ডেক্সটার
ডেক্সটার হলো এক ছোট, কঠোরসহিষ্ণু আইরিশ দ্বৈত-উদ্দেশ্য জাত, যা তার সুস্বভাবের বন্ধুত্বপূর্ণতা এবং ছোট খামারে সহজে প্রতিপালনের জন্য প্রিয়।
- Size
- ছোট
- Lifespan
- 18–22 years
- Origin
- আয়ারল্যান্ড
- Temperament
- সুস্বভাবী
- Standard colors
- কালো, ধূসর-বাদামি এবং লাল
Characteristics
ডেক্সটার colors and patterns
What each club's breed standard says about every ডেক্সটার color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the ডেক্সটার in কালো, ধূসর-বাদামি এবং লাল.
| Color or pattern | DEXTER CS UK | ADCA |
|---|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“Wholly black”) | মানসম্মত (“Solid black”) |
| ধূসর-বাদামি | মানসম্মত (“wholly dun”) | মানসম্মত (“solid dun”) |
| লাল | মানসম্মত (“wholly red”) | মানসম্মত (“solid red”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
Color changes
How a ডেক্সটার's colors can change over its life.
কালোchanges toধূসর
লোম · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
ডেক্সটার জাত সম্পর্কে
ডেক্সটার আয়ারল্যান্ডের একটি ছোট আকারের দ্বৈত-উদ্দেশ্য গরুর জাত, যার শান্ত স্বভাব ও অল্প জায়গায় সহজে পালনযোগ্যতার কারণে ছোট খামারিদের কাছে এটি জনপ্রিয়।
ডেক্সটার পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরুর জাতগুলোর একটি। পূর্ণবয়স্ক একটি ডেক্সটারের উচ্চতা মোটামুটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কোমর পর্যন্ত পৌঁছায়, আর একটি পরিণত গাভীর ওজন সাধারণ দুগ্ধ বা মাংস জাতের গরুর তুলনায় অনেক কম। জাতটির উৎপত্তি আয়ারল্যান্ডে, যেখানে ছোট কৃষকরা এমন একটি প্রাণী পালন করতেন যা অল্প খাদ্য ও জমিতেই দুধ এবং মাংস দুটোই দিতে পারত।
ডেক্সটার একটি দ্বৈত-উদ্দেশ্য জাত। একটি গাভী পরিবারের জন্য দুধ জোগাতে পারে, আবার একই সঙ্গে একটি বাছুরও মাংসের জন্য বড় করতে পারে। জাতটির ছোট আকারের সঙ্গে এই বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে যারা বড় বাণিজ্যিক খামারের বদলে অল্প জমিতে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত বাছাই। এই গরু বেশ কষ্টসহিষ্ণু এবং ঠান্ডা, ভেজা আবহাওয়াতেও ভালোভাবে টিকে থাকে, যার শেকড় লুকিয়ে আছে দরিদ্র উঁচু পাহাড়ি জমিতে তাদের পুরনো বসবাসে।
জাতটির স্বভাব স্থির ও বন্ধুত্বপূর্ণ। যারা গরু পালনে নতুন, তাদের জন্যও ডেক্সটার সামলানো সহজ, আর অনেক উৎপাদনমুখী জাতের তুলনায় এরা বেশি দিন বাঁচে, বয়স প্রায়ই আঠারো-উনিশ বছর বা তারও বেশি পর্যন্ত পৌঁছায়।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | আয়ারল্যান্ড |
| আকার | ছোট |
| আয়ুষ্কাল | ১৮ থেকে ২২ বছর |
| গোষ্ঠী / ভূমিকা | দ্বৈত-উদ্দেশ্য গরু (দুধ ও মাংস) |
| উপযুক্ত যাদের জন্য | ছোট খামারি, পারিবারিক খামার, প্রথমবার গরু পালনকারী |
কাদের জন্য ডেক্সটার উপযুক্ত
দুধ, মাংস বা দুটোর জন্যই সামলানো যায় এমন একটা প্রাণী চাইলে, আর জমি সীমিত হলে ডেক্সটার উপযুক্ত। ছোট গড়নের কারণে পূর্ণাকৃতির জাতের তুলনায় কম খাবার লাগে আর মাটিতে চাপও কম পড়ে। শান্ত স্বভাব সেইসব খামারির জন্য সুবিধাজনক যারা দুধ দোহানোর সময় বা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানোর সময় হাতে করে গরু সামলান। একটি প্রাণী থেকে বেশি উৎপাদন দরকার হলে বড় বাণিজ্যিক উৎপাদনকারীরা সাধারণত বিশেষায়িত দুগ্ধ বা মাংস জাতের গরু বেছে নেন।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের ছোট কৃষকদের হাতে ডেক্সটার জাতের বিকাশ ঘটে, পরে এটি নথিভুক্ত হয়ে ব্রিটেন, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
ডেক্সটারের উৎপত্তি আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে। পাহাড়ি ও উঁচু এবড়োখেবড়ো জমিতে যেসব ছোট কৃষক ও ভূমিহীন প্রজা এক বা কয়েকটি গরু পালন করতেন, তাদের হাতেই এই জাতের বিকাশ ঘটে। এই পালকদের এমন একটি প্রাণী দরকার ছিল যা অল্প চারণভূমিতেই খেয়ে বাঁচতে পারবে, অথচ দুধ দেবে এবং মাংসের জন্য বাছুরও বড় করতে পারবে। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজনন কর্মসূচি ছাড়াই বংশপরম্পরায় ব্যবহারিক বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এই জাতটি ধীরে ধীরে আজকের রূপ পায়।
জাতের নামটি সাধারণত ডেক্সটার নামের একজন ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত, যাকে প্রায়ই একজন এজেন্ট বা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং স্থানীয় পাহাড়ি গরু থেকে এই টাইপটি সংগ্রহ করে স্থিতিশীল রূপ দেওয়ার কৃতিত্ব তাকেই দেওয়া হয়। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে জাতটি আয়ারল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
পরে ডেক্সটারকে ইংল্যান্ডে আনা হয়, যেখানে খামারিরা এই ছোট দ্বৈত-উদ্দেশ্য প্রাণীর প্রতি আগ্রহী হয়ে বংশতালিকা নথিভুক্ত করা শুরু করেন। ব্রিটেনে পালের এই নথিভুক্তি জাতটিকে মানসম্মত রূপ দিতে এবং তার নিজ অঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।
ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড থেকে ডেক্সটার যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে এবং পরে বিশ্বের আরও অনেক জায়গায় রপ্তানি হয়। বিশ শতকে জাতটির সংখ্যা কমে গিয়েছিল, তবে নিবেদিতপ্রাণ খামারিদের প্রচেষ্টা এবং ছোট খামার ও শখের চাষাবাদের প্রসারের মাধ্যমে তা আবার ফিরে আসে, যেখানে ডেক্সটারের আকার আর সহজ পালনযোগ্যতা ভালোভাবে খাপ খেয়ে যায়।
চেহারা ও গঠন
ডেক্সটার একটি ছোট, শক্তপোক্ত ও গভীর দেহের জাত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কালো রঙের হলেও লাল ও ধূসর-বাদামি রঙও স্বীকৃত।
ডেক্সটার একটি ছোট, শক্তপোক্ত প্রাণী, দেহ গভীর আর পা খাটো, তবে কাঠামো মজবুত। উচ্চতা কম হলেও একটি ভালোভাবে প্রজনন করা ডেক্সটারকে খর্বাকৃতি নয়, বরং সুষম দেখায়, বুকের অংশে যথেষ্ট প্রশস্ততা ও গভীরতা থাকে। এই জাতে দুই ধরনের পা দেখা যায়, একটি খাটো পায়ের ধরন আর একটি লম্বা পায়ের ধরন। জাতটির শিং থাকতে পারে, আবার কিছু প্রাণী স্বাভাবিকভাবেই শিংহীন হয়ে জন্মায়।
গরম আবহাওয়ায় লোম খাটো ও মসৃণ থাকে, আর শীতে ঘন হয়ে যায়। কালো রংই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে লাল ও ধূসর-বাদামি রংও চোখে পড়ে।
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ সীমা |
|---|---|
| উচ্চতা (কাঁধ পর্যন্ত) | প্রায় ৯২ থেকে ১০৭ সেমি (৩৬ থেকে ৪২ ইঞ্চি) |
| ওজন | গাভী প্রায় ৩০০ কেজি; ষাঁড় প্রায় ৪৫০ কেজি |
| লোম | খাটো ও মসৃণ, শীতে ঘন হয় |
| রং | কালো (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়), লাল, ধূসর-বাদামি |
| চোখ | গাঢ় রঙের, প্রশস্ত মাথায় দূরত্ব বজায় রেখে বসানো |
লোম ও রং
কালো রংই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটিকেই এই জাতের প্রধান পরিচয় হিসেবে ধরা হয়। লাল ও ধূসর-বাদামি রংও স্বীকৃত। গ্রীষ্মে লোম শরীরের সঙ্গে লেপ্টে থাকে আর ঠান্ডার মাসগুলোতে ঘন হয়ে যায়, এতে খোলা আকাশের নিচে ভেজা ও ঠান্ডা পরিবেশ সহ্য করতে সুবিধা হয়। শিং থাকলে সেগুলো সাধারণত হালকা রঙের হয় আর আগার দিকটা গাঢ়, আর এই জাতের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শিংহীন প্রাণীও পাওয়া যায়।
স্বভাব
ডেক্সটার বন্ধুত্বপূর্ণ, শান্ত ও নমনীয় স্বভাবের, তাই পারিবারিক খামার আর নতুন পালনকারীদের জন্য এদের সামলানো সহজ।
ডেক্সটারের স্বভাব ভালো ও স্থির। এই গরু শান্ত ও নমনীয়, নিয়মিত হাতে ধরাছোঁয়াতেও অভ্যস্ত হয়ে যায়, যা ছোট খামারের জন্য জরুরি, যেখানে একই ব্যক্তি খাওয়ানো, দুধ দোহানো আর গরু সরানোর কাজ করেন। অনেক মালিক তাদের ডেক্সটারকে বন্ধুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন, যারা চেনা মানুষের কাছে নিজে থেকেই এগিয়ে আসে।
সব গরুর মতোই গাভী তার বাছুরের প্রতি রক্ষণশীল থাকে, তাই সদ্যজাত বাছুরের আশপাশে সাবধান থাকা দরকার। জাতের সুনাম যাই হোক না কেন, ষাঁড়কে সবসময় সমীহ করে চলা উচিত। অন্য গরু বা খামারের পশুর সঙ্গে ডেক্সটার সাধারণত ঝামেলা ছাড়াই পালে মিশে যায়। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত শান্তভাবে সামলালে এরা সারাজীবন সহজেই বশে থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| স্নেহপ্রবণতা / মিশুক স্বভাব | ৪ |
| শক্তি | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা (সামলানোর ক্ষেত্রে) | ৪ |
| ডাকাডাকি করার প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরা (মৌসুমি) | ৩ |
যত্ন ও ব্যবস্থাপনা
ডেক্সটার তুলনামূলক কম যত্নে ভালো থাকা গরু, ভালো চারণভূমি, সাধারণ আশ্রয় আর নিয়মিত খুর ও পরজীবী পরীক্ষায় সুস্থ থাকে।
ডেক্সটার পালন তুলনামূলক সহজ গরুর জাতগুলোর একটি, তবে যেকোনো গরুর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক যত্ন এদেরও দরকার, ভালো চারণভূমি, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় আর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
পরিচর্যা
- খুর বেশি বেড়ে যাওয়া আর খোঁড়ানো ঠেকাতে প্রয়োজনমতো খুর পরীক্ষা করে ছেঁটে দিন
- হাতে পালা বা প্রদর্শনীর গরুর লোম ব্রাশ করে পরিষ্কার রাখুন এবং চামড়া পরীক্ষা করুন
- উকুন ও মাছির মতো বাহ্যিক পরজীবী আছে কি না দেখুন, আর পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করান
- শীতকালে লোম ঘন হয়ে গেলে চামড়া ও লোমের অবস্থা নিয়মিত লক্ষ রাখুন
চলাফেরা
- প্রতিদিন চরে বেড়ানো আর মুক্তভাবে চলাফেরার জন্য খোলা চারণভূমির ব্যবস্থা রাখুন
- ঘাসের মান ভালো রাখতে আর পরজীবীর প্রকোপ কমাতে চারণভূমি পালাক্রমে বদলান
- পালকে হাঁটাচলার জন্য যথেষ্ট জায়গা দিন; ভালো জমিতে ডেক্সটার সক্রিয়ভাবে ঘুরে ঘুরে খাবার খোঁজে
পরিবেশ
পাহাড়ি অঞ্চলে বড় হওয়ার কারণে ডেক্সটার ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়া বেশ ভালোভাবে সামলাতে পারে। তারপরও চরম আবহাওয়া থেকে বাঁচতে আশ্রয়, বাতাস ঠেকানোর ব্যবস্থা বা সাধারণ মাঠের আচ্ছাদন, আর পায়ের সমস্যা কমাতে শুকনো মাটি দরকার হয়। মজবুত বেড়া দেওয়া অপরিহার্য। জাতটি ছোট ও হালকা বলে ভারী গরুর তুলনায় ভেজা মাটিতে কম চাপ ফেলে, যা নরম বা প্রান্তিক জমির জন্য সুবিধাজনক।
খাদ্য ও পুষ্টি
ঘাস আর চারণ খাদ্যেই ডেক্সটার ভালো থাকে, ছোট আকার আর সহজ পালনযোগ্যতার কারণে সামান্য বাড়তি খাবারই যথেষ্ট।
ডেক্সটার দক্ষ চারণজীবী, চারণভূমি আর চারণ খাদ্য থেকেই এর বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। গ্রীষ্মে ভালো ঘাস থাকলে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গরুর জন্য চরে বেড়ানো, পানি আর খনিজ উপাদান ছাড়া তেমন কিছুই দরকার হয় না। শীতে বা জমির অবস্থা খারাপ থাকলে খড় বা সাইলেজ সেই ঘাটতি পূরণ করে, আর ঘাস কম থাকলে দুধেল গাভী বা বেড়ে ওঠা বাছুরের জন্য সামান্য পরিমাণ দানাদার খাবার দেওয়া হয়। জাতটির ছোট আকারের কারণে বড় গরুর তুলনায় সামগ্রিক খাদ্য খরচ কম থাকে।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | খাবারের সংখ্যা |
|---|---|---|
| ভালো চারণভূমিতে প্রাপ্তবয়স্ক গরু | চারণ, সঙ্গে ইচ্ছেমতো খনিজ | একটানা চরে বেড়ানো |
| শীতকালে প্রাপ্তবয়স্ক গরু | শরীরের ওজনের প্রায় ১.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ খড় বা সাইলেজ হিসেবে | ১ থেকে ২ বেলা চারণ খাদ্য |
| দুধেল গাভী | চারণ খাদ্যের সঙ্গে প্রয়োজনমতো সামান্য দানাদার খাবার | প্রায়ই দোহনের সময় ভাগ করে দেওয়া হয় |
| বেড়ে ওঠা বাছুর / দুধ ছাড়ানো বাছুর | ভালো মানের চারণ খাদ্যের সঙ্গে অল্প দানাদার খাবার | ১ থেকে ২ |
বাড়তি খাবার ও সম্পূরক
আপনার এলাকার মাটির ধরন অনুযায়ী গরুর খনিজ চাটা ইট বা আলগা খনিজ মিশ্রণ দিন, কারণ কিছু অঞ্চলে তামা বা সেলেনিয়ামের মতো উপাদানের ঘাটতি থাকে। দানাদার খাবার হিসাব করে দিন, ডেক্সটার সহজেই মোটা হয়ে যায়, আর বেশি খাওয়ালে গরু অতিরিক্ত ওজনের হয়ে যায় এবং বাচ্চা দেওয়ার সময় সমস্যা হতে পারে। সবসময় বিশুদ্ধ, তাজা পানির ব্যবস্থা রাখুন, কারণ দুধ দেওয়া গাভী প্রতিদিন অনেক পানি খায়।
স্বাস্থ্য
ডেক্সটার সাধারণত কষ্টসহিষ্ণু ও দীর্ঘজীবী, তবে জাতটিতে কিছু পরিচিত জিনগত সমস্যা আছে যা দায়িত্বশীল খামারিরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন।
ডেক্সটার কষ্টসহিষ্ণু ও দীর্ঘজীবী, অনেক গরু ১৮ থেকে ২২ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সাধারণ চারণভিত্তিক ব্যবস্থাপনাতেই বেশিরভাগ পাল সুস্থ থাকে। এই জাতের প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগটি জিনগত, খাটো পায়ের ধরনটি এমন একটি জিনের সঙ্গে যুক্ত, যা বাবা-মা দুজনের থেকেই পেলে বাছুরের প্রাণঘাতী বিকৃতি ঘটাতে পারে। ডিএনএ পরীক্ষা এখন সহজলভ্য, আর সতর্ক খামারিরা আক্রান্ত বাছুর এড়াতে গরু পরীক্ষা করে জুটি মিলিয়ে দেন। এর বাইরে একটি বংশগত মাংসপেশির সমস্যাও পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| কনড্রোডিসপ্লাসিয়া ("বুলডগ" বাছুর) | দুই বাহক গরুর মিলনে মারাত্মক বিকৃত, বাঁচার অযোগ্য বাছুর জন্ম নেয় | প্রাণঘাতী; ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক-বাহক মিলন এড়িয়ে চলুন |
| পিএইচএ (অ্যানাসারকাসহ ফুসফুসের অপরিপক্বতা) | মৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়া, ফোলা বাছুর | বংশগত; প্রজননের গরু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করুন |
| পেট ফাঁপা | বাঁ পাশের পেট ফুলে যাওয়া, তাজা ঘাস খাওয়ার পর কষ্ট পাওয়া | চারণের পরিবর্তন সতর্কভাবে করুন; দ্রুত ব্যবস্থা নিন, প্রাণঘাতী হতে পারে |
| পায়ের সমস্যা / খোঁড়ানো | খোঁড়ানো, নড়াচড়ায় অনীহা | নিয়মিত খুর ছাঁটাই আর শুকনো মেঝে ঝুঁকি কমায় |
প্রতিরোধমূলক যত্ন
- ডিএনএ পরীক্ষা করা প্রজনন পশু কিনুন এবং প্রাণঘাতী জিনের দুই বাহককে একসঙ্গে মেলানো এড়িয়ে চলুন
- পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অনুসরণ করুন
- নিয়মিত খুর ছেঁটে দিন আর বসে থাকার জায়গা শুকনো রাখুন
- নিজের এলাকার উপযোগী সঠিক খনিজ সরবরাহ করুন
- পেট ফাঁপার ঝুঁকি কমাতে বসন্তের সতেজ ঘাসে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করান
প্রজনন
ডেক্সটার প্রথম দুই বছরের মধ্যেই প্রজননযোগ্য বয়সে পৌঁছায়, সহজে বাচ্চা দেয়, আর প্রায় নয় মাসের গর্ভধারণের পর সাধারণত একটি করে বাছুর জন্ম দেয়।
বকনা গরু প্রথম এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই প্রজননযোগ্য বয়সে পৌঁছায়, যদিও অনেক পালনকারী প্রথম প্রজননের আগে গরুটি পুরোপুরি বেড়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। গাভী সাধারণত একটি করে বাছুর জন্ম দেয়, জোড়া বাছুর কমই দেখা যায়। গর্ভধারণকাল অন্যান্য গরুর মতোই প্রায় নয় মাস। গাভীর তুলনায় বাছুরের জন্মকালীন ওজন কম হওয়ায় ডেক্সটারের সহজে বাচ্চা দেওয়ার সুনাম আছে।
জনগোষ্ঠীর একাংশে প্রাণঘাতী জিন থাকায়, প্রজননের সিদ্ধান্ত সবসময় ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল দেখেই নেওয়া উচিত। বাহক গরুও প্রজননে ব্যবহার করা যায়, তবে একই সমস্যার আরেকটি বাহকের সঙ্গে তাকে মেলানো যাবে না। বাচ্চা দেওয়ার পর গাভী মনোযোগী মা হিসেবে বাছুরকে ভালোভাবে বড় করে, আর জাতের ভালো দুধ উৎপাদন বাছুরের সুস্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বাছুর সাধারণত কয়েক মাস বয়সে দুধ ছাড়ানো হয়। ষাঁড় বা প্রজননের গাভীকে অন্য যেকোনো গরুর মতোই সমীহ করে সামলানো উচিত।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| প্রজননযোগ্য বয়স (বকনা) | প্রায় ১২ থেকে ২৪ মাস |
| গর্ভধারণকাল | প্রায় ৯ মাস (প্রায় ২৮০ দিন) |
| এক প্রসবে বাছুরের সংখ্যা | সাধারণত ১টি বাছুর |
| জন্মকালীন ওজন | কম; সহজ প্রসবে সহায়ক |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস |
| প্রধান প্রয়োজনীয়তা | বাহক-বাহক মিলন এড়াতে ডিএনএ পরীক্ষা |
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডেক্সটারের আকার, স্বভাব, যত্ন, আয়ুষ্কাল, উপযোগিতা আর প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন।
ডেক্সটার গরু কতটা বড় হয়?
ডেক্সটার পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরুর জাতগুলোর একটি। পূর্ণবয়স্ক গরুর কাঁধের উচ্চতা প্রায় ৯২ থেকে ১০৭ সেমি, আর গাভীর ওজন প্রায় ৩০০ কেজি, যা সাধারণ দুগ্ধ বা মাংস জাতের গরুর চেয়ে অনেক কম।
ডেক্সটারের স্বভাব কেমন?
ডেক্সটার বন্ধুত্বপূর্ণ, শান্ত ও নমনীয় স্বভাবের গরু। নিয়মিত হাতে ধরাছোঁয়াতেও এরা অভ্যস্ত, তাই পারিবারিক খামার আর গরু পালনে নতুন মানুষদের জন্য এরা উপযুক্ত।
ডেক্সটার পালন করা কি কঠিন?
না। এদের সামলানো তুলনামূলক সহজ। এরা দক্ষভাবে চরে বেড়ায়, সামান্য বাড়তি খাবারেই চলে যায়, আর ঠান্ডা-ভেজা আবহাওয়াও ভালোভাবে সহ্য করে, তবে তারপরও আশ্রয়, বেড়া আর নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দরকার হয়।
ডেক্সটার কতদিন বাঁচে?
গরুর হিসেবে ডেক্সটার বেশ দীর্ঘজীবী। ভালো ব্যবস্থাপনা পেলে অনেকে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
ছোট খামারের জন্য ডেক্সটার কি ভালো বাছাই?
হ্যাঁ। ছোট আকার, কম খাদ্য চাহিদা, দুধ ও মাংস দুটোই দেওয়ার ক্ষমতা, আর শান্ত স্বভাবের কারণে ছোট খামারি ও পারিবারিক খামারের কাছে এই জাত বেশ জনপ্রিয়।
ডেক্সটার প্রজননের আগে জিনগত পরীক্ষা করা কি দরকার?
হ্যাঁ। জনগোষ্ঠীর একাংশ এমন জিন বহন করে, যা দুই বাহক মিললে বাছুরের প্রাণঘাতী ত্রুটি ঘটাতে পারে। ডিএনএ পরীক্ষা করা যায়, আর খামারিদের উচিত পশু পরীক্ষা করে একই সমস্যার দুই বাহককে মেলানো এড়িয়ে চলা।
ডেক্সটার গরু কি সহজে পাওয়া যায়?
বিশ শতকে এই জাতের সংখ্যা কমে গিয়েছিল, তবে খামারিদের প্রচেষ্টা আর ছোট খামারের প্রসারে তা আবার ফিরে এসেছে। আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেন, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিদের কাছ থেকে ডেক্সটার পাওয়া যায়, তবে এলাকাভেদে প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
From the community
Ask about the ডেক্সটারNo questions about the ডেক্সটার yet. Be the first to ask.