ওয়াগিউ
ওয়াগিউ হলো একটি সমাদৃত জাপানি গরুর মাংস জাত, যা তার তীব্র মার্বেল-যুক্ত মাংস এবং বিশেষভাবে শান্ত, কোমল মেজাজের জন্য বিশ্বখ্যাত।
- Size
- বড়
- Lifespan
- 15–20 years
- Origin
- জাপান
- Temperament
- শান্ত
- Standard colors
- কালো এবং লাল
Characteristics
ওয়াগিউ colors and patterns
What each club's breed standard says about every ওয়াগিউ color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the ওয়াগিউ in কালো এবং লাল.
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
Color changes
How a ওয়াগিউ's colors can change over its life.
কালোchanges toধূসর
লোম · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
ওয়াগিউ সম্পর্কে
ওয়াগিউ জাপানের একটি বড় আকারের গরুর জাত, যার মাংসে ঘন চর্বির বুনন (মারবেলিং) আর শান্ত, নিরীহ স্বভাবের জন্য পরিচিতি। এটি জাপানে উদ্ভূত এবং সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে।
ওয়াগিউ জাপান থেকে আসা একটি মাংস উৎপাদনকারী গরুর জাত। নামটির অর্থ মোটামুটি "জাপানি গরু", আর এর আওতায় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ধরন পড়ে, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো জাপানিজ ব্ল্যাক, জাপানিজ ব্রাউন, জাপানিজ পোলড এবং জাপানিজ শর্টহর্ন। এই জাতের সবচেয়ে বড় গুণ হলো মাংসের ভেতরে জমে থাকা ঘন চর্বির বুনন, যাকে মারবেলিং বলা হয়।
ওয়াগিউ গরু আকারে বড় হলেও স্বভাবে শান্ত ও স্থির। বহু প্রজন্ম ধরে এগুলোকে হালচাষ ও ভারবহনের কাজে ব্যবহার করা হতো, পরে প্রজনন কৌশল ধীরে ধীরে মাংসের গুণমানের দিকে সরে যায়। মানুষের কাছাকাছি থেকে কাজ করার সেই দীর্ঘ ইতিহাসের ছাপ এখনো এদের বাধ্য ও সহজে সামলানো যায় এমন স্বভাবে দেখা যায়। পূর্ণবয়স্ক পশু ওজনে ভারী হলেও নিয়মিত হাতে-কলমে পরিচর্যা পেলে সহজেই বশে থাকে।
জাপানের বাইরে এই জাত খাঁটি (ফুলব্লাড) পাল হিসেবে এবং সংকরায়ন কর্মসূচিতে, দুই ভাবেই পালন করা হয়; সংকরায়নে ওয়াগিউর জিন ব্যবহার করে অন্য মাংস জাতের গরুতে মারবেলিং বাড়ানো হয়। গরুর হিসেবে এদের আয়ু বেশ দীর্ঘ, সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর, যদিও মাংসের জন্য পালিত পশুকে অনেক আগেই জবাই করা হয়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | জাপান |
| আকার | বড় |
| আয়ু | ১৫ থেকে ২০ বছর |
| দল / ভূমিকা | মাংস উৎপাদনকারী গরু (আগে হালচাষে ব্যবহৃত) |
| যাদের সাথে ভালো | নিয়মিত পরিচর্যাকারী; পালের সঙ্গী; শান্ত খামার পরিবেশ |
কাদের জন্য উপযুক্ত
ওয়াগিউ তাদের জন্য উপযুক্ত যারা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি বা বড় সংখ্যার বদলে উন্নত মানের মারবেল করা মাংসে মনোযোগ দিতে চান। এই জাত ধৈর্যশীল, মনোযোগী ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘ খাওয়ানোর সময়কালের প্রতিদান দেয়, তাই মাসের পর মাস যত্নশীল পরিচর্যা ও নিয়মিত খাদ্য বজায় রাখতে পারে এমন খামারের জন্য এটি মানানসই। শান্ত স্বভাবের কারণে ছোট খামারেও একে সামলানো সম্ভব, তবে খাঁটি জাতের পশুর দাম আর দীর্ঘ ফিনিশিং সময়ের কারণে এটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাত নয়, বরং একটি বিশেষায়িত পছন্দ।
ওয়াগিউর ইতিহাস
ওয়াগিউ গরু জাপানে হালচাষের কাজে ব্যবহৃত পশু থেকে বিকশিত হয়, ঊনবিংশ শতকের শেষভাগের পর মাংসের গুণমানের জন্য পরিমার্জিত হয় এবং বিংশ শতকে আলাদা আঞ্চলিক ধরন হিসেবে সংরক্ষিত হয়।
জাপানে গরু আছে প্রায় দুই হাজার বছর ধরে, মূলত কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য, যেমন ধানখেত চাষ করা আর মালামাল টানা। পাহাড়ি-অসমতল ভূমি আর হালচাষের চাহিদা এমন পশু চেয়েছে যাদের শক্তি, সহনশীলতা আর স্থির মেজাজ আছে, আর এখন যে ঘন মারবেলিংয়ের জন্য এই জাত পরিচিত, তার একটা কারণ এই কর্মঠ পশুদের শরীরে চর্বি হিসেবে জমে থাকা শক্তি।
এই দীর্ঘ সময়ের বেশিরভাগ জুড়ে জাপানে গরুর মাংস খাওয়ার তেমন চল ছিল না, আর অনেক অঞ্চল নিজেদের গরু মোটামুটি বিচ্ছিন্নভাবে পালন করত। সেই বিচ্ছিন্নতা থেকেই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের স্থানীয় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জাপান বিদেশের সাথে ব্যাপক যোগাযোগে ফিরে আসার পর, আকার আর গড়ন উন্নত করতে কিছু আমদানি করা ইউরোপীয় গরুর সাথে দেশি গরুর সংকরায়ন করা হয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশি জাতের গুণ রক্ষা করতে বিদেশি গরুর সাথে সংকরায়ন মূলত বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৪০-এর দশক থেকে জাপানি হার্ড বুকে প্রধান জাতগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়: জাপানিজ ব্ল্যাক, জাপানিজ ব্রাউন (জাপানিজ রেড নামেও পরিচিত), জাপানিজ পোলড, এবং জাপানিজ শর্টহর্ন। আজ যত ওয়াগিউ পালন করা হয়, তার সিংহভাগই জাপানিজ ব্ল্যাক।
ওয়াগিউর জিন অন্য দেশে পৌঁছাতে শুরু করে ১৯৭০-এর দশকে, আবার ১৯৯০-এর দশকে, যখন সীমিত সংখ্যক পশু আর জেনেটিক উপাদান উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করা হয়। এই রপ্তানিই এখন সারা বিশ্বে খাঁটি ওয়াগিউ এবং সংকরায়ন কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত প্রজনন পালের ভিত্তি গড়ে তোলে।
ওয়াগিউর বাহ্যিক গঠন
ওয়াগিউ বড়, গভীর দেহের গরু, বেশিরভাগই কালো বা লাল রঙের, লম্বাটে কাঠামো আর সরু হাড়ের। তবে এই জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য বাহ্যিক রূপ নয়, মাংসের ভেতরের ঘন মারবেলিং।
ওয়াগিউ বেশ বড়সড়, গভীর দেহের গরু, পিঠ লম্বা ও মোটামুটি সোজা, আর দেহের ওজনের তুলনায় হাড় বেশ সরু। সবচেয়ে পরিচিত ধরন জাপানিজ ব্ল্যাক পুরোপুরি কালো, আর জাপানিজ ব্রাউন লালচে থেকে লালচে-বাদামি রঙের হয়। শিংওয়ালা আর প্রাকৃতিকভাবে শিংহীন, দুই ধরনের লাইনই আছে, শেষেরটি জাপানিজ পোলড ধরনের মাধ্যমে। এই জাতকে দেখতে একটা মাঝারি, সুষম পশু মনে হয়, কিছু বিশেষায়িত মাংস জাতের মতো চরম পেশিবহুল নয়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উচ্চতা | গাভী কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ সেমি; ষাঁড় তুলনামূলক লম্বা |
| ওজন | গাভী প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ কেজি; ষাঁড় ৭০০ থেকে ১,০০০ কেজি |
| লোম | খাটো, মসৃণ |
| রং | কালো (জাপানিজ ব্ল্যাক); লাল বা বাদামি (জাপানিজ ব্রাউন) |
| চোখ | গাঢ় রঙের, শান্ত ও সজাগ মুখাবয়বে বসানো |
লোম ও রং
লোম খাটো আর দেহের সাথে মসৃণভাবে লেগে থাকে। রং নির্ভর করে ধরনের ওপর: জাপানিজ ব্ল্যাক গরু সমানভাবে কালো, বয়স্ক বা রোদে বেশি থাকা পশুতে মাঝেমধ্যে সামান্য বাদামি আভা দেখা যায়, আর জাপানিজ ব্রাউন হালকা লাল থেকে গাঢ় লালচে-বাদামি পর্যন্ত হতে পারে, প্রায়ই মুখ আর পেটের নিচের দিকে হালকা রঙের অংশ থাকে। বাছুর জন্ম থেকেই নিজ ধরনের রং নিয়ে আসে আর সারাজীবন সেটাই থাকে। বাইরে থেকে দেখা লোমে এই জাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণের তেমন আভাস পাওয়া যায় না, পেশির ভেতরের সূক্ষ্ম ও সমান চর্বির বুনন কেবল মাংস কাটার পরই বোঝা যায়।
ওয়াগিউর স্বভাব
ওয়াগিউ শান্ত, বাধ্য এবং সদাচরণী গরু, নিয়মিত কাজ করালে ভালোভাবে সামলানো যায়, এই গুণ তাদের দীর্ঘদিনের হালচাষের ইতিহাস থেকে পাওয়া।
ওয়াগিউর পরিচিতি আছে অপেক্ষাকৃত স্থির মেজাজের মাংস জাত হিসেবে। এরা সাধারণত শান্ত ও সদাচরণী, দ্রুত রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং অনেক জাতের চেয়ে বেশি কাছে থেকে পরিচর্যা সহ্য করতে পারে। এই স্বভাবের শেকড় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হালচাষের কাজে, যখন মানুষ প্রতিটি গরুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস ও কাজ করত।
পরিচিত পরিচর্যাকারীর সাথে এই জাত সহযোগিতাপূর্ণ আর সহজেই সরানো যায়, আর পরিচর্যার সময় চাপ অনেক প্রতিক্রিয়াশীল জাতের তুলনায় কম থাকে, যা পশুকল্যাণ আর মাংসের গুণমান দুটোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পালের ভেতরে ওয়াগিউ মিশুক এবং স্থিতিশীল দলগত কাঠামো তৈরি করে। অপরিচিত মানুষ বা অচেনা পরিবেশে এরা একটু সতর্ক হতে পারে, যেমনটা যেকোনো গরুর ক্ষেত্রেই হয়, তাই শান্ত ও নিয়মিত পরিচর্যাই সবচেয়ে ভালো ফল দেয়।
শান্ত স্বভাব সত্ত্বেও এরা বড় আর শক্তিশালী পশু। বিশেষ করে ষাঁড়কে সবসময় সমীহ করে চলতে হবে, শুধু জাত শান্ত বলে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক না। ভালো অবকাঠামো আর অল্প বয়স থেকে নিয়মিত পরিচর্যা পশুকে স্থির আর অনুমানযোগ্য রাখে।
| বৈশিষ্ট্য | মূল্যায়ন |
|---|---|
| স্নেহ (পরিচর্যাকারীর সাথে বন্ধন) | ৪ |
| শক্তি/উদ্যম | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা (রুটিন/পরিচর্যায়) | ৪ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরা | ৩ |
ওয়াগিউর পরিচর্যা
ওয়াগিউর দরকার নিয়মিত পরিচর্যা, দীর্ঘ সময় ধরে ভালো মানের খাদ্য, তাপমাত্রার চরমভাব থেকে আশ্রয়, আর অন্য মাংস জাতের গরুর মতোই মৌলিক যত্ন, তবে নিয়মিত পুষ্টির দিকে বাড়তি মনোযোগ দরকার।
লোম ও শরীরের যত্ন
- খাটো লোম পরিষ্কার রাখুন; গরু নিজে থেকেই অনেকটা পরিষ্কার থাকে, তবে ব্রাশ বা খুঁটির মতো ঘষার জায়গা পেলে উপকার হয়।
- খুর নিয়মিত পরীক্ষা করুন আর দরকার হলে কেটে দিন, বিশেষ করে নরম মাটিতে বা গোয়ালঘরে রাখা পশুর ক্ষেত্রে খোঁড়া হওয়া ঠেকাতে।
- মাছি, উকুন, আর আঁঠালি পোকার মতো বাহ্যিক পরজীবী মৌসুম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করুন।
- নিয়মিত পরিচর্যার সময় চামড়া, চোখ, আর প্রজননক্ষম গাভীর ওলান পরীক্ষা করুন।
ব্যায়াম
- হাঁটাচলা আর চরার জায়গা দিন; নড়াচড়া সুস্থ বৃদ্ধি আর পায়ের গঠন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- জোর করে দ্রুত বা চাপযুক্ত নড়াচড়া করানো এড়িয়ে চলুন, এতে জাতের শান্ত স্বভাবের বিপরীত ফল হয়।
- সম্ভব হলে বদ্ধ জায়গায় সারাক্ষণ আটকে রাখার চেয়ে চারণভূমি বা বড় উঠান বেশি ভালো।
পরিবেশ
ওয়াগিউ নানা ধরনের আবহাওয়া সহ্য করতে পারে, তবে গরম, ঠান্ডা, বাতাস, আর ভেজা অবস্থা থেকে আশ্রয় পেলে সবচেয়ে ভালো থাকে। বাংলাদেশের গরম, আর্দ্র আবহাওয়ায় ছায়া আর পরিষ্কার পানি অপরিহার্য, আর বর্ষার সময় শুকনো শোয়ার জায়গা জরুরি। স্থিতিশীল দল, কম চাপের পরিচর্যা, আর প্রতিদিনের নিয়মিত রুটিন এই জাতের স্বভাবের সাথে মানানসই এবং খাদ্যগ্রহণ স্থির রাখতে সাহায্য করে।
ওয়াগিউর খাদ্য
ওয়াগিউ জাবরকাটা পশু, যাদের প্রধান খাদ্য চারণ-নির্ভর, ফিনিশিং পর্যায়ে দানাদার খাবার যোগ করা হয়, আর বেশিরভাগ মাংস জাতের চেয়ে দীর্ঘ সময় খাওয়ানো হয় তাদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মারবেলিং তৈরির জন্য।
ওয়াগিউ জাবরকাটা পশু আর এদের খাদ্যের ভিত্তি হলো চারণ: চারণভূমির ঘাস, খড়, বা সাইলেজ, যা সুস্থ জাবরের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ জোগায়। সবসময় পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা থাকা দরকার, গরমকালে দৈনিক চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এই জাতের ঘন মারবেলিং তৈরি করতে ফিনিশিং কর্মসূচিতে শক্তি-ঘন দানাদার বা কনসেন্ট্রেট খাবার যোগ করা হয় এবং সাধারণ মাংসের গরুর চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে খাওয়ানো হয়, প্রায়ই ২৪ থেকে ৩০ মাস বা তার বেশি।
খাদ্যে কোনো পরিবর্তন করতে হলে কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে করতে হবে, যাতে অ্যাসিডোসিস বা ফাঁপার মতো হজমের সমস্যা এড়ানো যায়। খনিজ ও ভিটামিনের জোগান চারণের ভিত্তি আর পশুর বয়সের সাথে মানানসই হতে হবে।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | খাওয়ানোর সংখ্যা |
|---|---|---|
| বাছুর (দুধ ছাড়ানোর আগে) | দুধ এবং চারণ ও স্টার্টার খাদ্যের সুযোগ | স্তন্যপান / স্বাধীন সুযোগ |
| বাড়ন্ত পশু | চারণ-নির্ভর, শুকনো পদার্থ হিসেবে দেহের ওজনের প্রায় ২ থেকে ২.৫% | স্বাধীন সুযোগ প্লাস ১ থেকে ২ বার খাওয়ানো |
| ফিনিশিং | চারণ প্লাস শক্তি বাড়াতে দানাদার/কনসেন্ট্রেট | ২ থেকে ৩ বার খাওয়ানো |
| পূর্ণবয়স্ক গাভী (রক্ষণাবেক্ষণ) | শুকনো পদার্থ হিসেবে দেহের ওজনের প্রায় ২% | স্বাধীন সুযোগ |
বাড়তি খাবার ও সম্পূরক
বাড়তি খাবার অল্প আর নিয়মিত রাখুন। স্থানীয় চারণের সাথে মিলিয়ে তৈরি খনিজ চাটা বা ব্লক তামা, সেলেনিয়াম, আর কোবাল্টের মতো খনিজের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে যেখানে মাটিতে এসবের অভাব থাকে, তবে শুধু পশুচিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শেই দিতে হবে, কারণ কিছু খনিজ বেশি পরিমাণে ক্ষতিকর। হঠাৎ বেশি দানাদার খাবার বা মুখরোচক খাবার জাবর নষ্ট করতে পারে, তাই এড়িয়ে চলা উচিত।
ওয়াগিউর স্বাস্থ্য
ওয়াগিউ সাধারণত শক্তসমর্থ গরু, যাদের সম্ভাব্য আয়ু ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ, তবে মাংস জাতের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা আর দীর্ঘ, উচ্চ-শক্তির ফিনিশিং খাদ্যের সাথে যুক্ত ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
ওয়াগিউ সাধারণত শক্তসমর্থ গরু আর ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচতে পারে, যদিও মাংসের জন্য পালিত পশুকে অনেক আগেই জবাই করা হয়। এদের স্বাস্থ্য সমস্যা মূলত গরুর সাধারণ সমস্যার মতোই: হজম, শ্বাসতন্ত্র, খুর, আর পরজীবী সংক্রান্ত। এই জাতের দীর্ঘ, শক্তি-ঘন ফিনিশিং পর্যায়ে জাবরের স্বাস্থ্য আর বেশি দানাদার খাদ্যের সাথে যুক্ত সমস্যার দিকে বাড়তি নজর দিতে হয়।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জাবরের অ্যাসিডোসিস | খাওয়া কমে যাওয়া, নিস্তেজ ভাব, পাতলা গোবর, জাবরের কার্যক্রম কমে যাওয়া | বেশি দানাদার খাবারে ফিনিশিং করার সাথে যুক্ত; ধীরে ধীরে দানাদার খাবার দিন |
| ফাঁপা | বাম পাশের পেট ফুলে যাওয়া, অস্থিরতা, শ্বাস নিতে কষ্ট | ঘন লেগিউম চারণভূমি বা হঠাৎ খাদ্য পরিবর্তনে ঝুঁকি বেশি |
| গরুর শ্বাসতন্ত্রের রোগ | কাশি, নাক দিয়ে স্রাব, জ্বর, দ্রুত শ্বাস | চাপ, পরিবহন, আর ভিড়ের সাথে সাধারণত দেখা যায় |
| খোঁড়া হওয়া / খুরের সমস্যা | খোঁড়ানো, হাঁটতে অনীহা, ফোলা খুর | খুরের যত্ন আর শুকনো মেঝে বজায় রাখুন |
| অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরজীবী | লোমের মান খারাপ হওয়া, ওজন কমা, চুলকানো, রক্তশূন্যতা | মৌসুমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অনুসরণ করুন |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- অঞ্চল আর পালের উপযোগী টিকাদান কর্মসূচি অনুসরণ করুন, পশুচিকিৎসকের সাথে ঠিক করে নিন।
- নিয়মিত পরজীবী নিয়ন্ত্রণ চালান আর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কিনা নজর রাখুন।
- খুর ছাঁটা আর মেঝে শুকনো রেখে খোঁড়া হওয়া ঠেকান।
- জাবরের স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য ধীরে ধীরে চালু ও পরিবর্তন করুন।
- তাপ ও ঠান্ডাজনিত চাপ কমাতে পরিষ্কার পানি, ছায়া, আর আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখুন।
- আঘাত আর চাপ কমাতে পরিচর্যা শান্ত আর অবকাঠামো নিরাপদ রাখুন।
ওয়াগিউর প্রজনন
ওয়াগিউ অন্য গরুর মতোই প্রজনন করে, বকনা সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ মাস বয়সে প্রজননযোগ্য হয়, গর্ভধারণকাল প্রায় নয় মাস, আর সাধারণত একটি করে বাছুর হয় যাকে গাভী নিজে লালন করে।
ওয়াগিউর প্রজনন গরুর সাধারণ ধরন অনুসরণ করে। বকনা প্রথম বছরেই বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, তবে বৃদ্ধি আর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সাধারণত প্রথমবার প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয় ১৪ থেকে ১৮ মাস বয়সে, ফলে এরা দুই বছর বয়সেই বাছুর প্রসব করে। প্রজনন হয় ষাঁড়ের সাথে স্বাভাবিকভাবে, অথবা বংশানুক্রমিক আর সংকরায়ন কর্মসূচিতে খুবই সাধারণভাবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে, যা সারা বিশ্বে ওয়াগিউর জিন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছে।
গর্ভধারণকাল প্রায় নয় মাস, মোটামুটি ২৮০ থেকে ২৯০ দিন। গাভী প্রায় সবসময় একটি করে বাছুর প্রসব করে; জমজ হওয়া বিরল। বাছুর জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাঁড়াতে ও দুধ খেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য শুরুর দিকের শালদুধের ওপর নির্ভর করে। বাছুর সাধারণত দুধ ছাড়ানোর আগে কয়েক মাস দুধ খায়, আর ওয়াগিউ গাভী সাধারণত মনোযোগী, সদাচরণী মা হয়, যা এই জাতের শান্ত স্বভাবের সাথে মিলে যায়। মারবেলিং আর মাংসের গুণমান বজায় রাখতে বাবা-মা পশু বেছে নেওয়া সাবধানে করা জরুরি।
| পরিমাপ | মান |
|---|---|
| প্রজননযোগ্য বয়স (বকনা) | প্রায় ১৪ থেকে ১৮ মাস |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ২৮০ থেকে ২৯০ দিন (প্রায় ৯ মাস) |
| বাচ্চার সংখ্যা | সাধারণত ১টি বাছুর |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস |
| প্রজনন পদ্ধতি | স্বাভাবিক মিলন বা কৃত্রিম প্রজনন |
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ওয়াগিউ জাত নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন, এর আকার, স্বভাব, পরিচর্যা, আয়ু, উপযোগিতা, আর প্রাপ্যতা নিয়ে।
ওয়াগিউ গরু কতটা বড় হয়?
ওয়াগিউ একটি বড় আকারের জাত। গাভী সাধারণত ৪৫০ থেকে ৫৫০ কেজি আর ষাঁড় ৭০০ থেকে ১,০০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়, গাভীর কাঁধের উচ্চতা প্রায় ১৩৫ সেমি আর ষাঁড় তুলনামূলক লম্বা।
ওয়াগিউর স্বভাব কেমন?
ওয়াগিউ শান্ত, বাধ্য, আর সদাচরণী। নিয়মিত কাজ করালে এদের ভালোভাবে সামলানো যায়, এই গুণ তাদের দীর্ঘদিনের হালচাষের ব্যবহার থেকে এসেছে, তবে বড় ষাঁড়কে এখনো সমীহ ও সতর্ক পরিচর্যা করতে হয়।
ওয়াগিউ পালন করা কি কঠিন?
এদের মৌলিক পরিচর্যা অন্য মাংস জাতের গরুর মতোই, তবে এই জাত একটি বিশেষায়িত পছন্দ। এর জন্য দীর্ঘ ফিনিশিং সময়ে নিয়মিত ভালো মানের খাদ্য আর ধৈর্যশীল, কম চাপের পরিচর্যা দরকার, যা সাধারণ পালনকারীর চেয়ে নিবেদিত খামারির জন্য বেশি উপযোগী।
ওয়াগিউ কতদিন বাঁচে?
ওয়াগিউ প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচতে পারে, যা গরুর হিসেবে অনেক দীর্ঘ। মাংসের জন্য পালিত পশুকে সাধারণত ২৪ থেকে ৩০ মাসের ফিনিশিং পর্যায়ের পর অনেক আগেই জবাই করা হয়।
ওয়াগিউ কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
বর্তমানে ওয়াগিউ মূলত মাংস উৎপাদনের জাত হিসেবে পালন করা হয়, মাংসের ঘন মারবেলিংয়ের জন্য এর কদর বেশি। ঐতিহাসিকভাবে এই জাত হালচাষের কাজে ব্যবহৃত হতো। সংকরায়ন কর্মসূচিতে অন্য জাতে মারবেলিং যোগ করতেও ওয়াগিউর জিন ব্যবহার করা হয়।
জাপানের বাইরে ওয়াগিউ গরু পাওয়া কি সহজ?
১৯৭০ আর ১৯৯০-এর দশকে সীমিত সংখ্যক পশু আর জেনেটিক উপাদান রপ্তানির পর এখন যুক্তরাষ্ট্র আর অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে ওয়াগিউ পালন করা হয়। খাঁটি জাতের পশু এখনও বিশেষায়িত আর তুলনামূলক ব্যয়বহুল, তবে সংকর ওয়াগিউ বেশি সহজলভ্য।