ব্রহ্মা
ব্রাহ্মণ একটি তাপসহিষ্ণু কুঁজযুক্ত জাত, যা তার বুদ্ধিমত্তা, কঠোরসহিষ্ণুতা এবং কঠোর জলবায়ু ও কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে অসাধারণ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য প্রশংসিত।
- Size
- বড়
- Lifespan
- 12–20 years
- Origin
- ভারত
- Temperament
- বুদ্ধিমান
Characteristics
ব্রহ্মা colors and patterns
What each club's breed standard says about every ব্রহ্মা color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
| Color or pattern |
|---|
| কালো |
ধূসর
| Color or pattern | ABBA |
|---|---|
| ধূসর | মানসম্মত (“Grey Brahman”) |
লাল
| Color or pattern | ABBA |
|---|---|
| লাল | মানসম্মত (“Red Brahman”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
Color changes
How a ব্রহ্মা's colors can change over its life.
ধূসরchanges toকালো
লোম · বয়সের সঙ্গে · males only
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
ব্রাহমান জাত সম্পর্কে
ব্রাহমান একটি বড় আকারের কুঁজওয়ালা গরুর জাত, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় জেবু গরু থেকে গড়ে তোলা হয়েছে; গরম সহ্য করার ক্ষমতা, কষ্টসহিষ্ণুতা আর পোকামাকড়-রোগ প্রতিরোধী স্বভাবের জন্য পরিচিত।
ব্রাহমান আসলে ভারত থেকে আসা জেবু জাতের (Bos indicus) গরু থেকে তৈরি একটি বড় আকারের বিফ জাত। কাঁধ আর ঘাড়ের ওপর উঁচু কুঁজ, গলার নিচে আর গলকম্বলে ঢিলা চামড়ার ভাঁজ, আর বড় ঝুলে থাকা কান দেখেই এই জাত সহজে চেনা যায়। পূর্ণবয়স্ক ষাঁড়ের ওজন সাধারণত ৮০০-১১০০ কেজি, আর গাভীর ওজন ৫০০-৭০০ কেজি পর্যন্ত হয়।
বিশ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে গুজরাট, নেলোর, গির আর কৃষ্ণা ভ্যালিসহ ভারতীয় বিভিন্ন জাতের গরু মিশিয়ে এই জাত গড়ে তোলা হয়। যেসব এলাকায় গরম, আর্দ্র আবহাওয়া আর পোকামাকড়ের উপদ্রবে ইউরোপীয় জাতের গরু টিকতে পারত না, সেখানে ভালো থাকতে পারে এমন পশু বেছে বেছে প্রজনন করানো হয়েছিল। ফলে এমন একটি প্রাণী তৈরি হয়েছে যা প্রচণ্ড গরমেও সুস্থ থাকে, নিম্নমানের ঘাসেও চলতে পারে, আর টিক আর বেশিরভাগ পরজীবী প্রতিরোধ করতে পারে।
ব্রাহমান গরু মাংস উৎপাদনের জন্য যেমন পালন করা হয়, তেমনি ক্রসব্রিডিংয়ের জন্যও সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। ব্রাহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ বা মহাদেশীয় ইউরোপীয় জাতের ক্রস করালে যে বাছুর জন্মায়, তার মধ্যে ব্রাহমানের গরম সহ্য করার ক্ষমতা আর কষ্টসহিষ্ণুতা এবং অন্য জাতের মাংসের গুণ, দুটোই থাকে। এই সংকরায়িত শক্তির কারণেই জাতটি বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
কাদের জন্য উপযুক্ত
গরম বা আর্দ্র জলবায়ুতে, যেমন বাংলাদেশের মতো এলাকায়, বড় পতিত জমি বা চারণভূমিনির্ভর খামারে যাঁরা কাজ করেন, ব্রাহমান তাঁদের জন্য উপযুক্ত; এখানে দ্রুত বেড়ে ওঠার চেয়ে গরম সহ্য করার ক্ষমতা আর কম যত্নে টিকে থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছোট খামার বা ঘরের মধ্যে বেঁধে রাখার ব্যবস্থায় এই জাত ততটা মানানসই নয়। শান্তভাবে সামলালে আর নিয়মিত রুটিন মানলে জাতটির বশংবদ দিকটি বেরিয়ে আসে।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তি | ভারত (জেবু বংশোদ্ভূত); জাতটি গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে |
| আকার | বড় (ষাঁড় ৮০০-১১০০ কেজি, গাভী ৫০০-৭০০ কেজি) |
| আয়ুষ্কাল | ১২-২০ বছর |
| দল/ভূমিকা | বিফ ক্যাটল; ক্রসব্রিডিংয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত |
| যেখানে ভালো মানায় | গরম, আর্দ্র জলবায়ু আর বিস্তৃত চারণভূমি ব্যবস্থা |
ইতিহাস ও উৎপত্তি
বিশ শতকের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন ভারতীয় জেবু জাতের গরু মিশিয়ে ব্রাহমান গড়ে তোলা হয়, পরে গরম জলবায়ুর জন্য এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রাহমানের পূর্বপুরুষ হলো ভারতীয় উপমহাদেশের জেবু গরু, কাঁধে বৈশিষ্ট্যসূচক কুঁজওয়ালা একদল জাত, যেগুলো হাজার হাজার বছর ধরে গরম, খরা আর পরজীবীর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। এই গরুগুলোকে বলা হয় বস ইন্ডিকাস (Bos indicus), যা ইউরোপের টরিন জাতের গরু বস টরাস (Bos taurus) থেকে আলাদা।
উনিশ শতক আর বিশ শতকের শুরুর দিকে একের পর এক আমদানির মাধ্যমে ভারতীয় গরু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। গুজরাট, নেলোর, গির আর কৃষ্ণা ভ্যালির মতো জাতের পশু এসে পৌঁছায় গালফ কোস্ট অঞ্চলে। বিশেষত টেক্সাস আর গালফ উপকূলের খামারিরা স্থানীয় গরম আর আর্দ্রতার সঙ্গে মানানসই একটি পশু তৈরির জন্য এসব জাত মেশাতে শুরু করেন।
এই সংকর জাতের নাম দেওয়া হয় ব্রাহমান, আর ১৯২৪ সালে আমেরিকান ব্রাহমান ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয় এই গরু নিবন্ধন আর মান নির্ধারণের জন্য। পরের কয়েক দশকে প্রজননকারীরা জাতের বৈশিষ্ট্য পরিমার্জন করে আজকের ব্রাহমান জনগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাহমান গরু আর এর বংশগতি ছড়িয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা আর অন্যান্য গরম অঞ্চলে। ব্রাংগাস, সান্তা গের্ত্রুদিস আর বিফমাস্টারসহ আরও অনেক সংকর জাতের ভিত্তিও হয়ে ওঠে এই জাত; প্রতিটি জাতই ব্রাহমানকে টরিন জাতের সঙ্গে ক্রস করিয়ে গরম সহ্য করার ক্ষমতা উৎপাদনশীল বিফ পালের মধ্যে স্থায়ী করার চেষ্টা থেকে তৈরি।
আকৃতি ও জাতের মান
ব্রাহমানকে সহজে চেনা যায় স্পষ্ট কাঁধের কুঁজ, ঢিলা গলকম্বল আর বড় ঝুলে থাকা কান দেখে; রং সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ধূসর বা লাল হয়।
কাঁধ আর ঘাড়ের ওপর মাংসপেশি আর যোজক কলার তৈরি কুঁজ দেখেই ব্রাহমানকে চেনা যায় সবচেয়ে সহজে; ষাঁড়ের কুঁজ গাভীর তুলনায় বড় হয়। গলার নিচে গভীর ঝুলন্ত গলকম্বল, আর গলা ও তলপেটের রেখা বরাবর ঢিলা চামড়ার ভাঁজ থাকে, যা শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য চামড়ার আয়তন বাড়িয়ে দেয়। কান বড় আর নিচের দিকে ঝোলানো, মাথা বেশ লম্বাটে আর সামান্য উত্তল আকৃতির।
শরীর ভালো পেশিবহুল, পা মজবুত, আর কাঠামো মাঝারি ধরনের। চামড়া পুরু, গাঢ় রঞ্জকযুক্ত আর নমনীয়, তার ওপর খাটো, মসৃণ লোম থাকে। এসব বৈশিষ্ট্য গরম ছাড়তে আর কামড়ানো পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে।
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উচ্চতা | ষাঁড় কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১.৫-১.৭ মিটার; গাভী তার চেয়ে সামান্য কম |
| ওজন | ষাঁড় ৮০০-১১০০ কেজি; গাভী ৫০০-৭০০ কেজি |
| লোম | পুরু, ঢিলা, রঞ্জকযুক্ত চামড়ার ওপর খাটো, মসৃণ লোম |
| রং | হালকা থেকে মাঝারি ধূসর, আর লাল; ষাঁড়ের গলা ও কাঁধে প্রায়ই গাঢ় রং দেখা যায় |
| চোখ | গাঢ় রঙের, রঞ্জকযুক্ত চোখের পাতা আর ঝুলে থাকা ভ্রু, যা রোদের তেজ কমায় |
লোম ও রং
সবচেয়ে সাধারণ রং ধূসর, প্রায় সাদার কাছাকাছি থেকে মাঝারি ধূসর পর্যন্ত, আর পূর্ণবয়স্ক ষাঁড়ের গলা, কাঁধ আর পেছনের অংশে সাধারণত রং গাঢ় হয়। লাল রঙের কোটও দেখা যায়, আর অনেক জাত-সংগঠন এটি স্বীকৃতি দেয়। লোমের নিচের চামড়ার গাঢ় রঞ্জক প্রখর রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়, আর খাটো লোমের কারণে ঘাম আর বাতাস চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যাতে শরীর ঠান্ডা থাকে।
স্বভাব ও আচরণ
নিয়মিত সামলালে ব্রাহমান গরু বুদ্ধিমান, সজাগ আর সাধারণত শান্ত থাকে; গাভীর মাতৃসুলভ প্রবৃত্তি প্রবল আর পাল রক্ষায় সতর্ক থাকে।
ব্রাহমান গরু বুদ্ধিমান আর পর্যবেক্ষণপ্রবণ। এরা রুটিন দ্রুত শিখে নেয় আর ধারাবাহিক, শান্ত সামলানোয় ভালো সাড়া দেয়, তাই ছোটবেলা থেকে নিয়মিত মানুষের সংস্পর্শ জরুরি। যেসব পশুকে শান্তভাবে সামলানো হয়, তারা সাধারণত বশংবদ আর সহজে সামলানোর মতো হয়ে ওঠে, আর যাদের মাঠে একা ছেড়ে রাখা হয়, তারা মানুষের ব্যাপারে সতর্ক থেকে যায়।
জাতটি সজাগ আর নিজের চারপাশের ব্যাপারে সচেতন, যা হুট করে কাছে গেলে অস্থিরতার মতো মনে হতে পারে। গাভীর মাতৃসুলভ প্রবৃত্তি প্রবল, তারা বাছুরকে কাছ থেকে পাহারা দেয় আর মনোযোগী মা হিসেবে পরিচিত। পালের মধ্যে ব্রাহমান গরু সামাজিক আর স্থিতিশীল দল গঠন করে। ষাঁড় আত্মবিশ্বাসী আর দৃঢ় স্বভাবের হতে পারে, তাই এদের সামলাতে অভিজ্ঞ হাত আর মজবুত ব্যবস্থা দরকার। অপরিচিত মানুষ বা হঠাৎ কোনো ঝামেলার মুখে জাতটি সতর্ক থাকে, যা আক্রমণাত্মকতা নয়, বরং তাদের সাধারণ সজাগ স্বভাবের অংশ।
| বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
|---|---|
| স্নেহ (পরিচিত পালকের প্রতি) | ৩ |
| এনার্জি | ৩ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৪ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরা | ২ |
যত্ন ও পরিচর্যা
চারণভূমিতে ব্রাহমানের যত্ন তুলনামূলক কম লাগে; গরমে ছায়া-পানি, নিয়মিত পরজীবী পরীক্ষা আর শান্ত, ধারাবাহিক সামলানো জাতটিকে বশংবদ রাখে।
গা পরিষ্কার-পরিচর্যা
- নিয়মিত সামলানোর সময় চামড়া, গলকম্বলের ভাঁজ আর কুঁজের চারপাশে টিক, উকুন বা জ্বালাপোড়ার লক্ষণ আছে কিনা দেখুন।
- খুর ছেঁটে রাখুন আর পা পরীক্ষা করুন, বিশেষত নরম বা ভেজা মাটিতে থাকা পশুর ক্ষেত্রে।
- যেকোনো কাটা বা ছড়ে যাওয়া জায়গা দ্রুত পরিষ্কার আর চিকিৎসা করুন, কারণ পুরু চামড়ার নিচে সমস্যা বাড়তে থাকলেও তা সহজে চোখে পড়ে না।
চলাফেরা
- গরু সারাদিন চরতে আর চলাফেরা করতে পারে এমন খোলা চারণভূমি বা পতিত জমির ব্যবস্থা রাখুন।
- বেড়া আর চলাচলের পথ ঠিক রাখুন, যাতে পাল চরার জায়গা, পানি আর ছায়ার মধ্যে অবাধে যাতায়াত করতে পারে।
- বেঁধে রাখার বদলে পালকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দিন, কারণ এতে জাতটির সক্রিয় চারণ অভ্যাসের সঙ্গে ভালো মেলে।
পরিবেশ
ব্রাহমান গরম সহ্য করার জন্যই তৈরি, আর বেশিরভাগ জাতের চেয়ে ভালোভাবে আর্দ্রতা, কড়া রোদ আর নিম্নমানের ঘাস সহ্য করতে পারে। তবু দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে পরিষ্কার পানি আর ছায়ার নিশ্চিত ব্যবস্থা দরকার। দীর্ঘ সময় ঠান্ডা আর ভেজা আবহাওয়া এই জাতের জন্য ততটা সহনীয় নয়, তাই ঠান্ডা জলবায়ুতে বাতাস আর বৃষ্টি থেকে আড়ালের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। ষাঁড় আর বড় গাভী নিরাপদে সামলাতে মজবুত, ভালোভাবে তৈরি হ্যান্ডলিং সুবিধা দরকার।
খাদ্য ও পুষ্টি
ব্রাহমান মূলত চারণভূমি আর ঘাসেই ভালো থাকে; দরকারমতো বাড়তি খাবার, খনিজ আর পরিষ্কার পানি দিতে হয়, এবং কম মানের চারণভূমিও এরা কাজে লাগাতে পারে।
ব্রাহমান একটি চারণনির্ভর জাত, ঘাস আর গাছপালা খেয়েই ভালো থাকে, এমনকি এমন চারণভূমিতেও যেখানে অনেক ইউরোপীয় জাত টিকতে পারত না। শুষ্ক পদার্থ খাওয়ার পরিমাণ দৈনিক শরীরের ওজনের প্রায় ২-৩ শতাংশ, অর্থাৎ একটি ৬০০ কেজি ওজনের গাভী দৈনিক প্রায় ১২-১৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খায়। চারণভূমির মান বা পরিমাণ কমে গেলে খড়, সাইলেজ বা ঘনীভূত খাবার দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা হয়। সবসময় পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা থাকা জরুরি, আর গরম আবহাওয়ায় পানি খাওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
| জীবনস্তর | দৈনিক পরিমাণ | খাওয়ানোর ধরন |
|---|---|---|
| বাছুর (দুধ ছাড়ানো) | চারণভূমি আর ১-৩ কেজি স্টার্টার বা ক্রিপ ফিড | সারাদিন চরে খাওয়া |
| বাড়ন্ত/এক বছর বয়সী | চারণভূমি আর ঘাস কম থাকলে ২-৪ কেজি বাড়তি খাবার | একটানা চরে খাওয়া |
| পূর্ণবয়স্ক গাভী | চারণভূমি থেকে ১২-১৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ | একটানা চরে খাওয়া |
| দুধ দেওয়া গাভী | চারণভূমির সঙ্গে বাড়তি শক্তি আর প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট | একটানা চরে খাওয়া |
বাড়তি খাবার আর সাপ্লিমেন্ট
স্থানীয় মাটি আর চারণভূমির উপযোগী করে সবসময় হাতের কাছে খনিজ আর লবণের ব্লক রাখুন, কারণ অনেক এলাকায় তামা, সেলেনিয়াম বা অন্যান্য অণুখনিজের ঘাটতি থাকে। শুষ্ক মৌসুমে বা গর্ভাবস্থার শেষ দিকে শক্তি আর প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট শরীরের অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে। যেকোনো শস্য বা ঘনীভূত খাবার ধীরে ধীরে দিন, যাতে হজমে সমস্যা না হয়।
স্বাস্থ্য ও আয়ুষ্কাল
ব্রাহমান কষ্টসহিষ্ণু আর দীর্ঘজীবী, প্রায়ই ১২-২০ বছর বাঁচে; পরজীবী আর গরম প্রতিরোধী হলেও ঠান্ডায় কিছুটা স্পর্শকাতর আর নিয়মিত পশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা দরকার।
ব্রাহমান তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু গরুর জাতগুলোর একটি। এর পুরু, নমনীয় চামড়া, খাটো লোম আর টিক ও অনেক পরজীবীর প্রতি স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে পালিত টরিন গরুর মধ্যে দেখা যাওয়া সাধারণ সমস্যাগুলো কমিয়ে দেয়। ভালো ব্যবস্থাপনায় এই জাত প্রায়ই ১২-২০ বছর বাঁচে, আর উৎপাদনশীল গাভী অনেক অন্য জাতের চেয়ে বেশি দিন পালের মধ্যে থেকে যেতে পারে।
এত কষ্টসহিষ্ণু হলেও ব্রাহমান গরুর নিয়মিত পশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা দরকার হয়, আর ঠান্ডাজনিত চাপ, নির্দিষ্ট কিছু রোগ আর ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি থেকেই যায়।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ঠান্ডাজনিত চাপ | কাঁপুনি, জড়সড় হয়ে থাকা, ঠান্ডা-ভেজা আবহাওয়ায় ওজন কমা | আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখুন; গরমের চেয়ে ঠান্ডা এই জাতের জন্য বেশি কঠিন |
| অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরজীবী | লোমের পরিবর্তন, ওজন কমা, রক্তস্বল্পতা, গা ঘষা | ব্রাহমান টিক ভালোভাবে প্রতিরোধ করে, তবু নজরদারি আর চারণভূমি পালাক্রমে বদলানো দরকার |
| ব্লোট (পেট ফাঁপা) | বাঁ পাশের কুঁচকি ফুলে যাওয়া, সরস খাবারের পর অস্বস্তি | লেগিউমসমৃদ্ধ চারণভূমি আর হঠাৎ শস্য বদলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন |
| পিংকআই (চোখের প্রদাহ) | চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ কুঁচকে রাখা, চোখ ঘোলা হয়ে যাওয়া | মাছি নিয়ন্ত্রণ আর ছায়া ঝুঁকি কমায়; দ্রুত চিকিৎসা করুন |
| পায়ের সমস্যা/খোঁড়ানো | খুঁড়িয়ে চলা, ফুলে যাওয়া, নড়াচড়ায় অনীহা | খুর ছেঁটে রাখুন আর মাটি বেশিদিন ভেজা থাকতে দেবেন না |
প্রতিরোধমূলক পরিচর্যা
- স্থানীয় অঞ্চল আর রোগের ঝুঁকি অনুযায়ী টিকা আর কৃমিনাশক কর্মসূচি মেনে চলুন।
- নিয়মিত খুর পরীক্ষা আর ছাঁটাই চালিয়ে যান।
- মাছি আর টিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুন, ছায়া আর পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখুন।
- নিয়মিত শরীরের অবস্থা যাচাই করুন আর বাচ্চা প্রসবের আগে-পরে খাবার সমন্বয় করুন।
- ষাঁড়ের জন্য নিয়মিত পশুচিকিৎসা পরীক্ষা আর প্রজনন উপযোগিতা পরীক্ষা রাখুন।
প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি
ব্রাহমান অনেক জাতের তুলনায় একটু দেরিতে প্রজননক্ষম হয়, গর্ভকাল প্রায় সাড়ে নয় মাস, আর সাধারণত একটি বাছুর জন্মায় যাকে গাভী প্রবল মাতৃত্বসুলভ যত্নে বড় করে।
ব্রাহমান বকনা বাছুর অনেক টরিন জাতের তুলনায় একটু দেরিতে যৌন পরিপক্বতায় পৌঁছায়, আর বৃদ্ধি ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে খামারিরা সাধারণত এদের প্রায় ১৮-২৪ মাস বয়সে প্রথম প্রজননে দেন। ষাঁড় অল্প বয়সেই উর্বর হয়ে ওঠে, তবে ব্যবহারের আগে প্রজনন-উপযোগিতা পরীক্ষা পাস করা দরকার।
প্রাকৃতিক প্রজনন বা কৃত্রিম প্রজনন, দুই পদ্ধতিতেই প্রজনন করানো হয়। গর্ভকাল স্থায়ী হয় প্রায় ২৮৫-২৯২ দিন, যা অনেক ব্রিটিশ জাতের চেয়ে গড়ে একটু বেশি। গাভী প্রায় সবসময় একটিমাত্র বাছুরের জন্ম দেয়, জোড়া বাছুর হওয়া বিরল। ব্রাহমানের বাছুর জন্মের সময় প্রায়ই আকারে ছোট থাকে, এই কারণেই জাতটি সহজে বাচ্চা প্রসবের জন্য পরিচিত, এরপর ধীরে ধীরে দ্রুত বেড়ে ওঠে।
গাভীর মাতৃসুলভ প্রবৃত্তি প্রবল, তারা বাছুরকে রক্ষা করে আর চারণভূমিতেই বাছুরকে সুস্থভাবে বড় করার মতো পর্যাপ্ত দুধ দেয়। বাছুর সাধারণত প্রায় ৬-৮ মাস বয়সে দুধ ছাড়ানো হয়। এই জাতের কষ্টসহিষ্ণুতা আর সহজ প্রসবই মূল কারণ, যার জন্য ক্রসব্রিডিং কর্মসূচিতে এটি এত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
| মাপকাঠি | মান |
|---|---|
| প্রজননযোগ্য বয়স (বকনা) | প্রায় ১৮-২৪ মাস |
| গর্ভকাল | প্রায় ২৮৫-২৯২ দিন |
| একবারে বাচ্চার সংখ্যা | সাধারণত ১টি বাছুর |
| জন্মকালীন ওজন | প্রায়ই তুলনামূলক কম, প্রসব সহজ করতে সাহায্য করে |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬-৮ মাস |
| গাভীর উৎপাদনশীল জীবনকাল | প্রায়ই অনেক জাতের চেয়ে দীর্ঘ |
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ব্রাহমান সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নগুলো এর আকার, স্বভাব, যত্নের চাহিদা, আয়ুষ্কাল, উপযুক্ততা আর জাতটি কোথায় পাওয়া যায় তা নিয়ে।
ব্রাহমান গরু কত বড় হয়?
ব্রাহমান একটি বড় আকারের জাত। ষাঁড় সাধারণত ৮০০-১১০০ কেজি আর গাভী ৫০০-৭০০ কেজি ওজনের হয়, ষাঁড়ের কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১.৫-১.৭ মিটার।
ব্রাহমানের স্বভাব কেমন?
এরা বুদ্ধিমান আর সজাগ। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত আর শান্তভাবে সামলালে এরা বশংবদ আর সহজে সামলানোর মতো হয়ে ওঠে, তবে যাদের সামলানো হয় না তারা সতর্ক থেকে যেতে পারে। গাভী রক্ষণশীল মা, আর ষাঁড় দৃঢ় স্বভাবের হতে পারে।
ব্রাহমান গরু পালা কি কঠিন?
চারণভূমিতে এদের যত্ন তুলনামূলক কম লাগে, আর বেশিরভাগ জাতের চেয়ে ভালোভাবে গরম, আর্দ্রতা আর নিম্নমানের চারণভূমি সহ্য করতে পারে। মূলত ছায়া, পরিষ্কার পানি, নিয়মিত পরজীবী ও খুর পরিচর্যা, আর ঠান্ডা-ভেজা আবহাওয়ায় আশ্রয় দরকার হয়।
ব্রাহমান গরু কত দিন বাঁচে?
ভালো ব্যবস্থাপনায় এরা প্রায়ই ১২-২০ বছর বাঁচে, আর উৎপাদনশীল গাভী অনেক অন্য জাতের চেয়ে বেশি দিন পালের মধ্যে থাকতে পারে।
কোন জলবায়ু আর খামারে ব্রাহমান মানানসই?
গরম আর আর্দ্র অঞ্চল, আর বিস্তৃত চারণভূমি বা পতিত জমিনির্ভর খামারে জাতটি সবচেয়ে ভালো মানায়। ছোট খামার, ঘরের মধ্যে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা, বা দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডা-ভেজা আবহাওয়ায় এটি ততটা মানানসই নয়।
ক্রসব্রিডিংয়ে ব্রাহমান এত বেশি ব্যবহার হয় কেন?
ব্রাহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ বা মহাদেশীয় ইউরোপীয় জাতের ক্রস করালে গরম সহ্য করার ক্ষমতা, পরজীবী প্রতিরোধ, সহজ প্রসব আর কষ্টসহিষ্ণুতা একসঙ্গে মেলে অন্য জাতের মাংসের গুণের সঙ্গে, ফলে শক্তিশালী সংকরায়িত ফল পাওয়া যায়।
আজকের দিনে ব্রাহমান গরু কোথায় পাওয়া যায়?
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভারতীয় জেবু গরু থেকে গড়ে ওঠা এই জাত এখন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা আর এশিয়াজুড়ে পালন করা হয়, আর ব্রাংগাস, সান্তা গের্ত্রুদিস আর বিফমাস্টারের মতো সংকর জাতেরও ভিত্তি।
From the community
Ask about the ব্রহ্মাNo questions about the ব্রহ্মা yet. Be the first to ask.