United Pet Club
মুরগি

আনকোনা

অ্যানকোনা একটি সক্রিয়, ছিটেফোঁটা নকশার ইতালীয় জাত, যা তার কঠোরসহিষ্ণু, প্রাণবন্ত খাদ্যসন্ধান এবং স্থিতিশীল সাদা-ডিম উৎপাদনের জন্য সমাদৃত।

Size
ছোট
Lifespan
5–8 years
Origin
ইতালি
Temperament
সক্রিয়
Standard colors
কালো, সাদা এবং নীল
Key Traits
সক্রিয়সতর্কউদ্যমীকৌতূহলী

Characteristics

Energy Level4
Trainability4
Good With Kids3
Good With Pets4
Grooming Needs5

আনকোনা colors and patterns

What each club's breed standard says about every আনকোনা color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.

Breed standards describe the আনকোনা in কালো, সাদা এবং নীল. Standard patterns: ছোপছোপ.

পালক: rulings by club
Color or patternAPAPCGBEEABA
কালোমানসম্মত (“Single Comb; Rose Comb”)মানসম্মত (“(single colour)”)মানসম্মত (“schwarz-weißgescheckt”)মানসম্মত (“Mottled”)
সাদামানসম্মত (“Single Comb; Rose Comb”)মানসম্মত (“(single colour)”)মানসম্মত (“schwarz-weißgescheckt; blau-weißgescheckt”)মানসম্মত (“Mottled”)
নীলNo rulingNo rulingমানসম্মত (“blau-weißgescheckt”)No ruling
Patterns
ছোপছোপমানসম্মত (“Single Comb; Rose Comb”)মানসম্মত (“(single colour)”)মানসম্মত (“schwarz-weißgescheckt; blau-weißgescheckt”)মানসম্মত (“Mottled”)
চোখ: rulings by club
Color or patternAPAPCGB
লালমানসম্মত (“Reddish-bay.”)মানসম্মত (“Eyes, iris orange-red, pupil hazel”)
কমলামানসম্মত (“Reddish-bay.”)মানসম্মত (“Eyes, iris orange-red, pupil hazel”)
লালচে বাদামিমানসম্মত (“Reddish-bay.”)No ruling
চঞ্চু: rulings by club
Color or patternPCGB
কালোমানসম্মত (“Beak yellow with black or horn shadings; a wholly yellow beak not desirable”)
শিংমানসম্মত (“Beak yellow with black or horn shadings; a wholly yellow beak not desirable”)
হলুদমানসম্মত (“Beak yellow with black or horn shadings; a wholly yellow beak not desirable”)
পা: rulings by club
Color or patternAPAPCGB
কালোমানসম্মত (“shanks and toes, yellow or yellow mottled with black”)মানসম্মত (“Legs yellow, mottled with black, the more evenly mottled the better”)
হলুদমানসম্মত (“shanks and toes, yellow or yellow mottled with black”)মানসম্মত (“Legs yellow, mottled with black, the more evenly mottled the better”)
ঝুঁটি ও গলকম্বল: rulings by club
Color or patternAPAPCGB
লালমানসম্মত (“Comb, Face and Wattles: Bright red.”)মানসম্মত (“Comb, face and wattles bright red, face free from white”)
কানের লতি: rulings by club
Color or patternAPAPCGB
সাদামানসম্মত (“White or creamy-white.”)মানসম্মত (“Ear-lobes white”)
ক্রিমমানসম্মত (“White or creamy-white.”)No ruling
লালঅযোগ্যকারী (“Red in ear-lobes, covering more than one-half of surface”)No ruling
ডিমের খোসা: rulings by club
Color or patternPCGB
সাদামানসম্মত (“Egg colour: White”)

What the rulings mean

মানসম্মত
Described by the club's breed standard.
অযোগ্যকারী
The club's breed standard disqualifies an animal of this color or pattern.

Color changes

How a আনকোনা's colors can change over its life.

  • কালোchanges toআড়াআড়ি ডোরা

    পালক · বয়সের সঙ্গে · males only

  • ছোপছোপchanges toসাদা

    পালক · ক্রমাগত

  • হলুদchanges toসাদা

    চঞ্চু · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back · females only

  • হলুদchanges toসাদা

    পা · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back · females only

আনকোনা মুরগি সম্পর্কে

আনকোনা ইতালির ছোট আকারের চটপটে মুরগি, গায়ে কালো-সাদা মিশ্র পালক; নিয়মিত সাদা ডিম দেয় আর নিজে খাবার খুঁজে বেড়াতে ওস্তাদ।

আনকোনা একটি ছোট, হালকা গড়নের ভূমধ্যসাগরীয় মুরগি জাত, নাম নিয়েছে ইতালির আদ্রিয়াতিক উপকূলের বন্দরনগরী আনকোনা থেকে। সবচেয়ে চেনা বৈশিষ্ট্য এর মিশ্র পালক: চকচকে সবুজাভ কালো রঙের ওপর সাদা ফোঁটা ছড়ানো, প্রায় প্রতি তিনটি পালকের একটির ডগায় সাদা দাগ থাকে। প্রতিবার পালক ঝরার (মোল্ট) পর এই সাদা ছোপ আরও স্পষ্ট হয়, তাই বয়স্ক মুরগিতে অল্পবয়সীদের চেয়ে বেশি সাদা দেখা যায়।

এই জাত মাংসের জন্য নয়, ডিমের জন্য পালা হয়। সুস্থ একটি আনকোনা সারা বছর ধরে ভালো সংখ্যক মাঝারি আকারের সাদা ডিম দেয়, আর শীতকালেও ডিম দেওয়া কমায় না, যেখানে ভারী গড়নের জাতগুলো ধীর হয়ে যায়। এই জাত প্রায় কখনোই তা দিতে বসে না, তাই মুরগি ডিমের ওপর বসে না থেকে নিয়মিত ডিম দিতেই থাকে।

আনকোনা সজাগ, চটপটে, আর ঘোরাফেরার জায়গা পেলেই সবচেয়ে খুশি থাকে। পোকামাকড় ও শাকপাতা খুঁজে বেড়ানোয় এরা বেশ দক্ষ, ফলে যারা এদের বাইরে ছেড়ে রাখতে পারেন তাদের খাবারের খরচ কমে। এরা ভালো উড়তেও পারে, তাই ডাল বা নিচু কোনো জায়গায় বসে থাকা এদের স্বভাব, আর সেই হিসেবেই বেড়া ও ঘর তৈরি করতে হয়।

আনকোনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
বৈশিষ্ট্যবিবরণ
উৎপত্তিইতালি (আনকোনা, আদ্রিয়াতিক উপকূল)
আকারছোট (হালকা ভূমধ্যসাগরীয় জাত)
আয়ুষ্কাল৫ থেকে ৮ বছর
শ্রেণি / ভূমিকাডিম পাড়া জাত, সাদা ডিম
যাদের জন্য উপযুক্তমুক্তচারণ ঝাঁক, অভিজ্ঞ ও সক্রিয় পালনকারী

যাদের জন্য উপযুক্ত

আনকোনা তাদের জন্য মানানসই যারা নিয়মিত ডিম চান আর পাখিকে ঘোরাফেরার জায়গা দিতে পারেন। মুক্তচারণ বা বড় ঘেরা জায়গায় এই জাত সবচেয়ে ভালো ফল দেয় আর ঠান্ডা আবহাওয়াতেও ডিম দিতে থাকে। যারা কোলে বসে থাকা শান্ত মুরগি বা ছোট বন্ধ খোঁয়াড়ে সন্তুষ্ট থাকা পাখি চান, তাদের জন্য এটি ততটা উপযুক্ত নয়, কারণ আনকোনা চঞ্চল, দ্রুতগতির আর ওড়াউড়িতে আগ্রহী। মিশ্র ঝাঁকে এরা ভালোভাবেই মানিয়ে নেয়, তবে নিজের জায়গা ছাড়ে না, তাই শান্ত, বশংবদ পোষা মুরগি খুঁজছেন এমন পালনকারীর জন্য এই জাত নয়।

আনকোনার ইতিহাস

আনকোনার উৎপত্তি ইতালির বন্দরনগরী আনকোনার কাছে, লেগহর্নের মতোই ভূমধ্যসাগরীয় বংশ থেকে এসেছে এই জাত, আর ঊনিশ শতকে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়।

এই জাত গড়ে উঠেছে মধ্য ইতালির মার্কে অঞ্চলে, আদ্রিয়াতিক বন্দর আনকোনার আশেপাশে, স্থানীয় দেশি মুরগি থেকে। এই মুরগিগুলোর পূর্বপুরুষ ছিল বৃহত্তর ভূমধ্যসাগরীয় গোষ্ঠীর অংশ, যে গোষ্ঠী থেকেই লেগহর্নও এসেছে, আর শুরুর দিকে এই দুই জাতকে সবসময় আলাদা করা হতো না। আনকোনাকে আলাদা করেছিল এর কালো-সাদা মিশ্র পালক, যেখানে সম্পর্কিত জাতগুলোতে সাধারণত এক রঙের পালক দেখা যেত।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আনকোনা ইংল্যান্ডে আসে, ১৮৫০-এর দশক থেকে আমদানির নথি পাওয়া যায়। ব্রিটিশ প্রজননকারীরা জাতের ধরন আর মিশ্র রঙের নকশা আরও পরিমার্জিত করেন, আর আজকের মান অনেকটাই সেই কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়া। উনিশ শতকের শেষ দিকে জাতটি ব্রিটিশ পোল্ট্রি মান তালিকায় জায়গা পায়।

ইংল্যান্ড আর ইতালি থেকে আনকোনা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। আমেরিকান পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডার্ড অব পারফেকশনে এটি স্বীকৃতি পায়, একক ঝুঁটির ধরন ১৮৯৮ সালে স্বীকৃত হয় আর রোজ ঝুঁটির ধরন পরে যুক্ত হয়। দুটি ঝুঁটির ধরনই এখনও পালন করা হয়।

বিশ শতক জুড়ে আনকোনাকে মূল্য দেওয়া হতো একটি কষ্টসহিষ্ণু খামারি ডিম পাড়া মুরগি হিসেবে, বিশেষ করে যেখানে মুরগিকে নিজে খাবার খুঁজতে হতো আর ঠান্ডা সহ্য করতে হতো। বাণিজ্যিক ডিম উৎপাদন যখন বিশেষায়িত হাইব্রিড জাতের দিকে সরে যায়, তখন আনকোনার সংখ্যা কমে আসে, আর এখন এই জাত মূলত ছোট খামারি, প্রদর্শনী পালনকারী আর ঐতিহ্যবাহী পোল্ট্রি সংরক্ষণকারীদের কাছেই টিকে আছে।

আনকোনার চেহারা

আনকোনা ছোট, টানটান গড়নের মুরগি, পালক চকচকে কালো আর ডগায় সাদা, পা হলুদ, আর ঝুঁটি উজ্জ্বল লাল রঙের একক বা রোজ ধরনের।

আনকোনার শরীরের গঠন একটি চটপটে ভূমধ্যসাগরীয় ডিম পাড়া মুরগির মতোই টানটান আর সক্রিয়। দেহ মোটামুটি খাটো, বুক সামনের দিকে বাড়ানো আর লেজ ভালোভাবে ওপরে তোলা থাকে। মুখ, ঝুঁটি আর গলকম্বল উজ্জ্বল লাল, আর কানের লতি সাদা। এই জাতে দুই ধরনের ঝুঁটি দেখা যায়: একক ঝুঁটি, যা মোরগে খাড়া থাকে আর মুরগিতে প্রায়ই এক পাশে হেলে যায়, আর রোজ ঝুঁটি, যা নিচু আর চ্যাপ্টা থাকে।

এই জাতের সবচেয়ে চেনা চিহ্ন এর পালক। প্রতিটি পালক কালো, সবুজাভ ঔজ্জ্বল্যসহ, আর ডগায় থাকে ইংরেজি ভি অক্ষরের মতো একটি সাদা দাগ। এই নকশার লক্ষ্য পুরো শরীরে সমানভাবে ছড়ানো সাদা ছোপ, কোথাও একরঙা পট্টি নয়। প্রতিবার পালক ঝরার পর সাদার পরিমাণ বাড়ে, তাই একই মুরগি বাচ্চা অবস্থায় গাঢ় আর বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেশি সাদা দেখায়।

জাতের মান এক নজরে
বৈশিষ্ট্যবিবরণ
ওজনমোরগ প্রায় ২.৭ কেজি (৬ পাউন্ড); মুরগি প্রায় ২.০ কেজি (৪.৫ পাউন্ড)
ঝুঁটিএকক বা রোজ, উজ্জ্বল লাল
পালকের আবরণটানটান, চকচকে পালক
রংসবুজাভ ঔজ্জ্বল্যসহ কালো, পালকের ডগায় সাদা ভি আকৃতির দাগ (মিশ্র)
চোখলালচে বাদামি; পা হলুদ, প্রায়ই কালো ছোপযুক্ত

পালক ও রং

স্বীকৃত রং হলো কালো-সাদা মিশ্র। ভালো মানের মুরগিতে পরিষ্কার সাদা কানের লতি থাকে, মোরগের লেজ লম্বা আর প্রবহমান, আর পা ও ঠোঁট হলুদ, পায়ে কিছুটা কালো ছোপ থাকাই স্বাভাবিক। ছোট আকারের বান্টাম আনকোনাও পাওয়া যায়, একই নকশা নিয়ে। অসম মিশ্রণ, একরঙা সাদা পালক, অথবা সবুজাভ ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যাওয়া মান অনুযায়ী ত্রুটি ধরা হয়।

আনকোনার স্বভাব

আনকোনা সজাগ, উদ্যমী আর স্বাধীনচেতা, সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর ধরাছোঁয়া থেকে দূরে থাকে, ফলে এরা কোলের শান্ত মুরগির বদলে আত্মবিশ্বাসী মুক্তচারী পাখি।

আনকোনা কৌতূহলী, উদ্যমী, আর প্রায় সবসময় নড়াচড়ায় থাকে। দিনের বেলা এরা সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর ঘোরাফেরার সুযোগ পেলে অনেকটা জায়গা ঘুরে ফেলে। মাথার ওপরের হুমকির প্রতি এরা সজাগ আর দ্রুত আড়ালে চলে যায়, যা ধীরগতির জাতগুলোর চেয়ে বাজপাখির হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।

মানুষের সাথে আনকোনা কিছুটা দূরত্ব রাখে। এরা আক্রমণাত্মক নয়, তবে ধরা বা কোলে নেওয়া পছন্দ করে না, আর কোলে নিতে গেলে দৌড়ে পালাবে বা উড়ে যাবে। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত আলতো হাতে ধরলে কিছু মুরগি বশ মানতে পারে, তবে গোটা জাত হিসেবে এরা চঞ্চলই থেকে যায়। অন্য মুরগির সাথে যথেষ্ট জায়গা পেলে এরা সাধারণত শান্তিপূর্ণ থাকে, যদিও এদের দ্রুততা আর উদ্যম খুব শান্ত জাতের মুরগিকে অস্থির করে তুলতে পারে।

এই জাত ভালো ওড়ে আর সুযোগ পেলে উঁচু জায়গায় গিয়ে বসে থাকে। পালনকারীদের মাথায় রাখতে হবে যে এরা নিচু বেড়া সহজেই টপকে যাবে, তাই ঘেরা জায়গায় ছাউনি বা উঁচু বেড়ার দরকার হতে পারে।

স্বভাবের মূল্যায়ন (১ = কম, ৫ = বেশি)
বৈশিষ্ট্যমাত্রা
স্নেহপ্রবণতা২
কর্মক্ষমতা৫
প্রশিক্ষণযোগ্যতা২
ডাকাডাকি৩
পালক ঝরা৩

আনকোনার পরিচর্যা

আনকোনার জন্য দরকার খাবার খোঁজার জায়গা, নিরাপদ ঢাকা ঘেরা জায়গা যাতে ওড়াউড়ি আটকানো যায়, আর মৌলিক ঝাঁক পরিচর্যা, তবে এদের টানটান, আবহাওয়া সহনশীল পালক নিয়ে বাড়তি ঝামেলা নেই।

যেসব পালনকারী পাখির সক্রিয়তার চাহিদা মেটাতে পারেন, তাদের জন্য আনকোনা কম যত্ন লাগে এমন পাখি। এদের টানটান পালক বৃষ্টি ঝরিয়ে দেয় আর ঠান্ডা সহ্য করে, তাই মূল চাহিদা হলো জায়গা, নিরাপত্তা আর নিয়মিত ঝাঁক পরিচর্যা।

পালকের পরিচর্যা

  • বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পায়ুপথ ও তার আশপাশের পালক পরিষ্কার আছে কিনা দেখুন।
  • পা ও পায়ের পাতায় আঁশ মাইট আছে কিনা পরীক্ষা করুন, পেলে দ্রুত চিকিৎসা করুন।
  • শুকনো ধুলাগোসলের জায়গা রাখুন যাতে মুরগি নিজেই বাইরের পরজীবী সামলাতে পারে।
  • দরকার হলে একটি ডানার পালক ছেঁটে দিন যাতে ওড়া কমে, তবে এতে শিকারি থেকে পালানোর সক্ষমতা কমে যায়।

ব্যায়াম

  • প্রতিদিন মুক্তচারণ বা বড় ঘেরা জায়গা দিন; আনকোনা বদ্ধ জায়গায় আটকে রাখার উপযুক্ত পাখি নয়।
  • বসার ডাল আর বিচিত্র ভূমিরূপ দিন যাতে মুরগি খাবার খুঁজতে আর উড়তে পারে।
  • খাবার বা শাকপাতা ছড়িয়ে দিন যাতে স্বাভাবিক খাদ্যসন্ধানের প্রবৃত্তি উৎসাহ পায়।

পরিবেশ

রোজ ঝুঁটির ধরনে ঝুঁটির আকার ছোট হওয়ায় আর ঘন পালকের কারণে এই জাত ঠান্ডা ভালোই সামলাতে পারে, তবে একক ঝুঁটির মুরগির ঝুঁটির ডগা তীব্র ঠান্ডায় তুষারদংশনে আক্রান্ত হতে পারে। বাতাস আটকে না রেখে চলাচল উপযোগী খোঁয়াড় আর শুকনো বিছানা দিন। বাংলাদেশের গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ছায়া আর সবসময় পানি রাখা জরুরি, কারণ ভূমধ্যসাগরীয় জাত হিসেবে আনকোনা সাধারণত গরম মোটামুটি ভালোভাবেই সহ্য করে।

আনকোনার খাদ্য

আনকোনা স্বাভাবিক লেয়ার রেশনেই ভালো থাকে, সাথে খাদ্যসন্ধান যোগ হয়, আর গ্রিট ও ক্যালসিয়াম আলাদাভাবে সবসময় পাওয়া যায় এমনভাবে দিতে হয়, খাবারের বাড়তি অংশ কম রাখতে হয়।

সক্রিয় ডিম পাড়া জাত হিসেবে আনকোনার বয়স অনুযায়ী সুষম পোল্ট্রি খাদ্য দরকার। যেসব মুরগি মুক্তচারণ করে তারা পোকামাকড় ও শাকপাতা থেকে খাবারের একটা বড় অংশ নিজেই জোগাড় করে, ফলে তৈরি খাদ্যের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে, তবে ডিম দেওয়া অব্যাহত রাখতে সুষম রেশনই খাদ্যের মূল ভিত্তি থাকা উচিত।

খাওয়ানোর নির্দেশিকা
জীবনপর্যায়দৈনিক পরিমাণবেলা
বাচ্চা (০ থেকে ৮ সপ্তাহ)স্টার্টার গুঁড়ো, সবসময় পাওয়া যায় এমনভাবেসারাদিন পাওয়া যাবে
বাড়ন্ত মুরগি (৮ থেকে ১৮ সপ্তাহ)গ্রোয়ার রেশন, সবসময় পাওয়া যায় এমনভাবেসারাদিন পাওয়া যাবে
ডিম পাড়া মুরগিপ্রায় ১১০ থেকে ১৩০ গ্রাম লেয়ার খাদ্যসবসময় পাওয়া যাবে, সাথে খাদ্যসন্ধান

বাড়তি খাবার ও সম্পূরক

মুরগি যাতে খাবার হজম করতে পারে সেজন্য অদ্রবণীয় গ্রিট সবসময় পাওয়া যায় এমনভাবে দিন, কারণ সক্রিয়ভাবে খাদ্যসন্ধানকারী পাখিরা মোটা দানার খাবারও খায়। ডিম পাড়া মুরগির খোসার মান ভালো রাখতে গুঁড়ো ঝিনুকের খোল বা অন্য কোনো ক্যালসিয়ামের উৎস আলাদাভাবে দিন। শাকপাতা, মিলওয়ার্ম আর দানার মতো বাড়তি খাবার মোট খাদ্যের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগের মধ্যে রাখুন যাতে সুষম রেশন হালকা না হয়ে যায়। বিশুদ্ধ পানি সবসময় পাওয়া যেতে হবে।

আনকোনার স্বাস্থ্য

আনকোনা একটি শক্তসামর্থ্য, দীর্ঘজীবী ডিম পাড়া জাত, জাতের নিজস্ব তেমন কোনো সমস্যা নেই, তবে একক ঝুঁটির মুরগি তুষারদংশনে ভুগতে পারে আর সব মুরগির মতোই সাধারণ পরজীবী ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি থাকে।

আনকোনা একটি মজবুত জাত, যার সাধারণ আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৮ বছর। ছোট আকার, সক্রিয় স্বভাব আর টানটান পালকের কারণে এরা সাধারণত সুস্থ থাকে আর খাবার খুঁজে শিকারি এড়াতে ভালোভাবে সক্ষম। এই জাতে ব্যাপক কোনো বংশগত সমস্যা নেই, তাই বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সমস্যা সব ধরনের ঘরোয়া মুরগির মধ্যে দেখা সাধারণ সমস্যাই।

সাধারণ সমস্যা
সমস্যালক্ষণমন্তব্য
ঝুঁটিতে তুষারদংশনঠান্ডায় ঝুঁটির ডগা কালো বা মরে যাওয়ামূলত একক ঝুঁটির মুরগিতে; খোঁয়াড়ে বাতাস চলাচল রাখুন আর আর্দ্রতা কমান
বাইরের পরজীবী (মাইট, উকুন)চুলকানো, ফ্যাকাশে ঝুঁটি, পালকের ক্ষতিধুলাগোসলের জায়গা দিন; দ্রুত চিকিৎসা করুন
আঁশ মাইটপায়ের আঁশ ফুলে ওঠা ও শক্ত হওয়াআক্রান্ত মুরগির চিকিৎসা করুন আর বসার ডাল পরিষ্কার রাখুন
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণহাঁচি, নাক দিয়ে সর্দি, ঘড়ঘড় শব্দবাতাস চলাচল বাড়ান; আলাদা করুন আর পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
কৃমি (পেটের পরজীবী)ওজন কমা, ডিম কমে যাওয়া, পাতলা মলচারণভূমি সামলান; পশু চিকিৎসকের পরামর্শে কৃমিনাশক দিন

প্রতিরোধমূলক যত্ন

  • শ্বাসতন্ত্রের রোগ কমাতে খোঁয়াড় শুকনো, পরিষ্কার আর বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন।
  • ধুলাগোসলের জায়গা দিন আর নিয়মিত মাইট ও উকুনের জন্য মুরগি পরীক্ষা করুন।
  • কৃমির চাপ কমাতে চারণ এলাকা পালাক্রমে ব্যবহার করুন বা মাঝেমধ্যে বিশ্রাম দিন।
  • ডিম পাড়ার স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ক্যালসিয়াম ও গ্রিট সবসময় পাওয়া যায় এমনভাবে দিন।
  • ঝাঁকে যোগ করার আগে নতুন যেকোনো মুরগি আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন।

আনকোনার আবাসন ও বাসস্থান

আনকোনার জন্য দরকার নিরাপদ, বাতাস চলাচল উপযোগী খোঁয়াড়, উঁচু বসার ডাল, আর ওড়াউড়ি ও খাদ্যসন্ধানের প্রবৃত্তি মেটাতে বড় ঢাকা ঘেরা জায়গা বা খোলা চারণভূমি।

আনকোনা সক্রিয়, দ্রুতগতির আর ভালো ওড়ে বলে আবাসনে যথেষ্ট জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি এদের ভেতরে ধরে রাখার ব্যবস্থাও করতে হয়। নেস্ট বক্স আর বসার ডালসহ একটি সাধারণ খোঁয়াড় ভালো কাজ করে, তবে শান্ত ভারী জাতের চেয়ে এদের ঘেরা জায়গা বড় ও বেশি নিরাপদ হওয়া দরকার। বদ্ধ জায়গায় রাখলে মুরগি চাপে পড়ে আর পালক ঠোকরানো শুরু করতে পারে, তাই চারণভূমির সুযোগ বা প্রশস্ত ঘেরা জায়গা গুরুত্বপূর্ণ।

আবাসনের বিবরণ
মাপকাঠিসুপারিশ
খোঁয়াড়ের জায়গাপ্রতি পাখির জন্য প্রায় ০.৩ থেকে ০.৪ বর্গমিটার (৩ থেকে ৪ বর্গফুট)
ঘেরা জায়গাপ্রতি পাখির জন্য প্রায় ০.৯ থেকে ১.৪ বর্গমিটার (১০ থেকে ১৫ বর্গফুট), সম্ভব হলে আরও বেশি
বসার ডালউঁচু বসার ডাল; প্রতি পাখির জন্য ২০ থেকে ২৫ সেমি (৮ থেকে ১০ ইঞ্চি) জায়গা রাখুন
নেস্ট বক্সপ্রতি ৩ থেকে ৪ মুরগির জন্য একটি বাক্স
বেড়াউঁচু বা ঢাকা ঘেরা জায়গা; মুরগি ওড়ে আর উঁচুতে গিয়ে বসে
বাতাস চলাচলবসার ডালের উচ্চতার ওপরে বাতাসের হালকা ঝাপটামুক্ত প্রবাহ

প্রস্তুতির তালিকা

  • নিরাপদ ছিটকিনিসহ শিকারি প্রতিরোধী খোঁয়াড় আর ঢাকা বা উঁচু ঘেরা জায়গা।
  • এই জাতের বসার স্বভাব অনুযায়ী নেস্ট বক্সের ওপরে বসানো উঁচু বসার ডাল।
  • শুকনো, পুরু বিছানা আর মেঝের কাছে বাতাসের ঝাপটা ছাড়া ভালো বাতাস চলাচল।
  • ঘেরা জায়গায় ছায়া আর ধুলাগোসলের জায়গা।
  • সবসময় বিশুদ্ধ পানি আর গ্রিট ও ক্যালসিয়াম সবসময় পাওয়া যায় এমন ব্যবস্থা।

আনকোনার ডিম ফোটানো

স্বাভাবিক ইনকিউবেশন অবস্থায় আনকোনার ডিম প্রায় ২১ দিনে ফোটে, আর এই জাত প্রায় কখনোই তা দিতে বসে না বলে বেশিরভাগ পালনকারী ইনকিউবেটর বা অন্য জাতের তা-দাত্রী মুরগির সাহায্য নেন।

আনকোনা খুব কমই তা দিতে বসে, তাই ডিম ফোটাতে সাধারণত ইনকিউবেটর বা অন্য জাতের তা-দাত্রী মুরগির নিচে ডিম রাখার দরকার হয়। এই জাতের ডিম সাদা, মাঝারি আকারের, আর মুরগির স্বাভাবিক প্রায় ২১ দিনের ইনকিউবেশন সময়ই মেনে চলে। পরিষ্কার, টাটকা ডিম বাছাই করুন আর সেরা ফলাফলের জন্য পরিবেশের অবস্থা স্থির রাখুন।

ইনকিউবেশনের সেটিং
মাপকাঠিমাত্রা
তাপমাত্রাফোর্সড এয়ার ইনকিউবেটরে ৩৭.৫°সে (৯৯.৫°ফা)
আর্দ্রতা১ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫%, ফোটার সময় বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৭০%
দিনপ্রায় ২১
উল্টানো১৮ দিন পর্যন্ত দিনে ৩ থেকে ৫ বার, তারপর বন্ধ

ডিম ফোটানোর ধাপ

  1. পরিষ্কার, সুগঠিত, টাটকা ডিম বাছাই করুন আর সেট করার আগ পর্যন্ত ডগা নিচের দিকে রেখে ১৮°সে-এর নিচে সংরক্ষণ করুন।
  2. তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা স্থির আছে কিনা নিশ্চিত করতে ইনকিউবেটর একদিন খালি চালান।
  3. ডিম সেট করুন আর উল্টানো শুরু করুন, প্রতিটি ডিমের একপাশে চিহ্ন দিয়ে উল্টানোর হিসাব রাখুন।
  4. ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ক্যান্ডলিং করে দেখুন আর স্বচ্ছ বা বাড়ছে না এমন ডিম সরিয়ে ফেলুন।
  5. ১৮তম দিনে উল্টানো বন্ধ করুন, আর্দ্রতা বাড়ান, আর লকডাউনে সরান।
  6. বাচ্চা ফোটার পর ইনকিউবেটরের ভেতরেই শুকাতে দিন, তারপর উষ্ণ ব্রুডারে সরান।

আনকোনা মুরগি সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

আনকোনা নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলো এর আকার, স্বভাব, ডিম দেওয়া, পরিচর্যার মাত্রা, আয়ুষ্কাল আর জাতটি কতটা সহজে পাওয়া যায় তা নিয়ে।

আনকোনা মুরগি কতটা বড় হয়?

আনকোনা ছোট, হালকা গড়নের জাত। মোরগের ওজন প্রায় ২.৭ কেজি (৬ পাউন্ড) আর মুরগির প্রায় ২.০ কেজি (৪.৫ পাউন্ড)। ছোট আকারের বান্টাম ধরনও পাওয়া যায়।

আনকোনার স্বভাব কেমন?

আনকোনা কৌতূহলী, উদ্যমী আর সজাগ। এরা সক্রিয়ভাবে খাবার খুঁজে বেড়ায় আর ভালো ওড়ে, তবে ধরাছোঁয়া থেকে দূরে থাকে, ফলে এরা কোলের শান্ত মুরগির বদলে আত্মবিশ্বাসী মুক্তচারী পাখি।

আনকোনা মুরগি কয়টা ডিম দেয়?

আনকোনা মাঝারি আকারের সাদা ডিমের নির্ভরযোগ্য উৎস আর শীতের মাসেও ডিম দেওয়া অব্যাহত রাখে। এরা প্রায় কখনোই তা দিতে বসে না, তাই মুরগি ডিমের ওপর বসে থাকার বদলে নিয়মিত ডিম দিতে থাকে।

আনকোনা পালন করা কি কঠিন?

পরিচর্যা নিজেই সহজ, তবে এই জাতের জায়গা আর নিরাপদ আবাসন দরকার। এদের ওড়াউড়ির প্রবণতা আর বদ্ধ জায়গা অপছন্দ করার কারণে ঢাকা ঘেরা জায়গা বা মুক্তচারণ জরুরি, তাই শান্ত পোষা মুরগি চাওয়া শুরুর দিকের পালনকারীর চেয়ে সক্রিয় পালনকারীর জন্যই এটি বেশি উপযুক্ত।

আনকোনা মুরগি কতদিন বাঁচে?

ভালো যত্নে একটি আনকোনা সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর বাঁচে। এটি একটি মজবুত জাত, যার ব্যাপক কোনো বংশগত স্বাস্থ্য সমস্যা নেই।

আনকোনা কি ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য ভালো?

হ্যাঁ। এদের টানটান পালক আর সক্রিয় স্বভাব ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে মানানসই, আর ভারী জাত যখন ধীর হয়ে যায় তখনও এরা ডিম দিতে থাকে। একক ঝুঁটির মুরগির ঝুঁটির ডগায় তুষারদংশন হতে পারে, তাই শুকনো, বাতাস চলাচল উপযোগী খোঁয়াড় সাহায্য করে।

আনকোনা মুরগি কি সহজে পাওয়া যায়?

প্রচলিত হাইব্রিড লেয়ার জাতের তুলনায় আনকোনা কম দেখা যায়। ছোট খামারি, প্রদর্শনী পালনকারী আর ঐতিহ্যবাহী পোল্ট্রি প্রজননকারীরা এটি পালন করেন, তাই বড় সরবরাহকারীর বদলে বিশেষজ্ঞ প্রজননকারীদের কাছ থেকেই সাধারণত মুরগি ও ডিম সংগ্রহ করা হয়।