয়ে অংশ নিতে চায়।
ডেনমার্ক ও দক্ষিণ সুইডেনের খামার থেকে উঠে আসা ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ একসময় ইঁদুর তাড়ানো ও পাহারার কাজ করত, পরে ১৯৮০-এর দশকের শেষে স্বতন্ত্র জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগের পূর্বপুরুষ হলো ছোট আকারের খামার কুকুর, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ডেনমার্ক এবং দক্ষিণ সুইডেনের স্কানিয়া অঞ্চলে বসবাস করে আসছিল। গ্রামীণ খামারবাড়িতে এরা ছিল সর্বকাজের সহায়ক, গোলাঘর ও গুদামে ইঁদুর দমন করা, অচেনা লোক এলে সতর্ক করা এবং পরিবারের সঙ্গে থাকাই ছিল এদের কাজ। চেহারার সামঞ্জস্যের চেয়ে কাজের উপযোগিতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাই খামারভেদে এদের গড়নে তারতম্য থাকত।
বিংশ শতাব্দীতে কৃষিকাজের ধরন বদলাতে থাকায় গ্রামাঞ্চলে এই কুকুরের সংখ্যা কমতে থাকে, এবং পুরোনো ধরনটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ডেনমার্ক ও সুইডেনের প্রজননবিদ ও কেনেল ক্লাবের কর্মীরা অবশিষ্ট কুকুরগুলোর তথ্য রেকর্ড করতে শুরু করেন, তাদের গঠন ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মান নির্ধারণের কাজে নামেন।
দুই দেশ মিলে একটি অভিন্ন মান তৈরি করে, যার প্রতিফলন ঘটেছে জাতের নামে, ড্যানিশ আর সুইডিশ শব্দ দুটির মিলনে। ১৯৮৭ সালে ডেনমার্ক ও সুইডেনের কেনেল ক্লাব এই জাতকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কাইনোলজিক ফেডারেশনও (এফসিআই) জাতটিকে স্বীকৃত সঙ্গী ও কর্মঠ কুকুরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বাইরে ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল, যদিও ইউরোপের অন্যান্য অংশ ও উত্তর আমেরিকায় এর প্রতি আগ্রহ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে অনেকে একে সঙ্গী কুকুর এবং স্পোর্টে সক্রিয় কুকুর হিসেবে পুষে থাকেন। বাংলাদেশে এই জাতের উপস্থিতি এখনো একেবারেই সীমিত, তাই আগ্রহী মালিকদের সাধারণত বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব বা এফসিআই-অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নিতে হয়।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ ছোট, মজবুত গড়নের কুকুর, খাটো মসৃণ লোম মূলত সাদা রঙের উপর নানা রঙের ছোপসহ, আর মুখভঙ্গি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সতর্ক।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ আকারে ছোট কিন্তু মজবুত, শরীরটা আয়তক্ষেত্রাকার এবং উচ্চতার চেয়ে সামান্য লম্বা। গড়নে সূক্ষ্মতার চেয়ে ভারসাম্যই বেশি চোখে পড়ে, দেখতে মনে হয় একটি নিখুঁত কর্মঠ কুকুর। মাথা ছোট, ত্রিকোণাকার এবং স্টপ স্পষ্ট, কান বসানো থাকে উঁচুতে, কখনো পুরোপুরি খাড়া, কখনো আগার দিক সামান্য ভাঁজ করা বা সামনের দিকে হেলানো। মুখভঙ্গিতে সতর্কতা আর বন্ধুত্বের ছাপ স্পষ্ট থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | পুরুষ কুকুরে প্রায় ৩৪ থেকে ৩৯ সেমি, স্ত্রী কুকুরে ৩২ থেকে ৩৭ সেমি |
| ওজন | প্রায় ৭ থেকে ১২ কেজি |
| লোম | খাটো, মসৃণ, শক্ত ও শরীরের সঙ্গে লেপ্টে থাকা |
| রং | সাদার উপর কালো, বাদামি, ট্যান বা ফন রঙের ছোপ |
| চোখ | মাঝারি আকারের, গোলাকার, গাঢ় রঙের; লোমের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কিছুটা হালকা হতে পারে |
লোম খাটো এবং শরীরের সঙ্গে মিশে থাকে বলে যত্ন নেওয়া সহজ। মূল রং সাদা, তার উপর কালো, ট্যান, বাদামি বা ফন রঙের ছোপ থাকে। এই ছোপ সাধারণত মাথায় ও শরীর জুড়ে দেখা যায়, আর একটি কুকুর থেকে আরেকটির নকশা আলাদা হয়। চোখের উপরে ও পায়ে ট্যান রঙের বিন্দু দেখা যেতে পারে। মসৃণ লোম ঠান্ডা বা ভেজা আবহাওয়ায় খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না, তাই কনকনে শীত বা বৃষ্টির সময় এই কুকুরের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ বন্ধুত্বপূর্ণ, স্নেহপ্রবণ ও খেলাপ্রিয়, পরিবারের প্রতি মনোযোগী এবং প্রহরী হিসেবে সতর্ক, তবু ঘরে থাকে শান্ত ও মানিয়ে নেওয়ার মতো।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ স্নেহপ্রবণ ও মিশুক স্বভাবের কুকুর, যে মালিকের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে। বয়স বাড়ার পরেও এরা খেলাপ্রিয় থাকে এবং খেলা, প্রশিক্ষণ, সঙ্গ পেতে ভালোবাসে। শিশুদের সঙ্গে সাধারণত ধৈর্যশীল ও কোমল আচরণ করে, আর ঠিকমতো পরিচয় করিয়ে দিলে অন্য কুকুরের সঙ্গেও মিশে যায়।
অচেনা মানুষের সঙ্গে এই জাত বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও সতর্ক থাকে। খামারে কাজ করার পুরোনো অভ্যাস থেকে এরা কারো আগমন লক্ষ করে জানান দেয়, ফলে আক্রমণাত্মক না হয়েও একটি দক্ষ ছোট প্রহরী কুকুর হয়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকে সামাজিকীকরণ করালে নতুন মানুষ বা পরিস্থিতিতেও এরা আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভার থাকে।
ইঁদুর তাড়ানোর পুরোনো কাজের ফলে ছোট প্রাণী তাড়া করার প্রবল প্রবৃত্তি এখনও রয়ে গেছে। বাসায় বিড়াল বা অন্য ছোট পোষা প্রাণী থাকলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকা দরকার। পর্যাপ্ত কার্যক্রম ও মনোযোগ পেলে কুকুরটি ঘরের ভেতর শান্ত ও সহজ থাকে, তবে একঘেয়েমি বা ব্যায়ামের অভাবে থাকলে অস্থির হয়ে উঠতে পারে বা বেশি ডাকতে শুরু করতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহ | ৫ |
| শক্তি | ৪ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৪ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ৩ |
| লোম ঝরা | ২ |
লোমের যত্নে ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ খুব বেশি সময় নেয় না, তবে খুশি ও শান্ত থাকতে প্রতিদিন ব্যায়াম আর মস্তিষ্কচর্চা প্রয়োজন।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ বাড়ি ও ফ্ল্যাট উভয় পরিবেশেই মানিয়ে নেয়, শর্ত হলো প্রতিদিন ব্যায়াম পাওয়া। দৌড়ানো ও খেলার প্রতি ভালোবাসার কারণে ঘেরা উঠান থাকলে ভালো হয়। খাটো লোম বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে না, তাই ঘরের ভেতর উষ্ণ বিছানা এবং ঠান্ডা বা বৃষ্টির সময় সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা উচিত। বাইরে একা রাখার চেয়ে পরিবারের কাছাকাছি থাকতেই এই কুকুর বেশি পছন্দ করে।
আকার ও কর্মক্ষমতার সঙ্গে মানানসই সুষম খাদ্যে ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ ভালো থাকে, শরীর ছিপছিপে রাখতে হিসাব করে খাবার দেওয়াই ভালো।
ছোট জাতের জন্য তৈরি এবং কুকুরের বয়স ও কর্মক্ষমতার সঙ্গে মানানসই সম্পূর্ণ খাবার দিন। জাতটি সক্রিয় বলে নিয়মিত পরিশ্রম করা প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরের একই ওজনের অলস কুকুরের চেয়ে একটু বেশি খাবার লাগতে পারে। খাবারের প্যাকেটে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন এবং প্রয়োজনে সমন্বয় করুন যাতে কুকুরটি ছিপছিপে থাকে, পাঁজর হাতে অনুভব করা গেলেও চোখে দেখা না যায়। তাজা পানি সবসময় সামনে রাখা উচিত।
| বয়সের ধাপ | দৈনিক পরিমাণ | বারের সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাচ্চা কুকুর (২ থেকে ৬ মাস) | পাপি-ফুডের নির্দেশনা অনুযায়ী | ৩ থেকে ৪ |
| কিশোর (৬ থেকে ১২ মাস) | প্রায় ১০০ থেকে ১৮০ গ্রাম শুকনো খাবার | ২ থেকে ৩ |
| প্রাপ্তবয়স্ক (১ থেকে ৭ বছর) | প্রায় ৯০ থেকে ১৬০ গ্রাম শুকনো খাবার | ২ |
| বয়স্ক (৮ বছর ও তার বেশি) | প্রায় ৮০ থেকে ১৪০ গ্রাম, কর্মক্ষমতা অনুযায়ী সমন্বয় করে | ২ |
দৈনিক ক্যালরির প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে ট্রিট সীমিত রাখুন, যাতে খাদ্যের ভারসাম্য নষ্ট না হয় বা ওজন বেড়ে না যায়। খাবারের প্রতি আগ্রহী এই জাতের জন্য ছোট আকারের প্রশিক্ষণ ট্রিট ভালো কাজ করে। সুষম ও সম্পূর্ণ খাবার খাওয়ানো হলে সাধারণত আলাদা সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না; জয়েন্ট বা ত্বকের সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার আগে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ সাধারণত সুস্থ থাকে এবং আয়ুষ্কাল ১১ থেকে ১৩ বছর, তবে ছোট জাতে দেখা যাওয়া কিছু সমস্যা নজরে রাখা দরকার।
কর্মঠ পটভূমি এবং বৈচিত্র্যময় জিন পুলের কারণে ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগকে সাধারণত শক্তসমর্থ ও সুস্থ জাত হিসেবে ধরা হয়। সাধারণ আয়ুষ্কাল ১১ থেকে ১৩ বছর। বেশিরভাগ ছোট জাতের মতোই কিছু বংশগত ও হাড়-জয়েন্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে, আর দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা পরীক্ষার সুযোগ থাকলে প্রজননের জন্য রাখা কুকুরদের স্ক্রিনিং করান।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্যাটেলার লাক্সেশন (হাঁটুর কাপ সরে যাওয়া) | হাঁটার সময় লাফানো ভঙ্গি, মাঝেমধ্যে পেছনের পায়ে খোঁড়ানো | ছোট জাতে সাধারণ; মৃদু থেকে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন পর্যায় পর্যন্ত হতে পারে |
| নিতম্ব বা জয়েন্টের সমস্যা | শরীর শক্ত হয়ে থাকা, লাফাতে বা দৌড়াতে অনীহা | কম দেখা যায়; কুকুরকে সুস্থ ওজনে রাখুন |
| দাঁতের রোগ | মুখে দুর্গন্ধ, দাঁতে ময়লা জমা, মাড়িতে ব্যথা | ছোট মুখের কুকুরের জন্য নিয়মিত দাঁতের যত্ন উপকারী |
| অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রদাহ | চুলকানি, লালচে ভাব, কানে সংক্রমণ | খাদ্য বা পরিবেশ বদলালে উপকার হতে পারে |
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ বুদ্ধিমান এবং মালিককে খুশি করতে আগ্রহী, তাই ইতিবাচক ও ধারাবাহিক পদ্ধতিতে ও ছোটবেলা থেকে সামাজিকীকরণ করালে দ্রুত শিখে নেয়।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ দ্রুত শেখে এবং মালিকের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করে, ফলে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ট্রিট, খেলা ও প্রশংসার মাধ্যমে পুরস্কারভিত্তিক পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়। ওবিডিয়েন্স এবং অ্যাজিলিটি বা র্যালির মতো কুকুরের খেলাধুলায় এই জাত ভালো করতে পারে, যেখানে তার শক্তি ও মনোযোগ কাজে লাগে। তাড়া করার সহজাত প্রবৃত্তি থাকায় ডাকলে কাছে আসা এবং তাড়না নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণে ছোটবেলা থেকেই ও পরবর্তীতেও ধারাবাহিক মনোযোগ দেওয়া দরকার।
অন্যান্য ছোট জাতের কুকুরের মতোই ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ বেড়ে ওঠে ও প্রজনন করে, গর্ভধারণকাল গড়ে প্রায় ৬৩ দিন এবং বাচ্চার সংখ্যা মাঝারি ধরনের।
স্ত্রী ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস বয়সে যৌন পরিপক্বতায় পৌঁছায়, তবে দায়িত্বশীল প্রজননকারীরা শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ পরিপক্বতা, সাধারণত দ্বিতীয় হিট চক্রের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। মিলন পরিকল্পনা করা হয় স্ত্রী কুকুরের হিট চক্র অনুযায়ী। গর্ভধারণকাল গড়ে প্রায় ৬৩ দিন, এরপর স্ত্রী কুকুর বাচ্চা প্রসব করে।
এই জাতের আকারের তুলনায় বাচ্চার সংখ্যা সাধারণত কম থেকে মাঝারি হয়। নবজাতক বাচ্চারা প্রথম কয়েক সপ্তাহ পুরোপুরি মায়ের উষ্ণতা ও দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে এবং প্রায় ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ বয়স থেকে দুধ ছাড়ানো শুরু হয়। ছোটবেলা থেকে আদরযত্ন এবং ঘরের নানা দৃশ্য ও শব্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচয় করালে বাচ্চারা আত্মবিশ্বাসী প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর হয়ে ওঠে। প্রাথমিক টিকা ও পশু চিকিৎসকের পরীক্ষার পর সাধারণত প্রায় ৮ সপ্তাহ বয়স থেকে বাচ্চারা নতুন বাড়িতে যায়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বাইরে এই জাত তুলনামূলকভাবে বিরল বলে স্বাস্থ্যসচেতন প্রজননকারীর কাছ থেকে বাচ্চা পেতে অপেক্ষার তালিকায় নাম লেখাতে হতে পারে, বাংলাদেশে আগ্রহীদের জন্য এফসিআই-অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
| বিষয় | মান |
|---|---|
| যৌন পরিপক্বতা | প্রায় ৬ থেকে ১২ মাস |
| প্রজননের প্রস্তাবিত বয়স | পূর্ণ পরিপক্বতার পর (সাধারণত ২ বছর) |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৬৩ দিন |
| গড় বাচ্চার সংখ্যা | প্রায় ৪ থেকে ৬টি |
| দুধ ছাড়ানো | প্রায় ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ |
| নতুন বাড়ির জন্য প্রস্তুত | প্রায় ৮ সপ্তাহ থেকে |
United Pet Club-এ আপনার ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ জাতের কুকুরের জন্য আজীবন বিনামূল্যের প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধনসহ, কোনো ফি ছাড়াই।
বাংলাদেশে পোষা কুকুরের কোনো জাতীয় নিবন্ধন খাতা নেই, তাই হারিয়ে যাওয়া ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ জাতের কুকুর আর আপনার মাঝে সেতু গড়ার দায়িত্বটা আপনারই। United Pet Club-এর বিনামূল্যের প্রোফাইল আপনার ফোন নম্বর ও ঠিকানা কুকুরের পরিচয়ের সঙ্গে বেঁধে রাখে; ঢাকার ক্লিনিকে বা বিদেশের শেল্টারে স্ক্যান হলেই খোঁজ পৌঁছে যায় আপনার কাছে। কুকুর নিবন্ধন করুন।
চিকিৎসক চিপ বসিয়ে দেন, কিন্তু নম্বরটা নিবন্ধন কেউ আপনার হয়ে করে না, আর অনিবন্ধিত চিপ কারও পরিচয় বলে না। মাইক্রোচিপ নিবন্ধন করুন, আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে: যেকোনো ব্র্যান্ডের চিপ গ্রহণযোগ্য, ঠিকানা বদলালে হালনাগাদ ফ্রি, আর রেকর্ড দেশে-বিদেশে সব সময় খোঁজা যায়। বিদেশ ভ্রমণে প্রাণিসম্পদের Animal Quarantine কাগজপত্রের পাশে এই রেকর্ডই আপনার কুকুরের পরিচয় বহন করে। বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন।
United Pet Club-এ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট খুলুন, ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ জাতের কুকুরের তথ্য ছবিসহ পূরণ করুন আর প্রোফাইল সংরক্ষণ করুন। কুকুরের সারা জীবন এটি বিনামূল্যে থাকে, চিপ নম্বর পরে যোগ করলেও চলে।
পনেরো সংখ্যার চিপ নম্বরটা ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে লিখুন। আজীবন প্ল্যান সব ব্র্যান্ডের চিপ নেয় আর হালনাগাদের জন্য কখনো টাকা চায় না।
জাতীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বিদেশ যাত্রায় Animal Quarantine-এর কাগজপত্র লাগে। চিপের আসল কাজ হয় তার পেছনে হালনাগাদ রেকর্ড থাকলে, আর সেই রেকর্ড United Pet Club-এ বিনামূল্যে।
কিছুই না। আজীবন বিনামূল্যের প্ল্যানে প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ নিবন্ধন আর ভবিষ্যতের সব হালনাগাদ ধরা আছে, বার্ষিক ফি ছাড়া।
ড্যানিশ-সুইডিশ ফার্মডগ নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলো ঘোরাফেরা করে আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা এবং প্রাপ্যতা নিয়ে।
এটি একটি ছোট জাত, কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৩২ থেকে ৩৯ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৭ থেকে ১২ কেজি, সাধারণত পুরুষ কুকুর স্ত্রী কুকুরের চেয়ে কিছুটা বড় হয়।
হ্যাঁ। এই জাত স্নেহপ্রবণ ও খেলাপ্রিয়, শিশুদের সঙ্গে সাধারণত ধৈর্যশীল ও কোমল আচরণ করে। ছোটবেলা থেকে সামাজিকীকরণ করালে মানুষ ও অন্য কুকুরের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।
প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা কার্যক্রম আর কিছুটা মস্তিষ্কচর্চা দরকার, তবে খাটো লোমের কারণে পরিচর্যা সহজ। মোটের উপর যত্ন নেওয়া মাঝারি পর্যায়ের, মূল চাহিদা এদের শক্তির।
সাধারণ আয়ুষ্কাল ১১ থেকে ১৩ বছর। ভালো খাবার, নিয়মিত পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান এবং সুস্থ ওজন দীর্ঘ ও সক্রিয় জীবনে সহায়তা করে।
প্রতিদিন ব্যায়াম ও সঙ্গ পেলে এই কুকুর ফ্ল্যাটেও থাকতে পারে। ঘেরা উঠান থাকলে বাড়তি সুবিধা হয়, তবে জায়গার চেয়ে নিয়মিত কার্যক্রমই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ডেনমার্ক ও সুইডেনে এই জাত সাধারণ, তবে অন্য জায়গায় তুলনামূলকভাবে বিরল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বাইরে বিশেষজ্ঞ প্রজননকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এবং অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হতে পারে। বাংলাদেশে আগ্রহী হলে বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব বা এফসিআই-অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নেওয়াই বাস্তবসম্মত।
এরা সতর্ক থাকে এবং অতিথি এলে জানান দেয়, ফলে একটি কার্যকর ছোট প্রহরী কুকুর হয়ে ওঠে, তবে অতিরিক্ত ডাকাডাকি করে না। পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও প্রশিক্ষণ ডাকাডাকি নিয়ন্ত্রণে রাখে।