অ্যাঙ্গাস
অ্যাঙ্গাস একটি প্রসিদ্ধ শিংহীন গোমাংস জাত, যা তার শান্ত স্বভাব, চমৎকার মার্বলিং এবং কঠোরসহিষ্ণু, সহজে-পালনযোগ্য স্বভাবের জন্য সমাদৃত।
- Size
- বড়
- Lifespan
- 15–20 years
- Origin
- স্কটল্যান্ড
- Temperament
- নম্র
- Standard colors
- কালো
Characteristics
অ্যাঙ্গাস colors and patterns
What each club's breed standard says about every অ্যাঙ্গাস color and pattern. Point at a ruling to see the club's own wording.
Breed standards describe the অ্যাঙ্গাস in কালো.
| Color or pattern | AAA |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“black”) |
| লাল | অযোগ্যকারী (“red in color”) |
| Patterns | |
| একরঙা | No ruling |
| Color or pattern | AAA |
|---|---|
| কালো | মানসম্মত (“BLACK”) |
| Color or pattern | AAA |
|---|---|
| কেন্দ্রীয় দুই রঙ | অযোগ্যকারী (“Heterochromia Irides”) |
What the rulings mean
- মানসম্মত
- Described by the club's breed standard.
- অযোগ্যকারী
- The club's breed standard disqualifies an animal of this color or pattern.
Color changes
How a অ্যাঙ্গাস's colors can change over its life.
কালোchanges toধূসর
লোম · শারীরিক অবস্থার সঙ্গে · can change back
Sources
Each ruling comes from the club's published breed standard or color list.
অ্যাঙ্গাসের পরিচিতি
অ্যাঙ্গাস স্কটল্যান্ডের একটি বড় আকারের, প্রাকৃতিকভাবে শিংহীন মাংস উৎপাদনকারী গরুর জাত, যা শান্ত স্বভাব ও সুস্বাদু মার্বলিং মাংসের জন্য পরিচিত।
অ্যাঙ্গাস মূলত উত্তর-পূর্ব স্কটল্যান্ডে উদ্ভূত একটি মাংস উৎপাদনকারী গরুর জাত। এই জাতের গরু জন্ম থেকেই শিংহীন হয়, অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে এদের শিং গজায় না। বেশিরভাগ গরুর গায়ের রং কালো হলেও লাল রঙের একটি প্রকারও দেখা যায়। আকারে এরা মাঝারি থেকে বড়, পূর্ণবয়স্ক ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৮৫০ থেকে ১,০০০ কেজি এবং গাভীর ওজন প্রায় ৫৫০ থেকে ৭০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
অ্যাঙ্গাস গরু প্রধানত মাংসের জন্য পালন করা হয়। এই জাতের মাংসে পেশির ভেতরে চর্বির যে সূক্ষ্ম রেখা দেখা যায়, তাকে মার্বলিং বলে, যা স্বাদ ও কোমলতা বাড়ায়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে অ্যাঙ্গাস মাংস বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত হয়। এছাড়া এই গরু উর্বরতা, সহজ প্রসব এবং বিভিন্ন ধরনের ভূমি ও জলবায়ুতে চারণভূমি থেকে দ্রুত ওজন বাড়ানোর ক্ষমতার জন্যও সমাদৃত।
এই জাতের গরু শান্ত ও স্থির স্বভাবের জন্য পরিচিত, ফলে অতিরিক্ত উত্তেজনাপ্রবণ গরুর তুলনায় এদের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। এই স্বভাব ও সহনশীলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো দেশে অ্যাঙ্গাস সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পালিত মাংস উৎপাদনকারী জাতগুলোর একটি।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| উৎপত্তিস্থল | স্কটল্যান্ড |
| আকার | বড় |
| আয়ুষ্কাল | ১৫-২০ বছর |
| শ্রেণি/ভূমিকা | মাংস উৎপাদনকারী গরু |
| উপযোগী | চারণভিত্তিক পালের সঙ্গে, মিশ্র ও ক্রসব্রিডিং পদ্ধতিতে |
কাদের জন্য উপযোগী
যেসব মাংস উৎপাদনকারী কৃষক সহনশীল ও কম যত্নে পালনযোগ্য গরু চান, যা সহজে বাচ্চা দেয় এবং ঘাস বা ফিডলট উভয় পদ্ধতিতেই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, তাদের জন্য অ্যাঙ্গাস উপযুক্ত। জন্ম থেকেই শিংহীন হওয়ায় শিং কাটার প্রয়োজন হয় না, আর শান্ত স্বভাবের কারণে ছোট খামারি থেকে বড় খামার সব পর্যায়ে পরিচর্যার ঝামেলা কম হয়। ক্রসব্রিডিংয়ের ক্ষেত্রেও এই জাত জনপ্রিয়, কারণ এর শিংহীনতা ও মার্বলিং বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে নির্ভরযোগ্যভাবে বজায় থাকে।
ইতিহাস ও উৎপত্তি
উনিশ শতকের শুরুতে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনশায়ার ও অ্যাঙ্গাস অঞ্চলে এই জাতের উদ্ভব ঘটে, পরে তা মাংস উৎপাদনকারী জাত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যাঙ্গাসের উৎস উত্তর-পূর্ব স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনশায়ার ও অ্যাঙ্গাস অঞ্চল, যেখানকার কৃষকেরা বহুকাল ধরে প্রাকৃতিকভাবে শিংহীন কালো গরু পালন করতেন। স্থানীয়ভাবে এসব গরুকে ডডি বা হাম্লি নামে ডাকা হতো, দুটোই শিংহীন গরু বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ। আঠারো শতকের শেষভাগ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে প্রজননকারীরা দেহাবয়ব ও মাংসের গুণমানে সামঞ্জস্য আনতে এসব গরু বেছে বেছে প্রজনন করাতে শুরু করেন।
উনিশ শতকের প্রথম দিকে কেইলরের হিউ ওয়াটসনকে এই জাতের অন্যতম প্রধান উন্নয়নকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি কালো রং ও শিংহীন বৈশিষ্ট্য স্থায়ী করার দিকে মনোযোগ দেন, আর তার ষাঁড় ওল্ড জক ও গাভী ওল্ড গ্র্যানি ভিত্তিপ্রাণী হিসেবে পরিচিত, যাদের বংশধরদের নাম প্রথম দিকের পেডিগ্রি রেকর্ডে বারবার পাওয়া যায়। পরবর্তীতে টিলিফোরের উইলিয়াম ম্যাককোম্বি এই জাতের প্রচার চালান এবং কৃষি প্রদর্শনী ও রপ্তানি বাজারে এর পরিচিতি বাড়ান।
১৮৬২ সালে স্কটল্যান্ডে এই জাতের প্রথম হার্ড বুক (বংশতালিকা নথি) চালু হয়, যার মাধ্যমে গরুর পেডিগ্রি লিপিবদ্ধ করার ভিত্তি তৈরি হয়। ১৮৭০-এর দশকের শুরুতে উত্তর আমেরিকায় প্রথম অ্যাঙ্গাস গরু রপ্তানি করা হয় এবং প্রায় ১৮৭৩ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালান পৌঁছায়। এর কিছুকাল পরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে জাতভিত্তিক প্রজনন সংগঠন গঠিত হয়।
এই সূচনা থেকেই অ্যাঙ্গাস ধীরে ধীরে আমেরিকা মহাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং আরও অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ শতক জুড়ে মাংসের গুণমান ও মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রজনন নির্বাচনের ফলে বাণিজ্যিক মাংস উৎপাদন ও ব্র্যান্ডেড বিফ কর্মসূচিতে এই জাতের অবস্থান সুদৃঢ় হয়।
বাহ্যিক গঠন
অ্যাঙ্গাস গরু কালো বা লাল রঙের, জন্মগতভাবে শিংহীন এবং মসৃণ, পেশিবহুল ও মাঝারি থেকে বড় আকারের দেহের অধিকারী।
অ্যাঙ্গাসের দেহ সুগঠিত ও পেশিবহুল, লোম মসৃণ এবং কোনো শিং থাকে না। মাথা খাটো ও চওড়া, পিঠ সমতল, আর পেছনের অংশ গভীর ও গোলাকার, যা মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে বহু বছরের প্রজনন নির্বাচনের ফল। স্বীকৃত রঙের দুটি ধরন রয়েছে, কালো যা বেশি প্রচলিত, এবং লাল। দুই ধরনেই শিংহীনতার বৈশিষ্ট্য একই রকম বজায় থাকে।
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ মান |
|---|---|
| উচ্চতা (কাঁধ পর্যন্ত) | গাভী প্রায় ১২০-১৩৫ সেমি, ষাঁড় এর চেয়ে বেশি লম্বা |
| ওজন | গাভী ৫৫০-৭০০ কেজি, ষাঁড় ৮৫০-১,০০০ কেজি |
| লোম | খাটো ও মসৃণ; শীতকালে ঘন হয়ে ওঠে |
| রং | কালো বা লাল |
| চোখ | গাঢ় রঙের, চোখের চারপাশেও গাঢ় রঞ্জক থাকে |
লোম ও রং
গরম মাসগুলোতে লোম খাটো ও মসৃণ থাকে, আর শীতকালে তা ঘন হয়ে ওঠে, যা ঠান্ডা আবহাওয়া সহ্য করতে সাহায্য করে। কালো রং প্রকট (ডমিন্যান্ট) বৈশিষ্ট্য, তাই ক্রসব্রিড বাছুরেও তা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ পায়, এই কারণেই ক্রসব্রিডিংয়ে এই জাতের চাহিদা বেশি। রেড অ্যাঙ্গাসের ক্ষেত্রে একই রঙের জিনের প্রচ্ছন্ন (রিসেসিভ) রূপ থাকে এবং কিছু দেশে এটিকে আলাদাভাবে নিবন্ধন করা হয়। চোখ ও স্তনের চারপাশের গাঢ় ত্বক রোদজনিত ক্ষতি ও চোখের সমস্যা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়, বিশেষত উজ্জ্বল রোদযুক্ত অঞ্চলে।
স্বভাব
অ্যাঙ্গাস শান্ত, বাধ্য ও স্থির স্বভাবের জন্য পরিচিত, যে কারণে অন্যান্য অনেক মাংস উৎপাদনকারী জাতের তুলনায় এদের সামলানো সহজ।
অ্যাঙ্গাস গরু সাধারণত শান্ত, সদ্ব্যবহারী ও বাধ্য স্বভাবের হয়, যা এই জাতের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। শান্ত স্বভাবের কারণে গরু নড়াচড়া করানো, বাছাই করা বা পরিবহনের মতো নিয়মিত কাজ গরু ও পরিচর্যাকারী উভয়ের জন্যই কম চাপের হয়, এবং পরিচর্যার সময় আঘাতের ঝুঁকিও কমে।
গাভীদের মাতৃসুলভ প্রবৃত্তি প্রবল, তারা বাছুরকে ভালোভাবে রক্ষা করে ও বড় করে তোলে, তবে সদ্যপ্রসূত বাছুরসহ গাভীর কাছে যাওয়ার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ তখন তারা রক্ষণাত্মক আচরণ করতে পারে। পালের ভেতরে গরুরা নিজেদের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে তোলে এবং নিজেদের জাতের পাশাপাশি অন্য গবাদিপশুর সঙ্গেও সহজে মিশে যায়। মানুষের সংস্পর্শে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গরু শান্ত ও অনুমানযোগ্য আচরণ করে, কিন্তু রুক্ষ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিচর্যা যেকোনো গরুকে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে পারে।
স্বভাব আংশিকভাবে বংশগত, তাই অনেক প্রজননকারী উত্তেজনাপ্রবণ গরুকে পাল থেকে বাদ দিয়ে দেন। বহু প্রজন্ম ধরে এই চর্চার ফলে জাতটির সহজ-নিয়ন্ত্রণযোগ্য স্বভাবের সুনাম আরও দৃঢ় হয়েছে।
| বৈশিষ্ট্য | মাত্রা |
|---|---|
| পরিচর্যাকারীর প্রতি স্নেহ | ৩ |
| কর্মচঞ্চলতা | ২ |
| প্রশিক্ষণযোগ্যতা | ৩ |
| ডাকাডাকির প্রবণতা | ২ |
| লোম ঝরা | ৩ |
পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা
অ্যাঙ্গাস গরু সহনশীল ও সহজে পালনযোগ্য, ভালো চারণভূমি, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেলে এরা ভালো থাকে।
অ্যাঙ্গাস কম যত্নে পালনযোগ্য একটি জাত, যা চারণভিত্তিক পদ্ধতিতে ভালো বেড়ে ওঠে এবং শীতকালীন ঘন লোমের কারণে ঠান্ডা ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যার মূল বিষয়গুলো হলো পর্যাপ্ত চারণ বা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চরম আবহাওয়া থেকে আশ্রয় এবং ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি।
লোম পরিচর্যা
- চারণভূমিতে থাকা গরু মূলত নিজে থেকেই পরিষ্কার থাকে, নিয়মিত লোম পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।
- লোম ঝরা কমাতে ও গা চুলকানোর সুবিধার জন্য ব্রাশ বা ঘষা দেওয়ার খুঁটি রাখুন।
- প্রয়োজন অনুযায়ী খুর পরীক্ষা করে ছেঁটে দিন, বিশেষত নরম মাটিতে বা আবদ্ধ জায়গায় রাখা হলে।
- পরজীবী, আঘাত বা সংক্রমণের জন্য নিয়মিত ত্বক, চোখ ও স্তন পরীক্ষা করুন।
শরীরচর্চা
- খোলা চারণভূমিই গরুর প্রয়োজনীয় নড়াচড়ার সুযোগ দেয়, আলাদা করে ব্যায়ামের দরকার হয় না।
- চারণভূমির মান বজায় রাখতে ও গোবর সমানভাবে ছড়াতে চারণক্ষেত্র পরিবর্তন করে ব্যবহার করুন।
- শারীরিক অবস্থা ও খুরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পালকে অবাধে চলাফেরা ও চরার জায়গা দিন।
পরিবেশ
অ্যাঙ্গাস গরু বিভিন্ন ধরনের জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এরা ভালোভাবে সহ্য করে, তবে গরমকালে তাপজনিত চাপ এড়াতে ছায়া ও পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন, বিশেষত কালো লোমের গরুর ক্ষেত্রে তীব্র রোদে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। মজবুত বেড়া, শুকনো বিশ্রামের জায়গা এবং বাতাস আটকানোর ব্যবস্থা বা সাধারণ আশ্রয় সারা বছর গরুর সুস্থতা বাড়ায়।
খাদ্য ও পুষ্টি
অ্যাঙ্গাস গরু দক্ষ চারণকারী, ঘাস বা শস্য উভয় খাদ্যেই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে; বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চারণ-নির্ভর খাদ্যতালিকা সাজানো হয়।
অ্যাঙ্গাস জাবরকাটা প্রাণী, তাই এদের বেশিরভাগ পুষ্টি আসে ঘাস, খড় ও সাইলেজের মতো চারণজাত খাদ্য থেকে। এই জাত দক্ষভাবে চরে এবং চারণভূমির খাদ্যকে কার্যকরভাবে ওজনে রূপান্তরিত করে, যা এর একটি বড় সুবিধা। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে, দুধ দেওয়ার সময় এবং মোটাতাজাকরণের সময় শক্তি ও প্রোটিনের চাহিদা বেড়ে যায়, তাই গরুর অবস্থা ও পর্যায় অনুযায়ী খাদ্য নির্ধারণ করতে হয়। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাদ্য জাবরে হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে, আর বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হলে দানাদার খাদ্য বা শস্য যোগ করা হয়।
| জীবনপর্যায় | দৈনিক পরিমাণ | খাওয়ানোর সংখ্যা |
|---|---|---|
| বর্ধনশীল বাছুর (দুধ ছাড়ানো) | শরীরের ওজনের প্রায় ২-৩% শুষ্ক পদার্থ | একটানা চারণ অথবা দিনে ১-২ বার খাওয়ানো |
| পূর্ণবয়স্ক গাভী (রক্ষণাবেক্ষণ) | শরীরের ওজনের প্রায় ২% শুষ্ক পদার্থ | একটানা চারণ |
| দুধদানকারী গাভী | শরীরের ওজনের প্রায় ২.৫-৩% শুষ্ক পদার্থ | একটানা চারণের পাশাপাশি বাড়তি খাদ্য |
| মোটাতাজাকরণ পর্যায়ের গরু | শরীরের ওজনের প্রায় ২.৫%, উচ্চ শক্তিসম্পন্ন খাদ্য | দিনে ১-২ বার খাওয়ানো ও চারণ খাদ্য |
বাড়তি খাদ্য ও সম্পূরক
স্থানীয় মাটি ও চারণ খাদ্যের সঙ্গে মানানসই খনিজ ও লবণের সম্পূরক সবসময় হাতের কাছে রাখুন, কারণ কোনো কোনো অঞ্চলে তামা, সেলেনিয়াম বা অন্যান্য খনিজের ঘাটতি সাধারণ ব্যাপার। সবসময় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকা জরুরি, বিশেষত গরমকালে ও দুধ দেওয়ার সময় পানির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। খাদ্যতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনলে তা কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে করা উচিত, যাতে জাবরের জীবাণু নতুন খাদ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
স্বাস্থ্য
অ্যাঙ্গাস দীর্ঘজীবী ও সহনশীল একটি জাত; এর প্রধান জিনগত সমস্যা কয়েকটি প্রচ্ছন্ন ত্রুটি, যা এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
অ্যাঙ্গাস একটি সুস্থ-সবল জাত, যাতে জন্মগত দুর্বলতা খুব কম। সঠিক পরিচর্যায় এরা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, যদিও মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত গরু সাধারণত এর চেয়ে কম বয়সেই বিক্রি বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সমস্যা এমন যা সব গরুর ক্ষেত্রেই সাধারণ, যেমন পরজীবী, খুরের সমস্যা, প্রজনন ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ, জাতভিত্তিক কোনো বিশেষ ত্রুটি নয়। তবে কিছু প্রচ্ছন্ন জিনগত সমস্যা এই জাতে দেখা যায়, যা এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়, ফলে প্রজননকারীরা আক্রান্ত বাছুর জন্ম দেওয়া এড়াতে পারেন।
| সমস্যা | লক্ষণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| আর্থ্রোগ্রাইপোসিস মাল্টিপ্লেক্স (কার্লি ক্যাফ) | বাছুর বাঁকা ও শক্ত পা নিয়ে জন্মায় | প্রচ্ছন্ন জিনগত ত্রুটি; ডিএনএ পরীক্ষা করা যায় |
| নিউরোপ্যাথিক হাইড্রোসেফালাস | বাছুরের মাথার খুলি বড় ও তরলপূর্ণ হয় | প্রচ্ছন্ন ও মারাত্মক; পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক শনাক্ত করা যায় |
| গরুর শ্বাসতন্ত্রের রোগ | কাশি, নাক দিয়ে সর্দি, জ্বর, নিস্তেজভাব | কমবয়সী বা মানসিক চাপে থাকা গরুতে বেশি দেখা যায় |
| অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরজীবী | ওজন কমা, খসখসে লোম, ডায়রিয়া, চুলকানি | কৃমিনাশক ও চারণক্ষেত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় |
| তাপজনিত চাপ | হাঁপানো, লালা ঝরা, খাওয়া কমে যাওয়া | কালো লোমের কারণে তীব্র রোদে ঝুঁকি বেশি |
প্রতিরোধমূলক পরিচর্যা
- স্থানীয়ভাবে প্রচলিত গরুর রোগের বিরুদ্ধে নির্ধারিত টিকা কর্মসূচি অনুসরণ করুন।
- পরিকল্পিতভাবে কৃমিনাশক প্রয়োগ ও চারণক্ষেত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে পরজীবী নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা বজায় রাখুন।
- প্রজননের জন্য রাখা গরুর মধ্যে প্রচ্ছন্ন ত্রুটির বাহক শনাক্ত করতে উপলব্ধ ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহার করুন।
- সারা বছর সুষম খনিজ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখুন।
- প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য, প্রজনন ও চিকিৎসার তথ্য লিপিবদ্ধ রাখুন।
প্রজনন
অ্যাঙ্গাস গরু জন্মের এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই প্রজননক্ষম হয়, সহজ প্রসবের জন্য পরিচিত এবং প্রায় নয় মাসের গর্ভাবস্থার পর সাধারণত একটি করে বাছুর জন্ম দেয়।
অ্যাঙ্গাস গরু জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্বতা অর্জন করে, তবে বকনা বাছুরকে সাধারণত প্রায় ১৩ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথমবার প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা প্রায় দুই বছর বয়সে প্রথম বাছুর প্রসব করে। প্রজনন হতে পারে সরাসরি ষাঁড়ের মাধ্যমে অথবা কৃত্রিম প্রজননের (এআই) মাধ্যমে, যা প্রমাণিত ভালো জিন ছড়িয়ে দিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই জাত উর্বরতা ও সহজ প্রসবের জন্য মূল্যবান, কারণ বাছুরের জন্মকালীন ওজন সাধারণত মাঝারি হয়, যার ফলে কঠিন প্রসবের হার কম থাকে।
গর্ভাবস্থা প্রায় নয় মাস স্থায়ী হয়, এবং একটি গাভী সাধারণত বছরে একটি করে বাছুর জন্ম দেয়। যমজ বাছুর হওয়া বিরল। নবজাতক বাছুর জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়ে দুধ খাওয়া শুরু করে, আর অ্যাঙ্গাস গাভী যত্নশীল মা হিসেবে পরিচিত, যাদের দুধ বাছুরকে প্রায় ছয় থেকে আট মাস বয়সে দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত বড় করার জন্য যথেষ্ট। শিংহীনতা ও কালো রঙের বৈশিষ্ট্য ক্রসব্রিড বাছুরেও প্রবলভাবে প্রকাশ পায়, যে কারণে ক্রসব্রিডিং কর্মসূচিতে এই জাত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
| সূচক | মান |
|---|---|
| প্রজননযোগ্য বয়স (বকনা) | প্রায় ১৩-১৫ মাস |
| গর্ভকাল | প্রায় ২৭৯-২৮৫ দিন (প্রায় ৯ মাস) |
| প্রতি প্রসবে বাছুর সংখ্যা | সাধারণত ১টি |
| দুই প্রসবের মধ্যবর্তী সময় | প্রায় ১২ মাস |
| দুধ ছাড়ানোর বয়স | প্রায় ৬-৮ মাস |
| জন্মকালীন ওজন | সাধারণত ৩০-৪০ কেজি |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অ্যাঙ্গাস গরুর আকার, স্বভাব, পরিচর্যা, আয়ুষ্কাল, উপযোগিতা ও প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর।
অ্যাঙ্গাস গরু কত বড় হয়?
অ্যাঙ্গাস একটি বড় আকারের মাংস উৎপাদনকারী জাত। পূর্ণবয়স্ক গাভীর ওজন প্রায় ৫৫০ থেকে ৭০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৮৫০ থেকে ১,০০০ কেজি হয়ে থাকে, আর গাভীর উচ্চতা কাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১২০ থেকে ১৩৫ সেন্টিমিটার।
অ্যাঙ্গাস গরুর স্বভাব কি ভালো হয়?
হ্যাঁ। এই জাত শান্ত, বাধ্য ও স্থির স্বভাবের জন্য পরিচিত, যা সামলানোকে সহজ ও নিরাপদ করে তোলে। তবে সদ্যপ্রসূত বাছুরের আশেপাশে গাভী কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাঙ্গাস গরু পালন করা কি কঠিন?
না। অ্যাঙ্গাস কম যত্নে পালনযোগ্য ও সহনশীল একটি জাত, যা আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেলে চারণভূমিতে ভালো থাকে। জন্ম থেকেই শিংহীন হওয়ায় শিং কাটার প্রয়োজনও হয় না।
অ্যাঙ্গাস গরু কতদিন বাঁচে?
অ্যাঙ্গাস গরু প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, যদিও মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত গরুকে সাধারণত বার্ধক্য পর্যন্ত রাখা হয় না, বরং তুলনামূলক কম বয়সেই বাজারজাত করা হয়।
অ্যাঙ্গাসের মাংস এত জনপ্রিয় কেন?
অ্যাঙ্গাসের মাংস মার্বলিংয়ের জন্য মূল্যবান, অর্থাৎ পেশির ভেতরের চর্বি যা স্বাদ ও কোমলতা বাড়ায়। এই জাতের গরু ঘাস বা শস্য উভয় খাদ্যেই ভালোভাবে মোটাতাজা হয় এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে এর মাংস বিক্রি হয়।
ক্রসব্রিডিংয়ের জন্য অ্যাঙ্গাস গরু কি ভালো?
হ্যাঁ। কালো রং ও শিংহীনতার বৈশিষ্ট্য ক্রসব্রিড বাছুরেও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ পায়, আর এই জাত উর্বরতা ও মার্বলিং যোগ করে, তাই ক্রসব্রিডিং পদ্ধতিতে অ্যাঙ্গাস ষাঁড় প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়।
অ্যাঙ্গাস গরু কি সহজলভ্য?
হ্যাঁ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকা মাংস উৎপাদনকারী জাতগুলোর একটি হলো অ্যাঙ্গাস, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশে এদের বড় সংখ্যক জনগোষ্ঠী ও সক্রিয় প্রজনন নিবন্ধন সংস্থা রয়েছে।