সুমাত্রা
সুমাত্রা হলো ইন্দোনেশিয়ার একটি চকচকে, লম্বা-লেজবিশিষ্ট শোভাময় পাখি, যা তার দীপ্তিময় সবুজাভ-কালো পালক এবং লাবণ্যময়, সতর্ক ভঙ্গির জন্য প্রশংসিত।
- Size
- মাঝারি
- Lifespan
- 6–9 years
- Origin
- ইন্দোনেশিয়া
- Temperament
- সতর্ক
- Standard colors
- কালো, সাদা এবং নীল and 2 more
Characteristics
সুমাত্রা colors and patterns
What each club's breed standard says about every সুমাত্রা color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the সুমাত্রা in কালো, সাদা, নীল, বাদামি এবং লাল. Standard patterns: একরঙা, কিনারাদার, বার্চেন এবং কালো-বুক লাল.
| Color or pattern | APA | PCGB | EE | ABA |
|---|---|---|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“Black”) | মানসম্মত (“The black”) | মানসম্মত (“schwarz; schwarz-rot; wildfarbig”) | মানসম্মত (“Black”) |
| সাদা | No ruling | মানসম্মত (“The white”) | মানসম্মত (“weiß”) | মানসম্মত (“White”) |
| নীল | মানসম্মত (“Blue”) | মানসম্মত (“The blue”) | মানসম্মত (“blau-gesäumt”) | মানসম্মত (“Blue”) |
| বাদামি | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“wildfarbig”) | No ruling |
| লাল | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“wildfarbig; schwarz-rot”) | No ruling |
| Patterns | ||||
| একরঙা | মানসম্মত (“Black”) | মানসম্মত (“The black; The white”) | মানসম্মত (“schwarz; weiß”) | মানসম্মত (“Black; White”) |
| কিনারাদার | মানসম্মত (“Blue”) | মানসম্মত (“The blue”) | মানসম্মত (“blau-gesäumt”) | মানসম্মত (“Blue”) |
| বার্চেন | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“schwarz-rot”) | No ruling |
| কালো-বুক লাল | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“wildfarbig”) | No ruling |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| কালো | No ruling | মানসম্মত (“Eyes very dark brown or black (black preferred).”) |
| গাঢ় বাদামি | মানসম্মত (“Dark brown.”) | মানসম্মত (“Eyes very dark brown or black (black preferred).”) |
| Color or pattern |
|---|
| কালো |
| Color or pattern | APA |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“Legs and Toes: Black or dark slate.”) |
| স্লেট ধূসর | মানসম্মত (“Legs and Toes: Black or dark slate.”) |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| কালো | No ruling | মানসম্মত (“Face, comb, ear-lobes and throat black or gypsy faced . Red colour in comb, face or throat.”) |
| লাল | মানসম্মত (“Wattles and Ear-Lobe: Dark red.”) | মানসম্মত (“Face, comb, ear-lobes and throat black or gypsy faced . Red colour in comb, face or throat.”) |
| জামরঙা | মানসম্মত (“Comb and Face: Purple.”) | মানসম্মত (“Face, comb, ear-lobes and throat black or gypsy faced . Red colour in comb, face or throat.”) |
কালো
নীল
বন্য রং
| Color or pattern | EE |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“wildfarbig”) |
| বাদামি | মানসম্মত (“wildfarbig”) |
| লাল | মানসম্মত (“wildfarbig”) |
| Patterns | |
| কালো-বুক লাল | মানসম্মত (“wildfarbig”) |
লাল বার্চেন
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
- অযোগ্যকারী
- The club's breed standard disqualifies an animal of this color or pattern.
Color changes
How a সুমাত্রা's colors can change over its life.
কালোchanges toআড়াআড়ি ডোরা
পালক · বয়সের সঙ্গে · males only
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
সুমাত্রা মুরগি সম্পর্কে
সুমাত্রা মাঝারি আকারের একটি শৌখিন মুরগি, ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা। চকচকে সবুজাভ-কালো পালক, লম্বা ছড়ানো লেজ আর সতর্ক, স্বাধীন স্বভাবের জন্য এটি পরিচিত।
সুমাত্রা একটি শৌখিন মুরগি, যার উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। এটি হালকা গড়নের, চটপটে একটি পাখি, যার কালো পালকে আলোর তীব্রতা অনুযায়ী সবুজাভ ঝিলিক দেখা যায়। মাংস বা ডিমের জন্য নয়, মূলত সৌন্দর্যের জন্যই এই জাত পালন করা হয়, আর বাংলাদেশে সাধারণ গৃহপালিত মুরগির তুলনায় এটি এখনও বেশ বিরল, শুধু শৌখিন খামারিদের সংগ্রহেই বেশি দেখা যায়।
একটি পূর্ণবয়স্ক সুমাত্রা মুরগির ওজন প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ কেজি, অর্থাৎ আকারে মাঝারি গোত্রের। শরীর নিচু আর প্রায় আনুভূমিকভাবে বহন করে, আর লেজ লম্বা ও ছড়ানো, মোরগের ক্ষেত্রে যা শরীরের অনেকটা পেছন পর্যন্ত টেনে যায়। স্ত্রী মুরগি আকারে ছোট আর লেজও তুলনামূলক খাটো, তবে গায়ের রং একই রকম গাঢ় আর চকচকে থাকে।
সুমাত্রা মুরগি সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর বেশিরভাগ গৃহপালিত জাতের চেয়ে ভালো উড়তে পারে। মানুষের কাছাকাছি এরা সতর্ক আর কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখে, নিয়মিত হাতে ধরে অভ্যস্ত না করলে সহজে কাছে আসে না। যারা উৎপাদনের চেয়ে সৌন্দর্য আর স্বাভাবিক আচরণকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্যই এই জাত উপযুক্ত।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | ইন্দোনেশিয়া (সুমাত্রা দ্বীপ) |
| আকার | মাঝারি (প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ কেজি) |
| আয়ুষ্কাল | ৬ থেকে ৯ বছর |
| গোত্র/ভূমিকা | শৌখিন মুরগি |
| যাদের জন্য উপযুক্ত | অভিজ্ঞ খামারি, বড় ও নিরাপদ ঘেরা জায়গা, শান্ত সঙ্গী মুরগি |
সুমাত্রা কাদের জন্য উপযুক্ত
যারা আকর্ষণীয়, স্বনির্ভর একটা পাখি চান আর পর্যাপ্ত জায়গা ও ঢাকা ঘের দিতে পারবেন, সুমাত্রা তাদের জন্যই ভালো। এর শক্তিশালী উড়াল আর সতর্ক স্বভাবের কারণে ছোট উঠান বা হাতে-পোষা পোষা প্রাণী চাওয়া পরিবারের জন্য এটি ততটা মানানসই নয়। বাচ্চা অবস্থা থেকে ধৈর্য ধরে নিয়মিত হাতে ধরলে মালিকরা সবচেয়ে শান্ত ফলাফল পাবেন।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
সুমাত্রা মুরগির উদ্ভব ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে, আর উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এটি পশ্চিমা খামারিদের কাছে পৌঁছায়, তখন থেকেই একে শৌখিন মুরগি হিসেবে লালন করা হয়।
সুমাত্রা মুরগির নাম এসেছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ থেকে, যেখানে পশ্চিমা আগ্রহ তৈরি হওয়ার অনেক আগে থেকেই স্থানীয় মানুষ এই জাতের মুরগি পালন করতেন। প্রাচীন বিবরণে চকচকে কালো, লম্বা লেজের এই মুরগিকে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অংশে অর্ধ-বন্য অবস্থায় থাকতে দেখা যায় বলে উল্লেখ আছে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই জাত যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮৪০ আর ১৮৫০-এর দশকে আমদানি করা পাখিগুলো সেসব শৌখিন খামারির নজর কাড়ে, যারা এদের অস্বাভাবিক ঝিলিক আর ছড়ানো লেজের প্রশংসা করতেন। সেই সময় এই মুরগিকে মাঝেমধ্যে লড়াইয়ের মুরগির সঙ্গেও জড়িয়ে দেখা হতো, যদিও পরবর্তীতে এর পরিচিতি মূলত রূপ-সৌন্দর্যের ওপরই দাঁড়িয়েছে।
পরের কয়েক দশকে খামারিরা বেছে বেছে সেই সবুজাভ-কালো পালক, নিচু বহনভঙ্গি আর লম্বা লেজ তৈরি করেন, যা আজকের সুমাত্রা মুরগিকে চিহ্নিত করে। ১৮৮৩ সালে আমেরিকান পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডার্ড অব পারফেকশনে কালো রঙের সুমাত্রা অন্তর্ভুক্ত হয়, পরে নীল রঙের ধরনও স্বীকৃতি পায়।
সুমাত্রা কখনোই কোনো বাণিজ্যিক উৎপাদন জাত হিসেবে পরিচিতি পায়নি। আজও এটি মূলত শৌখিন খামারি আর প্রদর্শনী-প্রজননকারীদের বিশেষ আগ্রহের বিষয়, আর সাধারণ ডিম বা মাংস উৎপাদনকারী জাতের তুলনায় এর সংখ্যা বেশ কম।
বাহ্যিক রূপ ও জাতের মান
সুমাত্রা মুরগি সরু, নিচু গড়নের, চকচকে সবুজাভ-কালো পালক, লম্বা ছড়ানো লেজ আর ছোট মটর-ঝুঁটিসহ একটি স্বতন্ত্র শৌখিন রূপ বহন করে।
সুমাত্রা মুরগির শরীর লম্বাটে, নিচু আর প্রায় আনুভূমিকভাবে বহন করা হয়। সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ হলো লেজ, যা মোরগের ক্ষেত্রে পূর্ণ, ছড়ানো আর সুন্দরভাবে বাঁকানো লম্বা কাস্তে-পালকে ভরা থাকে। পালকের রং কালো, শরীরজুড়ে তীব্র সবুজাভ ঝিলিকসহ, যাকে মাঝেমধ্যে 'বিটল-গ্রিন' বলা হয়। এই জাতের ঝুঁটি ছোট আর মটর-আকৃতির, মুখমণ্ডল গাঢ় রঙের, আর অনেক মুরগির প্রতিটি পায়ে একাধিক গোঁজ (স্পার) দেখা যায়।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | নিচু, আনুভূমিক বহনভঙ্গি; মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ সেন্টিমিটার |
| ওজন | মোরগ প্রায় ২.৩ থেকে ২.৭ কেজি; মুরগি প্রায় ১.৮ থেকে ২.০ কেজি |
| গায়ের আবরণ | ঘন, চকচকে পালক, সঙ্গে লম্বা ছড়ানো লেজ |
| রং | কালো (সবুজাভ ঝিলিকসহ); নীল রঙও স্বীকৃত |
| চোখ | গাঢ় বাদামি থেকে প্রায় কালো |
গায়ের আবরণ ও রং
কালো রঙের ধরনটিই মূল আর সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর পালকে ধাতব সবুজ ঝিলিক থাকে, যা সরাসরি আলোয় সবচেয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়। নীল রঙের ধরনটির শরীরের রং স্লেট-নীল, আর এটি তুলনামূলক কম পালন করা হয়। মুখমণ্ডল, ঝুঁটি আর ঝুলন্ত অংশ (ওয়াটল) গাঢ় রঙের, পা কালো, প্রায়ই সামান্য সবুজাভ আভাসহ। পালকের পরিষ্কার ঝিলিকের জন্যই এই জাতের কদর, তাই প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে পালকের মান আর রঙের গভীরতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বভাব ও আচরণ
সুমাত্রা মুরগি স্বাধীনচেতা, সতর্ক আর কিছুটা গম্ভীর স্বভাবের, সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর ভালো ওড়ে, বাচ্চা থেকে হাতে ধরে অভ্যস্ত না করলে মানুষের কাছে সহজে আসে না।
সুমাত্রা মুরগি এখনও অনেকটা অর্ধ-বন্য পাখির সতর্ক, স্বনির্ভর চরিত্র ধরে রেখেছে। এরা সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলে অনেক দূর ঘুরে বেড়ায় আর উঁচুতে বসে রাত কাটাতে পছন্দ করে। এরা শক্তিশালী উড়ুক্কু, ভারী জাতের মুরগি আটকে রাখতে পারে এমন বেড়াও সহজে ডিঙিয়ে যেতে পারে, তাই নিরাপদ বা ঢাকা ঘের এখানে জরুরি।
মানুষের আশপাশে এই জাত কিছুটা গম্ভীর আর দূরত্ব বজায় রাখে। সুমাত্রা মুরগি সহজে কোলে ওঠার মতো পোষা প্রাণী হয়ে ওঠে না, তবে বাচ্চা বয়স থেকে শান্ত ও নিয়মিতভাবে হাতে ধরলে বড় হয়ে তুলনামূলক শান্ত থাকে। এরা সতর্ক আর যেকোনো অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
অন্য মুরগির সঙ্গে একটা স্থিতিশীল পালে এই জাত সাধারণত মানিয়ে চলতে পারে, তবে মোরগ প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ মুরগির প্রতি এলাকা নিয়ে আক্রমণাত্মক হতে পারে। স্ত্রী মুরগি তুলনামূলক শান্ত আর কম প্রভাব বিস্তারকারী। এই জাত খুব বেশি ডাকাডাকি করে না, মাঝারি মাত্রায় শব্দ করে, তবে সতর্ক স্বভাবের কারণে অচেনা নড়াচড়ায় প্রায়ই ডেকে ওঠে।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহপ্রবণতা | ২ |
| শক্তি/কর্মচঞ্চলতা | ৫ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ২ |
| ডাকাডাকির মাত্রা | ৩ |
| পালক ঝরা (মোল্টের তীব্রতা) | ৩ |
যত্ন ও পালন পদ্ধতি
সুমাত্রা মুরগির জন্য নিরাপদ ঢাকা ঘের, খাবার খুঁজে বেড়ানো ও ওড়ার মতো জায়গা, আর পালকের চকচকে ভাব বজায় রাখতে নিয়মিত পালক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা দরকার।
প্রতিদিনের যত্নের মূল বিষয় হলো জায়গা, নিরাপত্তা আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এই জাত শক্তসমর্থ আর কর্মচঞ্চল, তবে সহজে উড়ে পালাতে পারে, তাই আটকে রাখা আর শিকারি প্রাণী থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়।
সাজসজ্জা ও পরিচর্যা
- লম্বা লেজের পালক নিয়মিত পরীক্ষা করুন, ভাঙা, নোংরা বা কাদা লাগা আছে কিনা দেখুন
- বিছানা শুকনো রাখুন, যাতে পালক পরিষ্কার আর চকচকে থাকে
- বাহ্যিক পরজীবী নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের জন্য ধুলা-গোসলের জায়গা রাখুন
- পায়ুপথের কাছে আর পালকের গোড়ায় উকুন ও আঠালি পরীক্ষা করুন
- পা ছেঁটে পরিষ্কার রাখুন, আর মোরগের একাধিক গোঁজের (স্পার) দিকে নজর রাখুন
শরীরচর্চা
- খাবার খোঁজার জন্য প্রতিদিন বড় ঘের বা তত্ত্বাবধানে খোলা জায়গায় যাওয়ার সুযোগ দিন
- উঁচু বসার ডাল রাখুন, কারণ এই জাত উঁচুতে বসে রাত কাটাতে পছন্দ করে
- শক্তিশালী উড়ালকে আটকাতে ঢাকা ঘের বা উঁচু বেড়া ব্যবহার করুন
- স্বাভাবিকভাবে খাবার খোঁজার জন্য আঁচড়ানোর জায়গা আর মাটির আচ্ছাদন রাখুন
পরিবেশ
সুমাত্রা মুরগি নানা রকম আবহাওয়া সহ্য করতে পারে, তবে বাতাস আর বৃষ্টি থেকে আড়াল পেলে সবচেয়ে ভালো থাকে। ছোট মটর-ঝুঁটি বড় সিঙ্গেল ঝুঁটির চেয়ে তুষারদংশনের ঝুঁকি কম, যা শীতের সময় সুবিধা দেয়। বাংলাদেশের গরম, আর্দ্র বর্ষার আবহাওয়ায় মূল চ্যালেঞ্জ থাকে বাতাস চলাচল আর ছায়ার ব্যবস্থা ঠিক রাখা। হাওয়া-নিরোধী কিন্তু বাতাস চলাচলযুক্ত ঘর দিন, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল রাখুন, আর গরমের সময় ছায়ার ব্যবস্থা করুন। মোরগের লম্বা লেজের জন্য বসার ডালে যথেষ্ট উচ্চতা আর প্রশস্ততা দরকার, যাতে লেজ মাটিতে না লাগে।
পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
সুমাত্রা মুরগি বয়স অনুযায়ী সুষম মানসম্পন্ন মুরগির খাবারেই ভালো থাকে, সঙ্গে খাবার খোঁজা, কংকর আর ডিমপাড়া মুরগির জন্য ক্যালসিয়াম যোগ করা দরকার।
সুমাত্রা মুরগি সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায়, তাই জায়গা থাকলে এর খাদ্যের একটা বড় অংশ ঘুরে বেড়িয়ে খাওয়া থেকেই আসতে পারে। একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক মুরগির খাবারই খাদ্যতালিকার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত, আর তা মুরগির বয়স অনুযায়ী মিলিয়ে দিতে হবে। সবসময় পরিষ্কার পানি দিন, আর যেসব মুরগি খাবার খুঁজে বেড়ায় তাদের হজমে সাহায্য করতে অদ্রবণীয় কংকর দিন।
| বয়সের ধাপ | প্রতিদিনের পরিমাণ | খাওয়ানোর সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাচ্চা (০ থেকে ৮ সপ্তাহ) | স্টার্টার গুঁড়ো খাবার, ইচ্ছেমতো খাওয়ার ব্যবস্থায় | সারাদিন পাওয়া যাবে |
| বেড়ে ওঠা বাচ্চা (৮ থেকে ১৮ সপ্তাহ) | গ্রোয়ার রেশন, প্রায় ৬০ থেকে ৯০ গ্রাম | সারাদিন অথবা দুই বেলা |
| প্রাপ্তবয়স্ক (ডিমপাড়া মুরগি) | লেয়ার রেশন, প্রায় ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম | দুই বেলা |
| প্রাপ্তবয়স্ক (মোরগ / ডিম না পাড়া মুরগি) | রক্ষণাবেক্ষণ রেশন, প্রায় ৯০ থেকে ১১০ গ্রাম | দুই বেলা |
খাবারের বাড়তি অংশ ও সাপ্লিমেন্ট
বাড়তি খাবার দৈনিক খাদ্যের অল্প একটা অংশেই সীমিত রাখুন, যাতে সুষম রেশনই প্রধান খাবার থেকে যায়। উপযুক্ত বাড়তি খাবারের মধ্যে আছে সবুজ শাক, সবজি, আর সামান্য পরিমাণ শস্য বা মিলওয়ার্ম। ডিমপাড়া মুরগির জন্য আলাদা ক্যালসিয়ামের উৎস দরকার, যেমন গুঁড়ো করা ঝিনুকের খোলা, ইচ্ছেমতো খাওয়ার ব্যবস্থায়। যেসব মুরগি খাবার খুঁজে বেড়ায় তাদের সবার জন্য অদ্রবণীয় কংকর উপকারী।
স্বাস্থ্য ও প্রচলিত সমস্যা
সুমাত্রা মুরগি শক্তসমর্থ, সাধারণত ৬ থেকে ৯ বছর বাঁচে, ভালো ব্যবস্থাপনায় মূল উদ্বেগের বিষয় থাকে প্রচলিত পরজীবী আর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা।
সুমাত্রা মুরগির জাত-নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা খুবই কম। ভালো আবাসন, পরিষ্কার পরিবেশ আর নিয়মিত পরজীবী নিয়ন্ত্রণ থাকলে এরা সাধারণত ৬ থেকে ৯ বছর বাঁচে। ছোট মটর-ঝুঁটির কারণে ঠান্ডার সময় তুষারদংশনের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে। বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সমস্যা সাধারণ মুরগির মতোই, যেমন পরজীবী, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, আর বয়স্ক মুরগির প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যা।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বাহ্যিক পরজীবী (আঠালি, উকুন) | চুলকানো, নিষ্প্রভ পালক, ফ্যাকাশে ঝুঁটি | পায়ুপথ আর পালকের গোড়া পরীক্ষা করুন; মুরগির পাশাপাশি ঘরও চিকিৎসা করুন |
| পেটের কৃমি | ওজন কমা, দুর্বল স্বাস্থ্য, পাতলা মল | মলপরীক্ষা করান আর লক্ষ্যভিত্তিক কৃমিনাশক দিন |
| শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ | হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসে ঘড়ঘড় শব্দ | আক্রান্ত মুরগি আলাদা রাখুন; পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন |
| কক্সিডিওসিস | রক্তমেশানো বা পানির মতো মল, অবসন্নতা (সাধারণত অল্পবয়সী মুরগিতে) | বিছানা শুকনো রাখুন; ওষুধযুক্ত স্টার্টার খাবার প্রতিরোধে সাহায্য করে |
| প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যা (স্ত্রী মুরগি) | কষ্ট করে ডিম পাড়া, পেট ফোলা, ডিম পাড়া কমে যাওয়া | বয়স্ক ডিমপাড়া মুরগিতে বেশি দেখা যায়; পশুচিকিৎসকের পরীক্ষা দরকার |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- আবাসন পরিষ্কার, শুকনো আর ভালোভাবে বাতাস চলাচলযুক্ত রাখুন
- আঠালি ও উকুন নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের জন্য ধুলা-গোসলের জায়গা রাখুন
- নিয়মিত পরজীবী পরীক্ষা আর মল পর্যবেক্ষণ করুন
- পালে নতুন মুরগি যোগ করার আগে আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন
- স্থানীয় টিকাদান আর জীবনিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন
- সারা বছর পরিষ্কার পানি আর সুষম খাবার সরবরাহ করুন
বাসস্থান ও আবাসন
সুমাত্রা মুরগির জন্য প্রশস্ত, শিকারি প্রাণী থেকে সুরক্ষিত একটি খোঁয়াড় দরকার, সঙ্গে উঁচু বসার ডাল আর পুরোপুরি ঢাকা ঘের, কারণ এরা শক্তভাবে ওড়ে আর উঁচুতে বসতে পছন্দ করে।
সুমাত্রা মুরগির আবাসন ঠিক করার সময় এর শক্তিশালী উড়াল আর সক্রিয়ভাবে খাবার খোঁজার স্বভাব মাথায় রাখতে হবে। উঁচু, মজবুত বসার ডালযুক্ত একটি নিরাপদ খোঁয়াড় এদের মাটি থেকে দূরে রাত কাটানোর অভ্যাসের সঙ্গে মানানসই। সংলগ্ন ঘেরটি ঢাকা থাকা উচিত, কারণ এই জাত সাধারণ বেড়া সহজেই ডিঙিয়ে যায়। শান্ত স্বভাবের জাতের তুলনায় প্রতিটি মুরগির জন্য বাড়তি জায়গা দিলে চাপ আর ঝগড়া কমে।
| মাপকাঠি | পরামর্শ |
|---|---|
| খোঁয়াড়ের মেঝের জায়গা | প্রতি মুরগির জন্য কমপক্ষে প্রায় ০.৪ বর্গমিটার (৪ বর্গফুট) |
| ঘেরের জায়গা | প্রতি মুরগির জন্য প্রায় ১.০ থেকে ১.৫ বর্গমিটার (১০ থেকে ১৫ বর্গফুট) |
| ঘেরের আচ্ছাদন | ওড়া ঠেকাতে পুরোপুরি ছাদ বা জাল দিয়ে ঢাকা |
| বসার ডালের উচ্চতা | উঁচু ডাল পছন্দনীয়; লম্বা লেজের জন্য চওড়া আর উঁচু ডাল দরকার |
| ডিম পাড়ার বাক্স | প্রতি ৩ থেকে ৪টি স্ত্রী মুরগির জন্য একটি বাক্স |
| বাতাস চলাচল | বসার ডালের উচ্চতার ওপরে পর্যাপ্ত, হাওয়া-নিরোধী বাতাস চলাচল |
প্রস্তুতির তালিকা
- নিরাপদ খিল আর মজবুত মেঝে বা মাটির নিচে পোঁতা জাল-সহ শিকারি প্রাণী থেকে সুরক্ষিত খোঁয়াড়
- পালিয়ে যাওয়া আর আকাশপথের শিকারি প্রাণী ঠেকাতে ঢাকা ঘের
- লম্বা লেজের পালকের জন্য যথেষ্ট চওড়া আর উঁচু বসার ডাল
- পালক রক্ষায় শুকনো, পুরু বিছানা পরিষ্কার রাখা
- বাতাস আর বৃষ্টি থেকে আড়াল আর ছায়াযুক্ত জায়গা
- ঘেরের মধ্যে ধুলা-গোসলের জায়গা আর পরিষ্কার পানি
ডিম ফোটানো ও ইনকিউবেশন
স্বাভাবিক মুরগির ইনকিউবেশন ব্যবস্থায় সুমাত্রার ডিম প্রায় ২১ দিনে ফোটে, আর অনেক স্ত্রী মুরগির মধ্যে তা দেওয়া আর বাচ্চা লালনের প্রবণতা ভালোভাবেই থাকে।
সুমাত্রার ডিম সাধারণ মুরগির ইনকিউবেশনের ধরন মেনেই প্রায় ২১ দিনে ফোটে। এই জাতের মধ্যে তা দেওয়া আর বাচ্চা লালনের প্রবণতা বেশ শক্তভাবেই থেকে যায়, তাই সুযোগ পেলে স্ত্রী মুরগি নিজেই ভালোভাবে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। বেশি সংখ্যায় বা আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে বাচ্চা ফোটাতে চাইলে, মুরগির স্বাভাবিক সীমার মধ্যে সেটিং ঠিক রাখলে একটি ইনকিউবেটর স্থিতিশীল ফল দেয়।
| মাপকাঠি | সেটিং |
|---|---|
| তাপমাত্রা | জোরপূর্বক বাতাস চলাচলযুক্ত ইনকিউবেটরে প্রায় ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) |
| আর্দ্রতা | প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ, শেষ ৩ দিনে বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ করতে হবে |
| দিন | ফুটতে প্রায় ২১ দিন লাগে |
| ডিম উল্টানো | দিনে অন্তত ৩ থেকে ৫ বার উল্টান; ১৮তম দিনে বন্ধ করুন |
ডিম ফোটানোর ধাপ
১. পরিষ্কার, সুগঠিত ডিম বেছে নিন আর ইনকিউবেটরে বসানোর আগে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত সরু মাথা নিচের দিকে রেখে সংরক্ষণ করুন ২. ডিম ঘরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসুন, তারপর নির্ধারিত তাপমাত্রায় ইনকিউবেটরে বসান ৩. তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা ঠিক রাখুন, আর ১৭তম দিন পর্যন্ত ডিম উল্টাতে থাকুন ৪. ১৮তম দিনে উল্টানো বন্ধ করুন, আর্দ্রতা বাড়ান আর লকডাউন পর্বে নিয়ে যান ৫. বাচ্চাকে বিরক্ত না করে ফুটতে দিন, তারপর শুকিয়ে যাওয়া বাচ্চাগুলোকে স্টার্টার খাবার আর পানিসহ উষ্ণ ব্রুডারে সরিয়ে নিন
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সুমাত্রা মুরগি নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলো এর আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযোগিতা আর প্রাপ্যতা নিয়ে।
সুমাত্রা মুরগি কত বড় হয়?
সুমাত্রা মাঝারি আকারের একটি জাত। মোরগের ওজন প্রায় ২.৩ থেকে ২.৭ কেজি আর স্ত্রী মুরগির প্রায় ১.৮ থেকে ২.০ কেজি হয়। মোরগের লম্বা, ছড়ানো লেজও এর দৈর্ঘ্যকে আরও বাড়িয়ে দেখায়।
সুমাত্রার স্বভাব কেমন?
সুমাত্রা মুরগি স্বাধীনচেতা, সতর্ক আর কিছুটা গম্ভীর। এরা সক্রিয়ভাবে খাবার খোঁজে, শক্তভাবে ওড়ে, আর বাচ্চা বয়স থেকে হাতে ধরে অভ্যস্ত না করলে মানুষের কাছে সহজে আসে না। এরা খুব কমই কোলে ওঠার মতো পোষা মুরগি হয়ে ওঠে।
সুমাত্রা পালন করা কি কঠিন?
এরা শক্তসমর্থ আর সুস্থ, তবে শান্ত স্বভাবের সাধারণ উঠানের মুরগির চেয়ে বেশি যত্নের দাবি রাখে, কারণ এরা ভালো ওড়ে আর ঢাকা, নিরাপদ ঘের প্রয়োজন। যেসব খামারি জায়গা আর আটকে রাখার ব্যবস্থা দিতে পারবেন, তাদের জন্যই এটি উপযুক্ত।
সুমাত্রা মুরগি কতদিন বাঁচে?
ভালো যত্নে সুমাত্রা মুরগি সাধারণত ৬ থেকে ৯ বছর বাঁচে। পরিষ্কার আবাসন, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ আর সুষম খাদ্য দীর্ঘ আয়ুতে সহায়তা করে।
সুমাত্রা কি নতুন খামারি বা ছোট উঠানের জন্য ভালো?
যাদের হাতে বাড়তি জায়গা আছে এমন অভিজ্ঞ খামারিদের জন্যই এটি বেশি উপযুক্ত। এদের শক্তিশালী উড়াল আর গম্ভীর স্বভাবের কারণে ছোট উঠান বা হাতে-পোষা পোষা প্রাণী চাওয়া পরিবারের জন্য এটি ততটা মানানসই নয়।
সুমাত্রা স্ত্রী মুরগি কি অনেক ডিম পাড়ে?
সুমাত্রা একটি শৌখিন জাত, উৎপাদনের জন্য নয়। স্ত্রী মুরগি অল্প সংখ্যায় ছোট থেকে মাঝারি আকারের সাদা ডিম পাড়ে, আর অনেকের মধ্যেই তা দেওয়ার প্রবণতা বেশ শক্তভাবে থাকে।
সুমাত্রা মুরগি কি সহজে পাওয়া যায়?
এরা বিরল, মূলত শৌখিন আর প্রদর্শনী-প্রজননকারীরাই এদের পালন করেন। সাধারণ জনপ্রিয় জাতের তুলনায় প্রাপ্যতা সীমিত, তাই বিশেষজ্ঞ খামারিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
From the community
Ask about the সুমাত্রাNo questions about the সুমাত্রা yet. Be the first to ask.