মিনোর্কা
মিনোরকা একটি চমকপ্রদ, বড়-ঝুঁটির স্প্যানিশ জাত, যা তার সক্রিয় মেজাজ এবং বড়, খড়িমাটি-সাদা ডিমের জন্য পরিচিত।
- Size
- মাঝারি
- Lifespan
- 5–8 years
- Origin
- স্পেন
- Temperament
- সক্রিয়
- Standard colors
- কালো, সাদা এবং নীল and 2 more
Characteristics
মিনোর্কা colors and patterns
What each club's breed standard says about every মিনোর্কা color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the মিনোর্কা in কালো, সাদা, নীল, ল্যাভেন্ডার এবং বাফ. Standard patterns: একরঙা এবং আড়াআড়ি ডোরা.
| Color or pattern | APA | PCGB | EE | ABA |
|---|---|---|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“Rose Comb Black / Single Comb Black”) | মানসম্মত (“The black”) | মানসম্মত (“schwarz; gestreift”) | মানসম্মত (“Black”) |
| সাদা | মানসম্মত (“Rose Comb White / Single Comb White”) | মানসম্মত (“The white”) | মানসম্মত (“weiß; gestreift”) | মানসম্মত (“White”) |
| নীল | No ruling | মানসম্মত (“The blue”) | মানসম্মত (“blau”) | No ruling |
| ল্যাভেন্ডার | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“perlgrau”) | মানসম্মত (“Self Blue”) |
| বাফ | মানসম্মত (“Single Comb Buff”) | No ruling | মানসম্মত (“gelb”) | মানসম্মত (“Buff”) |
| Patterns | ||||
| একরঙা | মানসম্মত (“Rose Comb Black / Single Comb Black; Rose Comb White / Single Comb White; Single Comb Buff”) | মানসম্মত (“The black; The white; The blue”) | মানসম্মত (“schwarz; weiß; gelb; blau; perlgrau”) | মানসম্মত (“Black; White; Buff; Self Blue”) |
| আড়াআড়ি ডোরা | No ruling | No ruling | মানসম্মত (“gestreift”) | No ruling |
| Color or pattern |
|---|
| সাদা |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| গাঢ় বাদামি | মানসম্মত (“Dark brown. Reddish-bay.”) | মানসম্মত (“Eyes dark Eyes red Eyes dark brown (darker the better)”) |
| লাল | মানসম্মত (“Dark brown. Reddish-bay.”) | মানসম্মত (“Eyes dark Eyes red Eyes dark brown (darker the better)”) |
| কমলা | মানসম্মত (“Dark brown. Reddish-bay.”) | No ruling |
| লালচে বাদামি | মানসম্মত (“Dark brown. Reddish-bay.”) | No ruling |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“Black. Pinkish-white. White or light horn.”) | No ruling |
| সাদা | মানসম্মত (“Black. Pinkish-white. White or light horn.”) | মানসম্মত (“Beak dark horn Beak white”) |
| শিং | মানসম্মত (“Black. Pinkish-white. White or light horn.”) | মানসম্মত (“Beak dark horn Beak white”) |
| গোলাপি | মানসম্মত (“Black. Pinkish-white. White or light horn.”) | No ruling |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| কালো | No ruling | মানসম্মত (“Legs black or very dark slate, the latter in adults only Legs pinky white Legs blue to slate”) |
| সাদা | মানসম্মত (“Pinkish-white. White or pinkish-white.”) | মানসম্মত (“Legs black or very dark slate, the latter in adults only Legs pinky white Legs blue to slate”) |
| নীল | No ruling | মানসম্মত (“Legs black or very dark slate, the latter in adults only Legs pinky white Legs blue to slate”) |
| স্লেট ধূসর | No ruling | মানসম্মত (“Legs black or very dark slate, the latter in adults only Legs pinky white Legs blue to slate”) |
| গোলাপি | মানসম্মত (“Pinkish-white. White or pinkish-white.”) | মানসম্মত (“Legs black or very dark slate, the latter in adults only Legs pinky white Legs blue to slate”) |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| লাল | মানসম্মত (“Comb, Face and Wattles: Bright red.”) | মানসম্মত (“Comb, face and wattles blood red as in the black”) |
| Color or pattern | APA | PCGB |
|---|---|---|
| সাদা | মানসম্মত (“Ear-Lobes: White.”) | মানসম্মত (“Ear-lobes pure white as in the black”) |
| লাল | অযোগ্যকারী (“Red in ear-lobes covering one-third or more of surface”) | No ruling |
| Color or pattern | PCGB |
|---|---|
| সাদা | মানসম্মত (“Egg colour: White”) |
কালো
ডোরাকাটা
| Color or pattern | EE |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“gestreift”) |
| সাদা | মানসম্মত (“gestreift”) |
| Patterns | |
| আড়াআড়ি ডোরা | মানসম্মত (“gestreift”) |
নীল
বাফ
ল্যাভেন্ডার
| Color or pattern | EE | ABA |
|---|---|---|
| ল্যাভেন্ডার | মানসম্মত (“perlgrau”) | মানসম্মত (“Self Blue”) |
| Patterns | ||
| একরঙা | মানসম্মত (“perlgrau”) | মানসম্মত (“Self Blue”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
- অযোগ্যকারী
- The club's breed standard disqualifies an animal of this color or pattern.
Color changes
How a মিনোর্কা's colors can change over its life.
কালোchanges toআড়াআড়ি ডোরা
পালক · বয়সের সঙ্গে · males only
বাফchanges toসোনালি
পালক · বয়সের সঙ্গে · females only
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
মিনোর্কা মুরগির জাত পরিচিতি
স্পেনের মেনোর্কা দ্বীপ থেকে আসা মাঝারি আকারের এই ভূমধ্যসাগরীয় মুরগি চেনা যায় তার বিশাল ঝুঁটি, চনমনে স্বভাব আর চক-সাদা বড় ডিমের জন্য।
মিনোর্কা মুরগির জন্ম স্পেনের পূর্ব উপকূলের কাছে মেনোর্কা দ্বীপে। এটি ভূমধ্যসাগরীয় গোত্রের হালকা গড়নের, সক্রিয় ডিম উৎপাদনকারী জাতগুলোর একটি, আর এই গোত্রের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়দের একজন। পাখিগুলো লেজ উঁচু করে টানটান ভঙ্গিতে দাঁড়ায়, যা তাদের একটা সজাগ, আত্মবিশ্বাসী চেহারা দেয়।
এই জাতের সবচেয়ে চেনা দুটো বৈশিষ্ট্য হলো বিশাল একক ঝুঁটি আর ডিমের আকার। মুরগিগুলো চক-সাদা খোসার বড় ডিম পাড়ে, আর ভূমধ্যসাগরীয় মুরগির মধ্যে সবচেয়ে বড় সাদা ডিম দেওয়ার জন্য বহু আগে থেকেই এই জাতের সুনাম আছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্ল্যাক মিনোর্কা জাত, যার পালকে সবুজাভ-কালো ছোপ থাকে, তবে সাদা আর অন্য রঙের ধরনও আছে।
মিনোর্কা মুরগি প্রচুর ঘুরে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর খোলা জায়গা পছন্দ করে। এরা মাংসের জন্য ভারী জাত নয়, আর কালেভদ্রেই ডিমে তা দিতে বসে, তাই খামারে বা বাড়ির পালে এদের প্রধান কাজ ডিম উৎপাদন, সাথে কর্মঠ ও শক্তসমর্থ স্বভাব।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | মেনোর্কা, স্পেন |
| আকার | মাঝারি (সক্রিয় ভূমধ্যসাগরীয় ধরন) |
| আয়ুষ্কাল | ৫ থেকে ৮ বছর |
| গোত্র / ভূমিকা | ভূমধ্যসাগরীয় শ্রেণি, সাদা ডিমের লেয়ার |
| কাদের জন্য উপযুক্ত | মুক্তচারী পালনকারী, উষ্ণ আবহাওয়ার পাল, সাদা ডিম উৎপাদক |
কাদের জন্য এই জাত উপযুক্ত
মিনোর্কা তাদের জন্য উপযুক্ত যারা মুরগিকে ঘুরে খাবার খোঁজার মতো জায়গা দিতে পারেন আর নিয়মিত বড় সাদা ডিমের যোগান চান। উষ্ণ অঞ্চলে এই জাত ভালো করে, কারণ এর বিশাল ঝুঁটি গরম কমাতে সাহায্য করে। আবদ্ধ জায়গায় বা খুব ঠান্ডা এলাকায় এই জাত ততটা মানানসই নয়, কারণ সেখানে ঝুঁটিতে তুষারদংশনের ঝুঁকি থাকে। স্বভাবে সক্রিয় আর সহজে চমকে ওঠা এই মুরগি কোলে বসা শান্ত মুরগি চাওয়া মানুষের চেয়ে অভিজ্ঞ বা হাতে-কলমে যত্ন নেওয়া পালনকারীদের জন্য বেশি উপযোগী।
মিনোর্কার ইতিহাস ও উৎপত্তি
মিনোর্কা নামটি এসেছে স্পেনের মেনোর্কা দ্বীপ থেকে, আর ঊনিশ শতকে ব্রিটেনে পৌঁছে এটি আজকের বড়-ঝুঁটিওয়ালা লেয়ার জাতে রূপ নেয়।
মিনোর্কার নামকরণ হয়েছে স্পেনের পূর্ব উপকূলের কাছের বেলিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ, মেনোর্কার নামে। পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের পুরনো স্পেনীয় গ্রামীণ মুরগির মধ্যে থেকেই এই জাতের বিকাশ, যে একই মূল থেকে সম্পর্কিত স্প্যানিশ আর আন্দালুসিয়ান জাতও এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দ্বীপের উষ্ণ আবহাওয়ায় এদের রাখা হতো কাজের ডিম-পাড়া মুরগি হিসেবে।
ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধে এই জাত ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পোল্ট্রি পালনকারীরা এর আকার আর বড় সাদা ডিমের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইংরেজ আর পরে অন্য প্রজননকারীরা আরও বড় দেহকাঠামো আর অসাধারণ বড় ঝুঁটির জন্য নির্বাচন চালিয়ে যান, আর তা থেকেই আজকের প্রদর্শনী আর কাজের লাইন দুটোই গড়ে ওঠে।
ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মিনোর্কা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছায়। ১৮৮৮ সালে আমেরিকান পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডার্ড অব পারফেকশনে ব্ল্যাক মিনোর্কা অন্তর্ভুক্ত হয়, আর পরে সাদা আর বাফ রঙের ধরনও স্বীকৃতি পায়। উচ্চ-উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক জাত ছড়িয়ে পড়ার আগে এই সময়ে সেরা সাদা-ডিমের লেয়ারগুলোর একটি হিসেবে এই জাতের কদর ছিল।
বিংশ শতকে বিশেষায়িত হাইব্রিড লেয়ারের উত্থানের সাথে সাথে বাণিজ্যিক ব্যবহারে মিনোর্কার কদর কমে যায়, আর এখন এটি মূলত শখের পালনকারী, প্রদর্শনীর জন্য পালনকারী আর ঐতিহ্যবাহী জাত সংরক্ষণকারীদের হাতেই বেশি দেখা যায়, বড় শিল্প পর্যায়ে নয়।
মিনোর্কার গড়ন ও জাত মান
মিনোর্কা লম্বাটে, টানটান ভূমধ্যসাগরীয় মুরগি, যার আছে বিশাল একক ঝুঁটি, বড় সাদা কানের লতি আর ঘন চকচকে পালক, যা বেশিরভাগ সময় সবুজাভ-কালো রঙের।
মিনোর্কার দেহ লম্বা, কৌণিক আর টানটান ভঙ্গিতে দাঁড়ানো, পিঠ ঢালু আর লেজ উঁচু। ভূমধ্যসাগরীয় জাতগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়, তারপরও এটি ভারী নয়, বরং ছিপছিপে আর কর্মঠ থেকে যায়। সবচেয়ে চোখে পড়া বৈশিষ্ট্য হলো ঝুঁটি। মোরগের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় খাড়া একক ঝুঁটি, আর মুরগির ক্ষেত্রেও একক ঝুঁটি বড়, তবে তা এক পাশে ঝুঁকে পড়ে। বড়, বাদাম-আকৃতির সাদা কানের লতি আর লম্বা গলকম্বল এই জাতের মানদণ্ডের অংশ।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| ওজন | মোরগ প্রায় ৩.৬ কেজি (৮ পাউন্ড); মুরগি প্রায় ৩.২ কেজি (৭ পাউন্ড) |
| ঝুঁটি | বড় একক ঝুঁটি, মোরগে খাড়া, মুরগিতে ঝোঁকা |
| পালক | ঘন, মসৃণ, শক্ত পালকযুক্ত ও চকচকে |
| রং | কালো (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়), সাদা, বাফ |
| চোখ / কানের লতি | গাঢ় রঙের চোখ; বড় সাদা বাদাম-আকৃতির কানের লতি |
পালক ও রং
ব্ল্যাক মিনোর্কা এই জাতের মূল আর সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ধরন। এর পালক একরঙা কালো, ভালো আলোয় যাতে সবুজাভ ছটা ফুটে ওঠে। বেশ কিছু মান অনুযায়ী সাদা আর বাফ ধরনও স্বীকৃত, তবে এগুলো অনেক কম দেখা যায়। সব রঙের ক্ষেত্রেই পালক শরীরের সাথে টানটান আর মসৃণভাবে লেগে থাকে, আর পা ও পায়ের পাতা পরিষ্কার, পালকহীন। চকচকে গাঢ় পালক, উজ্জ্বল লাল ঝুঁটি-গলকম্বল আর একদম সাদা কানের লতি মিলিয়ে জাতটির চেহারায় জোরালো বৈসাদৃশ্য তৈরি হয়। প্রদর্শনীতে এই জাত এই কারণেই বেশ জনপ্রিয়।
মিনোর্কার স্বভাব ও আচরণ
মিনোর্কা মুরগি চনমনে, সজাগ আর সক্রিয়, আগ্রহ নিয়ে খাবার খুঁজে বেড়ায়, ধরাছোঁয়ায় সহজে চমকে ওঠে, আর সাধারণত মিশ্র পালে মানিয়ে নেয়।
মিনোর্কা একটি চনমনে, সক্রিয় জাত, সজাগ আর আত্মবিশ্বাসী স্বভাবের। পাখিগুলো ব্যস্তভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায়, অনেকটা জায়গা ঘুরে বেড়ায় আর স্থির বসে থাকার চেয়ে চড়ে বেড়াতে পছন্দ করে। জায়গা পেলে এই কর্মচঞ্চলতা তাদের নিজেদের খাবার জোগাড়ে দক্ষ করে তোলে, তবে এর ফলে শান্তশিষ্ট দ্বৈত-উদ্দেশ্যের জাতের চেয়ে এরা বেশি চমকপ্রবণ আর ধরাছোঁয়ায় কঠিন।
মানুষের সাথে মিনোর্কা সাধারণত সতর্ক থাকে, আদুরে নয়। এরা আক্রমণাত্মক নয়, তবে সাধারণত দূরত্ব বজায় রাখে আর কোলে তোলা পছন্দ করে না, তাই এদের আদর করার চেয়ে দেখেশুনে রাখাই ভালো। ছোট বয়স থেকে নিয়মিত শান্ত সংস্পর্শে রাখলে এরা তুলনামূলক শান্ত হয়ে ওঠে।
মিশ্র পালে মিনোর্কা সাধারণত ঝামেলা ছাড়াই মানিয়ে চলে আর অন্যদের জ্বালাতন করে বলে পরিচিত নয়। মোরগ কিছুটা দাপুটে হতে পারে। এই জাত ভালো ওড়ে আর উচ্চতা কাজে লাগায়, তাই বেড়া দেওয়ার সময় এটা মাথায় রাখতে হবে। মুরগি কালেভদ্রে ডিমে তা দিতে বসে, তাই এরা ডিম পাড়তে থাকে কিন্তু নিজের বাচ্চা কমই বড় করে।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| আদুরে ভাব | ২ |
| কর্মশক্তি | ৫ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ২ |
| ডাকাডাকি | ৩ |
| পালক ঝরা (তা দেওয়ার প্রবণতা) | ১ |
মিনোর্কার পরিচর্যা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন
মিনোর্কার প্রয়োজন খাবার খোঁজার জায়গা, ওড়ার ক্ষমতার জন্য উঁচু ও নিরাপদ বেড়া, আর শীতে ঝুঁটির সুরক্ষা, তবে ঘন পালকের কারণে সাজসজ্জার প্রয়োজন কম।
মিনোর্কা উষ্ণ পরিবেশে বেশ শক্তসমর্থ আর কম ঝামেলার, তবে এর বিশাল ঝুঁটি আর সক্রিয় স্বভাব ঠিক করে দেয় এদের কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে রাখা যায়।
সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতা
- ঘন, শক্ত পালকের জন্য নিয়মিত সাজসজ্জার দরকার নেই।
- ঝুঁটি আর গলকম্বলে কাটা বা তুষারদংশনের চিহ্ন আছে কি না নিয়মিত দেখুন।
- পরিষ্কার পা আর পায়ের পাতায় স্কেলি লেগ মাইট আছে কি না পরীক্ষা করুন, নখ বেড়ে গেলে ছেঁটে দিন।
- বাহ্যিক পরজীবী নিজেরাই সামলাতে পারার জন্য শুকনো ধুলো-গোসলের জায়গা রাখুন।
শরীরচর্চা
- প্রতিদিন খোলা মাঠ বা মুক্তচারণের জায়গায় প্রবেশাধিকার দিন; এই জাত আবদ্ধ থাকা পছন্দ করে না।
- খাবার খুঁজে বেড়ানোর জন্য জায়গা দিন, যা এই জাতের স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতার সাথে মানানসই।
- উঁচু বেড়া বা ছাউনি দেওয়া ঘের ব্যবহার করুন, কারণ মিনোর্কা ভালো ওড়ে আর নিচু বেড়া সহজেই টপকে যেতে পারে।
পরিবেশ
মিনোর্কা গরম সহ্য করতে পারে আর উষ্ণ জলবায়ুতে ভালো করে, যেখানে বিশাল ঝুঁটি শরীরের তাপ ছড়াতে সাহায্য করে। ঠান্ডা অঞ্চলে ঝুঁটি আর গলকম্বল তুষারদংশনের ঝুঁকিতে থাকে, তাই ফাঁকা বাতাস আটকানো, ভালো বাতাস চলাচলের খোঁয়াড় আর হিমশীতল বাতাস থেকে সুরক্ষা জরুরি। পর্যাপ্ত বসার জায়গা আর বাতাস চলাচল দিন, আর বিছানা শুকনো রাখুন।
মিনোর্কার খাদ্য ও খাওয়ানোর নিয়ম
সক্রিয় ডিম-পাড়া মিনোর্কার প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ লেয়ার খাবার, বড় ডিমের জন্য বাড়তি ক্যালসিয়াম, ইচ্ছেমতো গ্রিট আর তাজা পানি, খাবারের সামান্য অংশেই সীমাবদ্ধ থাকুক বাড়তি খাবার।
মিনোর্কা যেহেতু উৎপাদনশীল সাদা-ডিমের লেয়ার আর সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায়, তাই শক্তি আর ডিমের খোসা তৈরি দুটোর জন্যই এদের সুষম পূর্ণাঙ্গ খাবার দরকার। ডিম-পাড়া মুরগির জন্য সবচেয়ে ভালো হয় প্রায় ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত বাণিজ্যিক লেয়ার খাবার। বাচ্চাদের শুরুতে স্টার্টার খাবার দিতে হয়, তারপর গ্রোয়ার খাবারে যেতে হয়, আর ডিম পাড়া শুরুর সময় লেয়ার খাবারে বদলাতে হয়। মুক্তচারী পাখিরা পোকামাকড় আর সবুজ শাকপাতা দিয়ে নিজেদের খাবার বাড়িয়ে নেয়, তবে তৈরি খাবারই মূল ভিত্তি থাকা উচিত।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | খাওয়ানোর ধরন |
|---|---|---|
| বাচ্চা (০ থেকে ৮ সপ্তাহ) | স্টার্টার খাবার, ইচ্ছেমতো | সবসময় সহজলভ্য |
| গ্রোয়ার (৮ থেকে ১৮ সপ্তাহ) | গ্রোয়ার খাবার, ইচ্ছেমতো | সবসময় সহজলভ্য |
| ডিম-পাড়া মুরগি | প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ গ্রাম লেয়ার খাবার | ইচ্ছেমতো, দিনে ১-২ বার ভরে দিন |
| প্রাপ্তবয়স্ক মোরগ | প্রায় ১২০ গ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ খাবার | ইচ্ছেমতো |
বাড়তি খাবার ও সাপ্লিমেন্ট
ডিম-পাড়া মুরগি যাতে তাদের বড় ডিমের জন্য দরকারি বাড়তি ক্যালসিয়াম নিজে থেকে নিতে পারে, সেজন্য গুঁড়ো ঝিনুকের খোল বা চুনাপাথরের গ্রিট ইচ্ছেমতো রাখুন। যেসব পাখি ঘুরে বেড়ায় না, তাদের অদ্রবণীয় গ্রিট দিন, কারণ এটা খাবার হজমে সাহায্য করে। উপকারী বাড়তি খাবারের মধ্যে আছে পাতাযুক্ত শাক, ঠান্ডার সময় ভাঙা ভুট্টা, আর মিলওয়ার্ম, সবই পরিমিত পরিমাণে। পরিষ্কার তাজা পানি সবসময় হাতের কাছে থাকা চাই।
মিনোর্কার স্বাস্থ্য ও আয়ুষ্কাল
মিনোর্কা সাধারণত শক্তসমর্থ মুরগি, বাঁচে প্রায় ৫ থেকে ৮ বছর, আর এই জাতের প্রধান সমস্যা হলো ঠান্ডায় বিশাল ঝুঁটি আর গলকম্বলে তুষারদংশন।
মিনোর্কা একটি শক্তসমর্থ, বহু পুরনো জাত, যাতে ব্যাপক কোনো জিনগত সমস্যা নেই। ভালো যত্নে এরা সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর বাঁচে। এই জাতের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো এর বিশাল ঝুঁটি আর গলকম্বল, যা ঠান্ডাজনিত ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ানো এদের সুস্থ রাখে, তবে এর মানে শিকারি প্রাণী থেকে সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খোঁয়াড়ও জরুরি।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| তুষারদংশন | ঝুঁটি ও গলকম্বলের ডগায় কালচে বা ফ্যাকাশে দাগ, ফোলাভাব | বড় ঝুঁটির কারণে এই জাতের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি; শুকনো, ফাঁকা বাতাসমুক্ত খোঁয়াড় দিয়ে প্রতিরোধ করুন |
| বাহ্যিক পরজীবী (মাইট, উকুন) | গা চুলকানো, নিস্তেজ পালক, ফ্যাকাশে ঝুঁটি | ধুলো-গোসলের জায়গা দিন; নিয়মিত চামড়া আর মলদ্বার পরীক্ষা করুন |
| স্কেলি লেগ মাইট | পায়ের আঁশ ফুলে ওঠা আর খসখসে হয়ে যাওয়া | শুরুতেই চিকিৎসা করুন; নিয়মিত পরীক্ষার সময় পরিষ্কার পা দেখে নিন |
| পেটের কৃমি | ওজন কমা, ডিম পাড়া কমে যাওয়া, পাতলা বিষ্ঠা | ঘূর্ণায়মান চারণ আর নিয়মিত মল পরীক্ষা দিয়ে সামলান |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- তুষারদংশন আর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ঠেকাতে খোঁয়াড় শুকনো, বাতাস চলাচলযুক্ত আর ফাঁকা বাতাসমুক্ত রাখুন।
- বাহ্যিক পরজীবী কমাতে ধুলো-গোসলের জায়গা দিন।
- নিয়মিত পরজীবী পরীক্ষা করুন আর নিজের পরিবেশের উপযোগী কৃমিনাশক পরিকল্পনা মেনে চলুন।
- পালে নতুন পাখি যোগ করার আগে আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন।
- ডিম-পাড়া মুরগিকে সুস্থ রাখতে পরিষ্কার পানি আর ইচ্ছেমতো ক্যালসিয়াম দিন।
মিনোর্কার খোঁয়াড় ও বাসস্থান
মিনোর্কার প্রয়োজন পর্যাপ্ত বসার আর ঘোরার জায়গাসহ নিরাপদ, বাতাস চলাচলযুক্ত খোঁয়াড়, ওড়ার ক্ষমতার জন্য উঁচু বেড়া, আর বিশাল ঝুঁটি রক্ষায় ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা।
মিনোর্কা সক্রিয় পাখি, তাই ঘুরে বেড়ানোর জায়গা আর শুকনো, বাতাসভরা খোঁয়াড় পেলে এরা সবচেয়ে ভালো থাকে। এরা গরম ভালো সহ্য করতে পারে, তাই উষ্ণ জলবায়ুতে ভালো বাতাস চলাচল জরুরি, আবার ঠান্ডা অঞ্চলে ঝুঁটি রক্ষায় খোঁয়াড়ে ফাঁকা বাতাস আটকাতে হবে। এই জাত জোরালোভাবে ওড়ে বলে, পাখিদের ভেতরে রাখতে আর শিকারি প্রাণী থেকে নিরাপদ রাখতে ঘের উঁচু বা ছাউনি দেওয়া হওয়া উচিত।
| বিষয় | পরামর্শ |
|---|---|
| প্রতি পাখির খোঁয়াড় জায়গা | প্রায় ০.৩ থেকে ০.৪ বর্গমিটার (৩-৪ বর্গফুট) |
| প্রতি পাখির ঘের জায়গা | প্রায় ০.৯ বর্গমিটার (১০ বর্গফুট) বা তার বেশি |
| বসার কাঠের উচ্চতা | উঁচু বসার কাঠ; উঁচু লেজের জন্য জায়গা রাখুন |
| ডিম পাড়ার বাক্স | প্রতি ৩-৪টা মুরগির জন্য একটি বাক্স |
| বেড়া | উঁচু বা ছাউনি দেওয়া; এই জাত ভালো ওড়ে |
| বাতাস চলাচল | বসার কাঠের ওপরে উঁচু, ফাঁকা বাতাসমুক্ত বাতাস প্রবাহ |
খোঁয়াড় সাজানোর তালিকা
- শুকনো, শিকারি-প্রাণী-নিরোধক খোঁয়াড়, বসার কাঠের ওপরে উঁচু বাতাস চলাচলসহ।
- উঁচু বসার কাঠ, টানটান শরীর আর উঁচু লেজের জন্য জায়গাসহ।
- প্রতি তিন থেকে চারটা মুরগির জন্য একটা ডিম পাড়ার বাক্স, পরিষ্কার আর বিছানাযুক্ত।
- ভালো ওড়া এই জাতকে ভেতরে রাখতে উঁচু বা জাল দেওয়া ঘের।
- উষ্ণ জলবায়ুতে রাখার জন্য ছায়া আর তাজা পানি।
- ঘেরের ভেতরে ধুলো-গোসলের জায়গা।
মিনোর্কার ডিম ফোটানো ও ইনকিউবেশন
স্বাভাবিক অবস্থায় মিনোর্কার ডিম প্রায় ২১ দিনে ফোটে, আর মুরগি কালেভদ্রে তা দিতে বসে বলে পালনকারীরা সাধারণত ইনকিউবেটর বা অন্য জাতের তা দেওয়া মুরগির ওপর নির্ভর করেন।
মিনোর্কা মুরগি কালেভদ্রেই ডিমে তা দিতে বসে, তাই বেশিরভাগ বাচ্চা ফোটানো হয় ইনকিউবেটরে অথবা অন্য জাতের তা দেওয়া মুরগির নিচে। ডিম বড় আর সাদা, তাই আলো ফেলে ভেতরটা দেখা সহজ। মুরগির ডিম ফোটানোর সাধারণ নিয়মই এখানে প্রযোজ্য: তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা স্থির রাখা হলে আর প্রথম পর্যায়ে নিয়মিত ডিম উল্টানো হলে ডিম প্রায় ২১ দিনে ফোটে।
| বিষয় | সেটিং |
|---|---|
| তাপমাত্রা | ফোর্সড-এয়ার ইনকিউবেটরে ৩৭.৫°C (৯৯.৫°F) |
| আর্দ্রতা | ১ থেকে ১৮ দিন প্রায় ৪৫-৫৫ শতাংশ, ফোটার আগে বাড়িয়ে ৬৫-৭০ শতাংশ |
| দিন | প্রায় ২১ দিন |
| উল্টানো | ১৮তম দিন পর্যন্ত দিনে অন্তত ৩-৫ বার উল্টান, তারপর বন্ধ করুন |
ডিম ফোটানোর ধাপ
- পরিষ্কার, সুগঠিত ডিম বেছে নিন আর বসানোর আগে সাত দিন পর্যন্ত এগুলো সরু মাথা নিচের দিকে করে রাখুন।
- প্রথমে খালি অবস্থায় ইনকিউবেটর চালিয়ে দেখুন তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা স্থির থাকছে কি না।
- ডিম বসান আর ১ থেকে ১৮ দিনের লক্ষ্য অনুযায়ী তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা বজায় রাখুন।
- দিনে অন্তত ৩ থেকে ৫ বার ডিম উল্টান; ৭ থেকে ১০ দিনের কাছাকাছি আলো ফেলে বৃদ্ধি পরীক্ষা করুন।
- ১৮তম দিনে উল্টানো বন্ধ করুন, লকডাউনে নিয়ে যান, আর ফোটানোর জন্য আর্দ্রতা বাড়ান।
- উষ্ণ ব্রুডারে সরানোর আগে বাচ্চাদের ইনকিউবেটরের ভেতরেই শুকাতে দিন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মিনোর্কা মুরগি নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোয় থাকে এর আকার, স্বভাব, পরিচর্যার চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা আর প্রাপ্যতা।
মিনোর্কা মুরগি কতটা বড় হয়?
ভূমধ্যসাগরীয় জাতগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়, তবু এটি ছিপছিপে আর কর্মঠ থেকে যায়। মোরগ প্রায় ৩.৬ কেজি (৮ পাউন্ড) আর মুরগি প্রায় ৩.২ কেজি (৭ পাউন্ড) পর্যন্ত হয়, সাথে থাকে টানটান দেহকাঠামো আর বিশাল ঝুঁটি।
মিনোর্কার স্বভাব কেমন?
মিনোর্কা চনমনে, সজাগ আর আত্মবিশ্বাসী। এরা আগ্রহ নিয়ে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর ভালো ওড়ে, সহজে চমকে ওঠে আর ধরাছোঁয়ায় সতর্ক থাকে, আদর করার চেয়ে দেখেশুনে রাখার জন্যই বেশি মানানসই। মিশ্র পালে এরা সাধারণত ভালোভাবেই মানিয়ে চলে।
মিনোর্কা পালন করা কি কঠিন?
পরিচর্যার চাহিদা মাঝারি। ঘন পালকের কারণে সাজসজ্জা কম লাগে, তবে এই জাতের জন্য ঘুরে বেড়ানোর জায়গা, ওড়ার ক্ষমতার জন্য উঁচু বা ছাউনি দেওয়া বেড়া, আর ঠান্ডায় বিশাল ঝুঁটিকে তুষারদংশন থেকে সুরক্ষা দরকার।
মিনোর্কা মুরগি কতদিন বাঁচে?
ভালো যত্নে একটা মিনোর্কা সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর বাঁচে। এই জাত শক্তসমর্থ, আর বিশাল ঝুঁটির তুষারদংশনই এর প্রধান দুর্বলতা।
মিনোর্কা কেমন ডিম পাড়ে?
মুরগি চক-সাদা খোসার বড় ডিম পাড়ে আর ভূমধ্যসাগরীয় জাতগুলোর মধ্যে সেরা সাদা-ডিমের লেয়ারদের একটি। এরা কালেভদ্রে তা দিতে বসে, তাই ডিমের ওপর বসে থাকার চেয়ে ডিম পাড়তেই থাকে।
মিনোর্কা কি আমার জন্য ভালো জাত?
যারা মুক্তচারণের জায়গা দিতে পারেন আর নিয়মিত বড় সাদা ডিমের যোগান চান, বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ুতে, তাদের জন্য এই জাত উপযুক্ত। আবদ্ধ জায়গা, খুব ঠান্ডা এলাকা, বা শান্ত, সহজে-ধরা-যায় এমন মুরগি চাওয়া কারও জন্য এটা ততটা আদর্শ নয়।
মিনোর্কা মুরগি কি সহজে পাওয়া যায়?
একসময় শীর্ষ বাণিজ্যিক সাদা-ডিমের লেয়ার হলেও এখন মিনোর্কা মূলত শখের পালনকারী, প্রদর্শনীর পালনকারী আর ঐতিহ্যবাহী জাত সংরক্ষণকারীদের হাতেই বেশি দেখা যায়। ব্ল্যাক ধরনটাই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়; সাদা আর বাফ ধরন কম দেখা যায় আর খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগতে পারে।
From the community
Ask about the মিনোর্কাNo questions about the মিনোর্কা yet. Be the first to ask.